টানা বেশ কয়েকদিনের হামলা, পাল্টা হামলা ও উত্তেজনার পর সম্প্রতি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে ভারত ও পাকিস্তান। এরপর উভয় দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার পারদ আপাতত কমলেও দুই দেশের নেতাদের বক্তব্যে এখনও উত্তাপ বজায় রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আর এর মধ্যেই পাকিস্তানকে লক্ষ্য করে হংকার দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাকিস্তানিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, তোমরা রুটি খাও, না হলে আমার বুলেট তো (তোমাদের জন্য) আছেই।
মঙ্গলবার (২৭ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এবার সরাসরি পাকিস্তানের জনগণের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের ‘রোগ’ থেকে পাকিস্তানকে মুক্ত করতে চাইলে সে দেশের জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে।
গুজরাটের ভূজে এক নির্বাচনী জনসভায় মোদি বলেন, “আমি পাকিস্তানের জনগণকে জিজ্ঞাসা করতে চাই—সন্ত্রাসবাদ থেকে আপনারা কী পেয়েছেন? ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। আর আপনারা কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন?”

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
ধর্মীয় স্থাপনা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
ভারতে মসজিদ উচ্ছেদ ও মুসলিম পরিবারগুলোর বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আসামের তিন জেলায় সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে এক হাজারের বেশি মুসলিম পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের অংশবিশেষ অপসারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Scroll-এর ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামের নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় বনভূমি দখলমুক্ত করার অভিযানে শত শত পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে নগাঁও জেলার লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দুই দিনের অভিযানে ৬০০-এর বেশি পরিবারের বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের বসতবাড়ির পাশাপাশি ১০টির বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে মসজিদের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাঁরা কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং তাঁদের পূর্বপুরুষদের সেখানে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য, সংরক্ষিত বনভূমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে ২০২৮ সালের সিমহাস্ত কুম্ভমেলাকে সামনে রেখে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ, পাথর নিক্ষেপ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবরও প্রকাশিত হয়। পরে মসজিদের একটি মিনার অপসারণের সময় সেটি ভেঙে ভবনের অন্য অংশের ওপর পড়ে ক্ষতি হয় বলে The Indian Express জানায়।
উজ্জয়িনের ঘটনায় প্রশাসনের বক্তব্য, সড়ক প্রশস্তকরণ ও জনস্বার্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে স্থাপনাটির অংশ অপসারণের প্রয়োজনীয়তা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিষয়টি আদালতেও গড়ায়; মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রশাসনের পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করেনি।
ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, সড়ক উন্নয়ন এবং নগর পুনর্বিন্যাসের নামে স্থাপনা অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযানে মুসলিম সম্প্রদায়ের বসতবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে জমির মালিকানা, আদালতের নির্দেশ, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
প্রশ্ন উঠছে, উন্নয়ন ও দখলমুক্তকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? আইনের প্রয়োগ সবার ক্ষেত্রে সমান হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মসজিদ উচ্ছেদ কিংবা মুসলিমদের ওপর হামলার কোনো ঘটনাকেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে, যাচাই ছাড়া কোনো ঘটনাকে পরিকল্পিত ‘মুসলিম নিধন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বদলে নির্ভরযোগ্য তথ্য, তদন্তের ফলাফল ও প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, সম্পদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল অঙ্গীকার।
তথ্যসূত্র: Scroll, ১৮ অক্টোবর ২০২৬; The Indian Express, ২ অক্টোবর ২০২৬।
ধর্মীয় স্থাপনা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
ভারতে মসজিদ উচ্ছেদ ও মুসলিম পরিবারগুলোর বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আসামের তিন জেলায় সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে এক হাজারের বেশি মুসলিম পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের অংশবিশেষ অপসারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Scroll-এর ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামের নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় বনভূমি দখলমুক্ত করার অভিযানে শত শত পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে নগাঁও জেলার লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দুই দিনের অভিযানে ৬০০-এর বেশি পরিবারের বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের বসতবাড়ির পাশাপাশি ১০টির বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে মসজিদের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাঁরা কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং তাঁদের পূর্বপুরুষদের সেখানে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য, সংরক্ষিত বনভূমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে ২০২৮ সালের সিমহাস্ত কুম্ভমেলাকে সামনে রেখে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ, পাথর নিক্ষেপ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবরও প্রকাশিত হয়। পরে মসজিদের একটি মিনার অপসারণের সময় সেটি ভেঙে ভবনের অন্য অংশের ওপর পড়ে ক্ষতি হয় বলে The Indian Express জানায়।
উজ্জয়িনের ঘটনায় প্রশাসনের বক্তব্য, সড়ক প্রশস্তকরণ ও জনস্বার্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে স্থাপনাটির অংশ অপসারণের প্রয়োজনীয়তা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিষয়টি আদালতেও গড়ায়; মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রশাসনের পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করেনি।
ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, সড়ক উন্নয়ন এবং নগর পুনর্বিন্যাসের নামে স্থাপনা অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযানে মুসলিম সম্প্রদায়ের বসতবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে জমির মালিকানা, আদালতের নির্দেশ, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
প্রশ্ন উঠছে, উন্নয়ন ও দখলমুক্তকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? আইনের প্রয়োগ সবার ক্ষেত্রে সমান হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মসজিদ উচ্ছেদ কিংবা মুসলিমদের ওপর হামলার কোনো ঘটনাকেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে, যাচাই ছাড়া কোনো ঘটনাকে পরিকল্পিত ‘মুসলিম নিধন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বদলে নির্ভরযোগ্য তথ্য, তদন্তের ফলাফল ও প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, সম্পদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল অঙ্গীকার।
তথ্যসূত্র: Scroll, ১৮ অক্টোবর ২০২৬; The Indian Express, ২ অক্টোবর ২০২৬।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৩
প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’র প্রভাবে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তাইওয়ান ও জাপানে। ঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থল সতর্কতা জারি করেছে তাইওয়ান। বাতিল করা হয়েছে দুই শতাধিক ফ্লাইট। একই সঙ্গে ঝড়ের কারণে পরিবর্তন আনতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ সামরিক মহড়ার কর্মসূচিতে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়া চাম্পি চলতি বছরের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়। বৃহস্পতিবার কিছুটা দুর্বল হলেও ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটারের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় বিশাল ঢেউ, প্রবল বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিডব্লিউএ) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ঝড়টির কেন্দ্র তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। ঝড়টির বিস্তৃতি বা ব্যাসার্ধ বেড়ে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার হয়েছে। ফলে দ্বীপটির অধিকাংশ এলাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে উত্তর দিকে মোড় নিতে পারে। এরপর ঝড়টি চীনের উপকূলসংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলের দিকে এগিয়ে দক্ষিণ জাপানের দিকে যেতে পারে। তবে ঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতা আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ঝড়টির প্রভাব প্রায় দুই দিন স্থায়ী হতে পারে। শুক্রবার ও শনিবার তাইওয়ানে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে তাইওয়ানের উপকূলীয় এলাকায় ৬ মিটারের বেশি উঁচু ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানী তাইপের আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলসহ উত্তর তাইওয়ানের কিছু এলাকায় প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাইওয়ানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার উত্তরাঞ্চল, ইয়িলান কাউন্টি এবং পূর্বাঞ্চলের কিছু পাহাড়ি এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শনিবারও উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে।
ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি সংস্থাগুলো প্রস্তুতি জোরদার করেছে। কিছু পরিবহন পরিষেবা স্থগিত এবং কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জনগণকে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি পাহাড় ও উপকূলীয় এলাকায় যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘আরেকটু বেশি প্রস্তুতি মানেই কম ঝুঁকি।’
টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ান ও জাপানে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তাইওয়ানে ১২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর অধিকাংশই অভ্যন্তরীণ রুটের।
জাপানের জাপান এয়ারলাইন্স, এএনএ ও স্কাইমার্ক এয়ারলাইন্স বৃহস্পতিবার থেকে রোববারের মধ্যে ১০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এসব ফ্লাইটের বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণ রুটের। এতে ১১ হাজারের বেশি যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাইওয়ান ও জাপানের মধ্যে চলাচলকারী কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়ের কারণে কিছু ফেরি পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাইওয়ানের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক ছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
চাম্পির প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়া ‘কিন সোর্ড’ (Keen Sword)। তাইওয়ানের কাছাকাছি জাপানি দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে চলমান এই মহড়ায় প্রায় ৫৬ হাজার জাপানি ও মার্কিন সামরিক সদস্য অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি আরও পাঁচটি দেশের বাহিনী এতে যুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে।
দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় স্থল, নৌ ও বিমান অভিযানের সমন্বয়, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং উভচর অবতরণ অনুশীলন করা হয়।
রয়টার্সকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ঝড়ের কারণে মহড়ার নির্ধারিত কর্মসূচি কীভাবে এগোবে, তা আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের অন্তর্গত ইয়োনাগুনি দ্বীপের ওপর দিয়েও অতিক্রম করতে পারে। এটি জাপানের জনবসতিপূর্ণ দ্বীপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত।
ঝড়টি তাইওয়ান অতিক্রম করার সময় দুর্বল হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এর সঙ্গে থাকা প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত জাপানের দক্ষিণাঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় উঁচু ঢেউ ও পরিবহন বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে।
চাম্পি কিছুটা দুর্বল হলেও এর বিস্তৃত ঝড়বলয় এবং প্রবল বাতাসের কারণে তাইওয়ান ও জাপানে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, উপকূলীয় ঢেউ এবং পরিবহনব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন।
আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতা ও পরিবহনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বাসিন্দা ও যাত্রীদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (CNA), ফোকাস তাইওয়ান ও তাইপে টাইমস।
প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’র প্রভাবে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তাইওয়ান ও জাপানে। ঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থল সতর্কতা জারি করেছে তাইওয়ান। বাতিল করা হয়েছে দুই শতাধিক ফ্লাইট। একই সঙ্গে ঝড়ের কারণে পরিবর্তন আনতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ সামরিক মহড়ার কর্মসূচিতে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়া চাম্পি চলতি বছরের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়। বৃহস্পতিবার কিছুটা দুর্বল হলেও ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটারের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় বিশাল ঢেউ, প্রবল বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিডব্লিউএ) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ঝড়টির কেন্দ্র তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। ঝড়টির বিস্তৃতি বা ব্যাসার্ধ বেড়ে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার হয়েছে। ফলে দ্বীপটির অধিকাংশ এলাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে উত্তর দিকে মোড় নিতে পারে। এরপর ঝড়টি চীনের উপকূলসংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলের দিকে এগিয়ে দক্ষিণ জাপানের দিকে যেতে পারে। তবে ঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতা আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ঝড়টির প্রভাব প্রায় দুই দিন স্থায়ী হতে পারে। শুক্রবার ও শনিবার তাইওয়ানে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে তাইওয়ানের উপকূলীয় এলাকায় ৬ মিটারের বেশি উঁচু ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানী তাইপের আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলসহ উত্তর তাইওয়ানের কিছু এলাকায় প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাইওয়ানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার উত্তরাঞ্চল, ইয়িলান কাউন্টি এবং পূর্বাঞ্চলের কিছু পাহাড়ি এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শনিবারও উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে।
ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি সংস্থাগুলো প্রস্তুতি জোরদার করেছে। কিছু পরিবহন পরিষেবা স্থগিত এবং কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জনগণকে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি পাহাড় ও উপকূলীয় এলাকায় যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘আরেকটু বেশি প্রস্তুতি মানেই কম ঝুঁকি।’
টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ান ও জাপানে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তাইওয়ানে ১২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর অধিকাংশই অভ্যন্তরীণ রুটের।
জাপানের জাপান এয়ারলাইন্স, এএনএ ও স্কাইমার্ক এয়ারলাইন্স বৃহস্পতিবার থেকে রোববারের মধ্যে ১০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এসব ফ্লাইটের বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণ রুটের। এতে ১১ হাজারের বেশি যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাইওয়ান ও জাপানের মধ্যে চলাচলকারী কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়ের কারণে কিছু ফেরি পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাইওয়ানের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক ছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
চাম্পির প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়া ‘কিন সোর্ড’ (Keen Sword)। তাইওয়ানের কাছাকাছি জাপানি দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে চলমান এই মহড়ায় প্রায় ৫৬ হাজার জাপানি ও মার্কিন সামরিক সদস্য অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি আরও পাঁচটি দেশের বাহিনী এতে যুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে।
দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় স্থল, নৌ ও বিমান অভিযানের সমন্বয়, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং উভচর অবতরণ অনুশীলন করা হয়।
রয়টার্সকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ঝড়ের কারণে মহড়ার নির্ধারিত কর্মসূচি কীভাবে এগোবে, তা আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের অন্তর্গত ইয়োনাগুনি দ্বীপের ওপর দিয়েও অতিক্রম করতে পারে। এটি জাপানের জনবসতিপূর্ণ দ্বীপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত।
ঝড়টি তাইওয়ান অতিক্রম করার সময় দুর্বল হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এর সঙ্গে থাকা প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত জাপানের দক্ষিণাঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় উঁচু ঢেউ ও পরিবহন বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে।
চাম্পি কিছুটা দুর্বল হলেও এর বিস্তৃত ঝড়বলয় এবং প্রবল বাতাসের কারণে তাইওয়ান ও জাপানে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, উপকূলীয় ঢেউ এবং পরিবহনব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন।
আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতা ও পরিবহনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বাসিন্দা ও যাত্রীদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (CNA), ফোকাস তাইওয়ান ও তাইপে টাইমস।

২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৬
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, অভিযোগ নিয়ে ধোঁয়াশা; আগাম জানানো হয়নি ঢাকাকে
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ ছিল, কীভাবে বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে কেন জানানো হয়নি—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ঢাকা। এরই মধ্যে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে পুরোনো ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পবিত্র নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
গ্রেপ্তারের দুই বছর পর মৃত্যুদণ্ড
বাংলাদেশের জেদ্দা কনস্যুলেটের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কনস্যুলেটের কাছে সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো বন্দিতালিকায় নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইনে অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল। অন্যদিকে, সিতি আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগের কথা লেখা ছিল।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া ওই বন্দিতালিকায় তাঁদের নাম থাকলেও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে নিয়মিত বন্দিতালিকা পাওয়ার পরও দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় হয়েছে—এমন তথ্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে বন্দিতালিকায় উল্লেখ করা অভিযোগ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বক্তব্যের মধ্যে সম্পর্ক কী, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি ও আদালতের রায় না পাওয়া পর্যন্ত অভিযোগের প্রকৃতি এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
কী বলছে সৌদি আরব?
সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। পরে মামলাটি আদালতে পাঠানো হয়। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন এবং ইসলামী আইনের ‘তাজির’ বিধানের আওতায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
তাজির হলো এমন এক ধরনের শাস্তি, যেখানে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারক প্রযোজ্য আইন ও বিচারিক কাঠামোর মধ্যে শাস্তি নির্ধারণের এখতিয়ার পান। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, অভিযোগের গুরুত্ব এবং স্থান ও সময়ের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই দণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তী বিচারিক অনুমোদন এবং রাজকীয় আদেশের পর ১৪ অক্টোবর দণ্ড কার্যকর করা হয়।
তবে সৌদি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট মসজিদের নাম, কথিত ঘটনার তারিখ, মামলার বিস্তারিত প্রমাণ কিংবা বিচার চলাকালে আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনের কী সুযোগ পেয়েছিলেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশকে কেন জানানো হলো না?
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ সরকার কিংবা সৌদি আরবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারিক কার্যক্রম, আদালতের রায় এবং আগাম অবহিত না করার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়ে মামলার নথি ও রায়ের অনুলিপি চেয়েছে।
কূটনৈতিক মিশনকে অবহিত না করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে আটক কোনো নাগরিকের মামলা, আইনি সহায়তা এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো চূড়ান্ত শাস্তির বিষয়ে নিজ দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ভূমিকা কী ছিল, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তবে পূর্ণাঙ্গ নথি ও সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক জবাব না পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনের কোনো নির্দিষ্ট বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
স্বামী-স্ত্রী ছিলেন, নাকি পরিচিত—যা জানা গেছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রী ছিলেন এবং তাঁরা ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নজরুল ইসলামের বাবার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, নজরুল অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নারীর সম্পর্ক কী ছিল, সে বিষয়ে পরিবারও কিছু জানত না বলে জানিয়েছে।
অতএব, তাঁদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কিংবা কথিত ঘটনার নির্দিষ্ট কোনো বর্ণনাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।
শিরশ্ছেদের ভিডিওটি কি তাঁদের?
মৃত্যুদণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর শিরশ্ছেদের একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওটি সাম্প্রতিক দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য বলে দাবি করা হলেও তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, এটি ২০১৫ সালের একটি পুরোনো ঘটনার ভিডিও।
প্রথম আলোসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে দেখা নারী ছিলেন মিয়ানমারের নাগরিক লায়লা বিনতে আবদুল মুত্তালিব বাসিম। তাঁকে অন্য একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করার পর ২০১৫ সালে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, ভিডিওটি ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নয়। একইভাবে, তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে—এমন দাবিতে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওও অন্য ব্যক্তির মরদেহের বলে ফ্যাক্টচেকে উঠে এসেছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর থাকলেও কী পদ্ধতিতে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তা প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট নয়। তাই তাঁদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে—এমন দাবি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এখন সামনে যেসব প্রশ্ন
ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ কী? আদালতে কী ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল? তাঁরা আইনজীবী ও দোভাষীর সহায়তা পেয়েছিলেন কি না? আপিলের সুযোগ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল? আর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে কেন জানানো হয়নি?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় ও সংশ্লিষ্ট নথি পাওয়া জরুরি।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর নিশ্চিত হলেও মামলার নেপথ্যের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে অনুমান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার কিংবা যাচাইহীন ভিডিওর বদলে সরকারি নথি ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন ও প্রথম আলো।
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, অভিযোগ নিয়ে ধোঁয়াশা; আগাম জানানো হয়নি ঢাকাকে
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ ছিল, কীভাবে বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে কেন জানানো হয়নি—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ঢাকা। এরই মধ্যে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে পুরোনো ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পবিত্র নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
গ্রেপ্তারের দুই বছর পর মৃত্যুদণ্ড
বাংলাদেশের জেদ্দা কনস্যুলেটের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কনস্যুলেটের কাছে সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো বন্দিতালিকায় নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইনে অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল। অন্যদিকে, সিতি আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগের কথা লেখা ছিল।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া ওই বন্দিতালিকায় তাঁদের নাম থাকলেও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে নিয়মিত বন্দিতালিকা পাওয়ার পরও দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় হয়েছে—এমন তথ্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে বন্দিতালিকায় উল্লেখ করা অভিযোগ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বক্তব্যের মধ্যে সম্পর্ক কী, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি ও আদালতের রায় না পাওয়া পর্যন্ত অভিযোগের প্রকৃতি এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
কী বলছে সৌদি আরব?
সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। পরে মামলাটি আদালতে পাঠানো হয়। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন এবং ইসলামী আইনের ‘তাজির’ বিধানের আওতায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
তাজির হলো এমন এক ধরনের শাস্তি, যেখানে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারক প্রযোজ্য আইন ও বিচারিক কাঠামোর মধ্যে শাস্তি নির্ধারণের এখতিয়ার পান। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, অভিযোগের গুরুত্ব এবং স্থান ও সময়ের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই দণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তী বিচারিক অনুমোদন এবং রাজকীয় আদেশের পর ১৪ অক্টোবর দণ্ড কার্যকর করা হয়।
তবে সৌদি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট মসজিদের নাম, কথিত ঘটনার তারিখ, মামলার বিস্তারিত প্রমাণ কিংবা বিচার চলাকালে আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনের কী সুযোগ পেয়েছিলেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশকে কেন জানানো হলো না?
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ সরকার কিংবা সৌদি আরবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারিক কার্যক্রম, আদালতের রায় এবং আগাম অবহিত না করার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়ে মামলার নথি ও রায়ের অনুলিপি চেয়েছে।
কূটনৈতিক মিশনকে অবহিত না করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে আটক কোনো নাগরিকের মামলা, আইনি সহায়তা এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো চূড়ান্ত শাস্তির বিষয়ে নিজ দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ভূমিকা কী ছিল, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তবে পূর্ণাঙ্গ নথি ও সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক জবাব না পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনের কোনো নির্দিষ্ট বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
স্বামী-স্ত্রী ছিলেন, নাকি পরিচিত—যা জানা গেছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রী ছিলেন এবং তাঁরা ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নজরুল ইসলামের বাবার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, নজরুল অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নারীর সম্পর্ক কী ছিল, সে বিষয়ে পরিবারও কিছু জানত না বলে জানিয়েছে।
অতএব, তাঁদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কিংবা কথিত ঘটনার নির্দিষ্ট কোনো বর্ণনাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।
শিরশ্ছেদের ভিডিওটি কি তাঁদের?
মৃত্যুদণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর শিরশ্ছেদের একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওটি সাম্প্রতিক দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য বলে দাবি করা হলেও তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, এটি ২০১৫ সালের একটি পুরোনো ঘটনার ভিডিও।
প্রথম আলোসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে দেখা নারী ছিলেন মিয়ানমারের নাগরিক লায়লা বিনতে আবদুল মুত্তালিব বাসিম। তাঁকে অন্য একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করার পর ২০১৫ সালে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, ভিডিওটি ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নয়। একইভাবে, তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে—এমন দাবিতে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওও অন্য ব্যক্তির মরদেহের বলে ফ্যাক্টচেকে উঠে এসেছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর থাকলেও কী পদ্ধতিতে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তা প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট নয়। তাই তাঁদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে—এমন দাবি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এখন সামনে যেসব প্রশ্ন
ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ কী? আদালতে কী ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল? তাঁরা আইনজীবী ও দোভাষীর সহায়তা পেয়েছিলেন কি না? আপিলের সুযোগ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল? আর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে কেন জানানো হয়নি?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় ও সংশ্লিষ্ট নথি পাওয়া জরুরি।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর নিশ্চিত হলেও মামলার নেপথ্যের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে অনুমান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার কিংবা যাচাইহীন ভিডিওর বদলে সরকারি নথি ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন ও প্রথম আলো।

২৭ মে, ২০২৫ ১২:২৭
টানা বেশ কয়েকদিনের হামলা, পাল্টা হামলা ও উত্তেজনার পর সম্প্রতি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে ভারত ও পাকিস্তান। এরপর উভয় দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার পারদ আপাতত কমলেও দুই দেশের নেতাদের বক্তব্যে এখনও উত্তাপ বজায় রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আর এর মধ্যেই পাকিস্তানকে লক্ষ্য করে হংকার দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাকিস্তানিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, তোমরা রুটি খাও, না হলে আমার বুলেট তো (তোমাদের জন্য) আছেই।
মঙ্গলবার (২৭ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এবার সরাসরি পাকিস্তানের জনগণের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের ‘রোগ’ থেকে পাকিস্তানকে মুক্ত করতে চাইলে সে দেশের জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে।
গুজরাটের ভূজে এক নির্বাচনী জনসভায় মোদি বলেন, “আমি পাকিস্তানের জনগণকে জিজ্ঞাসা করতে চাই—সন্ত্রাসবাদ থেকে আপনারা কী পেয়েছেন? ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। আর আপনারা কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন?”
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪২
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৮