গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগের দেড় যুগের শাসনকালে গুম করে হত্যার পর অনেক ব্যক্তির লাশ ফেলা হয়েছে বরিশালের বলেশ্বর নদে ও বরগুনার পাথরঘাটায়। তা ছাড়া মুন্সিগঞ্জে একটি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের কবরস্থান পাওয়া গেছে, যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের দাফন করা হয়েছে।
গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। কমিশনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এর আগে গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এর আগে আরও দুটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কমিশনে ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে একাধিকবার দেওয়া ২৩১টি অভিযোগ এবং যাচাই-বাছাই শেষে গুমের সংজ্ঞার বহির্ভূত বিবেচনায় ১১৩টি অভিযোগ বাতিল করা হয়। ফলে মোট ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ কমিশনের সক্রিয় বিবেচনায় ছিল। এর মধ্যে ২৫১ জন নিখোঁজ (যাঁদের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি) এবং ৩৬ জনের গুম–পরবর্তী লাশ উদ্ধার হয়।
মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘নিখোঁজদের ভাগ্য নির্ধারণে কমিশন দেশের বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য ক্রাইম সিন, পিক-আপ প্লেস (তুলে নেওয়ার স্থান), আয়নাঘর ও ডাম্পিং প্লেস (যেখানে লাশ ফেলা হতো) পরিদর্শন করেছে। মুন্সিগঞ্জে একটি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের কবরস্থান পাওয়া গেছে, যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের দাফন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ, সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি প্রমাণিত যে দাফন করা লাশের মাথায় গুলি এবং দুই হাত পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় ছিল।’
গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সভাপতি আরও বলেন, বরিশালের বলেশ্বর নদে এবং বরগুনার পাথরঘাটায় ডাম্পিং প্লেসের সন্ধান পাওয়া গেছে। বরিশালে দুটি দেহ উত্তোলন ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কমিশন এ কাজের সূচনা করে। পরে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ শনাক্তে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। কমিশন অজ্ঞাতপরিচয় ও বেওয়ারিশ মরদেহ শনাক্ত করে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে একটি ব্যাপক ডিএনএ তথ্যভান্ডার গঠনের সুপারিশ করেছে।
গুমের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য কিছু সুপারিশ করেছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। সংবাদ সম্মেলনে কমিশন জানায়, বলপূর্বক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তি ও অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রত্যাহারের সুপারিশও রয়েছে।
এর বাইরে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ বাতিল বা মৌলিক সংশোধন, সমাজভিত্তিক প্রতিরোধমূলক সন্ত্রাসবিরোধী নীতি প্রণয়ন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস আইন, ২০০৩-এর ১৩ ধারা বাতিল, সব বাহিনীকে কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা, বাধ্যতামূলক মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ এবং সত্য, স্মৃতি ও জবাবদিহির প্রতীক হিসেবে ‘আয়নাঘরগুলোকে’ জাদুঘরে রূপান্তরের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন জানান, সারা দেশে মোট ৪০টি ডিটেনশন সেন্টার বা গোপন বন্দিশালার সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২২–২৩টি বন্দিশালাই র্যাবের। এ ছাড়া গুম কমিশন কাজ শুরু করার পর র্যাবই সবচেয়ে বেশি গুমের আলামত ধ্বংস করেছে।
নাক গলায় গোয়েন্দা সংস্থা
এক প্রশ্নের জবাবে মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রতিটি গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কার লাগবে। দেশের গোয়েন্দা সংস্থা কী করে? তারা রাজনীতিতে নাক গলায়। কেন নাক গলায়? কারণ, তারা ক্ষমতার অংশ হতে চায়।
কমিশনের প্রধান বলেন, এস আলমের পক্ষে ডিজিএফআই গিয়ে ইসলামী ব্যাংক দখল করছে। এটা কি ডিজিএফআইয়ের কাজ ছিল? বা কোনো মিডিয়া হাউস দখল করা কি ডিজিএফআইয়ের কাজ বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কাজ? তাদের নানাভাবে অপব্যবহার করা হয়েছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনপ্রধান বলেন, ‘ডিজিএফআই থাকতে হবে। ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি থাকতে হবে; কিন্তু এটা রিফর্ম করতে হবে। তাদের যে এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস) আছে বা যে গ্রিন বুক, সেটাও চেঞ্জ করতে হবে। আমরা সাজেস্ট করছি, যাতে ডিজিএফআইয়ের রিফর্ম করা হয়। তারা যাতে তাদের কাজ ছেড়ে অন্য কাজ না করে।’
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা যাতে ব্যাংক দখল না করে, মিডিয়া হাউস দখল না করে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যাতে নাক না গলায় সে জায়গাগুলো নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা লাগবে।
কোন বাহিনী কত গুম করেছে
