জাতিসংঘ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সঙ্গে রীতিমতো বেঈমানি শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি।
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে তারা তাদের বিভিন্ন যে সংস্থা রয়েছে এবং তাদের যেসব আন্তর্জাতিক প্রেশার গ্রুপ রয়েছে সেসব প্রেশার গ্রুপ দিয়ে সরকারের ওপর যে চাপ তৈরি করছে, এটি আমরা আশা করিনি। দ্বিতীয়ত, তারা প্রকাশ্যে এবং আকার-ইঙ্গিতে বা পর্দার অন্তরালে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য, ক্ষমতায় বসানোর জন্য এবং আওয়ামী লীগের যারা দোসর আছে তাদের নানাভাবে দেশে এবং দেশের বাইরে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য যেসব কর্মকাণ্ড করছে তা এককথায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বা তার সরকারের সঙ্গে মারাত্মক বেঈমানি, মারাত্মক অসহযোগিতা।’
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) গোলাম মাওলা রনি তার ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিও আলোচনায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা প্রথম থেকে বলে আসছিলাম ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগমনের পেছনে একটা ম্যাটিকুলাস ডিজাইন রয়েছে। যা মুহাম্মদ ইউনূস নিজে বলেছেন, এটার পেছনে মাস্টারমাইন্ড আছে, একাধিক মাস্টারমাইন্ড। এ রকম কয়েকজন মাস্টারমাইন্ড সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা নিজে বলেছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের ড. ইউনূস পরিচয় করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পেছনে দেশে এবং বিদেশি চক্রান্ত রয়েছে—এটা রীতিমতো ওপেন সিক্রেট।
আমরা দেশের ভেতরে থেকে টুকটাক বলেছি এবং দেশের বাইরে থেকে আরো খোলাখুলিভাবে বিভিন্ন মানুষ বলার চেষ্টা করেছেন। এখানে সেই যে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় জর্জ সরোস, যিনি মার্কিন ডিপস্টেটের পক্ষে বিভিন্ন দেশের সরকার পরিবর্তনের জন্য বিনিয়োগ করেন। তারপর সেই সরকারের পতন হলে যারা ক্ষমতায় আসে তাদের কাছ থেকে কয়েক শ গুণ অর্থ আদায় করেন। তো বাংলাদেশে এ রকম জর্জ সরোসের বিনিয়োগ ছিল এই কথা সবাই সমালোচনা করছে।
বিশেষ করে তার ছেলে যখন বাংলাদেশে এলেন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করলেন তখন আমরা ধরে নিলাম যে ডালমেকুস কালা হ্যায়।’
জাতিসংঘ যা করে তা মূলত আমেরিকারই কাজ উল্লেখ করে রনি বলেন, ‘কোনো একটা দেশের যুদ্ধ বাধাতে হবে, সেখানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দিয়ে সাধারণ পরিষদ দিয়ে জাতিসংঘের যে মানবাধিকার কমিশন, সেটা দিয়ে এরপর জাতিসংঘের অন্য যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেমন ইউএনএস, সিআর তারপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলো দিয়ে তারা বিভিন্ন দেশের নানা রকম কর্মকাণ্ড চালায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর আমরা এ রকম অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের অসাধারণ কতগুলো তৎপরতা দেখতে পেলাম। বিশ্বব্যাংক খুবই ইতিবাচক মনোভাব দেখাল ২০২৪ সালের প্রথম ৩-৪ মাস আইএমএফ এতটা কো-অপারেটিভ হলো যে ওই প্রথম ৩-৪ মাসে আইএমএফ আওয়ামী লীগ জামানাতে যে ঋণগুলো দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুত ছিল এবং সেখানে প্রায় তিনটি ঋণের কিস্তি তারা ছাড় দিয়েছিল।
ড. মুহম্মদ ইউনূসের জামানাতে তারা ইমিডিয়েটলি সব কিস্তির সুদ নেবেই না, আরো নতুন হয়তো ১০-১৫ বিলিয়ন ডলার তারা দিতে পারে আর বিশ্বব্যাংক হয়তো ৪০-৪৫ বিলিয়ন ডলার দেবে চায়না থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে ইত্যাদি মিলে আমরা প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের দেশি-বিদেশি সাহায্য গ্র্যান্ড ঋণ আশা করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল যে ২০০ বিলিয়ন ডলার তো দূরের কথা, ২ বিলিয়ন ডলারও আসছে না বরং আওয়ামী লীগ জামানাতে যেসব চুক্তি ছিল। সেই চুক্তির অধীনে যেসব ঋণ আসার কথা ছিল সেসব ঋণের বিরাট অংশ ফেরত গেল।’
রাজনৈতিক এ বিশ্লেষক বলেন, ‘যখন রোহিঙ্গাদের বিষয়টি এলো, দেখলাম জাতিসংঘ মহাসচিব এলেন—তিনি পাঞ্জাবি পরে সেই ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ করলেন। লাখ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্য দিলেন এবং তিনি ঘোষণা করলেন, আগামী যে ঈদুল ফিতর মানে এই যে ২০২৬ সালের যে ঈদ, এই ঈদের উৎসবটি রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে গিয়ে করতে পারবেন। আমরা তো মহাখুশি যেখানে মহাসচিব এসেছেন জাতিসংঘের, যেখানে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা কথাবার্তা বলেছেন, এরপর আর কথা থাকে না। কিন্তু পরিস্থিতি দেখা গেল উল্টো। একজন রোহিঙ্গা সেখানে তো গেলই না, উল্টো আরো প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ নতুন রোহিঙ্গা আমাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করল এবং সীমান্তের ওপারে আরো প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা নো ম্যানস জোনে বা কাছাকাছি জায়গাতে তারা অপেক্ষা করছে বাংলাদেশে ঢোকার জন্য এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায়, এমনকি জাতিসংঘ চেষ্টা করছে বাংলাদেশের বাকি রোহিঙ্গাদের ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য এটা রীতিমতো আত্মহত্যার মতো রীতিমতো বেঈমানি।’
গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘জাতিসংঘ এই বাংলাদেশ থেকে কী অর্জন করতে চেয়েছিল বা তাদের কী উদ্দেশ্য ছিল, আমরা বলতে পারব না। কিন্তু ইদানীং যেটা হচ্ছে যে পুরো জাতির সঙ্গে এবং আমেরিকা বলতে গেলে এই সরকারের সঙ্গে তাদের যে দহরম-মহরম সম্পর্ক ছিল সেটা তো নেই বরং উল্টো আচরণ করছে। এখন তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাচ্ছে। স্পষ্ট তারা আওয়ামী লীগকে চাচ্ছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করুক তারা চাচ্ছে। এই কথা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন শুনছেন, এনসিপি নেতৃবৃন্দ যখন শুনছেন, জামায়াতের লোক, যারা এই জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এটি তাদের জন্য ভীষণ রকম অপমান।’
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ নিয়ে যদি কোনো কথা বলা হয় জাতিসংঘের পক্ষ থেকে, আমেরিকার পক্ষ থেকে তারপর আওয়ামী লীগকে নিয়ে নির্বাচন করতে বলা হয় আওয়ামী লীগের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলা হয়, শেখ হাসিনার বিচারের সুষ্ঠুতা, বিচারের স্বচ্ছতা ইত্যাদি নিয়ে যখন প্রশ্ন করা হয়—এটা অনেকটা হেমলক পান করা মানে বিষ পান করা বা গলায় দড়িয়ে দিয়ে মরার আগে মানুষের যে দুঃখ হয়—এ রকম দুঃখের চেয়ে কোনো অংশে কম বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না। এটা কী ধরনের কথা? যে কাজগুলো আমেরিকা এখন করছে। অতিরিক্ত পশ্চিমারা এখন বাংলাদেশের ঘন ঘন আসছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের যারা লোকজন তারা আসছে।’

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪৫
বরিশাল জেলা ও মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদকসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠাসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ১০ দফা দাবিতে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের হাতে রোববার ওই স্মারকলিপি তুলে দেন এবি পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। এসময় এবি পার্টির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ওই স্মারকলিপিতে বরিশালের জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাকিব হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব রাকিব সিকদার, শাকিল হাওলাদার, সদস্য জসিম উদ্দিন, বাহারুল গাজী, নারী নেত্রী নাজমুন নাহার বেবী ছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের বরিশাল জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী বলেন, 'জনগণের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, জবাবদিহিতা ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বরিশাল জেলা ও মহানগরের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় এবি পার্টি সর্বদা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।'
