ভোলার তজুমদ্দিনে সমুদ্রগামী জেলে ও ভিজিডি’র সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ইস্যু করা হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিপুল পরিমাণ। চাল খাদ্যগুদামে পড়ে থাকার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে চাল উত্তোলন না হওয়ায় একদিকে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত উপকারভোগীরা সময়মতো খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় প্রতিমাসে ভিজিডির সরকারি বরাদ্দকৃত কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের জন্য ডিও ইস্যু করেন।
কিন্তু ডিওর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও ১৫৫টন চাল পড়ে আছে গোডাউনে। গোডাউনের একটি সুত্রে জানায়, ভিজিডির ডিওর মেয়াদ উত্তীর্ণ চলের মধ্যে চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫মাসের বরাদ্দের চাল, চাচড়ার ৩মাস, বড়মলংচাড় ইউনিয়নের ৪মাস, সোনাপুর ইউনিয়নের ১মাস ও শম্ভুপুর ইউনিয়নের ২ মাসের চাল গোডাউনের পড়ে রয়েছে। তার বাহিরে জুন মাসের ডিও হয়ে আছে।
এছাড়াও সমুদ্রগামী জেলেদের বরাদ্দ রয়েছে, চাঁদপুরে ১০টন, সোনাপুরে ৭৫টন, চাঁচড়ায় ১৪টন, বড়মলংচড়ায় ৬.৫০টন ও শম্ভপুরে ৪টন সর্ব মোট ৩৪০টন ৫শ কেজি চাল গোডাউনে পড়ে রয়েছে।
সমুদ্রগামী জেলেদের চাল মে মাসের ৩১ তারিখে বিতরণের শেষ সময়সীমা থাকলেও তাও এখনো গোডাউন থেকেই নেয়া হয়নি। এমতাবস্থায় সরকারি নতুন বরাদ্দের চাল ও ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষ দিশেহারা।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ডিও ইস্যুর পর চাল উত্তোলনে অস্বাভাবিক বিলম্ব হলেও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর তদারকি দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ফলে সরকারি খাদ্যশস্য দীর্ঘদিন গুদামে পড়ে রয়েছে।
এতে নতুন খাদ্যশস্য সংরক্ষণেও চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে উপকারভোগী গবীর অসহায় মানুষ। সচেতন মহল মনে করছেন, ডিও ইস্যুর মূল উদ্দেশ্য হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাদ্যশস্য উত্তোলন ও উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ নিশ্চিত করা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি চাল অনুত্তোলিত অবস্থায় পড়ে থাকে, তাহলে এর কারণ, দায় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুরো উপজেলায় বরাদ্দের চাল বিতরণ না হওয়ায় অনেক উপকারভোগী অপেক্ষায় রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তারা চাল হাতে পাননি।
ফলে সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছাচ্ছে না। এ বিষয়ে চাঁদপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ শাজাহান মিয়া বলেন, ভিজিডি চাল পরিবহনের জন্য সরকার টনপ্রতি ৪৮০ টাকা দেয়।
এটাকায় চাল পরিবহন করা যায়না। টন প্রতি খরচ লাগে ৬শ থেকে ১২ টাকা। টাকার সমন্বয় না হওয়ায় আমরা গোডাউন থেকে চাল আনতে পারিনি। আশা করি খুব শিগ্রই একটি সুরাহা হবে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ মার্জিয়া বলেন, আমার জানমতে সকল ডিও হওয়া সকল চাল বিতরণ শেষ। তবুও যদি পরিবহনের খরচের জন্য কোন ইউনিয়ন চাল নিতে না পারে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা কাছাকাছি চাল বিতরণের ব্যবস্থা করে দিবো যেখানে তারা চাল বিতরণ করতে পারবে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল মালেক বলেন, আমরা ডিও হওয়া চাল নিতে প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রতিনিয়তই চাপ দিচ্ছি। তার চাল না নিলে আমারতো আর চাল ফেলে দিতে পারিনা।
ডিওর মেয়াদ শেষ হওয়া চাল সরকারি গোডাউনে রাখার নীতিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে কোন সুষ্পষ্ট নীতিমালা নেই। উপজেলা নির্বাহি কর্তকর্তা মোঃ বনি আমিন বলেন, ডিও হওয়া সকল চাল যতদ্রুত সম্ভব গোডাউন থেকে বের করে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৩
ভোলার লালমোহনে ৪ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে কালমা ইউনিয়নের ডাওরী বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থানার বাঙ্গটিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাদবা গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. ফারুক হোসেন (৩২) এবং তার স্ত্রী মোসা. সিমা বেগম (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই কামরুল ইসলাম ও এসআই আছাদুজ্জামান খান অভিযান পরিচালনা করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালমা ডাওরী বাজারের বাস স্টান থেকে তাদের আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
লালমোহন থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, কালমা ইউনিয়নের ডাওরী বাজার থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভোলার লালমোহনে ৪ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে কালমা ইউনিয়নের ডাওরী বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থানার বাঙ্গটিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাদবা গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. ফারুক হোসেন (৩২) এবং তার স্ত্রী মোসা. সিমা বেগম (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই কামরুল ইসলাম ও এসআই আছাদুজ্জামান খান অভিযান পরিচালনা করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালমা ডাওরী বাজারের বাস স্টান থেকে তাদের আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
