ভোলার বোরহানউদ্দিনে মেঘনা নদীতে বেড়েছে সশস্ত্র ডাকাত দলের উপদ্রব। এতে উপকূলীয় প্রায় ৪০ হাজার জেলের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। গত কয়েক দিনে ট্রলারে হামলা, দুর্ধর্ষ ডাকাতি এবং অস্ত্রের মুখে জেলে অপহরণের ঘটনায় নদীজুড়ে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী জেলেরা বলছেন, রাতের আঁধারে ডাকাতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে প্রাণের ভয়ে তারা সন্ধ্যার পর মাছ শিকারে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেঘনায় কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মৎস্যজীবীরা।
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি রাতে হাকিমউদ্দিন মৎস্য ঘাট এলাকায় তিনটি ট্রলারে দুর্ধর্ষ ডাকাতি এবং আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে চার জেলেকে অপহরণের ঘটনায় নদীজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অপহরণের পর কয়েক দফায় প্রায় দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে জেলেরা ফিরে আসলেও প্রাণের ভয়ে সন্ধ্যার পর নদীতে নামতে সাহস পাচ্ছেন না অধিকাংশ মৎস্যজীবী। বর্তমানে নদীতে ইলিশের দেখা মিললেও ডাকাতদের দৌরাত্ম্যে রাতে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ১৯ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত জেলেসহ সংশ্লিষ্ট আড়তদারেরা।
জয়া গ্রামের জেলে মহিউদ্দিন মাঝি জানান, ডাকাতরা তাকেসহ ৪ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং চোখ বেঁধে বেদম মারধর করে। পরে আড়তদারের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তিনি রক্ষা পান। একইভাবে রাসেল মাঝি জানান, ওই রাতে তিনটি ট্রলার থেকে অপহৃত জেলেরা প্রায় দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন।
একই এলাকার জেলে মো. শাহিন মাঝি ও মিজান মাঝি জানান, বর্তমানে মেঘনা নদীতে কিছুটা ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। দিনের চেয়ে রাতেই মাছের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু ডাকাতের ভয়ে আমরা জেলেরা সন্ধ্যার পরে নদীতে যেতে ভয় পাই। কারণ, গত কয়েক দিন আগে আমাদের ৪ জেলেকে ডাকাতরা অপহরণ করে মুক্তিপণ দিয়ে ছেড়েছে।
তারা আরও জানান, আমাদের পরিবার থেকেও নদীতে যেতে বারণ করা হচ্ছে। কিন্তু কি করবো, নদীতে না গেলে খাবো কি? অন্য কোনো কাজও জানি না। বেলাল মাঝি ও রুহুল আমিন মাঝি জানান, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ যদি সন্ধ্যার পরে নদীতে টহল কার্যক্রম রাখে তাহলে দিনে মতো রাতেও আমরা নিরাপদে মাছ ধরতে পারবো।
তবে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার অপারেশন লে. কমান্ডার মাহবুব হোসেন জানান, মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে সম্প্রতি ডাকাতির ঘটনার পর থেকে আমাদের টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। ডাকাতদের গতিবিধি শনাক্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে গোয়েন্দা নজরদারীও জোরদার করা হয়েছে।
জেলে ও মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কথা বলে ডাকাত চক্রের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নের জেলে রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। এর মধ্যে সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৩৮ জন।

৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫০
ভোলার লালমোহন উপজেলায় এক গৃহবধূকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ রোজিনা বেগম। তিনি লালমোহন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খোকনের স্ত্রী। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার মো. পলাশ মৃধার ছেলে মো. শাহাদৎ হোসেন (২৪), জুয়েল স্বর্ণকারের ছেলে মো. জুবায়ের (২১) এবং একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মিলন পাটোয়ারির ছেলে মো. নাঈম (২৪)।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বিকেলে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ চরফ্যাশন থেকে সিএনজিযোগে লালমোহনের গজারিয়া বাজার এলাকায় আসেন। সেখান থেকে পৌরসভায় অবস্থিত নিজ বাসায় ফেরার জন্য তিনি একটি অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি গজারিয়া নৌকাপট্টিতে পৌঁছালে স্থানীয় মো. শাহাদাত হোসেন, মো. নাঈম এবং মো. জুবায়েরসহ আরও কয়েকজন মিলে অটোরিকশার গতিরোধ করে ভেতরে উঠে পড়েন এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর তারা অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে সৈনিক বাজার সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তারা চাকুর ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূর কান থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া স্বর্ণের কানের রিং, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া কানের দুল এবং ভেনিটি ব্যাগে থাকা নগদ ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ সময় তারা ওই গৃহবধূকে শ্লীলতাহানিও চালান। পরে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ মামলা দায়েরের পর উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ভোলার লালমোহন উপজেলায় এক গৃহবধূকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ রোজিনা বেগম। তিনি লালমোহন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খোকনের স্ত্রী। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার মো. পলাশ মৃধার ছেলে মো. শাহাদৎ হোসেন (২৪), জুয়েল স্বর্ণকারের ছেলে মো. জুবায়ের (২১) এবং একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মিলন পাটোয়ারির ছেলে মো. নাঈম (২৪)।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বিকেলে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ চরফ্যাশন থেকে সিএনজিযোগে লালমোহনের গজারিয়া বাজার এলাকায় আসেন। সেখান থেকে পৌরসভায় অবস্থিত নিজ বাসায় ফেরার জন্য তিনি একটি অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি গজারিয়া নৌকাপট্টিতে পৌঁছালে স্থানীয় মো. শাহাদাত হোসেন, মো. নাঈম এবং মো. জুবায়েরসহ আরও কয়েকজন মিলে অটোরিকশার গতিরোধ করে ভেতরে উঠে পড়েন এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর তারা অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে সৈনিক বাজার সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তারা চাকুর ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূর কান থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া স্বর্ণের কানের রিং, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া কানের দুল এবং ভেনিটি ব্যাগে থাকা নগদ ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ সময় তারা ওই গৃহবধূকে শ্লীলতাহানিও চালান। পরে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ মামলা দায়েরের পর উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪৩
ভোলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরের দিকে ভোলা পৌর এলাকার অফিসার পাড়ার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. শাহাবুদ্দিন ফকির (৪৫)। তিনি ভোলা কোর্ট পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শাহাবুদ্দিন বরিশাল জেলার গৌরনদী থানা দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের আদম আলী ফকিরের ছেলে।
ভোলা কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন অফিসার পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের নিয়ে থাকতেন। তবে কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে যান। মঙ্গলবার সকালে কোর্টে ডিউটি ছিলো শাহাবুদ্দিনের। সে ডিউটিতে যোগদান না করায় তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু ফোন না ধরায় তার বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিকসহ ডাকাডাকি করি। তখনও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ৪ মে শাহাবুদ্দিনের একমাত্র সন্তান চৌত্রি ওই বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে শাহাবুদ্দিন মানসিকভাবে ভেঙে পরেন।’
ভোলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরের দিকে ভোলা পৌর এলাকার অফিসার পাড়ার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. শাহাবুদ্দিন ফকির (৪৫)। তিনি ভোলা কোর্ট পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শাহাবুদ্দিন বরিশাল জেলার গৌরনদী থানা দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের আদম আলী ফকিরের ছেলে।
ভোলা কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন অফিসার পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের নিয়ে থাকতেন। তবে কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে যান। মঙ্গলবার সকালে কোর্টে ডিউটি ছিলো শাহাবুদ্দিনের। সে ডিউটিতে যোগদান না করায় তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু ফোন না ধরায় তার বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিকসহ ডাকাডাকি করি। তখনও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ৪ মে শাহাবুদ্দিনের একমাত্র সন্তান চৌত্রি ওই বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে শাহাবুদ্দিন মানসিকভাবে ভেঙে পরেন।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৮
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:২৭
ভোলার বোরহানউদ্দিনে মেঘনা নদীতে বেড়েছে সশস্ত্র ডাকাত দলের উপদ্রব। এতে উপকূলীয় প্রায় ৪০ হাজার জেলের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। গত কয়েক দিনে ট্রলারে হামলা, দুর্ধর্ষ ডাকাতি এবং অস্ত্রের মুখে জেলে অপহরণের ঘটনায় নদীজুড়ে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী জেলেরা বলছেন, রাতের আঁধারে ডাকাতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে প্রাণের ভয়ে তারা সন্ধ্যার পর মাছ শিকারে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেঘনায় কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মৎস্যজীবীরা।
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি রাতে হাকিমউদ্দিন মৎস্য ঘাট এলাকায় তিনটি ট্রলারে দুর্ধর্ষ ডাকাতি এবং আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে চার জেলেকে অপহরণের ঘটনায় নদীজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অপহরণের পর কয়েক দফায় প্রায় দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে জেলেরা ফিরে আসলেও প্রাণের ভয়ে সন্ধ্যার পর নদীতে নামতে সাহস পাচ্ছেন না অধিকাংশ মৎস্যজীবী। বর্তমানে নদীতে ইলিশের দেখা মিললেও ডাকাতদের দৌরাত্ম্যে রাতে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ১৯ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত জেলেসহ সংশ্লিষ্ট আড়তদারেরা।
জয়া গ্রামের জেলে মহিউদ্দিন মাঝি জানান, ডাকাতরা তাকেসহ ৪ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং চোখ বেঁধে বেদম মারধর করে। পরে আড়তদারের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তিনি রক্ষা পান। একইভাবে রাসেল মাঝি জানান, ওই রাতে তিনটি ট্রলার থেকে অপহৃত জেলেরা প্রায় দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন।
একই এলাকার জেলে মো. শাহিন মাঝি ও মিজান মাঝি জানান, বর্তমানে মেঘনা নদীতে কিছুটা ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। দিনের চেয়ে রাতেই মাছের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু ডাকাতের ভয়ে আমরা জেলেরা সন্ধ্যার পরে নদীতে যেতে ভয় পাই। কারণ, গত কয়েক দিন আগে আমাদের ৪ জেলেকে ডাকাতরা অপহরণ করে মুক্তিপণ দিয়ে ছেড়েছে।
তারা আরও জানান, আমাদের পরিবার থেকেও নদীতে যেতে বারণ করা হচ্ছে। কিন্তু কি করবো, নদীতে না গেলে খাবো কি? অন্য কোনো কাজও জানি না। বেলাল মাঝি ও রুহুল আমিন মাঝি জানান, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ যদি সন্ধ্যার পরে নদীতে টহল কার্যক্রম রাখে তাহলে দিনে মতো রাতেও আমরা নিরাপদে মাছ ধরতে পারবো।
তবে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার অপারেশন লে. কমান্ডার মাহবুব হোসেন জানান, মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে সম্প্রতি ডাকাতির ঘটনার পর থেকে আমাদের টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। ডাকাতদের গতিবিধি শনাক্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে গোয়েন্দা নজরদারীও জোরদার করা হয়েছে।
জেলে ও মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কথা বলে ডাকাত চক্রের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নের জেলে রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। এর মধ্যে সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৩৮ জন।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪২
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪০
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৪
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:০১