সংবাদ সম্মেলনে কমিশন জানায়, প্রায় ২৫ শতাংশ গুমের অভিযোগে র্যাব জড়িত, এরপর পুলিশ ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া ডিবি, সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এনএসআই ব্যাপকহারে গুম করেছে। বহু ক্ষেত্রে সাদাপোশাকধারী বা ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয়ে অপহরণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর ধরন থেকে এটা স্পষ্ট যে গুম একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত চর্চা হিসেবে র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দ্বারা একক ও যৌথ অভিযানে সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন অসদাচরণের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় সমন্বিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গুমসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর মধ্য থেকে ফিরে না আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চার ধাপে কিছু অভিযোগ পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে আনা দুই থেকে পাঁচ দিনের গুমের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৃথকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ছয় মাসের মধ্যে মানবাধিকার কমিশনকে অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুশ ইন হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনপ্রধান বলেন, দেশের সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ সুপার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সেক্টর কমান্ডারদের কাছ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ ইন করা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেখানে গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ের বাসিন্দা গুমের শিকার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন করার একটি নির্দিষ্ট ঘটনা কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক প্রথম দফায় ১ হাজার ৫২ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ৩ হাজার ২৮৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা কমিশন পেয়েছে। সেগুলো যাচাইয়ের পর গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়নি। ওই তালিকার কিছু তথ্য অসম্পূর্ণ ও অস্পষ্ট হওয়ায় বিষয়গুলোর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে ও হালনাগাদ তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠির অগ্রগতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে হাত বাঁধা বাবাকে নিজের হাতে চা-রুটি খাওয়ানোর দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনার কেন্দ্রে আসা তুবা অবশেষে ফিরেছে বিদ্যালয়ে। চার মাসের শিক্ষাবিরতি কাটিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজার হাত ধরে বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকায় তুবার বাড়িতে যান ইউএনও। সেখান থেকে তুবাকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর শ্রেণিকক্ষে ফিরে শিক্ষক ও সহপাঠীদের স্বাগত পায় শিশুটি।
তুবার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আর্থিক সংকটসহ পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার কারণে চার মাস ধরে মেয়েটির পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় আবার বিদ্যালয়ে ফিরতে পারায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, দীর্ঘ সময় একটি শিশুর শিক্ষাজীবন থমকে থাকা উদ্বেগের বিষয়। তুবার বিষয়টি জানার পর তাকে নিজেই বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। ভবিষ্যতে তার পড়াশোনায় যেন আর ছেদ না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তুবার পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউএনও বলেন, তার বাবা অনিককে ইতোমধ্যে চিকিৎসার জন্য পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে তাকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তুবার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবে।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর উজিরপুরের বামরাইল এলাকায় কথিত চুরির অভিযোগে অনিক সরদারকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাবার কাছে যায় তুবা। হাত বাঁধা অবস্থায় থাকা বাবাকে নিজের হাতে চা ও রুটি খাওয়ায় সে। সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। পরে তুবার দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও সামনে আসে।
বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে হাত বাঁধা বাবাকে নিজের হাতে চা-রুটি খাওয়ানোর দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনার কেন্দ্রে আসা তুবা অবশেষে ফিরেছে বিদ্যালয়ে। চার মাসের শিক্ষাবিরতি কাটিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজার হাত ধরে বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকায় তুবার বাড়িতে যান ইউএনও। সেখান থেকে তুবাকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর শ্রেণিকক্ষে ফিরে শিক্ষক ও সহপাঠীদের স্বাগত পায় শিশুটি।
তুবার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আর্থিক সংকটসহ পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার কারণে চার মাস ধরে মেয়েটির পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় আবার বিদ্যালয়ে ফিরতে পারায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, দীর্ঘ সময় একটি শিশুর শিক্ষাজীবন থমকে থাকা উদ্বেগের বিষয়। তুবার বিষয়টি জানার পর তাকে নিজেই বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। ভবিষ্যতে তার পড়াশোনায় যেন আর ছেদ না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তুবার পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউএনও বলেন, তার বাবা অনিককে ইতোমধ্যে চিকিৎসার জন্য পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে তাকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তুবার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবে।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর উজিরপুরের বামরাইল এলাকায় কথিত চুরির অভিযোগে অনিক সরদারকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাবার কাছে যায় তুবা। হাত বাঁধা অবস্থায় থাকা বাবাকে নিজের হাতে চা ও রুটি খাওয়ায় সে। সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। পরে তুবার দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও সামনে আসে।

