Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৩:৪৬
ভুক্তভোগীর জবানবন্দিতে লোমহর্ষক কাহিনী শুনে বিস্মিত আদালত। জড়িত জামায়াত কর্মীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে বিচারকের নির্দেশে মামলা
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনকে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো ফেঁসে যাচ্ছেন জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম। গত ১২ জানুয়ারি অপরাহ্নে মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানাধীন শহরের ডিসি অফিসের পেছনে কালেকটরেট পুকুরের পাড় জনাকীর্ণ রাস্তা থেকে প্রকাশ্যে ববির প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সহযোগীদের সহায়তায় আটকে মারধর করা শেষে তাকে একটি গ্যাসচালিত সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরে তাকে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার আওতাধীন একটি নির্জন কক্ষে আটকে রেখে ফের মারধর করাসহ সাদা স্ট্যাম্প ও বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে নেন জামায়াত কর্মী নজরুল। কিন্তু এসব ঘটনা আড়াল করে আব্দুল বাতেনকে আওয়ামী লীগের দোসর তকমা দিয়ে ওইদিনই কোতয়ালি পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। কোতয়ালি পুলিশ বাতেনকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে বিচারক রোমহর্ষক এই ঘটনার ইতিবৃত্ত শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং এতে জড়িত জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলামসহ ৯জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল বাতেনের অভিযোগ, বাবুগঞ্জের রহমতপুরের বাসিন্দা কথিত জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম শহরের বিএম কলেজ এলাকার বাসিন্দা মোসা: নারগিজ আক্তার লিপি এবং নুরুন্নাহারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের নির্দেশনা অনুসারে তাকে গত ১২ জানুয়ারি শহরের কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যায়। এতে দুই নারীসহ অন্তত ৯জন তাকে সহযোগিতা করেন, যা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তাছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগের দোসর বানাতে জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম যে প্রয়াস চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বুঝতে বাকি নেই। পুলিশ বলছে, ববির কর্মকর্তাকে শ্রমিক লীগের বরিশাল মহানগর শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য দাবি করে নজরুল ইসলাম এবং তিনি এর স্বপক্ষে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাশ হওয়া একটি তালিকাও সরবরাহ করেন। এই তালিকার ২৯ নম্বর সদস্য হিসেবে আব্দুল বাতেনকে দেখানো হলেও সরকারি কর্মকর্তার নামটি কম্পিউটারের কারসাজি করে বসানো হয়। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের ২৮ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করেছে।
কোতয়ালি পুলিশ বলছে, আব্দুল বাতেনকে ফাঁসাতে অপহরণ এবং নির্জন স্থানে আটকে রেখে মারধর করাসহ স্ট্যাম্পে সই-স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টিও সন্দেহজন করে তুলেছে জড়িতদের আচরণে। তারা ১২ জানুয়ারি সরকারি কর্মকর্তাকে শহরের কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে অপহরণ করলেও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করা হয় নথুল্লাবাদ থেকে ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে ঘটনাস্থল অনুসারে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে চাইলে সেখান থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশালটাইমসকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাকে ১২ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিয়ে আসা হয়েছিল। এবং নজরুল ইসলামসহ সকলে দাবি করেছিলেন তাকে নথুল্লাবাদ থেকে আটক করা হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, বাতেনকে আদালতসংলগ্ন কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে আটক করে নিয়ে এসেছে। ফলে তাকে সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি থানায় সোপর্দের পরামর্শ দেওয়া হলে পরবর্তীতে সেখানে নিয়ে যায়।
এর আগে আব্দুল বাতেনকে চোখ-মুখ বেঁখে রহমতপুর এলাকার একটি নির্জন স্থানে বাসায় নিয়ে যায় নজরুল ইসলামসহ সহযোগীরা। সেখানে আটকে রেখে দুই নারী নারগিজ এবং নুরুন্নাহারের উপস্থিতিতে তাকে মারধর করাসহ ইলেকট্রিক শর্ট দেওয়া হয়। এতে তার দুই পাসহ শরীরের একাধিক স্থানে ক্ষত চিহ্ন হলে ভয়ে তিনি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেন। এবং বিষয়টি পুলিশ বা অন্য কারও কাছে শেয়ার করলে স্ত্রীসহ তাকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছেন নজরুলসহ সহযোগীরা।
সরকারি কর্মকর্তাকে তুলে নেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও বরিশালটাইমসের এ প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে জামায়াত কর্মী নজরুলের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল তাকে ধরে টেনে হিঁচড়ে সিএনজিতে তুলছেন। এসময় সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় থাকলেও সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে কেউ এগিয়ে আসেনি।
ভুক্তভোগী বাতেন বরিশালটাইমসকে জানান, গত বছরের শেষের দিকে বিএম কলেজ মসজিদ গেটের বিপরিত পাশের বাসিন্দা নারগিজ এবং নুরুন্নাহারের ০.৯২ শতাংশ ভূমি ক্রয়ের উদ্দেশে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে বায়না করেন। কিন্তু তারা দুজন এই ভূমিটি এক লক্ষ টাকা বেশি পেয়ে জনৈক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিলে তিনি পরবর্তীতে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪২০/৪০৬ ধারায় একটি মামলা করেন। সেই মামলা দুই নারী আদালতে হাজিরা দিয়ে দুটি কিস্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামিন নেন। ১১ জানুয়ারি একটি কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা তা রক্ষা করেননি। বরং টাকা না দেওয়ার বিভিন্ন ফন্দি আটছিলেন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসা: সাদিয়া আফরিন অভিযোগ, ১১ জানুয়ারি আদালতে গিয়ে জানা যায় দুই নারীর কেউ টাকা নিয়ে আদালতে আসেননি। একদিন বাদে ১২ জানুয়ারি বাতেন ডিসি অফিসের পেছনে আইনজীবী সমিতির কাছে অবস্থান করলে সেখান থেকে তাকে জামায়াত নেতা পরিচয় দিয়ে নজরুল সহযোগীদের সহায়তায় তুলে নিয়ে যায়। প্রকাশ্যে অপহরণ করার এই লোমহর্ষক ঘটনাটি বরিশালের প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক তৈরি করেছে।
এদিকে আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুলিশ গ্রহণ করার পরে দুই নারীসহ অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম পলাতক আছেন। এই বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার দুপুরে নজরুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি নিজেকে জামায়াত নেতা পরিচয় দেন এবং আব্দুল বাতেনকে স্বৈরাচারের দোসর উল্লেখ করেন। এবং বাতেন শ্রমিক লীগ মহানগরের কার্যনির্বাহী সদস্য বলেও প্রচার করেন। কিন্তু এই তালিকা আপনার তৈরি এবং দুই নারীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যে বাতেনকে ফাঁসাতে চেয়েছেন তার প্রমাণও পুলিশ পেয়েছে, এমনটি বলার পরে তিনি বক্তব্যে তালগোল পাকিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বর্ণনা শুনে বরিশাল মহানগর জাময়াতের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এবং বলছেন, তিনি নজরুল ইসলামকে চেনেন, তিনি জামায়াতের সমর্থক, তার কোনো দলীয় পদপদবি নেই। এবং এই ধরনের অপরাধ জামায়াত করে না এবং এর দায়ও নেওয়ার সুযোগ নাই। অপরাধর করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচিত এই মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাম মো. নাসিম বরিশালটাইমসকে জানান, আব্দুল বাতেন আসামি থেকে মামলার বাদী হয়েছেন। নজরুল ইসলামসহ ৯জনকে আসামি করে মামলা গ্রহণ করা হয়। এই মামলায় মঙ্গলবার নারগিজের ছেলে মো. নাহিদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক কারাকারে পাঠিয়ে দেন। পলাতক বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চলছে।
সবশেষ খবরে জানা গেছে, নারগিজের ছেলেকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে মঙ্গলবার দিনভর কথিত জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম পুলিশের বিভিন্ন মহলে সুপারিশ রাখেন। কিন্তু আলোচিত এই ঘটনাটিতে অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলছে পুলিশ। কারণ মামলা গ্রহণ থেকে শুরু করে সব কিছু আদালত পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে এই মামলাটি থেকে যে কথিত জামায়াত নেতা সহসাই রেহাই পাচ্ছেন না তা পুলিশের বক্তব্যেও অনুমান করা যায়।’
ভুক্তভোগীর জবানবন্দিতে লোমহর্ষক কাহিনী শুনে বিস্মিত আদালত। জড়িত জামায়াত কর্মীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে বিচারকের নির্দেশে মামলা
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনকে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো ফেঁসে যাচ্ছেন জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম। গত ১২ জানুয়ারি অপরাহ্নে মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানাধীন শহরের ডিসি অফিসের পেছনে কালেকটরেট পুকুরের পাড় জনাকীর্ণ রাস্তা থেকে প্রকাশ্যে ববির প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সহযোগীদের সহায়তায় আটকে মারধর করা শেষে তাকে একটি গ্যাসচালিত সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরে তাকে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার আওতাধীন একটি নির্জন কক্ষে আটকে রেখে ফের মারধর করাসহ সাদা স্ট্যাম্প ও বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে নেন জামায়াত কর্মী নজরুল। কিন্তু এসব ঘটনা আড়াল করে আব্দুল বাতেনকে আওয়ামী লীগের দোসর তকমা দিয়ে ওইদিনই কোতয়ালি পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। কোতয়ালি পুলিশ বাতেনকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে বিচারক রোমহর্ষক এই ঘটনার ইতিবৃত্ত শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং এতে জড়িত জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলামসহ ৯জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল বাতেনের অভিযোগ, বাবুগঞ্জের রহমতপুরের বাসিন্দা কথিত জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম শহরের বিএম কলেজ এলাকার বাসিন্দা মোসা: নারগিজ আক্তার লিপি এবং নুরুন্নাহারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের নির্দেশনা অনুসারে তাকে গত ১২ জানুয়ারি শহরের কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যায়। এতে দুই নারীসহ অন্তত ৯জন তাকে সহযোগিতা করেন, যা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তাছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগের দোসর বানাতে জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম যে প্রয়াস চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বুঝতে বাকি নেই। পুলিশ বলছে, ববির কর্মকর্তাকে শ্রমিক লীগের বরিশাল মহানগর শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য দাবি করে নজরুল ইসলাম এবং তিনি এর স্বপক্ষে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাশ হওয়া একটি তালিকাও সরবরাহ করেন। এই তালিকার ২৯ নম্বর সদস্য হিসেবে আব্দুল বাতেনকে দেখানো হলেও সরকারি কর্মকর্তার নামটি কম্পিউটারের কারসাজি করে বসানো হয়। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের ২৮ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করেছে।
কোতয়ালি পুলিশ বলছে, আব্দুল বাতেনকে ফাঁসাতে অপহরণ এবং নির্জন স্থানে আটকে রেখে মারধর করাসহ স্ট্যাম্পে সই-স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টিও সন্দেহজন করে তুলেছে জড়িতদের আচরণে। তারা ১২ জানুয়ারি সরকারি কর্মকর্তাকে শহরের কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে অপহরণ করলেও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করা হয় নথুল্লাবাদ থেকে ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে ঘটনাস্থল অনুসারে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে চাইলে সেখান থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশালটাইমসকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাকে ১২ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিয়ে আসা হয়েছিল। এবং নজরুল ইসলামসহ সকলে দাবি করেছিলেন তাকে নথুল্লাবাদ থেকে আটক করা হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, বাতেনকে আদালতসংলগ্ন কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে আটক করে নিয়ে এসেছে। ফলে তাকে সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি থানায় সোপর্দের পরামর্শ দেওয়া হলে পরবর্তীতে সেখানে নিয়ে যায়।
এর আগে আব্দুল বাতেনকে চোখ-মুখ বেঁখে রহমতপুর এলাকার একটি নির্জন স্থানে বাসায় নিয়ে যায় নজরুল ইসলামসহ সহযোগীরা। সেখানে আটকে রেখে দুই নারী নারগিজ এবং নুরুন্নাহারের উপস্থিতিতে তাকে মারধর করাসহ ইলেকট্রিক শর্ট দেওয়া হয়। এতে তার দুই পাসহ শরীরের একাধিক স্থানে ক্ষত চিহ্ন হলে ভয়ে তিনি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেন। এবং বিষয়টি পুলিশ বা অন্য কারও কাছে শেয়ার করলে স্ত্রীসহ তাকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছেন নজরুলসহ সহযোগীরা।
সরকারি কর্মকর্তাকে তুলে নেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও বরিশালটাইমসের এ প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে জামায়াত কর্মী নজরুলের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল তাকে ধরে টেনে হিঁচড়ে সিএনজিতে তুলছেন। এসময় সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় থাকলেও সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে কেউ এগিয়ে আসেনি।
ভুক্তভোগী বাতেন বরিশালটাইমসকে জানান, গত বছরের শেষের দিকে বিএম কলেজ মসজিদ গেটের বিপরিত পাশের বাসিন্দা নারগিজ এবং নুরুন্নাহারের ০.৯২ শতাংশ ভূমি ক্রয়ের উদ্দেশে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে বায়না করেন। কিন্তু তারা দুজন এই ভূমিটি এক লক্ষ টাকা বেশি পেয়ে জনৈক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিলে তিনি পরবর্তীতে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪২০/৪০৬ ধারায় একটি মামলা করেন। সেই মামলা দুই নারী আদালতে হাজিরা দিয়ে দুটি কিস্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামিন নেন। ১১ জানুয়ারি একটি কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা তা রক্ষা করেননি। বরং টাকা না দেওয়ার বিভিন্ন ফন্দি আটছিলেন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসা: সাদিয়া আফরিন অভিযোগ, ১১ জানুয়ারি আদালতে গিয়ে জানা যায় দুই নারীর কেউ টাকা নিয়ে আদালতে আসেননি। একদিন বাদে ১২ জানুয়ারি বাতেন ডিসি অফিসের পেছনে আইনজীবী সমিতির কাছে অবস্থান করলে সেখান থেকে তাকে জামায়াত নেতা পরিচয় দিয়ে নজরুল সহযোগীদের সহায়তায় তুলে নিয়ে যায়। প্রকাশ্যে অপহরণ করার এই লোমহর্ষক ঘটনাটি বরিশালের প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক তৈরি করেছে।
এদিকে আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুলিশ গ্রহণ করার পরে দুই নারীসহ অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম পলাতক আছেন। এই বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার দুপুরে নজরুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি নিজেকে জামায়াত নেতা পরিচয় দেন এবং আব্দুল বাতেনকে স্বৈরাচারের দোসর উল্লেখ করেন। এবং বাতেন শ্রমিক লীগ মহানগরের কার্যনির্বাহী সদস্য বলেও প্রচার করেন। কিন্তু এই তালিকা আপনার তৈরি এবং দুই নারীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যে বাতেনকে ফাঁসাতে চেয়েছেন তার প্রমাণও পুলিশ পেয়েছে, এমনটি বলার পরে তিনি বক্তব্যে তালগোল পাকিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বর্ণনা শুনে বরিশাল মহানগর জাময়াতের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এবং বলছেন, তিনি নজরুল ইসলামকে চেনেন, তিনি জামায়াতের সমর্থক, তার কোনো দলীয় পদপদবি নেই। এবং এই ধরনের অপরাধ জামায়াত করে না এবং এর দায়ও নেওয়ার সুযোগ নাই। অপরাধর করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচিত এই মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাম মো. নাসিম বরিশালটাইমসকে জানান, আব্দুল বাতেন আসামি থেকে মামলার বাদী হয়েছেন। নজরুল ইসলামসহ ৯জনকে আসামি করে মামলা গ্রহণ করা হয়। এই মামলায় মঙ্গলবার নারগিজের ছেলে মো. নাহিদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক কারাকারে পাঠিয়ে দেন। পলাতক বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চলছে।
সবশেষ খবরে জানা গেছে, নারগিজের ছেলেকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে মঙ্গলবার দিনভর কথিত জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম পুলিশের বিভিন্ন মহলে সুপারিশ রাখেন। কিন্তু আলোচিত এই ঘটনাটিতে অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলছে পুলিশ। কারণ মামলা গ্রহণ থেকে শুরু করে সব কিছু আদালত পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে এই মামলাটি থেকে যে কথিত জামায়াত নেতা সহসাই রেহাই পাচ্ছেন না তা পুলিশের বক্তব্যেও অনুমান করা যায়।’

১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৩:৩১

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৭:০৮

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৩৮
বরিশালের বাকেরগঞ্জে হামলা চালিয়ে এক বিএনপি নেতা ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। আহত বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার (৪০) ও তার স্ত্রী মোসাঃ সালমা বেগম (৩০) বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার রাত ৭টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ভান্ডারীকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ভান্ডারীকাঠী গ্রামের আনেস হাওলাদারের ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার বিএনপি নেতা রফিক হাওলাদারের ব্যবহৃত তার ঘরের পল্লী বিদ্যুতের মিটার থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার চেষ্টা করে।
এতে তিনি বাঁধা দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ও উজ্জল হাওলাদার লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় তার স্ত্রী সালমা বেগম তাকে বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা তার শ্লীলতাহানি করে পিটিয়ে তাকেও আহত করে। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ভান্ডারকাঠী গ্রামের নজরুল হাওলাদারের পুত্র এবং উজ্জ্বল হাওলাদার একই গ্রামের হানিফ হাওলাদারের পুত্র।
আহত বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ার কারণে ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ও উজ্জ্বল হাওলাদার হামলা চালিয়ে তাকেসহ তার স্ত্রীকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনায় হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকারকে কে এম সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।
সন্ধ্যা রাতে বরিশাল শহরের পরেশ সাগর মাঠে জান আহম্মেদ নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়। পূর্বপরিচিত রাকিব নামের বিশোর্ধ্ব যুবক ফোন করে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন শাহ পরান সড়কের ২০ বছর বয়সি জানকে ডেকে নেন। এবং সেখানে পৌছানো মাত্রই সৌরভ (২২) নামক যুবকের নেতৃত্বে রাকিব (২৩), সজিব (২২), অরিনসহ (২১) ৯/১০ জনের একটি বাহিনী হামলে পড়েন। একপর্যায়ে তারা জানকে ব্যাপক মারধর করাসহ লোহার রড পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে যুবক রক্তাক্ত জখম হলে তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার করে। রোববার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র বরিশাল শহরে আতঙ্ক-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কোতয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের গ্রেপ্তারে করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছে। পুলিশ যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বরিশাল সিটির ১৫ নং ওয়ার্ডের পরেশ সাগরের মাঠে জান আহমেদ নামের যুবককে ৯/১০ জন যুবক একত্রিত হয়ে মারধর করেছিল। একপর্যায়ে তারা তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, তখন আরও পেটানো হয়। মারধর সহ্য করতে না পেরে যুবক বাচানোর আকুতি জানিয়ে ডাক-চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এসময় সৌরভসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা বীরদর্পে চলে গেলেও পরবর্তীতে খুনের হুমকি দিতে ভুল করেননি। সন্ধ্যা রাতে শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার এই ঘটনা জনমনে আতঙ্ক-উত্তেজনা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে কোতয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করলেও হামলাকারীরা আগেই পালিয়ে যায়।
অভিযোগ আছে, শহরের বটতলা এলাকার শামীমের ছেলে সৌরভ একটি সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান। তার নেতৃত্বে শহরের একটি অংশে মাদক বাণিজ্যসহ বহুমুখী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলে আসছে। সবশেষ তার সন্ত্রাসের শিকার হলেন শাহ পরান সড়কের সুমন আহম্মেদের ছেলে জান আহম্মেদ। হামলায় আক্রান্ত যুবকের মামা রেদোয়ান রানা বরিশালের একজন প্রতিষ্ঠিত সংবাদ কর্মী, ফলে বিষয়টি মিডিয়াঙ্গনে আলোচনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
সাংবাদিক রেদোয়ান রানা জানান, ভাগিনা জানকে হত্যার উদ্দেশে মারধর করাসহ রড় দিয়ে পিটিয়েছে কিশোর গ্যাং গ্রুপ। তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থান জখম হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাকে পর্যবেক্ষকে রেখেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, যুবক জানের বাবা সুমন আহম্মেদ ছেলেকে খুনের চেষ্টা করাসহ বিভিন্ন ধারায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এতে তিনি ছেলে পূর্ববিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। তার এই এজাহারটি যে কোনো সময়ে নথিভুক্ত হতে পারে। কোতয়ালি পুলিশের ওসি মামুন উল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এর আগে হামলার খবর পেয়ে সন্ধ্যা রাতে পরেশ সাগর মাঠে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু পুলিশ সেখানে পৌছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। তাদের ধরতে মাঠপুলিশ কাজ করছে এবং বর্তমানে শহরের পরিবেশ-পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’
সন্ধ্যা রাতে বরিশাল শহরের পরেশ সাগর মাঠে জান আহম্মেদ নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়। পূর্বপরিচিত রাকিব নামের বিশোর্ধ্ব যুবক ফোন করে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন শাহ পরান সড়কের ২০ বছর বয়সি জানকে ডেকে নেন। এবং সেখানে পৌছানো মাত্রই সৌরভ (২২) নামক যুবকের নেতৃত্বে রাকিব (২৩), সজিব (২২), অরিনসহ (২১) ৯/১০ জনের একটি বাহিনী হামলে পড়েন। একপর্যায়ে তারা জানকে ব্যাপক মারধর করাসহ লোহার রড পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে যুবক রক্তাক্ত জখম হলে তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার করে। রোববার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র বরিশাল শহরে আতঙ্ক-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কোতয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের গ্রেপ্তারে করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছে। পুলিশ যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বরিশাল সিটির ১৫ নং ওয়ার্ডের পরেশ সাগরের মাঠে জান আহমেদ নামের যুবককে ৯/১০ জন যুবক একত্রিত হয়ে মারধর করেছিল। একপর্যায়ে তারা তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, তখন আরও পেটানো হয়। মারধর সহ্য করতে না পেরে যুবক বাচানোর আকুতি জানিয়ে ডাক-চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এসময় সৌরভসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা বীরদর্পে চলে গেলেও পরবর্তীতে খুনের হুমকি দিতে ভুল করেননি। সন্ধ্যা রাতে শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার এই ঘটনা জনমনে আতঙ্ক-উত্তেজনা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে কোতয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করলেও হামলাকারীরা আগেই পালিয়ে যায়।
