গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের এক সাধারণ তরুণ মোহাম্মদ আম্মার। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল প্রযুক্তি জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার। তবে গ্রামীণ পরিবেশে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিজের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন তিনি।
অবশেষে স্বপ্ন পূরণের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ছুটে যান কুমিল্লায়। সেখানে গিয়ে ভর্তি হন আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপার্ট আইট পার্কের’ ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে। সেখান থেকে ফ্রিল্যান্সিং শিখে এখন সফল তরুণ আম্মার।
এরইমধ্যে তিনি আয় করেছেন চারশত ডলার। আম্মার ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার মো. বাবুলের ছেলে। একই সঙ্গে তিনি গজারিয়া ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রী) মাদরাসার আলিম ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।
আম্মার বলেন, আমি প্রত্যন্ত এলাকায় থাকি। সেখানে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে এখনো অনেকেরই ভালো কোনো ধারণা নেই। তবে আমার স্বপ্ন ছিল এই ফ্রিল্যান্সিং শিখে নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে চলে যাই কুমিল্লাতে। সেখানে গিয়ে আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপার্ট আইট পার্কের’ ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে ভর্তি হই।
এরপরই শুরু হয় আমার নবযাত্রা। তবে প্রথম দিকে টেকনিক্যাল বিষয় শিখতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়েছে। এ নিয়ে অনেক সময় হতাশও হয়ে পড়তাম। তবে ছায়ার মতো পাশে থেকে প্রতিদিন আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন মেন্টর মো. ওমর ফারুক।
তিনি আরো বলেন, কোর্স চলাকালীন সময়েই কাজ শুরু করি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং ‘মার্কেটপ্লেস আই আউট অব মার্কেটপ্লেস’-এ, দুই মাসের মাথায়ই আয় করি ষাট ডলার। এ পর্যন্ত মোট আয় করেছি চারশত ডলার।
বর্তমানে কোর্স চলাকালীন সময়েও প্রতি মাসে আমার শতাধিক ডলার করে আয় হচ্ছে। একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের জন্য এটি কেবল অর্থই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য বড়ভিত্তি। আমার স্বপ্ন এখানেই শেষ নয়।
আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ক্লায়েন্টদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করতে চাই। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজেই একটি আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবো। যার মাধ্যমে আমার নিজেরে এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের নতুন প্রজন্মকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষ করে তুলবো ইনশাআল্লাহ।
এদিকে মোহাম্মদ আম্মারের গ্রামের বাড়ি দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন, এই তরুণের সাফল্য প্রমাণ করেছে, সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে গ্রাম আর শহর নয়, যেকোনো স্থানে থেকে যে কেউ বিশ^বাজারে স্বমহিমায় নিজের জায়গা করে নিতে পারেন। আম্মারের এমন সফলতায় তিনি হয়ে উঠছেন নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, বর্তমানে এই উপজেলায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোনো প্রশিক্ষণ বা সহযোগিতার সুযোগ নেই। তবে সামনে কোনো সুযোগ আসলে তা আগ্রহীদের জানানো হবে।

৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫০
ভোলার লালমোহন উপজেলায় এক গৃহবধূকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ রোজিনা বেগম। তিনি লালমোহন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খোকনের স্ত্রী। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার মো. পলাশ মৃধার ছেলে মো. শাহাদৎ হোসেন (২৪), জুয়েল স্বর্ণকারের ছেলে মো. জুবায়ের (২১) এবং একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মিলন পাটোয়ারির ছেলে মো. নাঈম (২৪)।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বিকেলে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ চরফ্যাশন থেকে সিএনজিযোগে লালমোহনের গজারিয়া বাজার এলাকায় আসেন। সেখান থেকে পৌরসভায় অবস্থিত নিজ বাসায় ফেরার জন্য তিনি একটি অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি গজারিয়া নৌকাপট্টিতে পৌঁছালে স্থানীয় মো. শাহাদাত হোসেন, মো. নাঈম এবং মো. জুবায়েরসহ আরও কয়েকজন মিলে অটোরিকশার গতিরোধ করে ভেতরে উঠে পড়েন এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর তারা অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে সৈনিক বাজার সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তারা চাকুর ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূর কান থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া স্বর্ণের কানের রিং, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া কানের দুল এবং ভেনিটি ব্যাগে থাকা নগদ ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ সময় তারা ওই গৃহবধূকে শ্লীলতাহানিও চালান। পরে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ মামলা দায়েরের পর উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ভোলার লালমোহন উপজেলায় এক গৃহবধূকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ রোজিনা বেগম। তিনি লালমোহন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খোকনের স্ত্রী। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার মো. পলাশ মৃধার ছেলে মো. শাহাদৎ হোসেন (২৪), জুয়েল স্বর্ণকারের ছেলে মো. জুবায়ের (২১) এবং একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মিলন পাটোয়ারির ছেলে মো. নাঈম (২৪)।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বিকেলে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূ চরফ্যাশন থেকে সিএনজিযোগে লালমোহনের গজারিয়া বাজার এলাকায় আসেন। সেখান থেকে পৌরসভায় অবস্থিত নিজ বাসায় ফেরার জন্য তিনি একটি অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি গজারিয়া নৌকাপট্টিতে পৌঁছালে স্থানীয় মো. শাহাদাত হোসেন, মো. নাঈম এবং মো. জুবায়েরসহ আরও কয়েকজন মিলে অটোরিকশার গতিরোধ করে ভেতরে উঠে পড়েন এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর তারা অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে সৈনিক বাজার সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তারা চাকুর ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূর কান থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া স্বর্ণের কানের রিং, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া কানের দুল এবং ভেনিটি ব্যাগে থাকা নগদ ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ সময় তারা ওই গৃহবধূকে শ্লীলতাহানিও চালান। পরে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ মামলা দায়েরের পর উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪৩
ভোলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরের দিকে ভোলা পৌর এলাকার অফিসার পাড়ার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. শাহাবুদ্দিন ফকির (৪৫)। তিনি ভোলা কোর্ট পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শাহাবুদ্দিন বরিশাল জেলার গৌরনদী থানা দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের আদম আলী ফকিরের ছেলে।
ভোলা কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন অফিসার পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের নিয়ে থাকতেন। তবে কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে যান। মঙ্গলবার সকালে কোর্টে ডিউটি ছিলো শাহাবুদ্দিনের। সে ডিউটিতে যোগদান না করায় তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু ফোন না ধরায় তার বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিকসহ ডাকাডাকি করি। তখনও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ৪ মে শাহাবুদ্দিনের একমাত্র সন্তান চৌত্রি ওই বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে শাহাবুদ্দিন মানসিকভাবে ভেঙে পরেন।’
ভোলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরের দিকে ভোলা পৌর এলাকার অফিসার পাড়ার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. শাহাবুদ্দিন ফকির (৪৫)। তিনি ভোলা কোর্ট পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শাহাবুদ্দিন বরিশাল জেলার গৌরনদী থানা দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের আদম আলী ফকিরের ছেলে।
ভোলা কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন অফিসার পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের নিয়ে থাকতেন। তবে কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে যান। মঙ্গলবার সকালে কোর্টে ডিউটি ছিলো শাহাবুদ্দিনের। সে ডিউটিতে যোগদান না করায় তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু ফোন না ধরায় তার বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিকসহ ডাকাডাকি করি। তখনও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ৪ মে শাহাবুদ্দিনের একমাত্র সন্তান চৌত্রি ওই বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে শাহাবুদ্দিন মানসিকভাবে ভেঙে পরেন।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৮
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ভোলার লালমোহন উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোসা. মাইশা আক্তার (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈনিক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মাইশা ওই এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, শনিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলার সৈনিক বাজার এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিল শিশু মাইশা আক্তার। এ সময় ভোলা থেকে ছেড়ে আসা চরফ্যাশনগামী দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু মাইশা। ঘটনা বুঝতে পেরে বাস নিয়ে চলে যান চালক। খবর পেয়ে ওই শিশুর স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সড়কের ওপর গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

২২ আগস্ট, ২০২৫ ১৮:৩১
গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের এক সাধারণ তরুণ মোহাম্মদ আম্মার। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল প্রযুক্তি জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার। তবে গ্রামীণ পরিবেশে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিজের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন তিনি।
অবশেষে স্বপ্ন পূরণের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ছুটে যান কুমিল্লায়। সেখানে গিয়ে ভর্তি হন আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপার্ট আইট পার্কের’ ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে। সেখান থেকে ফ্রিল্যান্সিং শিখে এখন সফল তরুণ আম্মার।
এরইমধ্যে তিনি আয় করেছেন চারশত ডলার। আম্মার ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার মো. বাবুলের ছেলে। একই সঙ্গে তিনি গজারিয়া ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রী) মাদরাসার আলিম ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।
আম্মার বলেন, আমি প্রত্যন্ত এলাকায় থাকি। সেখানে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে এখনো অনেকেরই ভালো কোনো ধারণা নেই। তবে আমার স্বপ্ন ছিল এই ফ্রিল্যান্সিং শিখে নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে চলে যাই কুমিল্লাতে। সেখানে গিয়ে আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপার্ট আইট পার্কের’ ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে ভর্তি হই।
এরপরই শুরু হয় আমার নবযাত্রা। তবে প্রথম দিকে টেকনিক্যাল বিষয় শিখতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়েছে। এ নিয়ে অনেক সময় হতাশও হয়ে পড়তাম। তবে ছায়ার মতো পাশে থেকে প্রতিদিন আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন মেন্টর মো. ওমর ফারুক।
তিনি আরো বলেন, কোর্স চলাকালীন সময়েই কাজ শুরু করি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং ‘মার্কেটপ্লেস আই আউট অব মার্কেটপ্লেস’-এ, দুই মাসের মাথায়ই আয় করি ষাট ডলার। এ পর্যন্ত মোট আয় করেছি চারশত ডলার।
বর্তমানে কোর্স চলাকালীন সময়েও প্রতি মাসে আমার শতাধিক ডলার করে আয় হচ্ছে। একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের জন্য এটি কেবল অর্থই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য বড়ভিত্তি। আমার স্বপ্ন এখানেই শেষ নয়।
আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ক্লায়েন্টদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করতে চাই। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজেই একটি আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবো। যার মাধ্যমে আমার নিজেরে এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের নতুন প্রজন্মকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষ করে তুলবো ইনশাআল্লাহ।
এদিকে মোহাম্মদ আম্মারের গ্রামের বাড়ি দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন, এই তরুণের সাফল্য প্রমাণ করেছে, সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে গ্রাম আর শহর নয়, যেকোনো স্থানে থেকে যে কেউ বিশ^বাজারে স্বমহিমায় নিজের জায়গা করে নিতে পারেন। আম্মারের এমন সফলতায় তিনি হয়ে উঠছেন নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, বর্তমানে এই উপজেলায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোনো প্রশিক্ষণ বা সহযোগিতার সুযোগ নেই। তবে সামনে কোনো সুযোগ আসলে তা আগ্রহীদের জানানো হবে।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪২
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪০
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৪
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:০১