বরিশাল কৃষি অঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের প্রায় ২৪ লাখ টন চাল কৃষকের ঘরে উঠলেও দরপতনে মুখের হাসি ম্লান করে দিচ্ছে। সাম্প্রতিককালের মধ্যে এবারই প্রথম রোপণের পরে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই এ অঞ্চলের কৃষকের গোলায় নির্বিঘ্নে আমন ধান উঠল। তবে বীজতলা তৈরি সহ রোপণ শুরুর প্রাক্কালে কয়েক দফায় অতিবর্ষণ সহ বর্ষণজনিত প্লাবনে বীজতলা ও রোপণের তৈরিকৃত কিছু জমি বিনষ্ট হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত বীজতলা সহ দুর্যোগ পরবর্তী দ্রুততম সময়ে পুনরায় জমি তৈরি সম্পন্ন করতে পারায় তেমন কোনো বাধা তৈরি হয়নি। কিন্তু বরিশালে আমনের দরপতনে কৃষকের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এখন প্রতিমণ আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯শ টাকা থেকে হাজার ৫০ টাকার মধ্যে। অথচ সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে প্রতিমণ আমনের উৎপাদন ব্যয় ছিল হাজার টাকার ওপরে।
সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে দেশে পৌনে ২ কোটি টনেরও বেশি আমন চাল ঘরে তোলার লক্ষ্যে ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৩শ হেক্টরে আবাদ লক্ষ্য অতিক্রম করেন কৃষিযোদ্ধাগণ। বরিশাল অঞ্চলেও মূল লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এবার ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪ হেক্টরে আবাদ সম্পন্নের ফলে উৎপাদনও ছিল লক্ষ্যমাত্রার বেশি। এমনকি এবারের খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে গত বছরের ২৩ লাখ ২২ হাজার ৯৫৮ টনের স্থলে প্রকৃত উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৩.৬০ লাখ টনের কাছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৩ হাজার টন বেশি। এর বাইরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন বোনা আমনও ইতোমধ্যে কৃষকের ঘরে উঠেছে।
আমনের এই উৎপাদন কিছুটা স্বস্তি দিলেও এখনো বরিশাল অঞ্চলে প্রধান দানাদার এই খাদ্য ফসলের গড় ফলন হেক্টরে ২.৯২ টনের মতো। মূলত বরিশালে এখনো প্রায় ৩৫ ভাগ জমিতে সনাতন স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ ও উৎপাদন হয়ে থাকে। ফলে দেশের অন্য এলাকার তুলনায় বরিশালে ফলন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না।
যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই’র মতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকের কাছে সরবরাহের ফলে গত দুই দশকে এ অঞ্চলেও আমনের ফলন ও উৎপাদন বেড়েছে। আগামীতে উফশী ও হাইব্রিড জাতের আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে বীজ ও আবাদ প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার।
কৃষকদের দাবি, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজের পাশাপাশি উৎপাদন প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে তাদের পক্ষে কম জমিতে বেশি ধান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। অথচ আবাদকৃত আমনের অন্তত ৮০ ভাগে উফশী এবং ২০ ভাগ হাইব্রিড ধানের আবাদ সম্ভব হলেও বরিশাল অঞ্চলে উৎপাদন অন্তত ৩০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদগণ। এতে করে বরিশালে উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্যের পরিমাণ বর্তমানের ১৪ লাখ টন থেকে ২০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে বলেও মনে করছেন কৃষিবিদগণ।
তবে বরিশাল অঞ্চলে উফশী জাতের আবাদ সম্প্রসারণের বিষয়টি অনেকটা এগোলেও হাইব্রিড জাতের ক্ষেত্রে এখনো তা নগণ্য। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে আবাদকৃত ৮ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর আমনের মাত্র ২২ হাজার ৫শ হেক্টরে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে। গড় উৎপাদন ছিল হেক্টরে ৩.৯৭ টন চাল। এমনকি এ অঞ্চলে সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমেও ৩ লক্ষাধিক হেক্টরে স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ হয়েছে। যার গড় উৎপাদন ছিল মাত্র ১.৭৩ টন প্রতি হেক্টরে। বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে অধিকতর মনোযোগী হবার তাগিদ দিয়েছেন কৃষিবিদগণ। এদিকে এবার আবাদ ও ফলন সহ উৎপাদন আশাতীত হলেও ধানের দর পতন কৃষকদের চরমভাবে হতাশ করছে। বিষয়টি নিয়ে এ অঞ্চলের প্রশাসনিক পর্যায়েও তেমন কোনো পদক্ষেপ লক্ষণীয় নয়। মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদদের মতে, উৎপাদিত ধান বিক্রি করে যদি কৃষকদের পুঁজিই ফিরে না আসে তবে, ভবিষ্যতে এই দানাদার খাদ্য ফসল আবাদে তাদের আগ্রহ ধরে রাখা যাবে না।

৩০ জুলাই, ২০২৬ ২২:১২
সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারতের ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত এই নিম্নচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, একই সময়ে কিছু কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে আসতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বরিশাল, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ,খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছুজায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
শনিবার (০১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামী ০২ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারতের ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত এই নিম্নচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, একই সময়ে কিছু কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে আসতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বরিশাল, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ,খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছুজায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
শনিবার (০১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামী ০২ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৪:০৯
বরিশাল নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিহ্নিত মাদক কারবারি 'গাঁজা রফিক'-এর স্ত্রী ও একাধিক মাদক মামলার আসামি আনু বেগম কর্তৃক অনলাইন নিউজপোর্টাল 'তালাশ বিডি'-র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলামকে মুঠোফোনে মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এই হুমকির ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে প্রকাশিত সংবাদ এবং বিচারাধীন একটি মামলাকে কেন্দ্র করেই এই হুমকির জন্ম। গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিটে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন সংগ্রাম রাস্তায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে একদল চিহ্নিত অপরাধী। ওই দলে উপস্থিত ছিল এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ফকির, 'ইতালি শহীদ'-এর সহযোগী তাপস, গাঁজা রফিক, তুহিন এবং কালাম মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।
সে সময় সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ও তাপস অস্ত্র উঁচিয়ে সাংবাদিক আসলামের মাথায় ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখায়। তারা নাক কাটা রুবেলের বিরুদ্ধে পূর্বে প্রকাশিত সকল সংবাদ অনলাইন থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেয় এবং ভবিষ্যতে তাদের কোনো অপরাধের খবর প্রকাশ না করার জন্য চূড়ান্ত হুমকি প্রদান করে।
প্রাণনাশের হুমকির পর সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম তার পত্রিকা সম্পাদকের সাথে পরামর্শ করে বরিশাল তৃতীয় যুগ্ম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ‘দ্রুত বিচার আইনে’ একটি নালিশি দরখাস্ত করেন। বিজ্ঞ বিচারক প্রাথমিক শুনানি ও ঘটনার বিবরণ দেখে সত্যতা অনুধাবন করেন এবং কোতয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) ঘটনাটি সরাসরি এজাহার বা এফআইআর (FIR) হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশের পর কোতয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি তাপস এবং মাইনুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত শেষে কোতয়ালি থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রাজিব দাস সনেট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।
আদালতে চার্জশিট দাখিল ও আসামিদের কারাবরণের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অপরাধী চক্রটি। এর জের ধরেই গতকাল রাতে গাঁজা রফিকের স্ত্রী আনু বেগম মুঠোফোনে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আদালত থেকে মামলা উঠিয়ে না নিলে তাকে বড় ধরনের মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের মামলায় জড়িয়ে চিরতরে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে।
পরপর এমন প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে সাংবাদিক আসলাম বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে তিনি পুনরায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নগরীর কোতয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।’
বরিশাল নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিহ্নিত মাদক কারবারি 'গাঁজা রফিক'-এর স্ত্রী ও একাধিক মাদক মামলার আসামি আনু বেগম কর্তৃক অনলাইন নিউজপোর্টাল 'তালাশ বিডি'-র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলামকে মুঠোফোনে মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এই হুমকির ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে প্রকাশিত সংবাদ এবং বিচারাধীন একটি মামলাকে কেন্দ্র করেই এই হুমকির জন্ম। গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিটে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন সংগ্রাম রাস্তায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে একদল চিহ্নিত অপরাধী। ওই দলে উপস্থিত ছিল এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ফকির, 'ইতালি শহীদ'-এর সহযোগী তাপস, গাঁজা রফিক, তুহিন এবং কালাম মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।
সে সময় সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ও তাপস অস্ত্র উঁচিয়ে সাংবাদিক আসলামের মাথায় ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখায়। তারা নাক কাটা রুবেলের বিরুদ্ধে পূর্বে প্রকাশিত সকল সংবাদ অনলাইন থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেয় এবং ভবিষ্যতে তাদের কোনো অপরাধের খবর প্রকাশ না করার জন্য চূড়ান্ত হুমকি প্রদান করে।
প্রাণনাশের হুমকির পর সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম তার পত্রিকা সম্পাদকের সাথে পরামর্শ করে বরিশাল তৃতীয় যুগ্ম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ‘দ্রুত বিচার আইনে’ একটি নালিশি দরখাস্ত করেন। বিজ্ঞ বিচারক প্রাথমিক শুনানি ও ঘটনার বিবরণ দেখে সত্যতা অনুধাবন করেন এবং কোতয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) ঘটনাটি সরাসরি এজাহার বা এফআইআর (FIR) হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশের পর কোতয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি তাপস এবং মাইনুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত শেষে কোতয়ালি থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রাজিব দাস সনেট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।
আদালতে চার্জশিট দাখিল ও আসামিদের কারাবরণের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অপরাধী চক্রটি। এর জের ধরেই গতকাল রাতে গাঁজা রফিকের স্ত্রী আনু বেগম মুঠোফোনে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আদালত থেকে মামলা উঠিয়ে না নিলে তাকে বড় ধরনের মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের মামলায় জড়িয়ে চিরতরে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে।
পরপর এমন প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে সাংবাদিক আসলাম বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে তিনি পুনরায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নগরীর কোতয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।’

৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৩:১৮
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ছত্তিশগড়ে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ থেকে আগামী ৫ দিন বরিশালসহ সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আগামী ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামীকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
আগামী শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আগামী রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামী সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারীবর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।’
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ছত্তিশগড়ে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ থেকে আগামী ৫ দিন বরিশালসহ সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আগামী ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামীকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
আগামী শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আগামী রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামী সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারীবর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।’

১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪৮
বরিশাল কৃষি অঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের প্রায় ২৪ লাখ টন চাল কৃষকের ঘরে উঠলেও দরপতনে মুখের হাসি ম্লান করে দিচ্ছে। সাম্প্রতিককালের মধ্যে এবারই প্রথম রোপণের পরে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই এ অঞ্চলের কৃষকের গোলায় নির্বিঘ্নে আমন ধান উঠল। তবে বীজতলা তৈরি সহ রোপণ শুরুর প্রাক্কালে কয়েক দফায় অতিবর্ষণ সহ বর্ষণজনিত প্লাবনে বীজতলা ও রোপণের তৈরিকৃত কিছু জমি বিনষ্ট হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত বীজতলা সহ দুর্যোগ পরবর্তী দ্রুততম সময়ে পুনরায় জমি তৈরি সম্পন্ন করতে পারায় তেমন কোনো বাধা তৈরি হয়নি। কিন্তু বরিশালে আমনের দরপতনে কৃষকের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এখন প্রতিমণ আমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯শ টাকা থেকে হাজার ৫০ টাকার মধ্যে। অথচ সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে প্রতিমণ আমনের উৎপাদন ব্যয় ছিল হাজার টাকার ওপরে।
সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে দেশে পৌনে ২ কোটি টনেরও বেশি আমন চাল ঘরে তোলার লক্ষ্যে ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৩শ হেক্টরে আবাদ লক্ষ্য অতিক্রম করেন কৃষিযোদ্ধাগণ। বরিশাল অঞ্চলেও মূল লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এবার ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪ হেক্টরে আবাদ সম্পন্নের ফলে উৎপাদনও ছিল লক্ষ্যমাত্রার বেশি। এমনকি এবারের খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে গত বছরের ২৩ লাখ ২২ হাজার ৯৫৮ টনের স্থলে প্রকৃত উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৩.৬০ লাখ টনের কাছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৩ হাজার টন বেশি। এর বাইরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন বোনা আমনও ইতোমধ্যে কৃষকের ঘরে উঠেছে।
আমনের এই উৎপাদন কিছুটা স্বস্তি দিলেও এখনো বরিশাল অঞ্চলে প্রধান দানাদার এই খাদ্য ফসলের গড় ফলন হেক্টরে ২.৯২ টনের মতো। মূলত বরিশালে এখনো প্রায় ৩৫ ভাগ জমিতে সনাতন স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ ও উৎপাদন হয়ে থাকে। ফলে দেশের অন্য এলাকার তুলনায় বরিশালে ফলন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না।
যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই’র মতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকের কাছে সরবরাহের ফলে গত দুই দশকে এ অঞ্চলেও আমনের ফলন ও উৎপাদন বেড়েছে। আগামীতে উফশী ও হাইব্রিড জাতের আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে বীজ ও আবাদ প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ও অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার।
কৃষকদের দাবি, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজের পাশাপাশি উৎপাদন প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে তাদের পক্ষে কম জমিতে বেশি ধান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। অথচ আবাদকৃত আমনের অন্তত ৮০ ভাগে উফশী এবং ২০ ভাগ হাইব্রিড ধানের আবাদ সম্ভব হলেও বরিশাল অঞ্চলে উৎপাদন অন্তত ৩০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদগণ। এতে করে বরিশালে উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্যের পরিমাণ বর্তমানের ১৪ লাখ টন থেকে ২০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে বলেও মনে করছেন কৃষিবিদগণ।
তবে বরিশাল অঞ্চলে উফশী জাতের আবাদ সম্প্রসারণের বিষয়টি অনেকটা এগোলেও হাইব্রিড জাতের ক্ষেত্রে এখনো তা নগণ্য। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে আবাদকৃত ৮ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর আমনের মাত্র ২২ হাজার ৫শ হেক্টরে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে। গড় উৎপাদন ছিল হেক্টরে ৩.৯৭ টন চাল। এমনকি এ অঞ্চলে সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমেও ৩ লক্ষাধিক হেক্টরে স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ হয়েছে। যার গড় উৎপাদন ছিল মাত্র ১.৭৩ টন প্রতি হেক্টরে। বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে অধিকতর মনোযোগী হবার তাগিদ দিয়েছেন কৃষিবিদগণ। এদিকে এবার আবাদ ও ফলন সহ উৎপাদন আশাতীত হলেও ধানের দর পতন কৃষকদের চরমভাবে হতাশ করছে। বিষয়টি নিয়ে এ অঞ্চলের প্রশাসনিক পর্যায়েও তেমন কোনো পদক্ষেপ লক্ষণীয় নয়। মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদদের মতে, উৎপাদিত ধান বিক্রি করে যদি কৃষকদের পুঁজিই ফিরে না আসে তবে, ভবিষ্যতে এই দানাদার খাদ্য ফসল আবাদে তাদের আগ্রহ ধরে রাখা যাবে না।