বরিশালের বাকেরগঞ্জে ১৯৯০ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপরে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় প্রতিষ্ঠিত হলেও উন্নয়নের দিক দিয়ে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা জায়, ১৯৯৭ সালে তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান মাহবুব আলমের উদ্যোগে পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে মৃত মোসলেম আলী বেপারীর কাছ থেকে ৮০ শতাংশ জমি ক্রায় করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এরপর সেখানে পৌরসভার কেন্দ্রীয় গোরস্থান নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। প্রথমেই পৌর চেয়ারম্যান মাহবুব আলম গোরস্থানের জমিতে একটি মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করন। নির্মানাধীন পৌর গোরস্থানের উপর নজর পড়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী নারী কাউন্সিলর আয়নোর। এরপর তার লোকজন দিয়ে ওই মসজিদ দখল করে একটি গৃহ নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করে। এরপর ধারাবাহিকভাবে পৌরসভার ৮০ শতাংশ পুরো জমি দখলে নিয়ে নেয় এই আওয়ামী লীগ নেত্রী নারী কাউন্সিলর আনোয়ারা বেগম আয়নো।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেত্রী আনোয়ারা বেগম আয়নো তার মৃত্যু পিতা আব্দুর রশিদ দরবেশের নামে ওই সম্পত্তি কবুলিয়ত মূলে মালিকানা দাবি করে আদালত একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলাটি দীর্ঘ সময় পড়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেলে পরবর্তীতে পৌরসভার তৎকালীন মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া পৌর গোরস্থানের পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এরপর পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বেশ কিছু মৃত ব্যক্তিদের ওই গোরস্থানের দাফন দেয়া হয়। এমনকি সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার নিজ অর্থায়নে ওই গোরস্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ কাজ হাতে নেয়। সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া ২০২২ সাল থেকে পৌরসভার কেন্দ্রীয় গোরস্থানের উন্নয়ন কাজ শুরু করলে আবারো মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নারী পৌর কাউন্সিল আয়নো বরিশাল আদালতে আবার একটি মামলা দায়ের করে উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। এরপর আবারও পৌর গোরস্থান নির্মাণ কাজ অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় গোরস্থানটি বর্তমানে দখলদারদের কবলে পড়ে চরম অব্যবস্থাপনায় পরিণত হয়েছে। মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী নারী কাউন্সিলর আয়নো দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে গোরস্থানের জমি দখল করে বসত ঘর, গোয়ালঘর নির্মাণ করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছেন। এবং ওই গোরস্থানে থাকা পৌর কর্তৃপক্ষের বাগানের গাছ অনেক আগেই বিক্রি করে আত্মসাৎ করেছেন। এতে কবরস্থানটির পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং মৃত ব্যক্তিদের দাফনেও দেখা দিচ্ছে সমস্যা। গোরস্থানের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত হয়ে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। গোরস্থানের মধ্যে থাকা কবর গুলো জঙ্গলে ঢাকা পড়েছে।
সরেজমিনে পৌর গোরস্থানে গেলে দেখা যায় জলিল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি পৌর গোরস্থানের মধ্যে বসতঘর ও গোয়ালঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন।
এ সময় জলিল হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আয়নোর কাছ থেকে ছয় হাজার টাকায় মৌখিকভাবে তিনি জমি ক্রয় করেছিলেন। তার জমি সে বুঝে না পেলে গোরস্থানের জমি দখল করে রেখেছেন।
তবে এ বিষয়ে পৌরসভায়ে জমি বিক্রেতা মোসলেম আলী বেপারীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, এখানে জলিল কোন জমি ক্রয় করেনি। আওয়ামী লীগ নেত্রী আয়নোর নেতৃত্বে তিনি পৌরসভার জমি অবৈধভাবে দখল করে বসতঘর নির্মাণ করে রেখেছে।
এলাকাবাসী জানায়, গোরস্থানে প্রবেশের রাস্তা থেকে শুরু করে ভেতরের অনেক অংশই আগাছায় ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও আবার দখলদারদের স্থাপনা নির্মাণ করায় গোরস্থানের মূল সৌন্দর্য ও পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় কবর রক্ষণাবেক্ষণেও পরিবারগুলো ভোগান্তিতে পড়ছে। গোরস্থানের সীমানা প্রাচীর না থাকায় অবাধে প্রবেশ করছে দখলকারীরা। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী আয়নোর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এই সম্পত্তি কবুলিয়ত
রয়েছে তার বাবার নামে। তাই তিনি আদালতে মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক রুমানা আফরোজ বলেন, পৌর গোরস্থান উন্নয়ন কাজে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মামলা। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পৌরসভার একমাত্র গোরস্থান উন্নয়ন করার।

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭
বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনসংলগ্ন দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত পুকুর পরিষ্কারে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকালে ‘বিডি ক্লিন’ বরিশালের সহযোগিতায় এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার। এতে অংশ নেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত নাওশীন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিডি ক্লিন বরিশালের সদস্যরা।
অভিযানের শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের পরিচ্ছন্নতার শপথবাক্য পাঠ করান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা। পরে জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত কর্মকর্তারা বিডি ক্লিনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুকুরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কার্যক্রমে অংশ নেন।
দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব। নিজের বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পুকুর, খালসহ প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণেও সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রশাসনের উদ্যোগের সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা যেন শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং প্রত্যেকের দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত হয়। এ জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘আপনার আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তুলুন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা বলেন, উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনসংলগ্ন পরিত্যক্ত পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিডি ক্লিন বরিশালের সদস্যদের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিচ্ছন্ন উপজেলা গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বিডি ক্লিন বরিশালের সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পুকুরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে এবং পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষ আরও উৎসাহিত হবেন।
