ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় রোগের ঝুঁকি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ, তীব্র শীতকালীন আবহাওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধসের কারণে শিশুরা প্রয়োজনীয় টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইউএনআরডব্লিউএ সোমবার এমন সতর্ক বার্তা দেয় বলে জানিয়েছে আনাদোলু।
ইউএনআরডব্লিউএর কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজার শিশুরা প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মিত টিকা থেকে বারবার বঞ্চিত হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে লাজারিনি বলেন, গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে শিশুরা বারবার তাদের নিরাপদ থাকতে যে টিকাগুলো দরকার, সেগুলো থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি জানান, তীব্র শীতকালীন আবহাওয়া, ঠান্ডা তাপমাত্রা, ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা এসব আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে টিকাদান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং জোর দিয়ে বলেন যে ইউএনআরডব্লিউএ গাজায় জীবন বাঁচাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এতে গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
১০ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও, গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা অব্যাহত রেখেছে; এতে ৪৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,২৮৭ জন আহত হয়েছে।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৫
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধাবস্থা ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের অবিরাম সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে যে সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল, তার ধারাবাহিকতায় এবার চরম খাদ্যসংকট তৈরি হতে চলেছে।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে এস জয়শঙ্কর এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সংঘাতগুলো ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর ‘তীব্র মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ’ তৈরি করছে।
চলমান সংঘাতের সামগ্রিক প্রভাব তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয়। ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং বর্তমানে ইরান-উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে এই পরিস্থিতি গ্লোবাল সাউথের উদীয়মান অর্থনীতির ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে।’
বিশ্বের জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন বর্তমানে দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে। জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রবণতা সমস্যাকে জটিল করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘সমস্যাটির একটি দিক হলো তেল সরবরাহের নিরাপত্তা বজায় রাখা, আর অন্য দিকটি হলো তেল নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। এই দুই উপাদান পরস্পরের ওপর জোরদার প্রভাব ফেলছে এবং সমস্যাটিকে দ্বিগুণ বা আরও জটিল রূপ দিচ্ছে।’ জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি এটা নিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলে, তবে তা বাজারে অস্থিরতা ও জটিলতা কেবল বাড়িয়েই তুলবে।
কৃষির অপরিহার্য উপাদান সার ও খাদ্যশস্যের পরিবহন প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের স্থবিরতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ নিজেদের পণ্য বাইরে পাঠাতে পারছে না। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সমুদ্রপথ দিয়ে রপ্তানি চালু রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের মূল সার উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ‘সুপার এল নিনো’র মতো জলবায়ুর বিরূপ আচরণ যুক্ত হয়ে খাদ্যনিরাপত্তাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।
সামগ্রিক সংকট ব্যাখ্যা করে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আগামী মাসগুলোয় এক বিশাল খাদ্যসংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। প্রথমত জ্বালানির সংকট, তার ওপর খাদ্য ও সারের অপ্রতুলতা, আর সবশেষে মূলধনের সংকট ঘটতে চলেছে। কারণ, প্রতিবার কোনো বড় যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হলে বিনিয়োগের অর্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয় এবং বর্তমানে এভাবেই গ্লোবাল সাউথ থেকে মূলধন বের হয়ে যাচ্ছে। তার সামগ্রিক প্রভাবে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে।’
শক্তিশালী দেশগুলোর স্বার্থপর সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর এতটা স্বার্থপর হওয়া উচিত নয় যে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত বলয়ের স্বার্থেই শুধু সিদ্ধান্ত নেবে এবং বাকি বিশ্বের প্রতি দায়িত্ব এড়ানোর সুর তুলে বলবে—আমরা তো তোমাদের জীবন কঠিন করে তোলার জন্য এমন করিনি।’ তিনি প্রভাবশালী দেশগুলোকে ন্যূনতম ‘সাধারণ বুদ্ধিমত্তা’ বজায় রেখে দরিদ্র দেশগুলোর মৌলিক চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
জ্বালানিসংকটের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ইতিমধ্যে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের পরেই আমরা দেখেছি কীভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরাসরি তার প্রভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমার আশঙ্কা, বর্তমানে ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যা ঘটছে, তা আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দেবে এবং সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে।’
উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে এই মন্দা ও সংকট কাটিয়ে উঠবে, তা নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘কিছু দেশের পক্ষে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমাদের মতো যারা কৌশলগতভাবে স্বায়ত্তশাসিত, তারা চাই আরও অনেক দেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠুক। তবে এর কোনো একক বা সোজা সমীকরণ নেই। এসব দেশ ঠিক কী পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ভর করবে এ বিষয়ে তাদের নির্দিষ্ট সমস্যা ও স্বার্থ কতটা জড়িত, তার ওপর। এমন অনেক ঘটনা ঘটতে পারে, যা মোকাবিলা করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের নীতিতে কিছুটা নমনীয় হয়ে উঠবে অথবা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখা যাবে যে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় শক্তভাবে রুখে দাঁড়াচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধাবস্থা ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের অবিরাম সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে যে সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল, তার ধারাবাহিকতায় এবার চরম খাদ্যসংকট তৈরি হতে চলেছে।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে এস জয়শঙ্কর এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সংঘাতগুলো ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর ‘তীব্র মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ’ তৈরি করছে।