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫২
বরিশাল নগরের ভাটিখানা এলাকায় একটি বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে আমেনা খানম (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে রোকেয়া আজিম সড়কের খালপাড় এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়সুত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ওই বাসার পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়ারা আমেনা খানমের ঘর থেকে পচা গন্ধ পান। বিষয়টি তারা বাড়ির মালিকের স্ত্রী রিনা বেগমকে অবহিত করেন। পরে তিনি আমেনার ছেলে রিফাতকে ফোন করে বিষয়টি জানান। রিফাত পুলিশকে খবর দিলে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।
পুলিশ সদস্যরা গিয়ে ঘরটির দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তালা খুলে কক্ষে ঢুকে খাটের ওপর আমেনা খানমের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাঁর হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।
নিহত আমেনা খানমের বাড়ি মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ওই উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রায় এক বছর আগে ভাটিখানার ওই বাসার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নেন। সেখানে তিনি একাই থাকতেন। তাঁর ছেলে রিফাত ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত।
বাড়ির মালিকের স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমেনা খানম তাঁদের বাসায় ভাড়া থাকতেন। বুধবার রাতে পাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকে দুর্গন্ধের কথা জানতে পেরে তিনি আমেনার ছেলেকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
বরিশাল মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, রিফাতের ফোন পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় যায়। কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরে তালা খুলে ভেতরে আমেনা খানমের মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিল।
তিনি আরও বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বরিশাল নগরের ভাটিখানা এলাকায় একটি বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে আমেনা খানম (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে রোকেয়া আজিম সড়কের খালপাড় এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়সুত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ওই বাসার পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়ারা আমেনা খানমের ঘর থেকে পচা গন্ধ পান। বিষয়টি তারা বাড়ির মালিকের স্ত্রী রিনা বেগমকে অবহিত করেন। পরে তিনি আমেনার ছেলে রিফাতকে ফোন করে বিষয়টি জানান। রিফাত পুলিশকে খবর দিলে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।
পুলিশ সদস্যরা গিয়ে ঘরটির দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তালা খুলে কক্ষে ঢুকে খাটের ওপর আমেনা খানমের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাঁর হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।
নিহত আমেনা খানমের বাড়ি মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ওই উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রায় এক বছর আগে ভাটিখানার ওই বাসার দ্বিতীয় তলা ভাড়া নেন। সেখানে তিনি একাই থাকতেন। তাঁর ছেলে রিফাত ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত।
বাড়ির মালিকের স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমেনা খানম তাঁদের বাসায় ভাড়া থাকতেন। বুধবার রাতে পাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকে দুর্গন্ধের কথা জানতে পেরে তিনি আমেনার ছেলেকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
বরিশাল মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, রিফাতের ফোন পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় যায়। কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরে তালা খুলে ভেতরে আমেনা খানমের মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিল।
তিনি আরও বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০৩
বরিশালের বাবুগঞ্জে সুগন্ধা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি পুরোনো মসজিদ, দুটি বসতভিটা ও দুটি দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের মুখে পড়েছে বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটের গণশৌচাগারসহ আরও কিছু স্থাপনা।
ভাঙন অব্যাহত থাকায় এখন ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় দুই শ বছরের পুরোনো বাবুগঞ্জ বাজার, খেয়াঘাট, কয়েকটি মসজিদ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙন আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এগিয়ে গেলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়ালও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, সুগন্ধা নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে পড়ছে। পাড়ের বড় বড় অংশ নদীতে পড়ে যাচ্ছে। নদীর কাছাকাছি থাকা বসতঘর ও দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। কেউ ঘরের বারান্দা খুলে অন্যত্র রাখছেন, কেউ বাঁশের চাটাই, পাইলিং ও বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
