রাষ্ট্রীয় নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে মেরামত শেষে ঐতিহ্যবাহী ‘পিএস মাহসুদ’ জাহাজটি বরিশাল-ঢাকা নৌপথে ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেব চালুর পরে আর দেখা নেই। প্রায় ৫ বছর বানিজ্যিক পরিচালন থেকে বাইরে রেখে কোটি টাকা ব্যায়ে মেরামত ও সংরক্ষন কাজ সমাপ্ত করে পিএস মাহসুদ গত ২৮ নভেম্বর ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেবে ঢাকা থেকে বরিশালে এবং ২৯ নভম্বর ঢাকায় ফেরত যায়। এর আগে ১৫ নভেম্বর মেরামতকৃত নৌযানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা। এমনকি মেরামতকৃত নৌযানটির পরিক্ষামূলক পরিচালনেও উপদেষ্টা ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে ভ্রমন করেছিলেন।
কিন্তু ৫ ডিসেম্বর নৌযানটির দ্বিতীয় বানিজ্যিক পরিচালনে বরিশালে এসে ৬ ডিসেম্বর ফেরত যাবার পরে আর বরিশাল মুখি হয়নি। গত ১২ ডিসেম্বর কয়েকজন বিদেশী কুটনীতিককে নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘পিএস মাহসুদ’এ ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে ভ্রমনের পরে তা ইজারাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ‘গ্রীন টুর এন্ড ট্রাভেলস’ মাসে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকার বিনিময়ে পিএস মাহসুদ ইজারা গ্রহন করার পরে আর বরিশালমুখি হয়নি। এমনকি ইজারা প্রদানের আগে নৌযানটি ‘সপ্তাহে অন্তত ১দিন বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চরাচল করবে’ বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হলেও সে কথা রাখেনি ইজারাদার সহ নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠানটিও। গত দু মাসে একবারও বরিশালবাসী পিএস মাহসুদ’র হুইসাল শোনেনি। তবে এখন সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র বলছে ‘ইজারাদার তার বানিজ্যিক সুবিধার বিবেচনায়ই নৌযানটি পরিচালন করছে। ফলে বিআইডব্লিউটিসি নৌযানটি সপ্তাহে অন্তত ১দিন ঢাকা ও বরিশাল থেকে, যথাক্রমে শুক্র ও শণিবার পরিচালন’র যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিল, তা তা আর কার্যকর রইল না।
ইজারাদার নৌযানটিতে কর্মরত সংস্থার ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ ২ লাখ টাকা এবং ইজারামূল্য বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ করছে বলে জানা গেছে। ৬ মাসের ভাড়া আগাম পরিশোধের বিনিময়ে দু বছরের জন্য নৌযানটি ইজারা চুক্তি করেছে বিআইডব্লিউটিসি। এব্যপারে বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ সলিম উল্লাহ ইতোপূর্বে জানিয়েছিলন, ‘আমরা পর্যটন বিকাশের স্বার্থেই পিএস মাহসদু’কে একটি দক্ষ ট্যুর অপারেটরকে দায়িত্ব দিচ্ছি। তবে ‘কোন বিশ^ ঐতিহ্য ইজারা দেয়া যায় কিনা’, এমন প্রশ্নের জবাবে এড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নৌযানটির সঠিক ব্যবহার ও দেশের পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।
উল্লেখ্য, নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন গত ১২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস’র সাথে সাক্ষাত করে পিএস মাহসুদ পুনরায় চালুর বিষয়টি অবহিত করলে তিনি এ বিষয়ে যথেষ্ঠ উচ্ছাস প্রকাশ করে ‘কোন ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেয়া হবে না’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এসময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের বৈচিত্রপূর্ণ নৌকার ডিজাইন পুরো পৃথিবীতে বিখ্যাত। অথচ এসম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানে না’ । এসময় প্রধান উপদেষ্টা ‘আমাদের এই ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেয়া যাবে না’ বলে মন্তব্য করে ‘প্যাডেল স্টিমার সহ যত পুরনো নৌযান আছে সবকটিই সংরক্ষনের ব্যবস্থা নিতে হবে’ বলেও জানিয়েছিলেন।
