বরিশাল শহরের আলেকান্দা রিফিউজি কলোনীর আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক প্যাদাকে অল্পের জন্য ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার রাতে কোতয়ালি পুলিশের একটি টিম কলোনী বাসাটিতে হানা দেওয়ার আগাম খবর পেয়ে শীর্ষস্থানীয় এই মাদকবিক্রেতা পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী আনু বেগম (৩৮) এবং ছেলে সন্তান রাতুল ইসলামসহ (২৪) অন্তত ৫জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এসময় বাসাটি থেকে গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মো. নাসিমুল হক।
পুলিশ জানায়, নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হয়ে রোববার রাতে ১৩ নং ওয়ার্ডের রিফিউজি কলোনীতে রফিকের মালিকানাধীন স্নেহা ভবনে এসআই গোলাম মো. নাসিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সেখানে হানা দেয়। কিন্তু অভিযানের খবর কোনো মাধ্যম আগেই অবহিত হয়ে রফিক বাসাটি থেকে সটকে পড়েন। পরবর্তীতে পুলিশ বাসাটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৬২ পিস ইয়াবা, ৩৯ পুরিয়া গাঁজা, দুটি মোটরসাইকেলসহ মাদক বিক্রির ১৭ হাজার ৬৯০ টাকা উদ্ধার করে। সেই সাথে রফিকের স্ত্রী আনু বেগম, ছেলে রাতুল ইসলাম এবং একই ওয়ার্ডের কামাল হাওলাদারের ছেলে উজ্জল হাওলাদার (২৪), পার্শ্ববর্তী ১২ নং ওয়ার্ডের আমির আলীর ছেলে বাপ্পি (২৫) এবং বাকেরগঞ্জের খোকন হাওলাদারের ছেলে ইমন হাওলাদারকে (১৯) আটক করা হয়।
রিফিউজি কলোনীর স্নেহা ভবন নামক বাসাটিতে নিয়মিত মাদকের হাট বসতে এবং সেখানে শহরের বিভিন্ন এলাকার খুচরা-পাইকারী বিক্রেতাদের আনাগোনা ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, বরিশালে মাদকবিরোধী চিরুনি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, সেই ধারাবাহিকতায় রোববার রাত ১০টার দিকে গাঁজা রফিকের বাসাটিতে হানা দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো মাধ্যম খবর পেয়ে রফিক আগেই স্থান ত্যাগ করেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল শহরের চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা রফিকের বিরুদ্ধে অন্তত ডজনখানেক মাদকের মামলা বিচারাধীন আছে। তাকে বিভিন্ন সময় মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হলেও কদিন বাদে জামিনে মুক্ত হয়ে ফের একই বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, তৎকালীন মাদকবিক্রেতা রফিকুল ইসলামকে ধরতে গিয়ে কোতয়ালি পুলিশ হামলার শিকার হয়। অবশ্য সেই ঘটনার পর বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দাপুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তিনি গ্রেপ্তারও হন। কিন্তু তাকে বেশিদিন কারাগারে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি, কিছুদিন পরে জামিনে মুক্ত হয়ে ফের মাদক বাণিজ্যে যুক্ত হন।
মাদক বিক্রির ক্ষেত্রে রফিক বেশকিছু সতর্ক পদক্ষেপ বা পন্থা অবলম্বন করে থাকেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন। নামপ্রকাশ না করার শর্তে এসআই পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানান, কয়েক বছর ধরে রফিক নিজের হাতে মাদক বিক্রি করছেন না, কৌশল হিসেবে স্ত্রী-সন্তানকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে মাদক বিক্রির সময় তিনি বাসাটির আশেপাশে থাকেন এবং বাইরের সামগ্রিক বিষয়াদী তদারকি করে। কখনও পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেলে তিনি সটকে পড়েন এবং স্ত্রী-সন্ত্রানদের ফোন করে সতর্ক থাকার দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
তবে গাঁজা রফিকের এই কৌশল এসআই নাসিমের দূরদর্শিতার কাছে ধোপে টেকেনি। তিনি কোনো মতে গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হলেও তার স্ত্রী-সন্তানকে ঠিকই আইনের আওতায় নিয়ে আসলেন মাঠপুলিশ কর্মকর্তা।
অভিযান পরিচালনাকারী কোতয়ালি মডেল থানার এসআই গোলাম মো. নাসিম জানান, এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে রফিক ওরফে গাঁজা রফিক, তার স্ত্রী-সন্তানসহ মোট ৬জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ পলাতক রফিককে গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ মাদকের ব্যবসায় করে গত ১০/১৫ বছরে রফিকুল ইসলাম শহরের একাধিক স্থানে জমিসহ বাড়ি ক্রয় করা এবং অর্থবিত্তে ধনকুবের বনে গেছেন। রোববার রাতে পুলিশ রিফিউজি কলোনীর স্নেহা ভবন নামক যে বাসটিতে অভিযান চালিয়েছে, সেটিও রফিকের মালিকানাধীন। এছাড়া শহরের ১২/১৩ নং ওয়ার্ডে তিনি একাধিক জমির মালিক ও সিঅ্যান্ডবি কাজীপাড়া রোডেও একটি বিলাসবহুল ভবন কিনেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
বরিশাল শহরের চিহ্নিত এই মাদক বিক্রিতার উত্থ্যান এবং অবৈধ অর্থে কোথায় কোথায় সম্পদ গড়েছেন এই ধরনের প্রতিবেদন পেতে বরিশালটাইমসের সাথে থাকুন।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