অভিযানে জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত নাওশীন, বিডি ক্লিন বরিশালের সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনসংলগ্ন দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত পুকুর পরিষ্কারে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকালে ‘বিডি ক্লিন’ বরিশালের সহযোগিতায় এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার। এতে অংশ নেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত নাওশীন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিডি ক্লিন বরিশালের সদস্যরা।
অভিযানের শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের পরিচ্ছন্নতার শপথবাক্য পাঠ করান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা। পরে জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত কর্মকর্তারা বিডি ক্লিনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুকুরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কার্যক্রমে অংশ নেন।
দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব। নিজের বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পুকুর, খালসহ প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণেও সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রশাসনের উদ্যোগের সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা যেন শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং প্রত্যেকের দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত হয়। এ জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘আপনার আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তুলুন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা বলেন, উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনসংলগ্ন পরিত্যক্ত পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিডি ক্লিন বরিশালের সদস্যদের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিচ্ছন্ন উপজেলা গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বিডি ক্লিন বরিশালের সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পুকুরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে এবং পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষ আরও উৎসাহিত হবেন।
অভিযানে জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত নাওশীন, বিডি ক্লিন বরিশালের সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪২
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান আকন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে অতীতের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এবারও নির্বাচনী আলোচনায় উঠে এসেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. আব্দুল মান্নান আকন রত্নপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নির্বাচিত সভাপতি। বর্তমানে তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি ও অতীতের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় সমর্থন কার পক্ষে যায়, তা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আব্দুল মান্নান আকনের সমর্থকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় নিয়ে দল তাঁকে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দেবে। তাঁদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নির্বাচনে তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হতে পারে।
তবে দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি এখনো বিএনপির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শেষ পর্যন্ত রত্নপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দল কাকে সমর্থন দেবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, নাগরিক সেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁদের অতীতের কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং উন্নয়নসংক্রান্ত পরিকল্পনাও ভোটারদের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রত্নপুর ইউনিয়নের নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বাড়লেও ভোটের মাঠে চূড়ান্ত পরিস্থিতি নির্ভর করবে নির্বাচনের সময়সূচি, দলীয় সিদ্ধান্ত, প্রার্থীদের অবস্থান এবং ভোটারদের মনোভাবের ওপর।
আব্দুল মান্নান আকনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন আদায়ে কতটা ভূমিকা রাখবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিএনপির সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই তাঁর নির্বাচনী অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে, রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশী হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান আকন স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় রয়েছেন। তবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁর চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারিত হবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে।’
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান আকন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে অতীতের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এবারও নির্বাচনী আলোচনায় উঠে এসেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. আব্দুল মান্নান আকন রত্নপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নির্বাচিত সভাপতি। বর্তমানে তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি ও অতীতের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় সমর্থন কার পক্ষে যায়, তা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আব্দুল মান্নান আকনের সমর্থকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় নিয়ে দল তাঁকে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দেবে। তাঁদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নির্বাচনে তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হতে পারে।
তবে দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি এখনো বিএনপির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শেষ পর্যন্ত রত্নপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দল কাকে সমর্থন দেবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, নাগরিক সেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁদের অতীতের কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং উন্নয়নসংক্রান্ত পরিকল্পনাও ভোটারদের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রত্নপুর ইউনিয়নের নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বাড়লেও ভোটের মাঠে চূড়ান্ত পরিস্থিতি নির্ভর করবে নির্বাচনের সময়সূচি, দলীয় সিদ্ধান্ত, প্রার্থীদের অবস্থান এবং ভোটারদের মনোভাবের ওপর।
আব্দুল মান্নান আকনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন আদায়ে কতটা ভূমিকা রাখবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিএনপির সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই তাঁর নির্বাচনী অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে, রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশী হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান আকন স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় রয়েছেন। তবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁর চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারিত হবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে।’

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।

১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ২০:৫৭
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ১৯৯০ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপরে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় প্রতিষ্ঠিত হলেও উন্নয়নের দিক দিয়ে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা জায়, ১৯৯৭ সালে তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান মাহবুব আলমের উদ্যোগে পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে মৃত মোসলেম আলী বেপারীর কাছ থেকে ৮০ শতাংশ জমি ক্রায় করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এরপর সেখানে পৌরসভার কেন্দ্রীয় গোরস্থান নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। প্রথমেই পৌর চেয়ারম্যান মাহবুব আলম গোরস্থানের জমিতে একটি মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করন। নির্মানাধীন পৌর গোরস্থানের উপর নজর পড়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী নারী কাউন্সিলর আয়নোর। এরপর তার লোকজন দিয়ে ওই মসজিদ দখল করে একটি গৃহ নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করে। এরপর ধারাবাহিকভাবে পৌরসভার ৮০ শতাংশ পুরো জমি দখলে নিয়ে নেয় এই আওয়ামী লীগ নেত্রী নারী কাউন্সিলর আনোয়ারা বেগম আয়নো।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেত্রী আনোয়ারা বেগম আয়নো তার মৃত্যু পিতা আব্দুর রশিদ দরবেশের নামে ওই সম্পত্তি কবুলিয়ত মূলে মালিকানা দাবি করে আদালত একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলাটি দীর্ঘ সময় পড়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেলে পরবর্তীতে পৌরসভার তৎকালীন মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া পৌর গোরস্থানের পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এরপর পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বেশ কিছু মৃত ব্যক্তিদের ওই গোরস্থানের দাফন দেয়া হয়। এমনকি সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার নিজ অর্থায়নে ওই গোরস্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ কাজ হাতে নেয়। সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া ২০২২ সাল থেকে পৌরসভার কেন্দ্রীয় গোরস্থানের উন্নয়ন কাজ শুরু করলে আবারো মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নারী পৌর কাউন্সিল আয়নো বরিশাল আদালতে আবার একটি মামলা দায়ের করে উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। এরপর আবারও পৌর গোরস্থান নির্মাণ কাজ অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় গোরস্থানটি বর্তমানে দখলদারদের কবলে পড়ে চরম অব্যবস্থাপনায় পরিণত হয়েছে। মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী নারী কাউন্সিলর আয়নো দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে গোরস্থানের জমি দখল করে বসত ঘর, গোয়ালঘর নির্মাণ করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছেন। এবং ওই গোরস্থানে থাকা পৌর কর্তৃপক্ষের বাগানের গাছ অনেক আগেই বিক্রি করে আত্মসাৎ করেছেন। এতে কবরস্থানটির পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং মৃত ব্যক্তিদের দাফনেও দেখা দিচ্ছে সমস্যা। গোরস্থানের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত হয়ে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। গোরস্থানের মধ্যে থাকা কবর গুলো জঙ্গলে ঢাকা পড়েছে।
সরেজমিনে পৌর গোরস্থানে গেলে দেখা যায় জলিল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি পৌর গোরস্থানের মধ্যে বসতঘর ও গোয়ালঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন।
এ সময় জলিল হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আয়নোর কাছ থেকে ছয় হাজার টাকায় মৌখিকভাবে তিনি জমি ক্রয় করেছিলেন। তার জমি সে বুঝে না পেলে গোরস্থানের জমি দখল করে রেখেছেন।
তবে এ বিষয়ে পৌরসভায়ে জমি বিক্রেতা মোসলেম আলী বেপারীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, এখানে জলিল কোন জমি ক্রয় করেনি। আওয়ামী লীগ নেত্রী আয়নোর নেতৃত্বে তিনি পৌরসভার জমি অবৈধভাবে দখল করে বসতঘর নির্মাণ করে রেখেছে।
এলাকাবাসী জানায়, গোরস্থানে প্রবেশের রাস্তা থেকে শুরু করে ভেতরের অনেক অংশই আগাছায় ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও আবার দখলদারদের স্থাপনা নির্মাণ করায় গোরস্থানের মূল সৌন্দর্য ও পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় কবর রক্ষণাবেক্ষণেও পরিবারগুলো ভোগান্তিতে পড়ছে। গোরস্থানের সীমানা প্রাচীর না থাকায় অবাধে প্রবেশ করছে দখলকারীরা। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী আয়নোর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এই সম্পত্তি কবুলিয়ত
রয়েছে তার বাবার নামে। তাই তিনি আদালতে মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক রুমানা আফরোজ বলেন, পৌর গোরস্থান উন্নয়ন কাজে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মামলা। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পৌরসভার একমাত্র গোরস্থান উন্নয়ন করার।
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৪
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪২