শহরের উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকায় প্রকাশ্যে সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম এবং তাদের ভাইদের কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা পূর্বাপর এক অদ্ভুদ অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায় বিএনপি নেতা মিরাজ-সেলিম, সাকিন, সবুজদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে। তিন ফুট লম্বা লোহার বাট, খুব ধারালো এই অস্ত্রগুলোর প্রকৃত নাম কেউ না বলতে পারলেও অনেকে দাবি করেছে এটি আধুনিক মডেলের ‘চাইনিজ কুড়াল’। প্রায় দুই হাত লম্বা এই অস্ত্রটি লোহার বাটের মাথায় আছে, স্টিলের তৈরি গোলাকারের দা, যা দিয়ে কাউকে যদি আঘাত করা হয়, তাহলে যে কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্নসহ প্রাণ যাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। শনিবার সিকদারপাড়া মসজিদের সম্মুখে সাংবাদিক তারিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা করার মিরাজ, সেলিমদের বাহিনীর এমন অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার পরে উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার জনমনে ঘোর আতঙ্ক ভর করেছে। সুশীলমহলসহ এলাকাবাসী এই মারণাস্ত্র উদ্ধার এবং বহনকারীদের গ্রেপ্তারে জোরালো দাবি তুলেছে।
স্থানীয়রা বলছে, মিরাজসহ মাত্র দুটি বিএনপি নেতার পরিবার উত্তর আমানতগঞ্জকে অশান্ত করে তুলেছে, যারা গোটা জীবন পার করেছে এলাকায় ভূমিদস্যুতা, চুরি, ছিনতাই এবং পার্শ্ববর্তী তালতলী বন্দর থেকে চাপিলা, জাটকা ও রেণুপোনা পাচারের মতো নোংরামিতে। তাদের যন্ত্রণায় এলাকার সাধারণ মানুষ ওষ্ঠাগত হলেও মুখ খোলে না ইজ্জত হারানোর ভয়ে। তবে সাংবাদিক হাসিবুল ইসলামের ভাইদের মারধর এবং কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা ঘটনার পর শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, সাংবাদিকের ভাইদের যারা কুপিয়েছে, তাদের হাতে দেশীয় তৈরি বেশকিছু অদ্ভুদ অস্ত্র দেখা গেছে, তাদের মহড়ার চিত্র স্থানীয় বাসাবাড়ির সিসি ক্যামেরা ফুটেজে ধরা পড়েছে। এমন অস্ত্র নিয়ে জনসাধারণে যেমন ভীতি ধরিয়ে দিয়েছে, তেমনই চাঞ্চল্য বাড়িয়েছে। এখনই এই অস্ত্র উদ্ধার না হলে উত্তর আমানতগঞ্জে তা ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকছে। বিশেষ করে এই ভীতি আরও বাড়িয়ে দেয় অতীত কিছু ভাবনায়, ২০০০ সালে উত্তর আমানতগঞ্জের সন্তান মাছুম সিকদারকে হাত কেটে হত্যার পরে লাশ পার্শ্ববর্তী শফি মিয়ার গ্যারেজের পেছনে ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম এবং সবুজ, নয়নরা ওই মামলায় অভিযুক্ত। কয়েক মাস পলাতক থাকার পরে বাদীর সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে তারা এলাকায় ফিরে এসে ফের ত্রাস শুরু করে।
অভিযোগ আছে, তারা বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও যখন যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কোনো সেই দলের শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের লোক বনে যায়। কখনও কখনও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিবেদ বাধিয়ে দিয়ে ফায়দা লুটতে দেখা গেছে। এতদিন এরা সাবেক সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র সেকেন্ড ইন কমান্ড নিরব হোসেন টুটুলের ছত্রছায়ায় থেকে এসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করলেও এখন গা বাচাঁতে বর্তমান সিটি মেয়র এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দিকে ধাবিত হতে চাইছে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহ বিসিসির চেয়ার হারানোর পরে নিরব হোসেন টুটুলের রাজনৈতিক শক্তি হ্রাস পায়। তখন পল্টি মেরে মিরাজ, সেলিম এবং সাকিন, সবুজ, নয়নেরা একাধিকবার বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে, প্রতিমন্ত্রীর সান্নিধ্য লাভের আশায়। কিন্তু তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে, তাই নেতা পাত্তা দেননি, কর্মীরা তাদের মেনে নেয়নি, বিমুখ হয়ে ফিরে গেছে।
