মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এতে উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়লেন সাগরের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা ভোলার প্রায় ৬৫ হাজার জেলে।
তবে নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই কর্মহীন জেলেদের সরকারি সহযোগিতার ভিজিএফ চালসহ এনজিওর ঋণের কিস্তি বন্ধের দাবি জেলদের। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় ভারতীয় জেলেদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকারের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি ভোলার জেলেদের।
ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, সামুদ্রিক মৎস্য সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় ১৪ এপ্রিল দিনগত মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ৫৮ দিনের এ সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত।
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, ভোলার ৭ উপজেলায় নিবন্ধিত সাগরের জেলে রয়েছেন ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৯৮ জন, দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০ জন, বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার ৬৫০ জন, লালমোহনে ৮ হাজার ৮০৪ জন, তজুমুদ্দিনে ৪ হাজার ৫০৬ জন, চরফ্যাশনে ১৭ হাজার ৫৬১ জন ও মনপুরায় উপজেলায় রয়েছেন ১০ হাজার ১৮৫ জন।
সরেজমিনে ভোলার ব্যস্ততম ভোলার খাল ঘুরে দেখা যায়, সাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ইতোমধ্যে সব জেলেরা তাদের জাল-ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরেছেন। এসব জেলেরা ঘাটে কেউ কেউ জাল-ট্রলার নিরাপদ স্থানে উঠিয়ে তা মেরামত শুরু করেছেন।
রিয়াজ ও রাকিব মাঝি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজ মধ্যরাত থেকে সাগরে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে আগেভাগেই জাল ট্রলার নিয়ে আমরা তীরে ফিরে এসেছি। অভিযান শেষ হলে ফের সাগরে মাছ ধরতে যাব। আসলে নিষেধাজ্ঞায় আমরা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে গেলাম। কী করব অন্য কোনো কাজও জানি না, চরম কষ্টে দিনাতিপাত করতে হবে। সাগর থেকে ফিরে এখন জাল-ট্রলার মেরামত শুরু করেছি।
মো. ফারুক ও হাসান মাঝি বলেন, সরকারের অভিযান না মানার কোনো সুযোগ নেই। সরকারের কাছে নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই খাদ্য সহায়তার চাল চাই, না হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। এছাড়া এনজিওর ঋণের কিস্তি বন্ধের দাবিও জানান তারা।
এছাড়া মো. হারুন ও তুহিন মাঝি অভিযোগ করে বলেন, সাগরের ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমরা বাংলাদেশের জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে না গেলেও ভারতের জেলেরা ঠিকই বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। অভিযান তো অভিযান ই। আমরা চাই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ভারতের কোনো জেলে যেন আমাদের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরতে না পারে,এতে আমরা নিষেধাজ্ঞার শেষে সাগরে গিয়ে বেশি পরিমাণে মাছ পাব।
বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা ও টাস্কফোর্স কমিটির মিটিংসহ গুরুত্বপূর্ণ মাছঘাটগুলোতে সচেতনমূলক সভা ও প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে জানান ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই প্রতি জন জেলেকে সরকারি সহযোগিতার ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।

৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫০
ভোলার লালমোহন উপজেলায় এক গৃহবধূকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ রোজিনা বেগম। তিনি লালমোহন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খোকনের স্ত্রী। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার মো. পলাশ মৃধার ছেলে মো. শাহাদৎ হোসেন (২৪), জুয়েল স্বর্ণকারের ছেলে মো. জুবায়ের (২১) এবং একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মিলন পাটোয়ারির ছেলে মো. নাঈম (২৪)।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বিকেলে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ চরফ্যাশন থেকে সিএনজিযোগে লালমোহনের গজারিয়া বাজার এলাকায় আসেন। সেখান থেকে পৌরসভায় অবস্থিত নিজ বাসায় ফেরার জন্য তিনি একটি অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি গজারিয়া নৌকাপট্টিতে পৌঁছালে স্থানীয় মো. শাহাদাত হোসেন, মো. নাঈম এবং মো. জুবায়েরসহ আরও কয়েকজন মিলে অটোরিকশার গতিরোধ করে ভেতরে উঠে পড়েন এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর তারা অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে সৈনিক বাজার সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তারা চাকুর ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূর কান থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া স্বর্ণের কানের রিং, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া কানের দুল এবং ভেনিটি ব্যাগে থাকা নগদ ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ সময় তারা ওই গৃহবধূকে শ্লীলতাহানিও চালান। পরে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ মামলা দায়েরের পর উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ভোলার লালমোহন উপজেলায় এক গৃহবধূকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ রোজিনা বেগম। তিনি লালমোহন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খোকনের স্ত্রী। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার মো. পলাশ মৃধার ছেলে মো. শাহাদৎ হোসেন (২৪), জুয়েল স্বর্ণকারের ছেলে মো. জুবায়ের (২১) এবং একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মিলন পাটোয়ারির ছেলে মো. নাঈম (২৪)।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বিকেলে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ চরফ্যাশন থেকে সিএনজিযোগে লালমোহনের গজারিয়া বাজার এলাকায় আসেন। সেখান থেকে পৌরসভায় অবস্থিত নিজ বাসায় ফেরার জন্য তিনি একটি অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি গজারিয়া নৌকাপট্টিতে পৌঁছালে স্থানীয় মো. শাহাদাত হোসেন, মো. নাঈম এবং মো. জুবায়েরসহ আরও কয়েকজন মিলে অটোরিকশার গতিরোধ করে ভেতরে উঠে পড়েন এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর তারা অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে সৈনিক বাজার সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তারা চাকুর ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূর কান থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া স্বর্ণের কানের রিং, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া কানের দুল এবং ভেনিটি ব্যাগে থাকা নগদ ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ সময় তারা ওই গৃহবধূকে শ্লীলতাহানিও চালান। পরে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ মামলা দায়েরের পর উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪৩
ভোলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরের দিকে ভোলা পৌর এলাকার অফিসার পাড়ার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. শাহাবুদ্দিন ফকির (৪৫)। তিনি ভোলা কোর্ট পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শাহাবুদ্দিন বরিশাল জেলার গৌরনদী থানা দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের আদম আলী ফকিরের ছেলে।
ভোলা কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন অফিসার পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের নিয়ে থাকতেন। তবে কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে যান। মঙ্গলবার সকালে কোর্টে ডিউটি ছিলো শাহাবুদ্দিনের। সে ডিউটিতে যোগদান না করায় তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু ফোন না ধরায় তার বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিকসহ ডাকাডাকি করি। তখনও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ৪ মে শাহাবুদ্দিনের একমাত্র সন্তান চৌত্রি ওই বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে শাহাবুদ্দিন মানসিকভাবে ভেঙে পরেন।’
ভোলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরের দিকে ভোলা পৌর এলাকার অফিসার পাড়ার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. শাহাবুদ্দিন ফকির (৪৫)। তিনি ভোলা কোর্ট পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শাহাবুদ্দিন বরিশাল জেলার গৌরনদী থানা দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের আদম আলী ফকিরের ছেলে।
ভোলা কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন অফিসার পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের নিয়ে থাকতেন। তবে কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে যান। মঙ্গলবার সকালে কোর্টে ডিউটি ছিলো শাহাবুদ্দিনের। সে ডিউটিতে যোগদান না করায় তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু ফোন না ধরায় তার বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিকসহ ডাকাডাকি করি। তখনও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ৪ মে শাহাবুদ্দিনের একমাত্র সন্তান চৌত্রি ওই বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে শাহাবুদ্দিন মানসিকভাবে ভেঙে পরেন।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৮
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫৮
মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এতে উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়লেন সাগরের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা ভোলার প্রায় ৬৫ হাজার জেলে।
তবে নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই কর্মহীন জেলেদের সরকারি সহযোগিতার ভিজিএফ চালসহ এনজিওর ঋণের কিস্তি বন্ধের দাবি জেলদের। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় ভারতীয় জেলেদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকারের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি ভোলার জেলেদের।
ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, সামুদ্রিক মৎস্য সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় ১৪ এপ্রিল দিনগত মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ৫৮ দিনের এ সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত।
জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, ভোলার ৭ উপজেলায় নিবন্ধিত সাগরের জেলে রয়েছেন ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৯৮ জন, দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০ জন, বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার ৬৫০ জন, লালমোহনে ৮ হাজার ৮০৪ জন, তজুমুদ্দিনে ৪ হাজার ৫০৬ জন, চরফ্যাশনে ১৭ হাজার ৫৬১ জন ও মনপুরায় উপজেলায় রয়েছেন ১০ হাজার ১৮৫ জন।
সরেজমিনে ভোলার ব্যস্ততম ভোলার খাল ঘুরে দেখা যায়, সাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ইতোমধ্যে সব জেলেরা তাদের জাল-ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরেছেন। এসব জেলেরা ঘাটে কেউ কেউ জাল-ট্রলার নিরাপদ স্থানে উঠিয়ে তা মেরামত শুরু করেছেন।
রিয়াজ ও রাকিব মাঝি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজ মধ্যরাত থেকে সাগরে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে আগেভাগেই জাল ট্রলার নিয়ে আমরা তীরে ফিরে এসেছি। অভিযান শেষ হলে ফের সাগরে মাছ ধরতে যাব। আসলে নিষেধাজ্ঞায় আমরা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে গেলাম। কী করব অন্য কোনো কাজও জানি না, চরম কষ্টে দিনাতিপাত করতে হবে। সাগর থেকে ফিরে এখন জাল-ট্রলার মেরামত শুরু করেছি।
মো. ফারুক ও হাসান মাঝি বলেন, সরকারের অভিযান না মানার কোনো সুযোগ নেই। সরকারের কাছে নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই খাদ্য সহায়তার চাল চাই, না হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। এছাড়া এনজিওর ঋণের কিস্তি বন্ধের দাবিও জানান তারা।
এছাড়া মো. হারুন ও তুহিন মাঝি অভিযোগ করে বলেন, সাগরের ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমরা বাংলাদেশের জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে না গেলেও ভারতের জেলেরা ঠিকই বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। অভিযান তো অভিযান ই। আমরা চাই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ভারতের কোনো জেলে যেন আমাদের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরতে না পারে,এতে আমরা নিষেধাজ্ঞার শেষে সাগরে গিয়ে বেশি পরিমাণে মাছ পাব।
বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা ও টাস্কফোর্স কমিটির মিটিংসহ গুরুত্বপূর্ণ মাছঘাটগুলোতে সচেতনমূলক সভা ও প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে জানান ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই প্রতি জন জেলেকে সরকারি সহযোগিতার ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪২
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪০
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৪
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:০১