বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডের ললিত দাস পোল এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা ও একজনকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্নের ঘটনাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলা, মাদকের আখড়া ও কিশোর গ্যাং দৌরাত্মের প্রতিবাদ ও নির্মূলের দাবীতে মহাসড়ক আটকে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে চৌমাথা এলাকাবাসী।
সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর চৌমাথা এলাকার মানববন্ধন করে এবং মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। এসময় কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুনুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
সমাবেশে বক্তারা নবগ্রাম রোডের ললিত দাস পোল এলাকায় নির্মাণাধীন ঘরের জন্য আনা বালু রাখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দ্বীন ইসলাম খান ওরফে মুন্না (২১)কে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্নসহ নৃশংসতা তুলে ধরে বলেন, সামান্য তর্কাতর্কি থেকে যদি এতো বড় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা হয় তাহলে বরিশালের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কি অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়।
ইতিপূর্বে নগরীর পলাশপুর, রূপাতলী, কাউনিয়া এলাকায় একাধিক নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে। এরা সবাই মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাং সদস্য। এমন পরিস্থিতিতে মাদকের আখড়া ও বাণিজ্য আগে বন্ধ করতে হবে। নগরী থেকে কিশোর গ্যাং সম্পূর্ণ নির্মূল করার জোর দাবী জানান বক্তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চৌমাথা এলাকার বাসিন্দা মহসিন খান বাশার, ফারুক খান, হুমায়ুন খান, রাসেল, কবির খান, সবুজ খান, সুরুজ খান, রকি খান, রাকিব, রফিক খান, জসিম খান, সজিব হাওলাদার, নজরুল ইসলাম, রুবেল মৃধা, আলিফ খান, আজিম খান, হামিম, সোহেল খান, মুন্নার সহপাঠী ও নারী-পুরুষ সহ প্রায় তিন শতাধিক এলাকাবাসী এই মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশগ্রহন করেন।
এর আগে গত ৩ জুন বরিশাল মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকেও এ ঘটনার প্রতিবাদে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তারা বলছেন, এর সাথে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, গত রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডের ললিত দাস পোল এলাকায় নির্মাণাধীন ঘরের জন্য আনা বালু রাখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দ্বীন ইসলাম খান ওরফে মুন্না (২১) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত মুন্না নগরীর নবগ্রাম রোড এলাকার বাসিন্দা লিটন খানের ছেলে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা মুন্না নামে একজনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ রেফার করেছেন।
এবিষয়ে আহতের বাবা লিটন খান বলেছেন, গত শুক্রবার ২৯ মে রাতে তাদের নির্মাণাধীন ঘরের জন্য আনা বালু সুপারি গাছের নিচে রাখাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে তারা মনে করেছিলেন। কিন্তু রোববার সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বের হলে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ মিলন ও রানাসহ তাদের লোকজন মুন্নার ওপর হামলা চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মুন্নাকে গুরুতর আহত করে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাকে হত্যা করা।
এসময় আহতের মা কুলসুম বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। এই মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, হামলার ঘটনায় একই এলাকার মিলন খান (৩০), রানা খান (২৮), হিমেল (২২), কালাম খান (৫৫) ও নার্গিস বেগম (৫০)-কে আসামি করা হয়েছে।
মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে নলিনী দাস পোল এলাকার সড়কে মুন্নার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং তিনি গুরুতর জখম হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতের মা কুলসুম বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”
এদিকে মামলা করার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ও বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। মিলন ও রানা স্থানীয় বিএনপির ছত্রছায়ায় এলাকায় রীতিমতো তাণ্ডব চালাতো বলেও একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিএনপির নাম এই সন্ত্রাসীদের সাথে যুক্ত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, এসব সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্তদের পক্ষে কোনো বিএনপি নেতা বা কর্মী কথা বললে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মীর জাহিদের এই বক্তব্যকে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকও। তিনি বলেছেন, মাদকাসক্ত ও সন্ত্রাসীরা কখনো কোনো দলের হতে পারেনা। এরা শুধু টাকার দলে। যে টাকা দেবে তার দলের। এদের বিপক্ষেই আমাদের অবস্থান সবসময়। সমাজ থেকে মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম দূর করতে হলে এদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ২৭ জুলাই ২০২৬: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের কৃতী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২৫ টি বিভাগের মোট ৭টি অনুষদের ১০৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সুনাগরিক ও দেশের কর্ণধার। তাদের মেধা, সততা, গবেষণামনস্কতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির ওপর নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই, তোমাদের জ্ঞানচর্চায় মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি। সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক। ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রাপ্তদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত বিভাগ কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী এই সম্মাননা লাভ করেন। তাদের মধ্যে নিহাল ইসলাম খন্দকার, পিতা: খন্দকার নজরুল ইসলাম, বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার কৃতী সন্তান। . হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপকূল অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বাংলাদেশের একমাত্র বিভাগ যেখানে উপকূল দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা বিষয়ে স্নাতক(সম্মান) ডিগ্রি দেওয়া হয় যা বাংলাদেশের কোথাও দেওয়া হয় না।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ২৭ জুলাই ২০২৬: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের কৃতী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২৫ টি বিভাগের মোট ৭টি অনুষদের ১০৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সুনাগরিক ও দেশের কর্ণধার। তাদের মেধা, সততা, গবেষণামনস্কতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির ওপর নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই, তোমাদের জ্ঞানচর্চায় মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি। সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক। ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রাপ্তদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত বিভাগ কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী এই সম্মাননা লাভ করেন। তাদের মধ্যে নিহাল ইসলাম খন্দকার, পিতা: খন্দকার নজরুল ইসলাম, বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার কৃতী সন্তান। . হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপকূল অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বাংলাদেশের একমাত্র বিভাগ যেখানে উপকূল দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা বিষয়ে স্নাতক(সম্মান) ডিগ্রি দেওয়া হয় যা বাংলাদেশের কোথাও দেওয়া হয় না।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

২৯ জুলাই, ২০২৬ ০০:৩০
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’

০৪ জুন, ২০২৬ ২০:১৪
বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডের ললিত দাস পোল এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা ও একজনকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্নের ঘটনাসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলা, মাদকের আখড়া ও কিশোর গ্যাং দৌরাত্মের প্রতিবাদ ও নির্মূলের দাবীতে মহাসড়ক আটকে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে চৌমাথা এলাকাবাসী।
সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর চৌমাথা এলাকার মানববন্ধন করে এবং মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। এসময় কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুনুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
সমাবেশে বক্তারা নবগ্রাম রোডের ললিত দাস পোল এলাকায় নির্মাণাধীন ঘরের জন্য আনা বালু রাখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দ্বীন ইসলাম খান ওরফে মুন্না (২১)কে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্নসহ নৃশংসতা তুলে ধরে বলেন, সামান্য তর্কাতর্কি থেকে যদি এতো বড় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা হয় তাহলে বরিশালের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কি অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়।
ইতিপূর্বে নগরীর পলাশপুর, রূপাতলী, কাউনিয়া এলাকায় একাধিক নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে। এরা সবাই মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাং সদস্য। এমন পরিস্থিতিতে মাদকের আখড়া ও বাণিজ্য আগে বন্ধ করতে হবে। নগরী থেকে কিশোর গ্যাং সম্পূর্ণ নির্মূল করার জোর দাবী জানান বক্তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চৌমাথা এলাকার বাসিন্দা মহসিন খান বাশার, ফারুক খান, হুমায়ুন খান, রাসেল, কবির খান, সবুজ খান, সুরুজ খান, রকি খান, রাকিব, রফিক খান, জসিম খান, সজিব হাওলাদার, নজরুল ইসলাম, রুবেল মৃধা, আলিফ খান, আজিম খান, হামিম, সোহেল খান, মুন্নার সহপাঠী ও নারী-পুরুষ সহ প্রায় তিন শতাধিক এলাকাবাসী এই মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশগ্রহন করেন।
এর আগে গত ৩ জুন বরিশাল মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকেও এ ঘটনার প্রতিবাদে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তারা বলছেন, এর সাথে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, গত রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডের ললিত দাস পোল এলাকায় নির্মাণাধীন ঘরের জন্য আনা বালু রাখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দ্বীন ইসলাম খান ওরফে মুন্না (২১) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত মুন্না নগরীর নবগ্রাম রোড এলাকার বাসিন্দা লিটন খানের ছেলে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা মুন্না নামে একজনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ রেফার করেছেন।
এবিষয়ে আহতের বাবা লিটন খান বলেছেন, গত শুক্রবার ২৯ মে রাতে তাদের নির্মাণাধীন ঘরের জন্য আনা বালু সুপারি গাছের নিচে রাখাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে তারা মনে করেছিলেন। কিন্তু রোববার সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বের হলে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ মিলন ও রানাসহ তাদের লোকজন মুন্নার ওপর হামলা চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মুন্নাকে গুরুতর আহত করে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাকে হত্যা করা।
এসময় আহতের মা কুলসুম বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। এই মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, হামলার ঘটনায় একই এলাকার মিলন খান (৩০), রানা খান (২৮), হিমেল (২২), কালাম খান (৫৫) ও নার্গিস বেগম (৫০)-কে আসামি করা হয়েছে।
মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে নলিনী দাস পোল এলাকার সড়কে মুন্নার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং তিনি গুরুতর জখম হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতের মা কুলসুম বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”
এদিকে মামলা করার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ও বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। মিলন ও রানা স্থানীয় বিএনপির ছত্রছায়ায় এলাকায় রীতিমতো তাণ্ডব চালাতো বলেও একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিএনপির নাম এই সন্ত্রাসীদের সাথে যুক্ত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, এসব সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্তদের পক্ষে কোনো বিএনপি নেতা বা কর্মী কথা বললে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মীর জাহিদের এই বক্তব্যকে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকও। তিনি বলেছেন, মাদকাসক্ত ও সন্ত্রাসীরা কখনো কোনো দলের হতে পারেনা। এরা শুধু টাকার দলে। যে টাকা দেবে তার দলের। এদের বিপক্ষেই আমাদের অবস্থান সবসময়। সমাজ থেকে মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম দূর করতে হলে এদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।