বরিশালের উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়নে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা রিপন মোল্লা (৪০) ওরফে চোরা রিপন। সে ওই ইউপির বাহেরঘাট গ্রামের জোড়া ব্রীজ সংলগ্ন মোল্লাবাড়ির মৃত. মালেক মোল্লার ছেলে।
উজিরপুরসহ আশপাশের থানাগুলোতে তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছেন অনেকবার। জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানে চলতি বছরের ২২ এপ্রিল র্যাবের গুলিতে নিহত হয়েছে মাদক ব্যবসায়ী রিপনের ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম মোল্লা (১৭)। নিহত সিয়াম কোনো মাদকের সাথে জড়িত ছিলো না।
কিন্তু তার মাদক ব্যবসায়ী বাবা রিপনের কারণে নিহতের পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিশোর সিয়ামকে মাদক ব্যবসায়ী তকমা লাগিয়েছিলো। তবে এলাকাবাসী তার প্রতিবাদ জানিয়ে সিয়াম নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধনও করেছিলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রিপন অনেক বছর ধরে এলাকায় গাঁজা, ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছে। স্থানীয় রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় এই ব্যবসা করে আসছিলো।
চলতি বছরের এপ্রিলে রিপনের কলেজ পড়ুয়া ছেলে সিয়াম মোল্লা র্যাবের গুলিতে নিহত হওয়ার পরে কিছুদিন রিপনের মাদক ব্যবসা বন্ধ ছিলো। সম্প্রতি আগের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক বিক্রেতা রিপন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিপন প্রায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এর আগে এলাকায় বেশ কয়েকবার চুরি করে গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়েছিলো। যার কারণে নিজ এলাকায় চোরা রিপন নামে বেশি পরিচিত মাদক বিক্রেতা রিপন মোল্লা।
উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা রিপন মোল্লার বিরুদ্ধে মাদক মামলায় আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। পুলিশ রিপনকে গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নটি পাশ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী। আর রিপনের বসতবাড়ি দুই উপজেলার সীমান্ত বাহেরঘাট গ্রামের জোড়া ব্রীজ সংলগ্ন মোল্লাবাড়ি।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাদক বিক্রেতা রিপন দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে মাদকের অভয়ারন্য বানিয়ে ফেলেছে। এসব এলাকার বয়স্ক থেকে শুরু করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।
মাদক কারবারি রিপনের কয়েকজন প্রতিবেশি জানিয়েছেন, রিপন অনেক আগে থেকেই মাদকাসক্ত ছিলেন। এছাড়া স্ত্রীর উপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতো, যার কারণে দুটি সন্তানসহ স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছিলো।
রিপনের সাবেক স্ত্রীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে হলে তিনি জানান, রিপন পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিলো। নিজ গ্রামের এক নারীর সাথে রিপন দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেম চালিয়ে আসছিলো। আর সেই পরকীয়া প্রেমের প্রতিবাদ করায় অনেকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। রিপনের অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুটি সন্তান নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদে বাধ্য হই।
রিপনের মাদক ব্যবসার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদকের মামলায় গ্রেফতার হয়ে অনেকদিন জেল খেটেছেন রিপন। তিনি মানুষের মুখে রিপনের মাদক বিক্রির কথা শুনেছেন, তবে তিনি কখনও দেখেননি।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে থানার উপ-পরিদর্শক জ্যোতিন্ময় জানান, মাদক কারবারি রিপন মোল্লার বিরুদ্ধে মোট কয়টি মামলা রয়েছে এবং কোন মামলায় আদালতের ওয়ারেন্ট রয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:২২
বরিশালের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই ভাইকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে গৌরনদী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন বন্দর সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন—মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমান হাওলাদারের ছেলে মো. পারভেজ হোসেন তুহিন (৩১) ও তার ছোট ভাই তামিম হোসেন (২৮)।
ডিবি পুলিশ জানায়, ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, এসআই আল হেলাল, এসআই হানিফ মোল্লা, এএসআই রফিকুল ইসলামসহ একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় দুই ভাইকে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে আটক করা হয়।
পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে সর্বমোট ৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ডিবি সূত্র আরও জানায়, আটক পারভেজ হোসেন তুহিনের বিরুদ্ধে আগেও মামলা রয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল বরিশালটাইমসকে জানান, এ ঘটনায় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় দুই ভাইকে আসামি করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতে পাঠানো হবে।’