পশ্চিম ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক সরোয়ার হোসেনের বসতঘরও ভাঙনের মুখে। এরই মধ্যে তাঁর রান্নাঘর ও চুলা নদীতে চলে গেছে। ঘরের বারান্দা খুলে অন্যের বাড়িতে রেখে দিয়েছেন তিনি।
নদীর পাড়ে নতুন মাটির চুলা তৈরি করছিলেন সরোয়ারের স্ত্রী সুমি বেগম। তিনি বলেন, ‘পাঁচবার ভাঙনের পর এইহানে ঘর তুলছিলাম। তাও ভাঙনে নিতেছে। ঘরের বারান্দা খুইলা অন্য মানুষের বাড়িতে রাখছি। এহন আমাগো আর অন্য কোথাও যাওনের জায়গা নাই। বাচ্চা লইয়া আতঙ্কে নির্ঘুম রাইত কাডাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, তাঁদের গ্রামের শতাধিক পরিবার একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ভাঙন আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এগোলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়ালও নদীর ঝুঁকিতে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর নদীভাঙনে একটি পুরোনো মসজিদ বিলীন হয়ে যায়। পরে সেখানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হলেও সেটিও এখন ভাঙনের মুখে। মসজিদটি রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের চাটাই ও পাইলিং দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।
ভাঙনের কবলে পড়েছে বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটে যাতায়াতের সংযোগ সড়কও। ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুন ও ঘাটসংলগ্ন স্থাপনা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব স্থাপনার আরও কিছু অংশ নদীতে চলে যেতে পারে।
এক বছর আগে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলেছিল। তবে চলতি বছরের ভাঙনে সেগুলোর অনেকটাই নদীগর্ভে চলে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব মিস্ত্রি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙনের প্রভাব বাবুগঞ্জ বাজারেও পড়তে পারে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কয়েক শ মানুষের বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়বে।
সমাজসেবক মোয়াজ্জেম বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাবুগঞ্জ বাজার ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এবার ভাঙন আগের তুলনায় ভয়াবহ হয়েছে। বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বাবুগঞ্জের সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, বাবুগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকার সুগন্ধা নদীর বাঁ তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন বেড়েছে। এ অংশের জন্য ইতিমধ্যে সমীক্ষা শেষ হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সমীক্ষার ভিত্তিতে সুগন্ধা নদীর বাঁ তীরের প্রায় ৩ হাজার ৬২৬ মিটার এলাকায় সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ পেয়েছে। এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসে প্রকল্পটি অনুমোদন হতে পারে বলে আশা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, ভাঙনের ছবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বরাদ্দ বা নির্দেশনা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সময় লাগবে। নদীভাঙন সে সময়ের অপেক্ষা করবে না। তাই স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ, বালুভর্তি বস্তাসহ সাময়িক প্রতিরোধব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নদী আরও ভেতরের দিকে এগিয়ে আসবে। এতে বসতভিটা, মসজিদ, দোকান, খেয়াঘাটের পন্টুন ও সংযোগ সড়কের পর বাবুগঞ্জ বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়বে। একই সঙ্গে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়াল নিয়েও তৈরি হতে পারে নতুন উদ্বেগ।
বরিশালের বাবুগঞ্জে সুগন্ধা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি পুরোনো মসজিদ, দুটি বসতভিটা ও দুটি দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের মুখে পড়েছে বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটের গণশৌচাগারসহ আরও কিছু স্থাপনা।
ভাঙন অব্যাহত থাকায় এখন ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় দুই শ বছরের পুরোনো বাবুগঞ্জ বাজার, খেয়াঘাট, কয়েকটি মসজিদ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙন আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এগিয়ে গেলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়ালও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, সুগন্ধা নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে পড়ছে। পাড়ের বড় বড় অংশ নদীতে পড়ে যাচ্ছে। নদীর কাছাকাছি থাকা বসতঘর ও দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। কেউ ঘরের বারান্দা খুলে অন্যত্র রাখছেন, কেউ বাঁশের চাটাই, পাইলিং ও বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
পশ্চিম ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক সরোয়ার হোসেনের বসতঘরও ভাঙনের মুখে। এরই মধ্যে তাঁর রান্নাঘর ও চুলা নদীতে চলে গেছে। ঘরের বারান্দা খুলে অন্যের বাড়িতে রেখে দিয়েছেন তিনি।
