ছবি:সংগ্রহীত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ভারতের পররষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ উত্তর দেন।
‘দ্য হিন্দু’র কল্লোল ভট্টাচার্য বলেন, আমার প্রশ্নটি তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা তার এই সফরের অপেক্ষা করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সফরটি অনুষ্ঠিত হয়নি। এর কারণ কী? এখনো কেন সফরটি অনুষ্ঠিত হয়নি?
উত্তরে রণধীর বলেন, আমরা এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। দেখা যাক, কী হয়। এ বিষয়ে কোনো আপডেট তথ্য পাওয়া গেলে জানাবো।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে আগেও বলেছি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। গঙ্গাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য এটিই নির্ধারিত কাঠামোগত ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি থাকলে তা জানানোর মতো তথ্য এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই।

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:০৮
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা, আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন তরুণেরা। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস ও সার্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই অসন্তোষ। আন্দোলনের সামনের সারিতে রয়েছেন জেনারেশন জেড বা জেন–জির তরুণেরা। তাঁদের অভিযোগ, বাড়তি ব্যয়ের চাপে শিক্ষা, আবাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে।
বিভিন্ন দেশে তরুণদের এই বিক্ষোভ এখন শুধু জীবনযাত্রার ব্যয় কিংবা শিক্ষার মান নিয়ে ক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; কোথাও কোথাও তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ সরকার পতনের ডাকও দিয়েছেন। দেশভেদে আন্দোলনের কারণ আলাদা হলেও তরুণদের মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষ ইউরোপের বিভিন্ন সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা ও শিক্ষকসংকট, কোথাও আবাসনসংকট এবং বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতি আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছে। আবার কোথাও শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। তরুণদের আশঙ্কা, আগের প্রজন্মের মতো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া তাঁদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্পেনে আবাসনসংকট নিয়ে ক্ষোভের একটি বড় উপলক্ষ হয়ে ওঠে ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন অ্যাবাসকালকে তাঁর বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও আবাসনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে নতুন করে প্রতিবাদ শুরু হয়। আবাসনসংকটের চাপ তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষকসংকট, বিদ্যালয়ের দুরবস্থা, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের বিরোধিতা। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। বিক্ষোভের বিভিন্ন পর্যায়ে সহিংসতা, লুটপাট ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলবেনিয়ায় কয়েক মাস ধরে দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। বিলাসবহুল স্থাপনা নির্মাণের একটি পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে সেখানে আন্দোলনের সূত্রপাত। ওই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
বিক্ষোভের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে এক দেশ থেকে অন্য দেশে। ইতালি ও গ্রিসের তরুণেরা তাঁদের আন্দোলনে ফ্রান্সের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। স্পেনে আবাসন নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদের ঢেউ পর্তুগালেও ছড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো নিজেদের অভিজ্ঞতা ও আন্দোলনের কৌশল নিয়ে যোগাযোগ রাখছে।
ফ্রান্সের শিক্ষার্থী সংগঠন ইউএনইএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস দ্য ব্রিতো সিএনএনকে বলেন, দেশগুলোর আন্দোলনে পার্থক্যের চেয়ে মিলই বেশি। শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় ও তরুণদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি জীবনযাত্রা ও আবাসনের ব্যয় কমানোর দাবি রয়েছে এসব আন্দোলনে।
ইতালির ছাত্রনেতা সাবরিনা ব্রিজোলাও নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে তরুণদের দৈনন্দিন জীবনের অনিশ্চয়তা ও মৌলিক সেবার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে।
গ্রিসেও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা বিক্ষোভ করেছেন। এথেন্সসহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা বিনা মূল্যে সরকারি শিক্ষার দাবিতে স্লোগান দেন। ইতালির রাজধানী রোমে ৭ অক্টোবর একটি হাইস্কুলে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের বিবৃতিতেও ফ্রান্সের আন্দোলনের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
তবে ফ্রান্সের সঙ্গে ইতালির পরিস্থিতির মিল নেই বলে দাবি করেছেন ইতালির শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা। ফ্রান্সে অভিবাসী পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সমস্যা বিক্ষোভে ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছে দেশটির কট্টর ডানপন্থীরা। বিপরীতে ইতালিতে এ ধরনের সমস্যা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইতালির শিক্ষামন্ত্রী।