বরিশালের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই ভাইকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে গৌরনদী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন বন্দর সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন—মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমান হাওলাদারের ছেলে মো. পারভেজ হোসেন তুহিন (৩১) ও তার ছোট ভাই তামিম হোসেন (২৮)।
ডিবি পুলিশ জানায়, ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, এসআই আল হেলাল, এসআই হানিফ মোল্লা, এএসআই রফিকুল ইসলামসহ একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় দুই ভাইকে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে আটক করা হয়।
পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে সর্বমোট ৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ডিবি সূত্র আরও জানায়, আটক পারভেজ হোসেন তুহিনের বিরুদ্ধে আগেও মামলা রয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল বরিশালটাইমসকে জানান, এ ঘটনায় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় দুই ভাইকে আসামি করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতে পাঠানো হবে।’

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩০
বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লার পারিবারিক জমি দখল করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বানারীপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার কথা জানালেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন মঞ্জু মোল্লা।
তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত মো. আলী হোসেন ও তাঁর ছেলে মো. আতিকুর রহমান রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমিতে নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
তবে অভিযুক্ত আতিকুর রহমানের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির মালিক তাঁর বাবা। দীর্ঘদিন মঞ্জু মোল্লা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের জমি দখল করে রেখেছিলেন। এখন তাঁরা নিজেদের জমি দখলে নিয়েছেন।
গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা জানান, তাঁদের বাড়িসংলগ্ন জেএল ৪২ নম্বর খতিয়ানের এসএ ৫৯৪ ও ৫৯১ নম্বর খতিয়ানের হাল ৫৯৭ ও ৫৮৯ নম্বর দাগ থেকে ২০১৭ সালের শেষ দিকে প্রায় তিন শতক জমি কেনেন তাঁরা। এরপর থেকে জমিটি তাঁরা ভোগদখল করে আসছেন।
মঞ্জু মোল্লার ভাষ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে আলী হোসেন ও তাঁর ছেলে লোকজন নিয়ে ওই জমিতে গিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ও আশপাশের লোকজন বাধা দিলে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
এরপর গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আতিকুর রহমান দেশীয় অস্ত্রধারী কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থিতাবস্থা জারির নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর শুক্রবার সকালে বানারীপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অজয় সিকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে নোটিশ দেন। কিন্তু এরপরও আতিকুর রহমান ও তাঁর বাবা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ মঞ্জু মোল্লার।
মঞ্জু মোল্লা জানান, আদালতের আদেশ জারির পরও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি জানিয়ে বানারীপাড়া থানার পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা শতদল মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু পরিদর্শক ‘ওপর মহলের চাপ রয়েছে’ বলে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বলেন, ‘ওই জমির মালিক আমার বাবা। এত বছর মঞ্জু মোল্লা নিজের ক্ষমতা বলে আমাদের জমি দখল করে রেখেছিলেন। এখন আমরা আমাদের জমি দখলে নিয়েছি।’ আদালতের আদেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান সরকারি কাজে বানারীপাড়ার বাইরে থাকায় তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, বর্তমানে থানার ওসির দায়িত্বে রয়েছেন পরিদর্শক শতদল মজুমদার।
শতদল মজুমদার বলেন, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আতিকুর রহমান ও তাঁর বাবাকে স্থিতাবস্থার বিষয়টি জানিয়ে এসেছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতেও তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও নির্মাণকাজ চলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওপর মহলের চাপ রয়েছে। বিধায় আমরা অন্য কিছু করতে পারছি না।’
বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লার পারিবারিক জমি দখল করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বানারীপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার কথা জানালেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন মঞ্জু মোল্লা।
তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত মো. আলী হোসেন ও তাঁর ছেলে মো. আতিকুর রহমান রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমিতে নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
তবে অভিযুক্ত আতিকুর রহমানের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির মালিক তাঁর বাবা। দীর্ঘদিন মঞ্জু মোল্লা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের জমি দখল করে রেখেছিলেন। এখন তাঁরা নিজেদের জমি দখলে নিয়েছেন।
গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা জানান, তাঁদের বাড়িসংলগ্ন জেএল ৪২ নম্বর খতিয়ানের এসএ ৫৯৪ ও ৫৯১ নম্বর খতিয়ানের হাল ৫৯৭ ও ৫৮৯ নম্বর দাগ থেকে ২০১৭ সালের শেষ দিকে প্রায় তিন শতক জমি কেনেন তাঁরা। এরপর থেকে জমিটি তাঁরা ভোগদখল করে আসছেন।
মঞ্জু মোল্লার ভাষ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে আলী হোসেন ও তাঁর ছেলে লোকজন নিয়ে ওই জমিতে গিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ও আশপাশের লোকজন বাধা দিলে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
এরপর গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আতিকুর রহমান দেশীয় অস্ত্রধারী কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থিতাবস্থা জারির নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর শুক্রবার সকালে বানারীপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অজয় সিকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে নোটিশ দেন। কিন্তু এরপরও আতিকুর রহমান ও তাঁর বাবা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ মঞ্জু মোল্লার।
মঞ্জু মোল্লা জানান, আদালতের আদেশ জারির পরও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি জানিয়ে বানারীপাড়া থানার পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা শতদল মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু পরিদর্শক ‘ওপর মহলের চাপ রয়েছে’ বলে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বলেন, ‘ওই জমির মালিক আমার বাবা। এত বছর মঞ্জু মোল্লা নিজের ক্ষমতা বলে আমাদের জমি দখল করে রেখেছিলেন। এখন আমরা আমাদের জমি দখলে নিয়েছি।’ আদালতের আদেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান সরকারি কাজে বানারীপাড়ার বাইরে থাকায় তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, বর্তমানে থানার ওসির দায়িত্বে রয়েছেন পরিদর্শক শতদল মজুমদার।
শতদল মজুমদার বলেন, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আতিকুর রহমান ও তাঁর বাবাকে স্থিতাবস্থার বিষয়টি জানিয়ে এসেছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতেও তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও নির্মাণকাজ চলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওপর মহলের চাপ রয়েছে। বিধায় আমরা অন্য কিছু করতে পারছি না।’

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:০২
বরিশালের বাকেরগঞ্জে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ইমরান হোসেন উজ্জ্বল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাঁর শ্বশুর ও শাশুড়িকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখান থেকেই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।
আহতরা হলেন—ইমরানের স্ত্রী রুমানা আক্তার (২১), শ্বশুর মাহবুব আলম মিন্টু হাওলাদার (৫৮) ও শাশুড়ি মাহমুদা বেগম (৫৫)। গুরুতর অবস্থায় তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ইমরান একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে ভোরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমন্ত স্ত্রী রুমানাকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন ইমরান। রুমানার চিৎকার শুনে তাঁর বাবা-মা ছুটে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তিনজনকে আহত করার পর ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ইমরান। পরে আহতদের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে ইমরান নিজেও শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকেই তাঁকে আটক করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ।
বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি আদিল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশালটাইমসকে বলেন, নেশাগ্রস্ত জামাইয়ের হামলায় স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ি গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
বরিশালের বাকেরগঞ্জে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ইমরান হোসেন উজ্জ্বল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাঁর শ্বশুর ও শাশুড়িকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখান থেকেই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।
আহতরা হলেন—ইমরানের স্ত্রী রুমানা আক্তার (২১), শ্বশুর মাহবুব আলম মিন্টু হাওলাদার (৫৮) ও শাশুড়ি মাহমুদা বেগম (৫৫)। গুরুতর অবস্থায় তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ইমরান একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে ভোরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমন্ত স্ত্রী রুমানাকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন ইমরান। রুমানার চিৎকার শুনে তাঁর বাবা-মা ছুটে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তিনজনকে আহত করার পর ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ইমরান। পরে আহতদের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে ইমরান নিজেও শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকেই তাঁকে আটক করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ।
বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি আদিল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশালটাইমসকে বলেন, নেশাগ্রস্ত জামাইয়ের হামলায় স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ি গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

০৭ জুলাই, ২০২৫ ১২:০৫
বরিশালের উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়নে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা রিপন মোল্লা (৪০) ওরফে চোরা রিপন। সে ওই ইউপির বাহেরঘাট গ্রামের জোড়া ব্রীজ সংলগ্ন মোল্লাবাড়ির মৃত. মালেক মোল্লার ছেলে।
উজিরপুরসহ আশপাশের থানাগুলোতে তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছেন অনেকবার। জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানে চলতি বছরের ২২ এপ্রিল র্যাবের গুলিতে নিহত হয়েছে মাদক ব্যবসায়ী রিপনের ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম মোল্লা (১৭)। নিহত সিয়াম কোনো মাদকের সাথে জড়িত ছিলো না।
কিন্তু তার মাদক ব্যবসায়ী বাবা রিপনের কারণে নিহতের পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিশোর সিয়ামকে মাদক ব্যবসায়ী তকমা লাগিয়েছিলো। তবে এলাকাবাসী তার প্রতিবাদ জানিয়ে সিয়াম নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধনও করেছিলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রিপন অনেক বছর ধরে এলাকায় গাঁজা, ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছে। স্থানীয় রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় এই ব্যবসা করে আসছিলো।
চলতি বছরের এপ্রিলে রিপনের কলেজ পড়ুয়া ছেলে সিয়াম মোল্লা র্যাবের গুলিতে নিহত হওয়ার পরে কিছুদিন রিপনের মাদক ব্যবসা বন্ধ ছিলো। সম্প্রতি আগের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক বিক্রেতা রিপন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিপন প্রায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এর আগে এলাকায় বেশ কয়েকবার চুরি করে গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়েছিলো। যার কারণে নিজ এলাকায় চোরা রিপন নামে বেশি পরিচিত মাদক বিক্রেতা রিপন মোল্লা।
উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা রিপন মোল্লার বিরুদ্ধে মাদক মামলায় আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। পুলিশ রিপনকে গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নটি পাশ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী। আর রিপনের বসতবাড়ি দুই উপজেলার সীমান্ত বাহেরঘাট গ্রামের জোড়া ব্রীজ সংলগ্ন মোল্লাবাড়ি।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাদক বিক্রেতা রিপন দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে মাদকের অভয়ারন্য বানিয়ে ফেলেছে। এসব এলাকার বয়স্ক থেকে শুরু করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।
মাদক কারবারি রিপনের কয়েকজন প্রতিবেশি জানিয়েছেন, রিপন অনেক আগে থেকেই মাদকাসক্ত ছিলেন। এছাড়া স্ত্রীর উপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতো, যার কারণে দুটি সন্তানসহ স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছিলো।
রিপনের সাবেক স্ত্রীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে হলে তিনি জানান, রিপন পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিলো। নিজ গ্রামের এক নারীর সাথে রিপন দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেম চালিয়ে আসছিলো। আর সেই পরকীয়া প্রেমের প্রতিবাদ করায় অনেকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। রিপনের অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুটি সন্তান নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদে বাধ্য হই।
রিপনের মাদক ব্যবসার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদকের মামলায় গ্রেফতার হয়ে অনেকদিন জেল খেটেছেন রিপন। তিনি মানুষের মুখে রিপনের মাদক বিক্রির কথা শুনেছেন, তবে তিনি কখনও দেখেননি।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে থানার উপ-পরিদর্শক জ্যোতিন্ময় জানান, মাদক কারবারি রিপন মোল্লার বিরুদ্ধে মোট কয়টি মামলা রয়েছে এবং কোন মামলায় আদালতের ওয়ারেন্ট রয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৯
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৪
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