নদীর পাড়ে নতুন মাটির চুলা তৈরি করছিলেন সরোয়ারের স্ত্রী সুমি বেগম। তিনি বলেন, ‘পাঁচবার ভাঙনের পর এইহানে ঘর তুলছিলাম। তাও ভাঙনে নিতেছে। ঘরের বারান্দা খুইলা অন্য মানুষের বাড়িতে রাখছি। এহন আমাগো আর অন্য কোথাও যাওনের জায়গা নাই। বাচ্চা লইয়া আতঙ্কে নির্ঘুম রাইত কাডাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, তাঁদের গ্রামের শতাধিক পরিবার একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ভাঙন আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এগোলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়ালও নদীর ঝুঁকিতে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর নদীভাঙনে একটি পুরোনো মসজিদ বিলীন হয়ে যায়। পরে সেখানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হলেও সেটিও এখন ভাঙনের মুখে। মসজিদটি রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের চাটাই ও পাইলিং দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।
ভাঙনের কবলে পড়েছে বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটে যাতায়াতের সংযোগ সড়কও। ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুন ও ঘাটসংলগ্ন স্থাপনা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব স্থাপনার আরও কিছু অংশ নদীতে চলে যেতে পারে।
এক বছর আগে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলেছিল। তবে চলতি বছরের ভাঙনে সেগুলোর অনেকটাই নদীগর্ভে চলে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব মিস্ত্রি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙনের প্রভাব বাবুগঞ্জ বাজারেও পড়তে পারে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কয়েক শ মানুষের বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়বে।
সমাজসেবক মোয়াজ্জেম বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাবুগঞ্জ বাজার ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এবার ভাঙন আগের তুলনায় ভয়াবহ হয়েছে। বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বাবুগঞ্জের সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, বাবুগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকার সুগন্ধা নদীর বাঁ তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন বেড়েছে। এ অংশের জন্য ইতিমধ্যে সমীক্ষা শেষ হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সমীক্ষার ভিত্তিতে সুগন্ধা নদীর বাঁ তীরের প্রায় ৩ হাজার ৬২৬ মিটার এলাকায় সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ পেয়েছে। এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসে প্রকল্পটি অনুমোদন হতে পারে বলে আশা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, ভাঙনের ছবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বরাদ্দ বা নির্দেশনা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সময় লাগবে। নদীভাঙন সে সময়ের অপেক্ষা করবে না। তাই স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ, বালুভর্তি বস্তাসহ সাময়িক প্রতিরোধব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নদী আরও ভেতরের দিকে এগিয়ে আসবে। এতে বসতভিটা, মসজিদ, দোকান, খেয়াঘাটের পন্টুন ও সংযোগ সড়কের পর বাবুগঞ্জ বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়বে। একই সঙ্গে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়াল নিয়েও তৈরি হতে পারে নতুন উদ্বেগ।

০৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৩৩
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগের দেড় যুগের শাসনকালে গুম করে হত্যার পর অনেক ব্যক্তির লাশ ফেলা হয়েছে বরিশালের বলেশ্বর নদে ও বরগুনার পাথরঘাটায়। তা ছাড়া মুন্সিগঞ্জে একটি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের কবরস্থান পাওয়া গেছে, যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের দাফন করা হয়েছে।
গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। কমিশনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এর আগে গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এর আগে আরও দুটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কমিশনে ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে একাধিকবার দেওয়া ২৩১টি অভিযোগ এবং যাচাই-বাছাই শেষে গুমের সংজ্ঞার বহির্ভূত বিবেচনায় ১১৩টি অভিযোগ বাতিল করা হয়। ফলে মোট ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ কমিশনের সক্রিয় বিবেচনায় ছিল। এর মধ্যে ২৫১ জন নিখোঁজ (যাঁদের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি) এবং ৩৬ জনের গুম–পরবর্তী লাশ উদ্ধার হয়।
মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘নিখোঁজদের ভাগ্য নির্ধারণে কমিশন দেশের বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য ক্রাইম সিন, পিক-আপ প্লেস (তুলে নেওয়ার স্থান), আয়নাঘর ও ডাম্পিং প্লেস (যেখানে লাশ ফেলা হতো) পরিদর্শন করেছে। মুন্সিগঞ্জে একটি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের কবরস্থান পাওয়া গেছে, যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের দাফন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ, সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি প্রমাণিত যে দাফন করা লাশের মাথায় গুলি এবং দুই হাত পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় ছিল।’
গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সভাপতি আরও বলেন, বরিশালের বলেশ্বর নদে এবং বরগুনার পাথরঘাটায় ডাম্পিং প্লেসের সন্ধান পাওয়া গেছে। বরিশালে দুটি দেহ উত্তোলন ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কমিশন এ কাজের সূচনা করে। পরে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ শনাক্তে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। কমিশন অজ্ঞাতপরিচয় ও বেওয়ারিশ মরদেহ শনাক্ত করে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে একটি ব্যাপক ডিএনএ তথ্যভান্ডার গঠনের সুপারিশ করেছে।
