ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর এম.আর. রেসিডেন্সিয়াল একাডেমিতে একটি প্রত্যয়নপত্রে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত বুধবার (১৭ জুন) শম্ভুপুর খাসের হাট বাজার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ তজুমদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. লাভিবের পিতা আহসানুল হক মমিন কয়েকদিন আগে সন্তানের জন্মনিবন্ধনের কাজে ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয় থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নেন।
কিছুদিন পরে তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে এসে প্রত্যয়নপত্রে সংশোধন ও স্বাক্ষরের বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলতে গেলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ঘটনার পর খাসের হাট বাজার এলাকায় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত দুইজন আহত হয়।
ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বলেন, “লাভিবের বাবা আহসানুল হক মমিন তার ছেলের জন্মনিবন্ধন জন্য প্রত্যয়নপত্র দেয়ার পরেও পুনরায় বিদ্যালয়ে এসে প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর দেওয়ার অনুরোধ করেন।
আমি তাকে জানাই, প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর দেওয়া আছে। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘এটা হবে না। আপনাকে চাকরি দিয়েছে কে? আপনার তো চাকরি করার মতো কোনো যোগ্যতাই নেই।’ পরে আমাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তিনি আমার ওপর লাইব্রেরি থাকা ছাতা এবং চেয়ার দিয়ে বারি দেয়। এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
অন্যদিকে আহসানুল হক মমিন বলেন, “আমার ছেলে শম্ভুপুর এম.আর. রেসিডেন্সিয়াল একাডেমির প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার পর সেখানে কিছু ভুল দেখতে পাই।
বিষয়টি সংশোধনের জন্য প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বললে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা রফিক মাস্টার বিষয়টি অবহিত করলে তিনি আমাকে খাসের হাট বাজারে সামছুলের চায়ের দোকানে দেখা করতে বলেন। সেখানে গেলে শিক্ষিকার স্বামী ও তার কয়েকজন স্বজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা এক অভিভাবক জানান, “মমিন ভাই লাইব্রেরিতে এসে ম্যাডামকে বলেন, ‘এটা কী প্রত্যয়ন দিয়েছেন, এখানে সব ভুল। আপনাকে কে চাকরি দিয়েছে, আপনি তো চাকরি করার যোগ্য নন।’ এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে মমিন ভাই ম্যাডামকে ছাতা এবং চেয়ার দিয়ে আঘাত করেন এবং একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন। এরপর তিনি বিদ্যালয় থেকে চলে যায়।
এবিষয়ে তজুমদ্দিন থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় উভয়পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৮
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

২১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১৬
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষে ভোলা-পটুয়াখালীসহ দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।
এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেতসহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষে ভোলা-পটুয়াখালীসহ দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।
এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেতসহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১৭
ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি বসতঘরের খাটের নিচ থেকে জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তার ১ হাজার ১৭০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ এলাকার দিদার মসজিদ সংলগ্ন মো. জসিম সর্দারের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৪ টি বস্তা ভর্তি এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান ঘর মালিক মো. জসিম সর্দার। তিনি স্থানীয় একটি বাজারের মুদি দোকানদার। পরে উদ্ধারকৃত চাল উপজেলা মৎস্য অফিসের জিম্মায় রাখা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই বসতঘর থেকে জেলেদের খাদ্য সহায়তার ৩০ কেজি ওজনের ২৪ বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। চালগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।
তবে জেলেদের চাল বিক্রি বা মজুদ করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কোনো ব্যক্তির কাছে এত চাল থাকারও কথা না। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।
ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি বসতঘরের খাটের নিচ থেকে জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তার ১ হাজার ১৭০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ এলাকার দিদার মসজিদ সংলগ্ন মো. জসিম সর্দারের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৪ টি বস্তা ভর্তি এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান ঘর মালিক মো. জসিম সর্দার। তিনি স্থানীয় একটি বাজারের মুদি দোকানদার। পরে উদ্ধারকৃত চাল উপজেলা মৎস্য অফিসের জিম্মায় রাখা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই বসতঘর থেকে জেলেদের খাদ্য সহায়তার ৩০ কেজি ওজনের ২৪ বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। চালগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।
তবে জেলেদের চাল বিক্রি বা মজুদ করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কোনো ব্যক্তির কাছে এত চাল থাকারও কথা না। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।

১৮ জুন, ২০২৬ ১৮:৫১
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর এম.আর. রেসিডেন্সিয়াল একাডেমিতে একটি প্রত্যয়নপত্রে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত বুধবার (১৭ জুন) শম্ভুপুর খাসের হাট বাজার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ তজুমদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. লাভিবের পিতা আহসানুল হক মমিন কয়েকদিন আগে সন্তানের জন্মনিবন্ধনের কাজে ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয় থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নেন।
কিছুদিন পরে তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে এসে প্রত্যয়নপত্রে সংশোধন ও স্বাক্ষরের বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলতে গেলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ঘটনার পর খাসের হাট বাজার এলাকায় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত দুইজন আহত হয়।
ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বলেন, “লাভিবের বাবা আহসানুল হক মমিন তার ছেলের জন্মনিবন্ধন জন্য প্রত্যয়নপত্র দেয়ার পরেও পুনরায় বিদ্যালয়ে এসে প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর দেওয়ার অনুরোধ করেন।
আমি তাকে জানাই, প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর দেওয়া আছে। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘এটা হবে না। আপনাকে চাকরি দিয়েছে কে? আপনার তো চাকরি করার মতো কোনো যোগ্যতাই নেই।’ পরে আমাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তিনি আমার ওপর লাইব্রেরি থাকা ছাতা এবং চেয়ার দিয়ে বারি দেয়। এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
অন্যদিকে আহসানুল হক মমিন বলেন, “আমার ছেলে শম্ভুপুর এম.আর. রেসিডেন্সিয়াল একাডেমির প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার পর সেখানে কিছু ভুল দেখতে পাই।
বিষয়টি সংশোধনের জন্য প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বললে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা রফিক মাস্টার বিষয়টি অবহিত করলে তিনি আমাকে খাসের হাট বাজারে সামছুলের চায়ের দোকানে দেখা করতে বলেন। সেখানে গেলে শিক্ষিকার স্বামী ও তার কয়েকজন স্বজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা এক অভিভাবক জানান, “মমিন ভাই লাইব্রেরিতে এসে ম্যাডামকে বলেন, ‘এটা কী প্রত্যয়ন দিয়েছেন, এখানে সব ভুল। আপনাকে কে চাকরি দিয়েছে, আপনি তো চাকরি করার যোগ্য নন।’ এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে মমিন ভাই ম্যাডামকে ছাতা এবং চেয়ার দিয়ে আঘাত করেন এবং একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন। এরপর তিনি বিদ্যালয় থেকে চলে যায়।
এবিষয়ে তজুমদ্দিন থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় উভয়পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।