বরিশাল জেলা ও মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদকসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠাসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ১০ দফা দাবিতে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের হাতে রোববার ওই স্মারকলিপি তুলে দেন এবি পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। এসময় এবি পার্টির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ওই স্মারকলিপিতে বরিশালের জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাকিব হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব রাকিব সিকদার, শাকিল হাওলাদার, সদস্য জসিম উদ্দিন, বাহারুল গাজী, নারী নেত্রী নাজমুন নাহার বেবী ছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের বরিশাল জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী বলেন, 'জনগণের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, জবাবদিহিতা ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বরিশাল জেলা ও মহানগরের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় এবি পার্টি সর্বদা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।'

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৫
সাত দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চের রুট চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর রাজধানী থেকে শুরু হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে এ কর্মসূচি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে লংমার্চের রুট ও পথসভার স্থান চূড়ান্ত করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সকাল ৮টায় গাড়িবহর পদ্মা সেতু হয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
লংমার্চের গাড়িবহর পদ্মা সেতু পার হয়ে প্রথমে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা এলাকায় পথসভায় অংশ নেবে। এরপর ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও মাদারীপুরের টেকেরহাট হয়ে গোপালগঞ্জে প্রবেশ করবে।
তবে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা রাখা হয়নি। শহর অতিক্রম করে গাড়িবহর বাগেরহাটের ফকিরহাটে যাবে। সেখানে কাটাখালী মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর রূপসা সেতু পার হয়ে খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে পথসভা হবে। খুলনার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরেও আরেকটি পথসভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পরে গাড়িবহর যশোরের চাচড়া মোড়ে পথসভায় অংশ নেবে। এরপর ঝিনাইদহ জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভা শেষে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
লংমার্চের শেষ কর্মসূচি হবে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ। পুরো লংমার্চের রুট প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
পূজার কারণে আগে ঘোষিত ১০ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা এবং ২৪ অক্টোবরের ঢাকা-সিলেট লংমার্চের কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-খুলনা লংমার্চের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ অক্টোবর। আর ঢাকা-সিলেট লংমার্চের নতুন তারিখ আগামী নভেম্বরে নির্ধারণ করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১১ দলের ঘোষিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি।
গত বছরের জুলাইয়ে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবারের লংমার্চে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা না রাখার সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও রংপুরের লংমার্চের মতো দক্ষিণাঞ্চলের কর্মসূচিও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা হবে। গোপালগঞ্জের মানুষের সঙ্গে তাদের ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কেউ উসকানি বা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে। ১১ দলের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের উসকানিতে পা দেবেন না বলেও তিনি জানান।
লংমার্চের রুট: ঢাকা → জাজিরা → ভাঙ্গা → টেকেরহাট → গোপালগঞ্জ → ফকিরহাট → খুলনা → ফুলতলা → যশোর → ঝিনাইদহ → কুষ্টিয়া।
সাত দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চের রুট চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর রাজধানী থেকে শুরু হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে এ কর্মসূচি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে লংমার্চের রুট ও পথসভার স্থান চূড়ান্ত করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সকাল ৮টায় গাড়িবহর পদ্মা সেতু হয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