গুমের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য কিছু সুপারিশ করেছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। সংবাদ সম্মেলনে কমিশন জানায়, বলপূর্বক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তি ও অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রত্যাহারের সুপারিশও রয়েছে।
এর বাইরে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ বাতিল বা মৌলিক সংশোধন, সমাজভিত্তিক প্রতিরোধমূলক সন্ত্রাসবিরোধী নীতি প্রণয়ন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস আইন, ২০০৩-এর ১৩ ধারা বাতিল, সব বাহিনীকে কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা, বাধ্যতামূলক মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ এবং সত্য, স্মৃতি ও জবাবদিহির প্রতীক হিসেবে ‘আয়নাঘরগুলোকে’ জাদুঘরে রূপান্তরের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন জানান, সারা দেশে মোট ৪০টি ডিটেনশন সেন্টার বা গোপন বন্দিশালার সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২২–২৩টি বন্দিশালাই র্যাবের। এ ছাড়া গুম কমিশন কাজ শুরু করার পর র্যাবই সবচেয়ে বেশি গুমের আলামত ধ্বংস করেছে।
নাক গলায় গোয়েন্দা সংস্থা
এক প্রশ্নের জবাবে মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রতিটি গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কার লাগবে। দেশের গোয়েন্দা সংস্থা কী করে? তারা রাজনীতিতে নাক গলায়। কেন নাক গলায়? কারণ, তারা ক্ষমতার অংশ হতে চায়।
কমিশনের প্রধান বলেন, এস আলমের পক্ষে ডিজিএফআই গিয়ে ইসলামী ব্যাংক দখল করছে। এটা কি ডিজিএফআইয়ের কাজ ছিল? বা কোনো মিডিয়া হাউস দখল করা কি ডিজিএফআইয়ের কাজ বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কাজ? তাদের নানাভাবে অপব্যবহার করা হয়েছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনপ্রধান বলেন, ‘ডিজিএফআই থাকতে হবে। ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি থাকতে হবে; কিন্তু এটা রিফর্ম করতে হবে। তাদের যে এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস) আছে বা যে গ্রিন বুক, সেটাও চেঞ্জ করতে হবে। আমরা সাজেস্ট করছি, যাতে ডিজিএফআইয়ের রিফর্ম করা হয়। তারা যাতে তাদের কাজ ছেড়ে অন্য কাজ না করে।’
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা যাতে ব্যাংক দখল না করে, মিডিয়া হাউস দখল না করে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যাতে নাক না গলায় সে জায়গাগুলো নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা লাগবে।
কোন বাহিনী কত গুম করেছে
সংবাদ সম্মেলনে কমিশন জানায়, প্রায় ২৫ শতাংশ গুমের অভিযোগে র্যাব জড়িত, এরপর পুলিশ ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া ডিবি, সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এনএসআই ব্যাপকহারে গুম করেছে। বহু ক্ষেত্রে সাদাপোশাকধারী বা ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয়ে অপহরণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর ধরন থেকে এটা স্পষ্ট যে গুম একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত চর্চা হিসেবে র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দ্বারা একক ও যৌথ অভিযানে সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন অসদাচরণের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় সমন্বিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গুমসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর মধ্য থেকে ফিরে না আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চার ধাপে কিছু অভিযোগ পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে আনা দুই থেকে পাঁচ দিনের গুমের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৃথকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ছয় মাসের মধ্যে মানবাধিকার কমিশনকে অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুশ ইন হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনপ্রধান বলেন, দেশের সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ সুপার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সেক্টর কমান্ডারদের কাছ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ ইন করা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেখানে গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ের বাসিন্দা গুমের শিকার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন করার একটি নির্দিষ্ট ঘটনা কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক প্রথম দফায় ১ হাজার ৫২ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ৩ হাজার ২৮৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা কমিশন পেয়েছে। সেগুলো যাচাইয়ের পর গুমের শিকার কোনো ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়নি। ওই তালিকার কিছু তথ্য অসম্পূর্ণ ও অস্পষ্ট হওয়ায় বিষয়গুলোর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে ও হালনাগাদ তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠির অগ্রগতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৬
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫২