
২৯ মে, ২০২৫ ২৩:০১
শহরের উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকায় প্রকাশ্যে সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম এবং তাদের ভাইদের কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা পূর্বাপর এক অদ্ভুদ অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায় বিএনপি নেতা মিরাজ-সেলিম, সাকিন, সবুজদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে। তিন ফুট লম্বা লোহার বাট, খুব ধারালো এই অস্ত্রগুলোর প্রকৃত নাম কেউ না বলতে পারলেও অনেকে দাবি করেছে এটি আধুনিক মডেলের ‘চাইনিজ কুড়াল’। প্রায় দুই হাত লম্বা এই অস্ত্রটি লোহার বাটের মাথায় আছে, স্টিলের তৈরি গোলাকারের দা, যা দিয়ে কাউকে যদি আঘাত করা হয়, তাহলে যে কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্নসহ প্রাণ যাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। শনিবার সিকদারপাড়া মসজিদের সম্মুখে সাংবাদিক তারিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা করার মিরাজ, সেলিমদের বাহিনীর এমন অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার পরে উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার জনমনে ঘোর আতঙ্ক ভর করেছে। সুশীলমহলসহ এলাকাবাসী এই মারণাস্ত্র উদ্ধার এবং বহনকারীদের গ্রেপ্তারে জোরালো দাবি তুলেছে।
স্থানীয়রা বলছে, মিরাজসহ মাত্র দুটি বিএনপি নেতার পরিবার উত্তর আমানতগঞ্জকে অশান্ত করে তুলেছে, যারা গোটা জীবন পার করেছে এলাকায় ভূমিদস্যুতা, চুরি, ছিনতাই এবং পার্শ্ববর্তী তালতলী বন্দর থেকে চাপিলা, জাটকা ও রেণুপোনা পাচারের মতো নোংরামিতে। তাদের যন্ত্রণায় এলাকার সাধারণ মানুষ ওষ্ঠাগত হলেও মুখ খোলে না ইজ্জত হারানোর ভয়ে। তবে সাংবাদিক হাসিবুল ইসলামের ভাইদের মারধর এবং কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা ঘটনার পর শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, সাংবাদিকের ভাইদের যারা কুপিয়েছে, তাদের হাতে দেশীয় তৈরি বেশকিছু অদ্ভুদ অস্ত্র দেখা গেছে, তাদের মহড়ার চিত্র স্থানীয় বাসাবাড়ির সিসি ক্যামেরা ফুটেজে ধরা পড়েছে। এমন অস্ত্র নিয়ে জনসাধারণে যেমন ভীতি ধরিয়ে দিয়েছে, তেমনই চাঞ্চল্য বাড়িয়েছে। এখনই এই অস্ত্র উদ্ধার না হলে উত্তর আমানতগঞ্জে তা ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকছে। বিশেষ করে এই ভীতি আরও বাড়িয়ে দেয় অতীত কিছু ভাবনায়, ২০০০ সালে উত্তর আমানতগঞ্জের সন্তান মাছুম সিকদারকে হাত কেটে হত্যার পরে লাশ পার্শ্ববর্তী শফি মিয়ার গ্যারেজের পেছনে ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম এবং সবুজ, নয়নরা ওই মামলায় অভিযুক্ত। কয়েক মাস পলাতক থাকার পরে বাদীর সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে তারা এলাকায় ফিরে এসে ফের ত্রাস শুরু করে।
অভিযোগ আছে, তারা বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও যখন যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কোনো সেই দলের শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের লোক বনে যায়। কখনও কখনও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিবেদ বাধিয়ে দিয়ে ফায়দা লুটতে দেখা গেছে। এতদিন এরা সাবেক সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র সেকেন্ড ইন কমান্ড নিরব হোসেন টুটুলের ছত্রছায়ায় থেকে এসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করলেও এখন গা বাচাঁতে বর্তমান সিটি মেয়র এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দিকে ধাবিত হতে চাইছে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহ বিসিসির চেয়ার হারানোর পরে নিরব হোসেন টুটুলের রাজনৈতিক শক্তি হ্রাস পায়। তখন পল্টি মেরে মিরাজ, সেলিম এবং সাকিন, সবুজ, নয়নেরা একাধিকবার বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে, প্রতিমন্ত্রীর সান্নিধ্য লাভের আশায়। কিন্তু তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে, তাই নেতা পাত্তা দেননি, কর্মীরা তাদের মেনে নেয়নি, বিমুখ হয়ে ফিরে গেছে।
সর্বশেষ রাজনৈতিক শেল্টারদাতা না পেয়ে তারা নিরব হোসেন টুটুলের সাথে আছে এবং অতীতের ন্যায় উত্তর আমানতগঞ্জে ক্রমাগতভাবে রক্তাক্ত করে চলছে মারণস্ত্রে, যা নিয়ে শনিবার সাংবাদিকের ভাইদের ওপর হামলা করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, এমন কয়েকটি অদ্ভুত অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম এবং সুবজের ছেলে তামিল ও জহিরকে মহড়া দিতে দেখা যায়, যারা আলোকিত বরিশাল পত্রিকার সাংবাদিক তারিকুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। শনিবার সকালের ওই ঘটনায় গভীর রাতে ‘নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশাল’র সভাপতি হাসিবুল ইসলাম কোতয়ালি মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, সকালে সাংবাদিক এবং তার ভাইদের মারধরের পর হামলাকারীরা বিকেল পর্যন্ত এলোমেলাভাবে বাসা বাড়িতে লুকিয়ে থাকলেও গভীর রাতে এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। মামলার খবর পেয়ে শহরের দক্ষিণপ্রান্ত অর্থাৎ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) কাছে একটি বাসায় অবস্থান নিয়ে আছে। জানা গেছে, সেই বাসাটি মাছুম হত্যা মামলার আসামি সেলিমের বড় ভাই সিরাজের, যিনি পেশায় একজন মহুরি।
স্থানীয়দের দাবি, সাংবাদিক ও তার ভাইদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করাসহ ওই অদ্ভুদ আকৃতির অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। নতুবা এই মারণাস্ত্র দিয়ে আরও অপরাধ সংঘটিত করার সমূহ সম্ভবনা থাকছে।
অবশ্য স্থানীয় সুধীমহল টুটুলের এই গুন্ডা বাহিনীর ত্রাসের জন্য অনেকাংশে কাউনিয়া থানা পুলিশের ওসি মো. আসাদুজ্জামানকেই দোষারোপ করছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ওসি মাসোহারা নিয়ে উত্তর আমানতগঞ্জের এই গুটি কয়েক বিএনপি নেতাকর্মীকে মাথায় তুলে বসে আছেন, যা নিয়ে ওই থানার অনেক সদস্যই তিক্ত-বিরক্ত। উদাহরণস্বরুপ যদি বলা হয়, ঈদের আগে সাংবাদিক মাহাবুবকে মারধরের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে যেমন ওই থানারই এসআই পদমর্যার এক কর্মকর্তা তাদের উদ্দেশ করে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেই ফেলেন ‘খালি ওসি স্যারের রুমে আসো যাও! আর এলাকায় একের পর এক আকাম-কুকাম করে বেড়াও। ফলে আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে ওসি আসাদুজ্জামানের শক্তিতেই বলিয়ান বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম, সাকিনেরা।
যদিও এই প্রমাণ এর পূর্বেও একাধিক পাওয়া যায়। সাদিক আব্দুল্লাহ মননোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় যখন তাদের ঘাট বাজার দখল হয়ে যাচ্ছিল, তখন ওসি আসাদুজ্জামানই ঢাল হয়ে মিরাজদের পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাউনিয়া থানা পুলিশ টহল গাড়ি নিয়ে তালতলী বন্দরে দাঁড়িয়ে ছিল, অন্যদিকে কালু-মিরাজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করছিল। সাংবাদিক এবং ভাইদের মারধরের পর যা এখনও চলমান রেখেছে কালু।
এই সন্ত্রাসী গ্রুপটি বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রণের দাবি এসেছে উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষে পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে তারা কাউনিয়া থানা পুলিশের ওপর ভরসা না রাখতে পেরে পুলিশ কমিশনার মো. জিহাদুল কবির, বরিশাল র্যাবপ্রধান এবং প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অবশ্য ইতিমধ্যে পুলিশ কমিশনার সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে মাঠপুলিশকে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন। কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা নথিভুক্তের পর পুলিশের কয়েকটি টিম তাদের গ্রেপ্তার করতে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপন করায় পুলিশের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। ওসি মো. আরিচুল হক জানিয়েছেন, হামলাকারী সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, উত্তর আমানতগঞ্জের ওই সংঘাতের ঘটনায় সিসি ফুটেজ যুবকদের হাতে মারণঘাতী অস্ত্র দেখা গেছে, তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এবং এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করাসহ প্রদর্শনে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে।’
শহরের উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকায় প্রকাশ্যে সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম এবং তাদের ভাইদের কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা পূর্বাপর এক অদ্ভুদ অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায় বিএনপি নেতা মিরাজ-সেলিম, সাকিন, সবুজদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে। তিন ফুট লম্বা লোহার বাট, খুব ধারালো এই অস্ত্রগুলোর প্রকৃত নাম কেউ না বলতে পারলেও অনেকে দাবি করেছে এটি আধুনিক মডেলের ‘চাইনিজ কুড়াল’। প্রায় দুই হাত লম্বা এই অস্ত্রটি লোহার বাটের মাথায় আছে, স্টিলের তৈরি গোলাকারের দা, যা দিয়ে কাউকে যদি আঘাত করা হয়, তাহলে যে কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্নসহ প্রাণ যাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। শনিবার সিকদারপাড়া মসজিদের সম্মুখে সাংবাদিক তারিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা করার মিরাজ, সেলিমদের বাহিনীর এমন অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার পরে উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার জনমনে ঘোর আতঙ্ক ভর করেছে। সুশীলমহলসহ এলাকাবাসী এই মারণাস্ত্র উদ্ধার এবং বহনকারীদের গ্রেপ্তারে জোরালো দাবি তুলেছে।
স্থানীয়রা বলছে, মিরাজসহ মাত্র দুটি বিএনপি নেতার পরিবার উত্তর আমানতগঞ্জকে অশান্ত করে তুলেছে, যারা গোটা জীবন পার করেছে এলাকায় ভূমিদস্যুতা, চুরি, ছিনতাই এবং পার্শ্ববর্তী তালতলী বন্দর থেকে চাপিলা, জাটকা ও রেণুপোনা পাচারের মতো নোংরামিতে। তাদের যন্ত্রণায় এলাকার সাধারণ মানুষ ওষ্ঠাগত হলেও মুখ খোলে না ইজ্জত হারানোর ভয়ে। তবে সাংবাদিক হাসিবুল ইসলামের ভাইদের মারধর এবং কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা ঘটনার পর শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, সাংবাদিকের ভাইদের যারা কুপিয়েছে, তাদের হাতে দেশীয় তৈরি বেশকিছু অদ্ভুদ অস্ত্র দেখা গেছে, তাদের মহড়ার চিত্র স্থানীয় বাসাবাড়ির সিসি ক্যামেরা ফুটেজে ধরা পড়েছে। এমন অস্ত্র নিয়ে জনসাধারণে যেমন ভীতি ধরিয়ে দিয়েছে, তেমনই চাঞ্চল্য বাড়িয়েছে। এখনই এই অস্ত্র উদ্ধার না হলে উত্তর আমানতগঞ্জে তা ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকছে। বিশেষ করে এই ভীতি আরও বাড়িয়ে দেয় অতীত কিছু ভাবনায়, ২০০০ সালে উত্তর আমানতগঞ্জের সন্তান মাছুম সিকদারকে হাত কেটে হত্যার পরে লাশ পার্শ্ববর্তী শফি মিয়ার গ্যারেজের পেছনে ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম এবং সবুজ, নয়নরা ওই মামলায় অভিযুক্ত। কয়েক মাস পলাতক থাকার পরে বাদীর সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে তারা এলাকায় ফিরে এসে ফের ত্রাস শুরু করে।
অভিযোগ আছে, তারা বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও যখন যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কোনো সেই দলের শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের লোক বনে যায়। কখনও কখনও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিবেদ বাধিয়ে দিয়ে ফায়দা লুটতে দেখা গেছে। এতদিন এরা সাবেক সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র সেকেন্ড ইন কমান্ড নিরব হোসেন টুটুলের ছত্রছায়ায় থেকে এসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করলেও এখন গা বাচাঁতে বর্তমান সিটি মেয়র এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দিকে ধাবিত হতে চাইছে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহ বিসিসির চেয়ার হারানোর পরে নিরব হোসেন টুটুলের রাজনৈতিক শক্তি হ্রাস পায়। তখন পল্টি মেরে মিরাজ, সেলিম এবং সাকিন, সবুজ, নয়নেরা একাধিকবার বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে, প্রতিমন্ত্রীর সান্নিধ্য লাভের আশায়। কিন্তু তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে, তাই নেতা পাত্তা দেননি, কর্মীরা তাদের মেনে নেয়নি, বিমুখ হয়ে ফিরে গেছে।
সর্বশেষ রাজনৈতিক শেল্টারদাতা না পেয়ে তারা নিরব হোসেন টুটুলের সাথে আছে এবং অতীতের ন্যায় উত্তর আমানতগঞ্জে ক্রমাগতভাবে রক্তাক্ত করে চলছে মারণস্ত্রে, যা নিয়ে শনিবার সাংবাদিকের ভাইদের ওপর হামলা করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, এমন কয়েকটি অদ্ভুত অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম এবং সুবজের ছেলে তামিল ও জহিরকে মহড়া দিতে দেখা যায়, যারা আলোকিত বরিশাল পত্রিকার সাংবাদিক তারিকুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। শনিবার সকালের ওই ঘটনায় গভীর রাতে ‘নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশাল’র সভাপতি হাসিবুল ইসলাম কোতয়ালি মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, সকালে সাংবাদিক এবং তার ভাইদের মারধরের পর হামলাকারীরা বিকেল পর্যন্ত এলোমেলাভাবে বাসা বাড়িতে লুকিয়ে থাকলেও গভীর রাতে এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। মামলার খবর পেয়ে শহরের দক্ষিণপ্রান্ত অর্থাৎ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) কাছে একটি বাসায় অবস্থান নিয়ে আছে। জানা গেছে, সেই বাসাটি মাছুম হত্যা মামলার আসামি সেলিমের বড় ভাই সিরাজের, যিনি পেশায় একজন মহুরি।
স্থানীয়দের দাবি, সাংবাদিক ও তার ভাইদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করাসহ ওই অদ্ভুদ আকৃতির অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। নতুবা এই মারণাস্ত্র দিয়ে আরও অপরাধ সংঘটিত করার সমূহ সম্ভবনা থাকছে।
অবশ্য স্থানীয় সুধীমহল টুটুলের এই গুন্ডা বাহিনীর ত্রাসের জন্য অনেকাংশে কাউনিয়া থানা পুলিশের ওসি মো. আসাদুজ্জামানকেই দোষারোপ করছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ওসি মাসোহারা নিয়ে উত্তর আমানতগঞ্জের এই গুটি কয়েক বিএনপি নেতাকর্মীকে মাথায় তুলে বসে আছেন, যা নিয়ে ওই থানার অনেক সদস্যই তিক্ত-বিরক্ত। উদাহরণস্বরুপ যদি বলা হয়, ঈদের আগে সাংবাদিক মাহাবুবকে মারধরের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে যেমন ওই থানারই এসআই পদমর্যার এক কর্মকর্তা তাদের উদ্দেশ করে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেই ফেলেন ‘খালি ওসি স্যারের রুমে আসো যাও! আর এলাকায় একের পর এক আকাম-কুকাম করে বেড়াও। ফলে আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে ওসি আসাদুজ্জামানের শক্তিতেই বলিয়ান বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম, সাকিনেরা।
যদিও এই প্রমাণ এর পূর্বেও একাধিক পাওয়া যায়। সাদিক আব্দুল্লাহ মননোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় যখন তাদের ঘাট বাজার দখল হয়ে যাচ্ছিল, তখন ওসি আসাদুজ্জামানই ঢাল হয়ে মিরাজদের পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাউনিয়া থানা পুলিশ টহল গাড়ি নিয়ে তালতলী বন্দরে দাঁড়িয়ে ছিল, অন্যদিকে কালু-মিরাজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করছিল। সাংবাদিক এবং ভাইদের মারধরের পর যা এখনও চলমান রেখেছে কালু।
এই সন্ত্রাসী গ্রুপটি বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রণের দাবি এসেছে উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষে পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে তারা কাউনিয়া থানা পুলিশের ওপর ভরসা না রাখতে পেরে পুলিশ কমিশনার মো. জিহাদুল কবির, বরিশাল র্যাবপ্রধান এবং প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অবশ্য ইতিমধ্যে পুলিশ কমিশনার সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে মাঠপুলিশকে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন। কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা নথিভুক্তের পর পুলিশের কয়েকটি টিম তাদের গ্রেপ্তার করতে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপন করায় পুলিশের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। ওসি মো. আরিচুল হক জানিয়েছেন, হামলাকারী সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, উত্তর আমানতগঞ্জের ওই সংঘাতের ঘটনায় সিসি ফুটেজ যুবকদের হাতে মারণঘাতী অস্ত্র দেখা গেছে, তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এবং এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করাসহ প্রদর্শনে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে।’

১৮ জুলাই, ২০২৬ ০২:৩৩
ন্যায্য দাবি আদায়ে আজ ১৮ জুলাই বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সমাবেশ সফল করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, আজকের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয়, বরিশাল বিভাগের সকল জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারাও বক্তব্য রাখবেন।
সমাবেশ বাস্তবায়নের জন্য বরিশাল নগরীসহ বিভাগের সকল জেলা-উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ, মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১২ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।

১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০৮
জাল দলিল ব্যবহার করে নামজারি (মিউটেশন) করার চেষ্টার অভিযোগে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতিসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এরমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- মো. নাঈম (৩৫), নূর ইসলাম মোল্লা (৫৭), আব্দুর রহিম (৫৫) এবং তোফাজ্জেল হোসেন টিয়া (৬০)। তারা সবাই বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের হাদীবাঁশকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। মামলার প্রথম তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে আব্দুর রহিম মাধবপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি।
এজাহারে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্তরা বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার কার্যালয়ে একটি দলিলের ভিত্তিতে নামজারির আবেদন করতে যায়। দলিলটি পর্যালোচনার সময় সহকারী কমিশনারের সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে দলিলটি জাল বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি বাবুগঞ্জ থানাকে অবহিত করা হয়। পরে মাধবপাশা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৬) দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন থেকে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বিভিন্ন ধরনের দালালি ও তদবির করে আসছিলেন। এছাড়া নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, নামজারি, ভুয়া দলিল কিংবা ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ যদি দালালি বা প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার দুপুরে বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, জাল দলিল ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে নামজারির চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৭
বরিশাল, পটুয়াখালীসহ দেশের ১৩টি জেলার ওপর শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে উল্লিখিত এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা এবং সংলগ্ন বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে।
এদিকে মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্র, বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এ অবস্থায় শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। একই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
ন্যায্য দাবি আদায়ে আজ ১৮ জুলাই বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সমাবেশ সফল করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, আজকের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয়, বরিশাল বিভাগের সকল জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারাও বক্তব্য রাখবেন।
সমাবেশ বাস্তবায়নের জন্য বরিশাল নগরীসহ বিভাগের সকল জেলা-উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ, মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১২ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।
জাল দলিল ব্যবহার করে নামজারি (মিউটেশন) করার চেষ্টার অভিযোগে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতিসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এরমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- মো. নাঈম (৩৫), নূর ইসলাম মোল্লা (৫৭), আব্দুর রহিম (৫৫) এবং তোফাজ্জেল হোসেন টিয়া (৬০)। তারা সবাই বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের হাদীবাঁশকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। মামলার প্রথম তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে আব্দুর রহিম মাধবপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি।
এজাহারে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্তরা বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার কার্যালয়ে একটি দলিলের ভিত্তিতে নামজারির আবেদন করতে যায়। দলিলটি পর্যালোচনার সময় সহকারী কমিশনারের সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে দলিলটি জাল বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি বাবুগঞ্জ থানাকে অবহিত করা হয়। পরে মাধবপাশা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৬) দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন থেকে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বিভিন্ন ধরনের দালালি ও তদবির করে আসছিলেন। এছাড়া নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, নামজারি, ভুয়া দলিল কিংবা ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ যদি দালালি বা প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার দুপুরে বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, জাল দলিল ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে নামজারির চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বরিশাল, পটুয়াখালীসহ দেশের ১৩টি জেলার ওপর শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে উল্লিখিত এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা এবং সংলগ্ন বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে।
এদিকে মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্র, বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এ অবস্থায় শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। একই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
১৮ জুলাই, ২০২৬ ০২:৩৩
১৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৭
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০৮
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৭