চলমান সংঘাতের সামগ্রিক প্রভাব তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয়। ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং বর্তমানে ইরান-উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে এই পরিস্থিতি গ্লোবাল সাউথের উদীয়মান অর্থনীতির ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে।’
বিশ্বের জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন বর্তমানে দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে। জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রবণতা সমস্যাকে জটিল করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘সমস্যাটির একটি দিক হলো তেল সরবরাহের নিরাপত্তা বজায় রাখা, আর অন্য দিকটি হলো তেল নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। এই দুই উপাদান পরস্পরের ওপর জোরদার প্রভাব ফেলছে এবং সমস্যাটিকে দ্বিগুণ বা আরও জটিল রূপ দিচ্ছে।’ জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি এটা নিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলে, তবে তা বাজারে অস্থিরতা ও জটিলতা কেবল বাড়িয়েই তুলবে।
কৃষির অপরিহার্য উপাদান সার ও খাদ্যশস্যের পরিবহন প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের স্থবিরতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ নিজেদের পণ্য বাইরে পাঠাতে পারছে না। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সমুদ্রপথ দিয়ে রপ্তানি চালু রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের মূল সার উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ‘সুপার এল নিনো’র মতো জলবায়ুর বিরূপ আচরণ যুক্ত হয়ে খাদ্যনিরাপত্তাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।
সামগ্রিক সংকট ব্যাখ্যা করে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আগামী মাসগুলোয় এক বিশাল খাদ্যসংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। প্রথমত জ্বালানির সংকট, তার ওপর খাদ্য ও সারের অপ্রতুলতা, আর সবশেষে মূলধনের সংকট ঘটতে চলেছে। কারণ, প্রতিবার কোনো বড় যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হলে বিনিয়োগের অর্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয় এবং বর্তমানে এভাবেই গ্লোবাল সাউথ থেকে মূলধন বের হয়ে যাচ্ছে। তার সামগ্রিক প্রভাবে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে।’
শক্তিশালী দেশগুলোর স্বার্থপর সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর এতটা স্বার্থপর হওয়া উচিত নয় যে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত বলয়ের স্বার্থেই শুধু সিদ্ধান্ত নেবে এবং বাকি বিশ্বের প্রতি দায়িত্ব এড়ানোর সুর তুলে বলবে—আমরা তো তোমাদের জীবন কঠিন করে তোলার জন্য এমন করিনি।’ তিনি প্রভাবশালী দেশগুলোকে ন্যূনতম ‘সাধারণ বুদ্ধিমত্তা’ বজায় রেখে দরিদ্র দেশগুলোর মৌলিক চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
জ্বালানিসংকটের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ইতিমধ্যে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের পরেই আমরা দেখেছি কীভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরাসরি তার প্রভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমার আশঙ্কা, বর্তমানে ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যা ঘটছে, তা আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দেবে এবং সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে।’
উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে এই মন্দা ও সংকট কাটিয়ে উঠবে, তা নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘কিছু দেশের পক্ষে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমাদের মতো যারা কৌশলগতভাবে স্বায়ত্তশাসিত, তারা চাই আরও অনেক দেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠুক। তবে এর কোনো একক বা সোজা সমীকরণ নেই। এসব দেশ ঠিক কী পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ভর করবে এ বিষয়ে তাদের নির্দিষ্ট সমস্যা ও স্বার্থ কতটা জড়িত, তার ওপর। এমন অনেক ঘটনা ঘটতে পারে, যা মোকাবিলা করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের নীতিতে কিছুটা নমনীয় হয়ে উঠবে অথবা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখা যাবে যে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় শক্তভাবে রুখে দাঁড়াচ্ছে।’

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৮
সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। খবর আরব নিউজের।
যুবরাজ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলাগুলো পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। সৌদি আরব নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করবে না। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতেও কাজ করে যাবে রিয়াদ।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না দেশটি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা রক্ষা, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং যৌথ কার্যক্রম জোরদারে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সৌদি আরব।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তিন দেশের যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন এই চুক্তি।
সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে ভূমিকা রাখায় বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বিশ্বের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোহাম্মদ বিন সালমান।
তিনি বলেন, বিশ্ব এমন এক জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌদি আরব ভূমিকা রাখছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক জলপথে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলার নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সৌদি আরবের দৃঢ় অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ইয়েমেন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, দেশটির সরকারের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরব সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের মোকাবিলায় ‘কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি’র মাধ্যমে ইয়েমেন সরকারকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে, সুদানের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দেশটির বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান যুবরাজ।
ভাষণে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অগ্রগতিও তুলে ধরেন মোহাম্মদ বিন সালমান।
তিনি জানান, ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন লক্ষ্যের ৯৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ২০১৬ সালের তুলনায় তেলবহির্ভূত রপ্তানি বেড়েছে ১৫৫ শতাংশ। একই সময়ে অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান বেড়ে ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে।