সব মিলিয়ে ইউরোপের তরুণদের বিক্ষোভে শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই ক্ষোভ কোথাও সরকারবিরোধী আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে, কোথাও নির্দিষ্ট নীতির পরিবর্তনের দাবি তুলছে। তরুণদের এসব প্রতিবাদ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারকে তাঁদের দাবি ও সংকট মোকাবিলার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা, আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন তরুণেরা। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস ও সার্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই অসন্তোষ। আন্দোলনের সামনের সারিতে রয়েছেন জেনারেশন জেড বা জেন–জির তরুণেরা। তাঁদের অভিযোগ, বাড়তি ব্যয়ের চাপে শিক্ষা, আবাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে।
বিভিন্ন দেশে তরুণদের এই বিক্ষোভ এখন শুধু জীবনযাত্রার ব্যয় কিংবা শিক্ষার মান নিয়ে ক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; কোথাও কোথাও তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ সরকার পতনের ডাকও দিয়েছেন। দেশভেদে আন্দোলনের কারণ আলাদা হলেও তরুণদের মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষ ইউরোপের বিভিন্ন সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা ও শিক্ষকসংকট, কোথাও আবাসনসংকট এবং বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতি আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছে। আবার কোথাও শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। তরুণদের আশঙ্কা, আগের প্রজন্মের মতো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া তাঁদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্পেনে আবাসনসংকট নিয়ে ক্ষোভের একটি বড় উপলক্ষ হয়ে ওঠে ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন অ্যাবাসকালকে তাঁর বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও আবাসনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে নতুন করে প্রতিবাদ শুরু হয়। আবাসনসংকটের চাপ তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষকসংকট, বিদ্যালয়ের দুরবস্থা, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের বিরোধিতা। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। বিক্ষোভের বিভিন্ন পর্যায়ে সহিংসতা, লুটপাট ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলবেনিয়ায় কয়েক মাস ধরে দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। বিলাসবহুল স্থাপনা নির্মাণের একটি পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে সেখানে আন্দোলনের সূত্রপাত। ওই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
বিক্ষোভের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে এক দেশ থেকে অন্য দেশে। ইতালি ও গ্রিসের তরুণেরা তাঁদের আন্দোলনে ফ্রান্সের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। স্পেনে আবাসন নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদের ঢেউ পর্তুগালেও ছড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো নিজেদের অভিজ্ঞতা ও আন্দোলনের কৌশল নিয়ে যোগাযোগ রাখছে।
ফ্রান্সের শিক্ষার্থী সংগঠন ইউএনইএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস দ্য ব্রিতো সিএনএনকে বলেন, দেশগুলোর আন্দোলনে পার্থক্যের চেয়ে মিলই বেশি। শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় ও তরুণদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি জীবনযাত্রা ও আবাসনের ব্যয় কমানোর দাবি রয়েছে এসব আন্দোলনে।
ইতালির ছাত্রনেতা সাবরিনা ব্রিজোলাও নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে তরুণদের দৈনন্দিন জীবনের অনিশ্চয়তা ও মৌলিক সেবার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে।
গ্রিসেও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা বিক্ষোভ করেছেন। এথেন্সসহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা বিনা মূল্যে সরকারি শিক্ষার দাবিতে স্লোগান দেন। ইতালির রাজধানী রোমে ৭ অক্টোবর একটি হাইস্কুলে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের বিবৃতিতেও ফ্রান্সের আন্দোলনের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
তবে ফ্রান্সের সঙ্গে ইতালির পরিস্থিতির মিল নেই বলে দাবি করেছেন ইতালির শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা। ফ্রান্সে অভিবাসী পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সমস্যা বিক্ষোভে ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছে দেশটির কট্টর ডানপন্থীরা। বিপরীতে ইতালিতে এ ধরনের সমস্যা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইতালির শিক্ষামন্ত্রী।
সব মিলিয়ে ইউরোপের তরুণদের বিক্ষোভে শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই ক্ষোভ কোথাও সরকারবিরোধী আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে, কোথাও নির্দিষ্ট নীতির পরিবর্তনের দাবি তুলছে। তরুণদের এসব প্রতিবাদ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারকে তাঁদের দাবি ও সংকট মোকাবিলার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
ধর্মীয় স্থাপনা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
ভারতে মসজিদ উচ্ছেদ ও মুসলিম পরিবারগুলোর বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আসামের তিন জেলায় সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে এক হাজারের বেশি মুসলিম পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের অংশবিশেষ অপসারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Scroll-এর ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামের নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় বনভূমি দখলমুক্ত করার অভিযানে শত শত পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে নগাঁও জেলার লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দুই দিনের অভিযানে ৬০০-এর বেশি পরিবারের বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের বসতবাড়ির পাশাপাশি ১০টির বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে মসজিদের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাঁরা কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং তাঁদের পূর্বপুরুষদের সেখানে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য, সংরক্ষিত বনভূমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে ২০২৮ সালের সিমহাস্ত কুম্ভমেলাকে সামনে রেখে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ, পাথর নিক্ষেপ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবরও প্রকাশিত হয়। পরে মসজিদের একটি মিনার অপসারণের সময় সেটি ভেঙে ভবনের অন্য অংশের ওপর পড়ে ক্ষতি হয় বলে The Indian Express জানায়।
উজ্জয়িনের ঘটনায় প্রশাসনের বক্তব্য, সড়ক প্রশস্তকরণ ও জনস্বার্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে স্থাপনাটির অংশ অপসারণের প্রয়োজনীয়তা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিষয়টি আদালতেও গড়ায়; মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রশাসনের পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করেনি।
ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, সড়ক উন্নয়ন এবং নগর পুনর্বিন্যাসের নামে স্থাপনা অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযানে মুসলিম সম্প্রদায়ের বসতবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে জমির মালিকানা, আদালতের নির্দেশ, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
প্রশ্ন উঠছে, উন্নয়ন ও দখলমুক্তকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? আইনের প্রয়োগ সবার ক্ষেত্রে সমান হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মসজিদ উচ্ছেদ কিংবা মুসলিমদের ওপর হামলার কোনো ঘটনাকেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে, যাচাই ছাড়া কোনো ঘটনাকে পরিকল্পিত ‘মুসলিম নিধন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বদলে নির্ভরযোগ্য তথ্য, তদন্তের ফলাফল ও প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, সম্পদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল অঙ্গীকার।
তথ্যসূত্র: Scroll, ১৮ অক্টোবর ২০২৬; The Indian Express, ২ অক্টোবর ২০২৬।
ধর্মীয় স্থাপনা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
ভারতে মসজিদ উচ্ছেদ ও মুসলিম পরিবারগুলোর বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আসামের তিন জেলায় সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে এক হাজারের বেশি মুসলিম পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের অংশবিশেষ অপসারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Scroll-এর ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামের নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় বনভূমি দখলমুক্ত করার অভিযানে শত শত পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে নগাঁও জেলার লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দুই দিনের অভিযানে ৬০০-এর বেশি পরিবারের বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের বসতবাড়ির পাশাপাশি ১০টির বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে মসজিদের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাঁরা কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং তাঁদের পূর্বপুরুষদের সেখানে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য, সংরক্ষিত বনভূমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে ২০২৮ সালের সিমহাস্ত কুম্ভমেলাকে সামনে রেখে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ, পাথর নিক্ষেপ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবরও প্রকাশিত হয়। পরে মসজিদের একটি মিনার অপসারণের সময় সেটি ভেঙে ভবনের অন্য অংশের ওপর পড়ে ক্ষতি হয় বলে The Indian Express জানায়।
উজ্জয়িনের ঘটনায় প্রশাসনের বক্তব্য, সড়ক প্রশস্তকরণ ও জনস্বার্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে স্থাপনাটির অংশ অপসারণের প্রয়োজনীয়তা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিষয়টি আদালতেও গড়ায়; মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রশাসনের পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করেনি।
ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, সড়ক উন্নয়ন এবং নগর পুনর্বিন্যাসের নামে স্থাপনা অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযানে মুসলিম সম্প্রদায়ের বসতবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে জমির মালিকানা, আদালতের নির্দেশ, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
প্রশ্ন উঠছে, উন্নয়ন ও দখলমুক্তকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? আইনের প্রয়োগ সবার ক্ষেত্রে সমান হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মসজিদ উচ্ছেদ কিংবা মুসলিমদের ওপর হামলার কোনো ঘটনাকেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে, যাচাই ছাড়া কোনো ঘটনাকে পরিকল্পিত ‘মুসলিম নিধন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বদলে নির্ভরযোগ্য তথ্য, তদন্তের ফলাফল ও প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, সম্পদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল অঙ্গীকার।
তথ্যসূত্র: Scroll, ১৮ অক্টোবর ২০২৬; The Indian Express, ২ অক্টোবর ২০২৬।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৩
প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’র প্রভাবে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তাইওয়ান ও জাপানে। ঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থল সতর্কতা জারি করেছে তাইওয়ান। বাতিল করা হয়েছে দুই শতাধিক ফ্লাইট। একই সঙ্গে ঝড়ের কারণে পরিবর্তন আনতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ সামরিক মহড়ার কর্মসূচিতে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়া চাম্পি চলতি বছরের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়। বৃহস্পতিবার কিছুটা দুর্বল হলেও ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটারের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় বিশাল ঢেউ, প্রবল বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিডব্লিউএ) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ঝড়টির কেন্দ্র তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। ঝড়টির বিস্তৃতি বা ব্যাসার্ধ বেড়ে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার হয়েছে। ফলে দ্বীপটির অধিকাংশ এলাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে উত্তর দিকে মোড় নিতে পারে। এরপর ঝড়টি চীনের উপকূলসংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলের দিকে এগিয়ে দক্ষিণ জাপানের দিকে যেতে পারে। তবে ঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতা আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ঝড়টির প্রভাব প্রায় দুই দিন স্থায়ী হতে পারে। শুক্রবার ও শনিবার তাইওয়ানে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে তাইওয়ানের উপকূলীয় এলাকায় ৬ মিটারের বেশি উঁচু ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানী তাইপের আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলসহ উত্তর তাইওয়ানের কিছু এলাকায় প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাইওয়ানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার উত্তরাঞ্চল, ইয়িলান কাউন্টি এবং পূর্বাঞ্চলের কিছু পাহাড়ি এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শনিবারও উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে।
ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি সংস্থাগুলো প্রস্তুতি জোরদার করেছে। কিছু পরিবহন পরিষেবা স্থগিত এবং কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জনগণকে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি পাহাড় ও উপকূলীয় এলাকায় যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘আরেকটু বেশি প্রস্তুতি মানেই কম ঝুঁকি।’
টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ান ও জাপানে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তাইওয়ানে ১২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর অধিকাংশই অভ্যন্তরীণ রুটের।
জাপানের জাপান এয়ারলাইন্স, এএনএ ও স্কাইমার্ক এয়ারলাইন্স বৃহস্পতিবার থেকে রোববারের মধ্যে ১০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এসব ফ্লাইটের বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণ রুটের। এতে ১১ হাজারের বেশি যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাইওয়ান ও জাপানের মধ্যে চলাচলকারী কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়ের কারণে কিছু ফেরি পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাইওয়ানের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক ছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
চাম্পির প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়া ‘কিন সোর্ড’ (Keen Sword)। তাইওয়ানের কাছাকাছি জাপানি দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে চলমান এই মহড়ায় প্রায় ৫৬ হাজার জাপানি ও মার্কিন সামরিক সদস্য অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি আরও পাঁচটি দেশের বাহিনী এতে যুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে।
দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় স্থল, নৌ ও বিমান অভিযানের সমন্বয়, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং উভচর অবতরণ অনুশীলন করা হয়।
রয়টার্সকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ঝড়ের কারণে মহড়ার নির্ধারিত কর্মসূচি কীভাবে এগোবে, তা আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের অন্তর্গত ইয়োনাগুনি দ্বীপের ওপর দিয়েও অতিক্রম করতে পারে। এটি জাপানের জনবসতিপূর্ণ দ্বীপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত।
ঝড়টি তাইওয়ান অতিক্রম করার সময় দুর্বল হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এর সঙ্গে থাকা প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত জাপানের দক্ষিণাঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় উঁচু ঢেউ ও পরিবহন বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে।
চাম্পি কিছুটা দুর্বল হলেও এর বিস্তৃত ঝড়বলয় এবং প্রবল বাতাসের কারণে তাইওয়ান ও জাপানে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, উপকূলীয় ঢেউ এবং পরিবহনব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন।
আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতা ও পরিবহনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বাসিন্দা ও যাত্রীদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (CNA), ফোকাস তাইওয়ান ও তাইপে টাইমস।
প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’র প্রভাবে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তাইওয়ান ও জাপানে। ঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থল সতর্কতা জারি করেছে তাইওয়ান। বাতিল করা হয়েছে দুই শতাধিক ফ্লাইট। একই সঙ্গে ঝড়ের কারণে পরিবর্তন আনতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ সামরিক মহড়ার কর্মসূচিতে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়া চাম্পি চলতি বছরের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়। বৃহস্পতিবার কিছুটা দুর্বল হলেও ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটারের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় বিশাল ঢেউ, প্রবল বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিডব্লিউএ) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ঝড়টির কেন্দ্র তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। ঝড়টির