১৫ জুন, ২০২৬ ১৪:৫১
বরিশাল শহরের আলেকান্দা রিফিউজি কলোনীর আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক প্যাদাকে অল্পের জন্য ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার রাতে কোতয়ালি পুলিশের একটি টিম কলোনী বাসাটিতে হানা দেওয়ার আগাম খবর পেয়ে শীর্ষস্থানীয় এই মাদকবিক্রেতা পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী আনু বেগম (৩৮) এবং ছেলে সন্তান রাতুল ইসলামসহ (২৪) অন্তত ৫জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এসময় বাসাটি থেকে গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মো. নাসিমুল হক।
পুলিশ জানায়, নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হয়ে রোববার রাতে ১৩ নং ওয়ার্ডের রিফিউজি কলোনীতে রফিকের মালিকানাধীন স্নেহা ভবনে এসআই গোলাম মো. নাসিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সেখানে হানা দেয়। কিন্তু অভিযানের খবর কোনো মাধ্যম আগেই অবহিত হয়ে রফিক বাসাটি থেকে সটকে পড়েন। পরবর্তীতে পুলিশ বাসাটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৬২ পিস ইয়াবা, ৩৯ পুরিয়া গাঁজা, দুটি মোটরসাইকেলসহ মাদক বিক্রির ১৭ হাজার ৬৯০ টাকা উদ্ধার করে। সেই সাথে রফিকের স্ত্রী আনু বেগম, ছেলে রাতুল ইসলাম এবং একই ওয়ার্ডের কামাল হাওলাদারের ছেলে উজ্জল হাওলাদার (২৪), পার্শ্ববর্তী ১২ নং ওয়ার্ডের আমির আলীর ছেলে বাপ্পি (২৫) এবং বাকেরগঞ্জের খোকন হাওলাদারের ছেলে ইমন হাওলাদারকে (১৯) আটক করা হয়।
রিফিউজি কলোনীর স্নেহা ভবন নামক বাসাটিতে নিয়মিত মাদকের হাট বসতে এবং সেখানে শহরের বিভিন্ন এলাকার খুচরা-পাইকারী বিক্রেতাদের আনাগোনা ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, বরিশালে মাদকবিরোধী চিরুনি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, সেই ধারাবাহিকতায় রোববার রাত ১০টার দিকে গাঁজা রফিকের বাসাটিতে হানা দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো মাধ্যম খবর পেয়ে রফিক আগেই স্থান ত্যাগ করেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল শহরের চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা রফিকের বিরুদ্ধে অন্তত ডজনখানেক মাদকের মামলা বিচারাধীন আছে। তাকে বিভিন্ন সময় মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হলেও কদিন বাদে জামিনে মুক্ত হয়ে ফের একই বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, তৎকালীন মাদকবিক্রেতা রফিকুল ইসলামকে ধরতে গিয়ে কোতয়ালি পুলিশ হামলার শিকার হয়। অবশ্য সেই ঘটনার পর বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দাপুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তিনি গ্রেপ্তারও হন। কিন্তু তাকে বেশিদিন কারাগারে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি, কিছুদিন পরে জামিনে মুক্ত হয়ে ফের মাদক বাণিজ্যে যুক্ত হন।
মাদক বিক্রির ক্ষেত্রে রফিক বেশকিছু সতর্ক পদক্ষেপ বা পন্থা অবলম্বন করে থাকেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন। নামপ্রকাশ না করার শর্তে এসআই পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানান, কয়েক বছর ধরে রফিক নিজের হাতে মাদক বিক্রি করছেন না, কৌশল হিসেবে স্ত্রী-সন্তানকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে মাদক বিক্রির সময় তিনি বাসাটির আশেপাশে থাকেন এবং বাইরের সামগ্রিক বিষয়াদী তদারকি করে। কখনও পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেলে তিনি সটকে পড়েন এবং স্ত্রী-সন্ত্রানদের ফোন করে সতর্ক থাকার দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
তবে গাঁজা রফিকের এই কৌশল এসআই নাসিমের দূরদর্শিতার কাছে ধোপে টেকেনি। তিনি কোনো মতে গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হলেও তার স্ত্রী-সন্তানকে ঠিকই আইনের আওতায় নিয়ে আসলেন মাঠপুলিশ কর্মকর্তা।
অভিযান পরিচালনাকারী কোতয়ালি মডেল থানার এসআই গোলাম মো. নাসিম জানান, এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে রফিক ওরফে গাঁজা রফিক, তার স্ত্রী-সন্তানসহ মোট ৬জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ পলাতক রফিককে গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ মাদকের ব্যবসায় করে গত ১০/১৫ বছরে রফিকুল ইসলাম শহরের একাধিক স্থানে জমিসহ বাড়ি ক্রয় করা এবং অর্থবিত্তে ধনকুবের বনে গেছেন। রোববার রাতে পুলিশ রিফিউজি কলোনীর স্নেহা ভবন নামক যে বাসটিতে অভিযান চালিয়েছে, সেটিও রফিকের মালিকানাধীন। এছাড়া শহরের ১২/১৩ নং ওয়ার্ডে তিনি একাধিক জমির মালিক ও সিঅ্যান্ডবি কাজীপাড়া রোডেও একটি বিলাসবহুল ভবন কিনেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
বরিশাল শহরের চিহ্নিত এই মাদক বিক্রিতার উত্থ্যান এবং অবৈধ অর্থে কোথায় কোথায় সম্পদ গড়েছেন এই ধরনের প্রতিবেদন পেতে বরিশালটাইমসের সাথে থাকুন।’