২০২৬ সালকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বছর হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, এআইভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন ও সমাধান উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়াতে চায় সৌদি আরব।
এআই খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়াও দেশটির অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। খবর আরব নিউজের।
যুবরাজ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলাগুলো পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। সৌদি আরব নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করবে না। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতেও কাজ করে যাবে রিয়াদ।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না দেশটি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা রক্ষা, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং যৌথ কার্যক্রম জোরদারে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সৌদি আরব।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তিন দেশের যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন এই চুক্তি।
সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে ভূমিকা রাখায় বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বিশ্বের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোহাম্মদ বিন সালমান।
তিনি বলেন, বিশ্ব এমন এক জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌদি আরব ভূমিকা রাখছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক জলপথে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলার নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সৌদি আরবের দৃঢ় অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ইয়েমেন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, দেশটির সরকারের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরব সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের মোকাবিলায় ‘কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি’র মাধ্যমে ইয়েমেন সরকারকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে, সুদানের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দেশটির বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান যুবরাজ।
ভাষণে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অগ্রগতিও তুলে ধরেন মোহাম্মদ বিন সালমান।
তিনি জানান, ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন লক্ষ্যের ৯৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ২০১৬ সালের তুলনায় তেলবহির্ভূত রপ্তানি বেড়েছে ১৫৫ শতাংশ। একই সময়ে অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান বেড়ে ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে।
২০২৬ সালকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বছর হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, এআইভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন ও সমাধান উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়াতে চায় সৌদি আরব।
এআই খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়াও দেশটির অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৩
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো গোপন বৈঠক হয়নি বলে জানিয়েছে রিয়াদ। সৌদি আরবের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, সম্প্রতি ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-এ দাবি করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর একটি বিস্তৃত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছিল।
ইসরাইলি প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে ইরান ও হুথিদের মোকাবিলা, ইসরাইলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকটি আয়োজনের পেছনে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়োসি শেলির ভূমিকা ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তার বক্তব্যের পর ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বৈঠকের দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো গোপন বৈঠক হয়নি বলে জানিয়েছে রিয়াদ। সৌদি আরবের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, সম্প্রতি ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-এ দাবি করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর একটি বিস্তৃত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছিল।
ইসরাইলি প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে ইরান ও হুথিদের মোকাবিলা, ইসরাইলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকটি আয়োজনের পেছনে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়োসি শেলির ভূমিকা ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তার বক্তব্যের পর ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বৈঠকের দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স

২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৪৭
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় রোগের ঝুঁকি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ, তীব্র শীতকালীন আবহাওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধসের কারণে শিশুরা প্রয়োজনীয় টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইউএনআরডব্লিউএ সোমবার এমন সতর্ক বার্তা দেয় বলে জানিয়েছে আনাদোলু।
ইউএনআরডব্লিউএর কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজার শিশুরা প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মিত টিকা থেকে বারবার বঞ্চিত হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে লাজারিনি বলেন, গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে শিশুরা বারবার তাদের নিরাপদ থাকতে যে টিকাগুলো দরকার, সেগুলো থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি জানান, তীব্র শীতকালীন আবহাওয়া, ঠান্ডা তাপমাত্রা, ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা এসব আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে টিকাদান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং জোর দিয়ে বলেন যে ইউএনআরডব্লিউএ গাজায় জীবন বাঁচাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এতে গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
১০ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও, গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা অব্যাহত রেখেছে; এতে ৪৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,২৮৭ জন আহত হয়েছে।
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৩৪
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৬
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১