বিস্তৃতি বা ব্যাসার্ধ বেড়ে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার হয়েছে। ফলে দ্বীপটির অধিকাংশ এলাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে উত্তর দিকে মোড় নিতে পারে। এরপর ঝড়টি চীনের উপকূলসংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলের দিকে এগিয়ে দক্ষিণ জাপানের দিকে যেতে পারে। তবে ঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতা আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ঝড়টির প্রভাব প্রায় দুই দিন স্থায়ী হতে পারে। শুক্রবার ও শনিবার তাইওয়ানে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে তাইওয়ানের উপকূলীয় এলাকায় ৬ মিটারের বেশি উঁচু ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানী তাইপের আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলসহ উত্তর তাইওয়ানের কিছু এলাকায় প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাইওয়ানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার উত্তরাঞ্চল, ইয়িলান কাউন্টি এবং পূর্বাঞ্চলের কিছু পাহাড়ি এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শনিবারও উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে।
ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি সংস্থাগুলো প্রস্তুতি জোরদার করেছে। কিছু পরিবহন পরিষেবা স্থগিত এবং কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জনগণকে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি পাহাড় ও উপকূলীয় এলাকায় যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘আরেকটু বেশি প্রস্তুতি মানেই কম ঝুঁকি।’
টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ান ও জাপানে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তাইওয়ানে ১২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর অধিকাংশই অভ্যন্তরীণ রুটের।
জাপানের জাপান এয়ারলাইন্স, এএনএ ও স্কাইমার্ক এয়ারলাইন্স বৃহস্পতিবার থেকে রোববারের মধ্যে ১০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এসব ফ্লাইটের বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণ রুটের। এতে ১১ হাজারের বেশি যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাইওয়ান ও জাপানের মধ্যে চলাচলকারী কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়ের কারণে কিছু ফেরি পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাইওয়ানের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক ছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
চাম্পির প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়া ‘কিন সোর্ড’ (Keen Sword)। তাইওয়ানের কাছাকাছি জাপানি দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে চলমান এই মহড়ায় প্রায় ৫৬ হাজার জাপানি ও মার্কিন সামরিক সদস্য অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি আরও পাঁচটি দেশের বাহিনী এতে যুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে।
দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় স্থল, নৌ ও বিমান অভিযানের সমন্বয়, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং উভচর অবতরণ অনুশীলন করা হয়।
রয়টার্সকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ঝড়ের কারণে মহড়ার নির্ধারিত কর্মসূচি কীভাবে এগোবে, তা আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের অন্তর্গত ইয়োনাগুনি দ্বীপের ওপর দিয়েও অতিক্রম করতে পারে। এটি জাপানের জনবসতিপূর্ণ দ্বীপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত।
ঝড়টি তাইওয়ান অতিক্রম করার সময় দুর্বল হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এর সঙ্গে থাকা প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত জাপানের দক্ষিণাঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় উঁচু ঢেউ ও পরিবহন বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে।
চাম্পি কিছুটা দুর্বল হলেও এর বিস্তৃত ঝড়বলয় এবং প্রবল বাতাসের কারণে তাইওয়ান ও জাপানে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, উপকূলীয় ঢেউ এবং পরিবহনব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন।
আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতা ও পরিবহনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বাসিন্দা ও যাত্রীদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (CNA), ফোকাস তাইওয়ান ও তাইপে টাইমস।

০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৫:৩৪
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ভারতের পররষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ উত্তর দেন।
‘দ্য হিন্দু’র কল্লোল ভট্টাচার্য বলেন, আমার প্রশ্নটি তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা তার এই সফরের অপেক্ষা করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সফরটি অনুষ্ঠিত হয়নি। এর কারণ কী? এখনো কেন সফরটি অনুষ্ঠিত হয়নি?
উত্তরে রণধীর বলেন, আমরা এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। দেখা যাক, কী হয়। এ বিষয়ে কোনো আপডেট তথ্য পাওয়া গেলে জানাবো।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে আগেও বলেছি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। গঙ্গাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য এটিই নির্ধারিত কাঠামোগত ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি থাকলে তা জানানোর মতো তথ্য এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই।
০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৫:৩৪
০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:৪২
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:০০
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:২৩