সর্বশেষ রাজনৈতিক শেল্টারদাতা না পেয়ে তারা নিরব হোসেন টুটুলের সাথে আছে এবং অতীতের ন্যায় উত্তর আমানতগঞ্জে ক্রমাগতভাবে রক্তাক্ত করে চলছে মারণস্ত্রে, যা নিয়ে শনিবার সাংবাদিকের ভাইদের ওপর হামলা করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, এমন কয়েকটি অদ্ভুত অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম এবং সুবজের ছেলে তামিল ও জহিরকে মহড়া দিতে দেখা যায়, যারা আলোকিত বরিশাল পত্রিকার সাংবাদিক তারিকুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। শনিবার সকালের ওই ঘটনায় গভীর রাতে ‘নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশাল’র সভাপতি হাসিবুল ইসলাম কোতয়ালি মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, সকালে সাংবাদিক এবং তার ভাইদের মারধরের পর হামলাকারীরা বিকেল পর্যন্ত এলোমেলাভাবে বাসা বাড়িতে লুকিয়ে থাকলেও গভীর রাতে এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। মামলার খবর পেয়ে শহরের দক্ষিণপ্রান্ত অর্থাৎ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) কাছে একটি বাসায় অবস্থান নিয়ে আছে। জানা গেছে, সেই বাসাটি মাছুম হত্যা মামলার আসামি সেলিমের বড় ভাই সিরাজের, যিনি পেশায় একজন মহুরি।
স্থানীয়দের দাবি, সাংবাদিক ও তার ভাইদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করাসহ ওই অদ্ভুদ আকৃতির অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। নতুবা এই মারণাস্ত্র দিয়ে আরও অপরাধ সংঘটিত করার সমূহ সম্ভবনা থাকছে।
অবশ্য স্থানীয় সুধীমহল টুটুলের এই গুন্ডা বাহিনীর ত্রাসের জন্য অনেকাংশে কাউনিয়া থানা পুলিশের ওসি মো. আসাদুজ্জামানকেই দোষারোপ করছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ওসি মাসোহারা নিয়ে উত্তর আমানতগঞ্জের এই গুটি কয়েক বিএনপি নেতাকর্মীকে মাথায় তুলে বসে আছেন, যা নিয়ে ওই থানার অনেক সদস্যই তিক্ত-বিরক্ত। উদাহরণস্বরুপ যদি বলা হয়, ঈদের আগে সাংবাদিক মাহাবুবকে মারধরের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে যেমন ওই থানারই এসআই পদমর্যার এক কর্মকর্তা তাদের উদ্দেশ করে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেই ফেলেন ‘খালি ওসি স্যারের রুমে আসো যাও! আর এলাকায় একের পর এক আকাম-কুকাম করে বেড়াও। ফলে আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে ওসি আসাদুজ্জামানের শক্তিতেই বলিয়ান বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম, সাকিনেরা।
যদিও এই প্রমাণ এর পূর্বেও একাধিক পাওয়া যায়। সাদিক আব্দুল্লাহ মননোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় যখন তাদের ঘাট বাজার দখল হয়ে যাচ্ছিল, তখন ওসি আসাদুজ্জামানই ঢাল হয়ে মিরাজদের পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাউনিয়া থানা পুলিশ টহল গাড়ি নিয়ে তালতলী বন্দরে দাঁড়িয়ে ছিল, অন্যদিকে কালু-মিরাজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করছিল। সাংবাদিক এবং ভাইদের মারধরের পর যা এখনও চলমান রেখেছে কালু।
এই সন্ত্রাসী গ্রুপটি বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রণের দাবি এসেছে উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষে পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে তারা কাউনিয়া থানা পুলিশের ওপর ভরসা না রাখতে পেরে পুলিশ কমিশনার মো. জিহাদুল কবির, বরিশাল র্যাবপ্রধান এবং প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অবশ্য ইতিমধ্যে পুলিশ কমিশনার সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে মাঠপুলিশকে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন। কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা নথিভুক্তের পর পুলিশের কয়েকটি টিম তাদের গ্রেপ্তার করতে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপন করায় পুলিশের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। ওসি মো. আরিচুল হক জানিয়েছেন, হামলাকারী সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, উত্তর আমানতগঞ্জের ওই সংঘাতের ঘটনায় সিসি ফুটেজ যুবকদের হাতে মারণঘাতী অস্ত্র দেখা গেছে, তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এবং এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করাসহ প্রদর্শনে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে।’

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১১
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৭
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস বরগুনার আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ইমরান পরিবহনের বাসটি বুধবার রাতে ঢাকা থেকে পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই কুয়াকাটার পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে বাসের চালক নেমে যান। এরপর বাসটি চালাচ্ছিলেন তাঁর সহকারী (হেলপার)। সড়কের একটি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসের চালক ও সহকারী পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস বরগুনার আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ইমরান পরিবহনের বাসটি বুধবার রাতে ঢাকা থেকে পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই কুয়াকাটার পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে বাসের চালক নেমে যান। এরপর বাসটি চালাচ্ছিলেন তাঁর সহকারী (হেলপার)। সড়কের একটি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসের চালক ও সহকারী পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২৯ মে, ২০২৫ ২৩:০১
শহরের উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকায় প্রকাশ্যে সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম এবং তাদের ভাইদের কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা পূর্বাপর এক অদ্ভুদ অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায় বিএনপি নেতা মিরাজ-সেলিম, সাকিন, সবুজদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে। তিন ফুট লম্বা লোহার বাট, খুব ধারালো এই অস্ত্রগুলোর প্রকৃত নাম কেউ না বলতে পারলেও অনেকে দাবি করেছে এটি আধুনিক মডেলের ‘চাইনিজ কুড়াল’। প্রায় দুই হাত লম্বা এই অস্ত্রটি লোহার বাটের মাথায় আছে, স্টিলের তৈরি গোলাকারের দা, যা দিয়ে কাউকে যদি আঘাত করা হয়, তাহলে যে কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্নসহ প্রাণ যাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। শনিবার সিকদারপাড়া মসজিদের সম্মুখে সাংবাদিক তারিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা করার মিরাজ, সেলিমদের বাহিনীর এমন অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার পরে উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার জনমনে ঘোর আতঙ্ক ভর করেছে। সুশীলমহলসহ এলাকাবাসী এই মারণাস্ত্র উদ্ধার এবং বহনকারীদের গ্রেপ্তারে জোরালো দাবি তুলেছে।
স্থানীয়রা বলছে, মিরাজসহ মাত্র দুটি বিএনপি নেতার পরিবার উত্তর আমানতগঞ্জকে অশান্ত করে তুলেছে, যারা গোটা জীবন পার করেছে এলাকায় ভূমিদস্যুতা, চুরি, ছিনতাই এবং পার্শ্ববর্তী তালতলী বন্দর থেকে চাপিলা, জাটকা ও রেণুপোনা পাচারের মতো নোংরামিতে। তাদের যন্ত্রণায় এলাকার সাধারণ মানুষ ওষ্ঠাগত হলেও মুখ খোলে না ইজ্জত হারানোর ভয়ে। তবে সাংবাদিক হাসিবুল ইসলামের ভাইদের মারধর এবং কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা ঘটনার পর শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, সাংবাদিকের ভাইদের যারা কুপিয়েছে, তাদের হাতে দেশীয় তৈরি বেশকিছু অদ্ভুদ অস্ত্র দেখা গেছে, তাদের মহড়ার চিত্র স্থানীয় বাসাবাড়ির সিসি ক্যামেরা ফুটেজে ধরা পড়েছে। এমন অস্ত্র নিয়ে জনসাধারণে যেমন ভীতি ধরিয়ে দিয়েছে, তেমনই চাঞ্চল্য বাড়িয়েছে। এখনই এই অস্ত্র উদ্ধার না হলে উত্তর আমানতগঞ্জে তা ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকছে। বিশেষ করে এই ভীতি আরও বাড়িয়ে দেয় অতীত কিছু ভাবনায়, ২০০০ সালে উত্তর আমানতগঞ্জের সন্তান মাছুম সিকদারকে হাত কেটে হত্যার পরে লাশ পার্শ্ববর্তী শফি মিয়ার গ্যারেজের পেছনে ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম এবং সবুজ, নয়নরা ওই মামলায় অভিযুক্ত। কয়েক মাস পলাতক থাকার পরে বাদীর সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে তারা এলাকায় ফিরে এসে ফের ত্রাস শুরু করে।
অভিযোগ আছে, তারা বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও যখন যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কোনো সেই দলের শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের লোক বনে যায়। কখনও কখনও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিবেদ বাধিয়ে দিয়ে ফায়দা লুটতে দেখা গেছে। এতদিন এরা সাবেক সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র সেকেন্ড ইন কমান্ড নিরব হোসেন টুটুলের ছত্রছায়ায় থেকে এসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করলেও এখন গা বাচাঁতে বর্তমান সিটি মেয়র এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দিকে ধাবিত হতে চাইছে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহ বিসিসির চেয়ার হারানোর পরে নিরব হোসেন টুটুলের রাজনৈতিক শক্তি হ্রাস পায়। তখন পল্টি মেরে মিরাজ, সেলিম এবং সাকিন, সবুজ, নয়নেরা একাধিকবার বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে, প্রতিমন্ত্রীর সান্নিধ্য লাভের আশায়। কিন্তু তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে, তাই নেতা পাত্তা দেননি, কর্মীরা তাদের মেনে নেয়নি, বিমুখ হয়ে ফিরে গেছে।
সর্বশেষ রাজনৈতিক শেল্টারদাতা না পেয়ে তারা নিরব হোসেন টুটুলের সাথে আছে এবং অতীতের ন্যায় উত্তর আমানতগঞ্জে ক্রমাগতভাবে রক্তাক্ত করে চলছে মারণস্ত্রে, যা নিয়ে শনিবার সাংবাদিকের ভাইদের ওপর হামলা করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, এমন কয়েকটি অদ্ভুত অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম এবং সুবজের ছেলে তামিল ও জহিরকে মহড়া দিতে দেখা যায়, যারা আলোকিত বরিশাল পত্রিকার সাংবাদিক তারিকুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। শনিবার সকালের ওই ঘটনায় গভীর রাতে ‘নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশাল’র সভাপতি হাসিবুল ইসলাম কোতয়ালি মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, সকালে সাংবাদিক এবং তার ভাইদের মারধরের পর হামলাকারীরা বিকেল পর্যন্ত এলোমেলাভাবে বাসা বাড়িতে লুকিয়ে থাকলেও গভীর রাতে এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। মামলার খবর পেয়ে শহরের দক্ষিণপ্রান্ত অর্থাৎ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) কাছে একটি বাসায় অবস্থান নিয়ে আছে। জানা গেছে, সেই বাসাটি মাছুম হত্যা মামলার আসামি সেলিমের বড় ভাই সিরাজের, যিনি পেশায় একজন মহুরি।
স্থানীয়দের দাবি, সাংবাদিক ও তার ভাইদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করাসহ ওই অদ্ভুদ আকৃতির অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। নতুবা এই মারণাস্ত্র দিয়ে আরও অপরাধ সংঘটিত করার সমূহ সম্ভবনা থাকছে।
অবশ্য স্থানীয় সুধীমহল টুটুলের এই গুন্ডা বাহিনীর ত্রাসের জন্য অনেকাংশে কাউনিয়া থানা পুলিশের ওসি মো. আসাদুজ্জামানকেই দোষারোপ করছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ওসি মাসোহারা নিয়ে উত্তর আমানতগঞ্জের এই গুটি কয়েক বিএনপি নেতাকর্মীকে মাথায় তুলে বসে আছেন, যা নিয়ে ওই থানার অনেক সদস্যই তিক্ত-বিরক্ত। উদাহরণস্বরুপ যদি বলা হয়, ঈদের আগে সাংবাদিক মাহাবুবকে মারধরের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে যেমন ওই থানারই এসআই পদমর্যার এক কর্মকর্তা তাদের উদ্দেশ করে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেই ফেলেন ‘খালি ওসি স্যারের রুমে আসো যাও! আর এলাকায় একের পর এক আকাম-কুকাম করে বেড়াও। ফলে আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে ওসি আসাদুজ্জামানের শক্তিতেই বলিয়ান বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম, সাকিনেরা।
যদিও এই প্রমাণ এর পূর্বেও একাধিক পাওয়া যায়। সাদিক আব্দুল্লাহ মননোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় যখন তাদের ঘাট বাজার দখল হয়ে যাচ্ছিল, তখন ওসি আসাদুজ্জামানই ঢাল হয়ে মিরাজদের পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাউনিয়া থানা পুলিশ টহল গাড়ি নিয়ে তালতলী বন্দরে দাঁড়িয়ে ছিল, অন্যদিকে কালু-মিরাজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করছিল। সাংবাদিক এবং ভাইদের মারধরের পর যা এখনও চলমান রেখেছে কালু।
এই সন্ত্রাসী গ্রুপটি বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রণের দাবি এসেছে উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষে পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে তারা কাউনিয়া থানা পুলিশের ওপর ভরসা না রাখতে পেরে পুলিশ কমিশনার মো. জিহাদুল কবির, বরিশাল র্যাবপ্রধান এবং প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অবশ্য ইতিমধ্যে পুলিশ কমিশনার সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে মাঠপুলিশকে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন। কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা নথিভুক্তের পর পুলিশের কয়েকটি টিম তাদের গ্রেপ্তার করতে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপন করায় পুলিশের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। ওসি মো. আরিচুল হক জানিয়েছেন, হামলাকারী সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, উত্তর আমানতগঞ্জের ওই সংঘাতের ঘটনায় সিসি ফুটেজ যুবকদের হাতে মারণঘাতী অস্ত্র দেখা গেছে, তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এবং এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করাসহ প্রদর্শনে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে।’
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