লালমোহন থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, কালমা ইউনিয়নের ডাওরী বাজার থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৫
ভোলায় অটোরিকশা ও নছিমনের সংঘর্ষে রাশেদ হাওলাদার (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলা শহরের পিটিআই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশেদ ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের চর ছিফলী গ্রামের শাহাজামাল হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
দুপুরে ভোলার পিটিআই এলাকায় অটোরিকশা ও নছিমনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় রাশেদ নসিমনের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ভোলায় অটোরিকশা ও নছিমনের সংঘর্ষে রাশেদ হাওলাদার (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলা শহরের পিটিআই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশেদ ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের চর ছিফলী গ্রামের শাহাজামাল হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।
দুপুরে ভোলার পিটিআই এলাকায় অটোরিকশা ও নছিমনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় রাশেদ নসিমনের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:০৩
আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। আজ (বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলায় নতুন বাজার চত্বরে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আন্দালিব রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। এ সংকট থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ভোলা-বরিশাল সেতু ভোলার প্রত্যেক মানুষের দাবি। এ দাবিতে আমরা সবাই আন্দোলন করেছি এবং সংসদেও সেতুর দাবি তুলেছি। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কিছু মানুষ বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তারা বলতে চাচ্ছেন, আমরা সেতু চাই না। বাস্তবতা তা নয়। ভোলার মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না, বিভক্তি সৃষ্টি করবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার হিজলা-মুলাদী হয়ে শরীয়তপুর দিয়ে সরাসরি ঢাকা যাওয়ার বিকল্প পথটিও বিবেচনা করছে। এতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় কম লাগতে পারে। ভোলার জন্য কোনটি ভালো হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ভোলার মানুষের দাবিও আমরা তুলে ধরতে থাকবো।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিকল্প সড়ক নির্মাণেও প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। শুধু ভোলার জন্যই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। গত ছয় মাসে ৩০০ আসনের মধ্যে এমন একটি আসন দেখান, যেখানে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আনা সম্ভব হয়েছে।’
নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি সততার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করবো, ইনশা আল্লাহ।’
গণসংবর্ধনায় মন্ত্রী জানান, গত ১৮ বছরে তিনি কীভাবে রাজনীতি করেছেন, তা ভোলার মানুষ দেখেছেন। চাইলেও তিনি অনেক সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতেন, কিন্তু কোনো লোভ-লালসায় পা দেননি। জীবনের প্রতিটি বিপদে ভোলার মানুষ তার পাশে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে অনেকে আমাকে ভোট দিয়েছেন, অনেকে দেননি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে ভোলার উন্নয়নে আপনারা সবাই আমাকে সহযোগিতা করুন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভোলার উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।’
অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘এমপি হিসেবে গত ছয় মাসে তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আমার দল বা আমার নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা অনিয়ম করলে তারা আমার দলের লোক নয়। আমি টেন্ডারবাজি করি না, করার প্রশ্নই আসে না। টিআর-কাবিখা নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ করবেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এসময় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।’
আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। আজ (বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলায় নতুন বাজার চত্বরে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আন্দালিব রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। এ সংকট থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ভোলা-বরিশাল সেতু ভোলার প্রত্যেক মানুষের দাবি। এ দাবিতে আমরা সবাই আন্দোলন করেছি এবং সংসদেও সেতুর দাবি তুলেছি। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কিছু মানুষ বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তারা বলতে চাচ্ছেন, আমরা সেতু চাই না। বাস্তবতা তা নয়। ভোলার মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না, বিভক্তি সৃষ্টি করবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার হিজলা-মুলাদী হয়ে শরীয়তপুর দিয়ে সরাসরি ঢাকা যাওয়ার বিকল্প পথটিও বিবেচনা করছে। এতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় কম লাগতে পারে। ভোলার জন্য কোনটি ভালো হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ভোলার মানুষের দাবিও আমরা তুলে ধরতে থাকবো।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিকল্প সড়ক নির্মাণেও প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। শুধু ভোলার জন্যই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। গত ছয় মাসে ৩০০ আসনের মধ্যে এমন একটি আসন দেখান, যেখানে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আনা সম্ভব হয়েছে।’
নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি সততার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করবো, ইনশা আল্লাহ।’
গণসংবর্ধনায় মন্ত্রী জানান, গত ১৮ বছরে তিনি কীভাবে রাজনীতি করেছেন, তা ভোলার মানুষ দেখেছেন। চাইলেও তিনি অনেক সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতেন, কিন্তু কোনো লোভ-লালসায় পা দেননি। জীবনের প্রতিটি বিপদে ভোলার মানুষ তার পাশে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে অনেকে আমাকে ভোট দিয়েছেন, অনেকে দেননি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে ভোলার উন্নয়নে আপনারা সবাই আমাকে সহযোগিতা করুন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভোলার উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।’
অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘এমপি হিসেবে গত ছয় মাসে তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আমার দল বা আমার নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা অনিয়ম করলে তারা আমার দলের লোক নয়। আমি টেন্ডারবাজি করি না, করার প্রশ্নই আসে না। টিআর-কাবিখা নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ করবেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এসময় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৫ জুন, ২০২৬ ১৬:১৩
ভোলার তজুমদ্দিনে সমুদ্রগামী জেলে ও ভিজিডি’র সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ইস্যু করা হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিপুল পরিমাণ। চাল খাদ্যগুদামে পড়ে থাকার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে চাল উত্তোলন না হওয়ায় একদিকে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত উপকারভোগীরা সময়মতো খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় প্রতিমাসে ভিজিডির সরকারি বরাদ্দকৃত কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের জন্য ডিও ইস্যু করেন।
কিন্তু ডিওর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও ১৫৫টন চাল পড়ে আছে গোডাউনে। গোডাউনের একটি সুত্রে জানায়, ভিজিডির ডিওর মেয়াদ উত্তীর্ণ চলের মধ্যে চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫মাসের বরাদ্দের চাল, চাচড়ার ৩মাস, বড়মলংচাড় ইউনিয়নের ৪মাস, সোনাপুর ইউনিয়নের ১মাস ও শম্ভুপুর ইউনিয়নের ২ মাসের চাল গোডাউনের পড়ে রয়েছে। তার বাহিরে জুন মাসের ডিও হয়ে আছে।
এছাড়াও সমুদ্রগামী জেলেদের বরাদ্দ রয়েছে, চাঁদপুরে ১০টন, সোনাপুরে ৭৫টন, চাঁচড়ায় ১৪টন, বড়মলংচড়ায় ৬.৫০টন ও শম্ভপুরে ৪টন সর্ব মোট ৩৪০টন ৫শ কেজি চাল গোডাউনে পড়ে রয়েছে।
সমুদ্রগামী জেলেদের চাল মে মাসের ৩১ তারিখে বিতরণের শেষ সময়সীমা থাকলেও তাও এখনো গোডাউন থেকেই নেয়া হয়নি। এমতাবস্থায় সরকারি নতুন বরাদ্দের চাল ও ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষ দিশেহারা।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ডিও ইস্যুর পর চাল উত্তোলনে অস্বাভাবিক বিলম্ব হলেও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর তদারকি দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ফলে সরকারি খাদ্যশস্য দীর্ঘদিন গুদামে পড়ে রয়েছে।
এতে নতুন খাদ্যশস্য সংরক্ষণেও চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে উপকারভোগী গবীর অসহায় মানুষ। সচেতন মহল মনে করছেন, ডিও ইস্যুর মূল উদ্দেশ্য হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাদ্যশস্য উত্তোলন ও উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ নিশ্চিত করা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি চাল অনুত্তোলিত অবস্থায় পড়ে থাকে, তাহলে এর কারণ, দায় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুরো উপজেলায় বরাদ্দের চাল বিতরণ না হওয়ায় অনেক উপকারভোগী অপেক্ষায় রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তারা চাল হাতে পাননি।
ফলে সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছাচ্ছে না। এ বিষয়ে চাঁদপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ শাজাহান মিয়া বলেন, ভিজিডি চাল পরিবহনের জন্য সরকার টনপ্রতি ৪৮০ টাকা দেয়।
এটাকায় চাল পরিবহন করা যায়না। টন প্রতি খরচ লাগে ৬শ থেকে ১২ টাকা। টাকার সমন্বয় না হওয়ায় আমরা গোডাউন থেকে চাল আনতে পারিনি। আশা করি খুব শিগ্রই একটি সুরাহা হবে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ মার্জিয়া বলেন, আমার জানমতে সকল ডিও হওয়া সকল চাল বিতরণ শেষ। তবুও যদি পরিবহনের খরচের জন্য কোন ইউনিয়ন চাল নিতে না পারে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা কাছাকাছি চাল বিতরণের ব্যবস্থা করে দিবো যেখানে তারা চাল বিতরণ করতে পারবে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল মালেক বলেন, আমরা ডিও হওয়া চাল নিতে প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রতিনিয়তই চাপ দিচ্ছি। তার চাল না নিলে আমারতো আর চাল ফেলে দিতে পারিনা।
ডিওর মেয়াদ শেষ হওয়া চাল সরকারি গোডাউনে রাখার নীতিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে কোন সুষ্পষ্ট নীতিমালা নেই। উপজেলা নির্বাহি কর্তকর্তা মোঃ বনি আমিন বলেন, ডিও হওয়া সকল চাল যতদ্রুত সম্ভব গোডাউন থেকে বের করে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:৫৬
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২২