বাসায় তল্লাশি চালিয়ে সাতটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার
নাম তার আকাশ হাওলাদার। কিন্তু শহরের বাসিন্দাদের কাছে তিনি মাসুদ ওরফে কালা মাসুদ নামে পরিচিত। তবে এই পরিচিতির বাইরে তার নামের পূর্বের একটি ভয়ংকর ট্যাগ রয়েছে, ‘ধারালো দা’ চালাতে পারদর্শী হওয়ায় তিনি ‘দাও মাসুদ’ নামেই সমাধিক পরিচিত। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকা ঘেটে এমন তথ্য-উপাত্ত্ব পাওয়া যায়। বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের গিলাতলী গ্রামের এই বাসিন্দা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বদৌলতে নিজের নামের পূর্বে এমন একটি বিশেষণ যুক্ত করতে পেরেছে, যা নিয়ে তিনি দম্ভোক্তিও করেন!
২৬ টি বিচারাধীন মামলায় অভিযুক্ত মাসুদ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বরিশাল শহরের পোর্টরোড এবং লঞ্চঘাট এলাকায় গভীর রাতে বাহিনীসমেত অস্ত্রের মহড়া দিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি করে। সেই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এনিয়ে বরিশালটাইমস অনলাইন নিউজপোর্টালে মাসুদের ছবিসংবলিত একটি সংবাদ গুরুত্ব দিয়ে মোটাদাগে প্রকাশ করে। ১৭ জানুয়ারি ‘বরিশালে নয়া সন্ত্রাস কালা মাসুদের উত্থান’, গভীর রাতে বাহিনী নিয়ে অস্ত্রের মহড়া-আতঙ্ক, এই শিরোনাম সংবাদটি প্রকাশ পেলে তাকে বাগে আনতে দৌড়ঝাপ শুরু করে পুলিশ। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের খবর প্রাপ্তির পরেই তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে অন্তর্ধানে চলে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, মাসুদ ওরফে দা মাসুদের বিরুদ্ধে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক, দস্যুতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগে অন্তত ২৫টির বেশি মামলা বিচারাধীন আছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দাপুলিশের একটি চৌকশ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালত মাসুদকে কারাগারে পাঠিয়ে দিলেও কিছুদিন না যেতেই জামিনে মুক্ত হয়ে ফের আগেই মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, সদর উপজেলার গিলাতলী গ্রামের বাসিন্দা কালা মাসুদ বিভিন্ন সময়ে টাকার বিনিময়ে টার্গেট ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। বরিশাল নগরীর ছিনতাইকারীদের গডফাদার ও ভাড়াটে খুনি নামে পরিচিত তিনি। তার বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এছাড়াও কালা মাসুদের রয়েছে ছিনতাইকারী কয়েকটি চক্র। সূত্রগুলো জানায়, শহরের ধোপাবাড়ির মোড়, কলেজ অ্যাভিনিউ, বৈদ্যপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে রয়েছে কালা মাসুদের সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা। তারা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অপরাধ করে থাকেন।
বরিশালের এই আলোচিত সন্ত্রাসীকে বৃহস্পতিবার খুব সকালে তার গ্রামের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এসময় তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে দুটি চাপাতিসহ ৭টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এই সফল অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মো. নাসিমুল হক।
পুলিশ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কালা মাসুদ আওয়ামী লীগের গোটা শাসনামলে বরিশাল শহরের ত্রাস চালিয়েছে। এবং বিভিন্ন ঘটনাচক্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারেও প্রেরণ করে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পরে তার যেনো নতুন ভাবে উত্থান ঘটে। এই চিহ্নিত অপরাধীকে সময় বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশকে নিয়েও ‘খিস্তিখেউর’ করতে শোনা যায়!
কোতয়ালি পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মাসুদ পোর্টরোড এবং লঞ্চঘাট এলাকায় গভীর রাতে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। সেই ঘটনায় বরিশালটাইমস পত্রিকায় তাকে নিয়ে একটি নেতিবাচক একটি সংবাদ প্রকাশ করে। তখন তিনি গাঢাকা দেন এবং একপর্যায়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাকে আর আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম মো. নাসিমুল হক বরিশালটাইমসকে জানান, নয়া সন্ত্রাসী দাও মাসুদের অত্যাচারে গিলাতলী গ্রামের সাধারণ মানুষও ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে তিনি শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে গোয়েন্দা তথ্যে অভিযান চালিয়ে মাসুদ ওরফে দাও মাসুদকে গিলাতলী গ্রামের বাসা থেকে পুলিশের জালে নিয়ে আসা হয়।
এই ভয়ংকর সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে নতুন করে অস্ত্র আইনে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়। এবং সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা টিপু সুলতান বরিশালটাইমসকে জানান, মাসুদকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালত মঞ্জুর করলে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, মন্তব্য করেন পুলিশ কর্মকর্তা।
কীর্তনখোলা নদীতীর জনপদের এই মূর্তিমাণ সন্ত্রাসীকে পুলিশ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের খবর জনমনে স্বস্তি জুগিয়েছে। বিশেষ করে পোর্টরোড এবং লঞ্চঘাটসহ গিলাতলী গ্রামের বাসিন্দা-ব্যবসায়ীরা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছে।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:৫৬
বরিশাল নগরের ফজলুল হক এভিনিউ ও সদর রোড এলাকা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা, মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্সে ব্যবসা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সরবরাহের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিসিসির এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ উজ জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে মুসলিম সুইটস এন্ড রেস্তোরাঁ ও মা গৌরনদী মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় মোট ১৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ সময় সর্বসাধারণের চলাচলের নির্ধারিত স্থান (ফুটপাত) দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে ২ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক পরিচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯-এর ৯২(৭) ধারা, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ৯২(৩) ধারায় মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
জনস্বার্থে নগরীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন(বিসিসি)।
বরিশাল টাইমস
বরিশাল নগরের ফজলুল হক এভিনিউ ও সদর রোড এলাকা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা, মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্সে ব্যবসা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সরবরাহের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিসিসির এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ উজ জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে মুসলিম সুইটস এন্ড রেস্তোরাঁ ও মা গৌরনদী মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় মোট ১৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ সময় সর্বসাধারণের চলাচলের নির্ধারিত স্থান (ফুটপাত) দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে ২ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক পরিচালিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯-এর ৯২(৭) ধারা, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ৯২(৩) ধারায় মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
জনস্বার্থে নগরীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন(বিসিসি)।
বরিশাল টাইমস

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৪
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫
বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক সহকারী শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম পাশে রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেহানা বেগম (৪৫) রাকুদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রেহানা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বেপরোয়া গতির বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদরাসার শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রেহানা বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর মাদরাসায় পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিচার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
সংবাদ পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে চালক ও বাস আটকের আশ্বাসসহ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করা হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ব্রেকিংনিউজ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’
বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক সহকারী শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম পাশে রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেহানা বেগম (৪৫) রাকুদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রেহানা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বেপরোয়া গতির বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদরাসার শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রেহানা বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর মাদরাসায় পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিচার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
সংবাদ পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে চালক ও বাস আটকের আশ্বাসসহ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করা হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ব্রেকিংনিউজ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’

১৮ জুন, ২০২৬ ১৭:৪৬
বাসায় তল্লাশি চালিয়ে সাতটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার
নাম তার আকাশ হাওলাদার। কিন্তু শহরের বাসিন্দাদের কাছে তিনি মাসুদ ওরফে কালা মাসুদ নামে পরিচিত। তবে এই পরিচিতির বাইরে তার নামের পূর্বের একটি ভয়ংকর ট্যাগ রয়েছে, ‘ধারালো দা’ চালাতে পারদর্শী হওয়ায় তিনি ‘দাও মাসুদ’ নামেই সমাধিক পরিচিত। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকা ঘেটে এমন তথ্য-উপাত্ত্ব পাওয়া যায়। বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের গিলাতলী গ্রামের এই বাসিন্দা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বদৌলতে নিজের নামের পূর্বে এমন একটি বিশেষণ যুক্ত করতে পেরেছে, যা নিয়ে তিনি দম্ভোক্তিও করেন!
২৬ টি বিচারাধীন মামলায় অভিযুক্ত মাসুদ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বরিশাল শহরের পোর্টরোড এবং লঞ্চঘাট এলাকায় গভীর রাতে বাহিনীসমেত অস্ত্রের মহড়া দিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি করে। সেই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এনিয়ে বরিশালটাইমস অনলাইন নিউজপোর্টালে মাসুদের ছবিসংবলিত একটি সংবাদ গুরুত্ব দিয়ে মোটাদাগে প্রকাশ করে। ১৭ জানুয়ারি ‘বরিশালে নয়া সন্ত্রাস কালা মাসুদের উত্থান’, গভীর রাতে বাহিনী নিয়ে অস্ত্রের মহড়া-আতঙ্ক, এই শিরোনাম সংবাদটি প্রকাশ পেলে তাকে বাগে আনতে দৌড়ঝাপ শুরু করে পুলিশ। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের খবর প্রাপ্তির পরেই তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে অন্তর্ধানে চলে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, মাসুদ ওরফে দা মাসুদের বিরুদ্ধে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক, দস্যুতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগে অন্তত ২৫টির বেশি মামলা বিচারাধীন আছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দাপুলিশের একটি চৌকশ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালত মাসুদকে কারাগারে পাঠিয়ে দিলেও কিছুদিন না যেতেই জামিনে মুক্ত হয়ে ফের আগেই মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, সদর উপজেলার গিলাতলী গ্রামের বাসিন্দা কালা মাসুদ বিভিন্ন সময়ে টাকার বিনিময়ে টার্গেট ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। বরিশাল নগরীর ছিনতাইকারীদের গডফাদার ও ভাড়াটে খুনি নামে পরিচিত তিনি। তার বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এছাড়াও কালা মাসুদের রয়েছে ছিনতাইকারী কয়েকটি চক্র। সূত্রগুলো জানায়, শহরের ধোপাবাড়ির মোড়, কলেজ অ্যাভিনিউ, বৈদ্যপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে রয়েছে কালা মাসুদের সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা। তারা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অপরাধ করে থাকেন।
বরিশালের এই আলোচিত সন্ত্রাসীকে বৃহস্পতিবার খুব সকালে তার গ্রামের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এসময় তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে দুটি চাপাতিসহ ৭টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এই সফল অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মো. নাসিমুল হক।
পুলিশ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কালা মাসুদ আওয়ামী লীগের গোটা শাসনামলে বরিশাল শহরের ত্রাস চালিয়েছে। এবং বিভিন্ন ঘটনাচক্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারেও প্রেরণ করে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পরে তার যেনো নতুন ভাবে উত্থান ঘটে। এই চিহ্নিত অপরাধীকে সময় বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশকে নিয়েও ‘খিস্তিখেউর’ করতে শোনা যায়!
কোতয়ালি পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মাসুদ পোর্টরোড এবং লঞ্চঘাট এলাকায় গভীর রাতে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। সেই ঘটনায় বরিশালটাইমস পত্রিকায় তাকে নিয়ে একটি নেতিবাচক একটি সংবাদ প্রকাশ করে। তখন তিনি গাঢাকা দেন এবং একপর্যায়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাকে আর আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম মো. নাসিমুল হক বরিশালটাইমসকে জানান, নয়া সন্ত্রাসী দাও মাসুদের অত্যাচারে গিলাতলী গ্রামের সাধারণ মানুষও ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে তিনি শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে গোয়েন্দা তথ্যে অভিযান চালিয়ে মাসুদ ওরফে দাও মাসুদকে গিলাতলী গ্রামের বাসা থেকে পুলিশের জালে নিয়ে আসা হয়।
এই ভয়ংকর সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে নতুন করে অস্ত্র আইনে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়। এবং সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা টিপু সুলতান বরিশালটাইমসকে জানান, মাসুদকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালত মঞ্জুর করলে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, মন্তব্য করেন পুলিশ কর্মকর্তা।
কীর্তনখোলা নদীতীর জনপদের এই মূর্তিমাণ সন্ত্রাসীকে পুলিশ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের খবর জনমনে স্বস্তি জুগিয়েছে। বিশেষ করে পোর্টরোড এবং লঞ্চঘাটসহ গিলাতলী গ্রামের বাসিন্দা-ব্যবসায়ীরা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছে।’
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৮
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:৫৬
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