লংমার্চের গাড়িবহর পদ্মা সেতু পার হয়ে প্রথমে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা এলাকায় পথসভায় অংশ নেবে। এরপর ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও মাদারীপুরের টেকেরহাট হয়ে গোপালগঞ্জে প্রবেশ করবে।
তবে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা রাখা হয়নি। শহর অতিক্রম করে গাড়িবহর বাগেরহাটের ফকিরহাটে যাবে। সেখানে কাটাখালী মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর রূপসা সেতু পার হয়ে খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে পথসভা হবে। খুলনার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরেও আরেকটি পথসভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পরে গাড়িবহর যশোরের চাচড়া মোড়ে পথসভায় অংশ নেবে। এরপর ঝিনাইদহ জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভা শেষে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
লংমার্চের শেষ কর্মসূচি হবে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ। পুরো লংমার্চের রুট প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
পূজার কারণে আগে ঘোষিত ১০ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা এবং ২৪ অক্টোবরের ঢাকা-সিলেট লংমার্চের কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-খুলনা লংমার্চের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ অক্টোবর। আর ঢাকা-সিলেট লংমার্চের নতুন তারিখ আগামী নভেম্বরে নির্ধারণ করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১১ দলের ঘোষিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি।
গত বছরের জুলাইয়ে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবারের লংমার্চে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা না রাখার সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও রংপুরের লংমার্চের মতো দক্ষিণাঞ্চলের কর্মসূচিও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা হবে। গোপালগঞ্জের মানুষের সঙ্গে তাদের ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কেউ উসকানি বা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে। ১১ দলের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের উসকানিতে পা দেবেন না বলেও তিনি জানান।
লংমার্চের রুট: ঢাকা → জাজিরা → ভাঙ্গা → টেকেরহাট → গোপালগঞ্জ → ফকিরহাট → খুলনা → ফুলতলা → যশোর → ঝিনাইদহ → কুষ্টিয়া।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৮
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তথ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যারা ফ্যাসিবাদের, আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারবে, তাদের আমরা পুরস্কৃত করব।” তিনি জানান, গত সপ্তাহে এ ধরনের দুজনকে এবং শুক্রবার আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এতদিন এসব ব্যক্তি দেশে থেকেও আত্মগোপনে ছিলেন। তাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের গোয়েন্দা সহায়তা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। অন্য সংস্থার গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য কাজে লাগানোরও নির্দেশ দেন তিনি।
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বক্তব্যে সাম্প্রতিক ও অতীতের বিভিন্ন সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জাতিসংঘের হিসাব উল্লেখ করে বলেন, এক মাসে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে গত ১৭ বছরের বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর বিভিন্ন হিসাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতের সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়নি। তাঁর দাবি, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ বর্তমানে দেশের বাইরে থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন।
শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের, শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের ফেরত দেওয়ার জন্য চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হলে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে পিপিএম ও বিপিএম পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তথ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যারা ফ্যাসিবাদের, আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারবে, তাদের আমরা পুরস্কৃত করব।” তিনি জানান, গত সপ্তাহে এ ধরনের দুজনকে এবং শুক্রবার আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এতদিন এসব ব্যক্তি দেশে থেকেও আত্মগোপনে ছিলেন। তাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের গোয়েন্দা সহায়তা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। অন্য সংস্থার গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য কাজে লাগানোরও নির্দেশ দেন তিনি।
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বক্তব্যে সাম্প্রতিক ও অতীতের বিভিন্ন সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জাতিসংঘের হিসাব উল্লেখ করে বলেন, এক মাসে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে গত ১৭ বছরের বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর বিভিন্ন হিসাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতের সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়নি। তাঁর দাবি, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ বর্তমানে দেশের বাইরে থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন।
শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের, শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের ফেরত দেওয়ার জন্য চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হলে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে পিপিএম ও বিপিএম পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ২৩:২৪
জাতিসংঘ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সঙ্গে রীতিমতো বেঈমানি শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি।
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে তারা তাদের বিভিন্ন যে সংস্থা রয়েছে এবং তাদের যেসব আন্তর্জাতিক প্রেশার গ্রুপ রয়েছে সেসব প্রেশার গ্রুপ দিয়ে সরকারের ওপর যে চাপ তৈরি করছে, এটি আমরা আশা করিনি। দ্বিতীয়ত, তারা প্রকাশ্যে এবং আকার-ইঙ্গিতে বা পর্দার অন্তরালে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য, ক্ষমতায় বসানোর জন্য এবং আওয়ামী লীগের যারা দোসর আছে তাদের নানাভাবে দেশে এবং দেশের বাইরে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য যেসব কর্মকাণ্ড করছে তা এককথায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বা তার সরকারের সঙ্গে মারাত্মক বেঈমানি, মারাত্মক অসহযোগিতা।’
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) গোলাম মাওলা রনি তার ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিও আলোচনায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা প্রথম থেকে বলে আসছিলাম ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগমনের পেছনে একটা ম্যাটিকুলাস ডিজাইন রয়েছে। যা মুহাম্মদ ইউনূস নিজে বলেছেন, এটার পেছনে মাস্টারমাইন্ড আছে, একাধিক মাস্টারমাইন্ড। এ রকম কয়েকজন মাস্টারমাইন্ড সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা নিজে বলেছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের ড. ইউনূস পরিচয় করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পেছনে দেশে এবং বিদেশি চক্রান্ত রয়েছে—এটা রীতিমতো ওপেন সিক্রেট।
আমরা দেশের ভেতরে থেকে টুকটাক বলেছি এবং দেশের বাইরে থেকে আরো খোলাখুলিভাবে বিভিন্ন মানুষ বলার চেষ্টা করেছেন। এখানে সেই যে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় জর্জ সরোস, যিনি মার্কিন ডিপস্টেটের পক্ষে বিভিন্ন দেশের সরকার পরিবর্তনের জন্য বিনিয়োগ করেন। তারপর সেই সরকারের পতন হলে যারা ক্ষমতায় আসে তাদের কাছ থেকে কয়েক শ গুণ অর্থ আদায় করেন। তো বাংলাদেশে এ রকম জর্জ সরোসের বিনিয়োগ ছিল এই কথা সবাই সমালোচনা করছে।
বিশেষ করে তার ছেলে যখন বাংলাদেশে এলেন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করলেন তখন আমরা ধরে নিলাম যে ডালমেকুস কালা হ্যায়।’
জাতিসংঘ যা করে তা মূলত আমেরিকারই কাজ উল্লেখ করে রনি বলেন, ‘কোনো একটা দেশের যুদ্ধ বাধাতে হবে, সেখানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দিয়ে সাধারণ পরিষদ দিয়ে জাতিসংঘের যে মানবাধিকার কমিশন, সেটা দিয়ে এরপর জাতিসংঘের অন্য যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেমন ইউএনএস, সিআর তারপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলো দিয়ে তারা বিভিন্ন দেশের নানা রকম কর্মকাণ্ড চালায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর আমরা এ রকম অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের অসাধারণ কতগুলো তৎপরতা দেখতে পেলাম। বিশ্বব্যাংক খুবই ইতিবাচক মনোভাব দেখাল ২০২৪ সালের প্রথম ৩-৪ মাস আইএমএফ এতটা কো-অপারেটিভ হলো যে ওই প্রথম ৩-৪ মাসে আইএমএফ আওয়ামী লীগ জামানাতে যে ঋণগুলো দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুত ছিল এবং সেখানে প্রায় তিনটি ঋণের কিস্তি তারা ছাড় দিয়েছিল।
ড. মুহম্মদ ইউনূসের জামানাতে তারা ইমিডিয়েটলি সব কিস্তির সুদ নেবেই না, আরো নতুন হয়তো ১০-১৫ বিলিয়ন ডলার তারা দিতে পারে আর বিশ্বব্যাংক হয়তো ৪০-৪৫ বিলিয়ন ডলার দেবে চায়না থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে ইত্যাদি মিলে আমরা প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের দেশি-বিদেশি সাহায্য গ্র্যান্ড ঋণ আশা করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল যে ২০০ বিলিয়ন ডলার তো দূরের কথা, ২ বিলিয়ন ডলারও আসছে না বরং আওয়ামী লীগ জামানাতে যেসব চুক্তি ছিল। সেই চুক্তির অধীনে যেসব ঋণ আসার কথা ছিল সেসব ঋণের বিরাট অংশ ফেরত গেল।’
রাজনৈতিক এ বিশ্লেষক বলেন, ‘যখন রোহিঙ্গাদের বিষয়টি এলো, দেখলাম জাতিসংঘ মহাসচিব এলেন—তিনি পাঞ্জাবি পরে সেই ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ করলেন। লাখ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্য দিলেন এবং তিনি ঘোষণা করলেন, আগামী যে ঈদুল ফিতর মানে এই যে ২০২৬ সালের যে ঈদ, এই ঈদের উৎসবটি রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে গিয়ে করতে পারবেন। আমরা তো মহাখুশি যেখানে মহাসচিব এসেছেন জাতিসংঘের, যেখানে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা কথাবার্তা বলেছেন, এরপর আর কথা থাকে না। কিন্তু পরিস্থিতি দেখা গেল উল্টো। একজন রোহিঙ্গা সেখানে তো গেলই না, উল্টো আরো প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ নতুন রোহিঙ্গা আমাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করল এবং সীমান্তের ওপারে আরো প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা নো ম্যানস জোনে বা কাছাকাছি জায়গাতে তারা অপেক্ষা করছে বাংলাদেশে ঢোকার জন্য এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায়, এমনকি জাতিসংঘ চেষ্টা করছে বাংলাদেশের বাকি রোহিঙ্গাদের ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য এটা রীতিমতো আত্মহত্যার মতো রীতিমতো বেঈমানি।’
গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘জাতিসংঘ এই বাংলাদেশ থেকে কী অর্জন করতে চেয়েছিল বা তাদের কী উদ্দেশ্য ছিল, আমরা বলতে পারব না। কিন্তু ইদানীং যেটা হচ্ছে যে পুরো জাতির সঙ্গে এবং আমেরিকা বলতে গেলে এই সরকারের সঙ্গে তাদের যে দহরম-মহরম সম্পর্ক ছিল সেটা তো নেই বরং উল্টো আচরণ করছে। এখন তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাচ্ছে। স্পষ্ট তারা আওয়ামী লীগকে চাচ্ছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করুক তারা চাচ্ছে। এই কথা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন শুনছেন, এনসিপি নেতৃবৃন্দ যখন শুনছেন, জামায়াতের লোক, যারা এই জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এটি তাদের জন্য ভীষণ রকম অপমান।’
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ নিয়ে যদি কোনো কথা বলা হয় জাতিসংঘের পক্ষ থেকে, আমেরিকার পক্ষ থেকে তারপর আওয়ামী লীগকে নিয়ে নির্বাচন করতে বলা হয় আওয়ামী লীগের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলা হয়, শেখ হাসিনার বিচারের সুষ্ঠুতা, বিচারের স্বচ্ছতা ইত্যাদি নিয়ে যখন প্রশ্ন করা হয়—এটা অনেকটা হেমলক পান করা মানে বিষ পান করা বা গলায় দড়িয়ে দিয়ে মরার আগে মানুষের যে দুঃখ হয়—এ রকম দুঃখের চেয়ে কোনো অংশে কম বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না। এটা কী ধরনের কথা? যে কাজগুলো আমেরিকা এখন করছে। অতিরিক্ত পশ্চিমারা এখন বাংলাদেশের ঘন ঘন আসছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের যারা লোকজন তারা আসছে।’
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১১