অভিযোগ আছে, শহরের বটতলা এলাকার শামীমের ছেলে সৌরভ একটি সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান। তার নেতৃত্বে শহরের একটি অংশে মাদক বাণিজ্যসহ বহুমুখী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলে আসছে। সবশেষ তার সন্ত্রাসের শিকার হলেন শাহ পরান সড়কের সুমন আহম্মেদের ছেলে জান আহম্মেদ। হামলায় আক্রান্ত যুবকের মামা রেদোয়ান রানা বরিশালের একজন প্রতিষ্ঠিত সংবাদ কর্মী, ফলে বিষয়টি মিডিয়াঙ্গনে আলোচনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
সাংবাদিক রেদোয়ান রানা জানান, ভাগিনা জানকে হত্যার উদ্দেশে মারধর করাসহ রড় দিয়ে পিটিয়েছে কিশোর গ্যাং গ্রুপ। তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থান জখম হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাকে পর্যবেক্ষকে রেখেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, যুবক জানের বাবা সুমন আহম্মেদ ছেলেকে খুনের চেষ্টা করাসহ বিভিন্ন ধারায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এতে তিনি ছেলে পূর্ববিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। তার এই এজাহারটি যে কোনো সময়ে নথিভুক্ত হতে পারে। কোতয়ালি পুলিশের ওসি মামুন উল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এর আগে হামলার খবর পেয়ে সন্ধ্যা রাতে পরেশ সাগর মাঠে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু পুলিশ সেখানে পৌছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। তাদের ধরতে মাঠপুলিশ কাজ করছে এবং বর্তমানে শহরের পরিবেশ-পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নার্সের পুশ করা ভুল ইনজেকশনে দুই নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় নাক, কান, গলা (ইএনটি) বিভাগের এ ঘটনা ঘটে। তারা হলেন- পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডাব্লুগঞ্জ গ্রামের মান্নানের স্ত্রী শেফালী বেগম (৬০) ও বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকার মৃত বাবু হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৫)। তাদের মধ্যে শেফালী হাসপাতালের মহিলা ইএনটি ওয়ার্ডের ৭ নম্বর ও হেলেনা ১০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এদিকে ভুল ইনজেকশনে রোগী মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর। মৃত দুই নারীর স্বজন এবং চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা জানান, শেফালী গালে টিউমার জাতীয় চিস্ট ও হেলেনা বেগম থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়।
রোববার তাদের দুজনের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। সকালে ওই ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স মলিনা রানী হাওলাদার তাদের দুজনের শরীরে ভুলক্রমে নরকিউ এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন পুশ করেন বলে জানায় রোগীর স্বজনরা। এর মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে একে একে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ওই নার্স ওয়ার্ড থেকে সরে পড়েন। স্বজন ও অন্য রোগীরা বলেন, ভর্তি থাকা দুই নারী শেফালী ও হেলেনা সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন। ওই ইনজেকশন তাদের হাতের শিরায় পুশ করার পর পরই দুজন নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন স্বজন এবং চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা। অভিযুক্ত নাক, কান, গলা বিভাগের সিনিয়র নার্স মলিনা রানী হালদার নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, কীভাবে কী হলো তা আমি বলতে পারছি না। আমার ভুল হয়েছে। একই কথা বলেন সিনিয়র নার্স হেলেনাও। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মনীর বলেন, দুই রোগীর আজ (রোববার) অপরারেশন হওয়ার কথা ছিল। অপারেশন হওয়ার আগে ও অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে কিছু ওষুধ দিতে হয়।
কিন্তু তারা এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন আগে পুশ করেছে। তারা নিজেদের কাজে গাফিলতি করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ইএনটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহনাজ পারভীন ও ইএনটির আবাসিক সার্জন ডা. আল মামুন খান। এছাড়া যারা মারা গেছেন তাদের স্বজনরা যদি আইনিব্যবস্থা নিতে চান তবে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নার্সের পুশ করা ভুল ইনজেকশনে দুই নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় নাক, কান, গলা (ইএনটি) বিভাগের এ ঘটনা ঘটে। তারা হলেন- পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডাব্লুগঞ্জ গ্রামের মান্নানের স্ত্রী শেফালী বেগম (৬০) ও বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকার মৃত বাবু হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৫)। তাদের মধ্যে শেফালী হাসপাতালের মহিলা ইএনটি ওয়ার্ডের ৭ নম্বর ও হেলেনা ১০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এদিকে ভুল ইনজেকশনে রোগী মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর। মৃত দুই নারীর স্বজন এবং চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা জানান, শেফালী গালে টিউমার জাতীয় চিস্ট ও হেলেনা বেগম থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়।
রোববার তাদের দুজনের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। সকালে ওই ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স মলিনা রানী হাওলাদার তাদের দুজনের শরীরে ভুলক্রমে নরকিউ এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন পুশ করেন বলে জানায় রোগীর স্বজনরা। এর মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে একে একে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ওই নার্স ওয়ার্ড থেকে সরে পড়েন। স্বজন ও অন্য রোগীরা বলেন, ভর্তি থাকা দুই নারী শেফালী ও হেলেনা সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন। ওই ইনজেকশন তাদের হাতের শিরায় পুশ করার পর পরই দুজন নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন স্বজন এবং চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা। অভিযুক্ত নাক, কান, গলা বিভাগের সিনিয়র নার্স মলিনা রানী হালদার নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, কীভাবে কী হলো তা আমি বলতে পারছি না। আমার ভুল হয়েছে। একই কথা বলেন সিনিয়র নার্স হেলেনাও। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মনীর বলেন, দুই রোগীর আজ (রোববার) অপরারেশন হওয়ার কথা ছিল। অপারেশন হওয়ার আগে ও অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে কিছু ওষুধ দিতে হয়।
কিন্তু তারা এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন আগে পুশ করেছে। তারা নিজেদের কাজে গাফিলতি করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ইএনটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহনাজ পারভীন ও ইএনটির আবাসিক সার্জন ডা. আল মামুন খান। এছাড়া যারা মারা গেছেন তাদের স্বজনরা যদি আইনিব্যবস্থা নিতে চান তবে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে হামলা চালিয়ে এক বিএনপি নেতা ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। আহত বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার (৪০) ও তার স্ত্রী মোসাঃ সালমা বেগম (৩০) বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার রাত ৭টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ভান্ডারীকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ভান্ডারীকাঠী গ্রামের আনেস হাওলাদারের ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার বিএনপি নেতা রফিক হাওলাদারের ব্যবহৃত তার ঘরের পল্লী বিদ্যুতের মিটার থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার চেষ্টা করে।
এতে তিনি বাঁধা দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ও উজ্জল হাওলাদার লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় তার স্ত্রী সালমা বেগম তাকে বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা তার শ্লীলতাহানি করে পিটিয়ে তাকেও আহত করে। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ভান্ডারকাঠী গ্রামের নজরুল হাওলাদারের পুত্র এবং উজ্জ্বল হাওলাদার একই গ্রামের হানিফ হাওলাদারের পুত্র।
আহত বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ার কারণে ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ও উজ্জ্বল হাওলাদার হামলা চালিয়ে তাকেসহ তার স্ত্রীকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনায় হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকারকে কে এম সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।
১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৩:৩১
১৫ মার্চ, ২০২৬ ২০:৩৩
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৫৭
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৩৫