এসময় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত বলেন, ‘পিএস মাহসুদ কেবল একটি নৌযান নয়, এটি বাংলাদেশের নদীজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিক, আমরা চাই নতুন প্রজন্ম কাছে থেকে জানুক, দেখুক। এক সময় নদীপথই ছিল যোগাযোগ ও সংস্কৃতির প্রাণ’। তিনি ‘পিএস মাহসুদ’র পাশাপাশি পিএস অস্ট্রিচ ও পিএস লেপচা সহ অন্য পুরনো স্টিমারগুলোও সংস্কারের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে’ বলে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেছিলেন।
কিন্তু ইতোমধ্যে পিএস মাহসুদ ইজারাদারের কাছে হস্তান্তরের পরে পিএস অস্ট্রিচ’র ইজারাও চুড়ান্ত হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহেই ব্যাংক গ্যরান্টি পরিষোধ সাপেক্ষে নৌযানটি ৫ বছরের জন্য ইাজারাদারের কাছে চুড়ান্ত হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংস্থার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। ইতোপূর্বে ২০১৮ সালে ‘পিএস অস্ট্রিচ’ বেআইনীভাবে বিনা দরপত্রে ইজারা দেয়া হয় বিগত সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশে। ইজারাদার নৌযানটির উপরিকাঠামোর প্রায় পুরোটাই ভেঙে তছনছ করে দেয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়াও পরিরেশাধ করেনি। দীর্ঘদিন ইজারাদারের হাতে ‘আটক’ থাকার পরে ম্যজিষ্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে পিএস অস্ট্রিচ উদ্ধার করা হলেও বকেয়া আদায়ে আদালতে মামলা চলছে।
অপরদিকে সংস্থার হাতে থাকা ‘পিএস লেপচা’ ও পিএস টার্ণ’ নামের অপর দুটি নৌযানও মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষনহীন অবস্থায় অযতœ অবহেলায় পড়ে আছে। সংস্থাটির দায়িত্বশীল মহলের কেউ এসব নৌযানের মেরামত ও পূনর্বাশনের বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।
ফলে প্রধান উপদেষ্টার সামনে নৌ পরিবহন উপদেষ্টার ‘পিএস অস্ট্রিচ সহ সবগুলো প্যডেল নৌযানই ঐতিহ্য হিসেব সংরক্ষন করা হবে’ বলে যে ঘোষনা দিয়েছিলন, তা কতটুকু কার্যকর হবে, সে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে ওয়াকিবাহাল মহলে। এমনকি গত অক্টোবরে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বরিশালে গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে ‘নভেম্বর থেকে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে পিএস মাহসুদ যাত্রী পরিবহন করবে’ বলে জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ইয়ার্ডে নির্মিত পিএস মাহসুদ সহ বিআইডব্লিউটিসি’র হাতে থাকা ৪টি প্যডেল জাহাজই বিযুক্ত অবস্থায় এনে ১৯৩৮ থেকে ’৪৮ সালে কোলকাতার গার্ডেনরীচ শিপবিল্ডার্সে সংযোজন করা হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় অন্য আরো অন্তত ২৫টি প্যাডেল জাহাজের সাথে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হিস্যায় পরে ‘পিএস গাজী, পিএস মাহসুদ,পিএস অস্ট্রিচ, পিএস লেপচা ও পিএস টার্ণ’ নামের নৌযানগুলো। এসব নৌযান ১৯৪৮ সালে গঠিত ‘পাকিস্তান রিভার স্টিমার্স-পিআরএস’র তত্বাবধানে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে মেইল সার্ভিস এবং নারায়গঞ্জ-বরিশাল-খুলনা নৌপথে রকেট সার্ভিসেও দীর্ঘদিন চলাচল করে।
১৯৭৮ থেকে ’৮২ সালে বেলজীয় সরকারের আর্থিক ও কারিগড়ি সহায়তায় পিএস মাহসুদ, পিএস অষ্ট্রিাচ ও পিএএস লেপচা’ কয়লা চালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন সংযোজন সহ পরিপূর্ণ পূণর্বাশন করা হয়। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ হাইড্রোলিক গীয়ারের কারণে মাত্র ৩ হাজার ঘন্টা চলাচলের পরেই পূণর্বাশনকৃত ৩টি নৌযানই বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে সবগুলো নৌযানেই হাইড্রোলিক গীয়ারের পরিবর্তে মেকানিক্যাল গীয়ার সংযোজন সহ আরেক দফা পূনর্বাশন শেষে চালু করা হয়।
সে থেকে টানা ২৫ বছর মাহসুদ সহ এসব নৌযান ঢাকা-বরিশাল-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল-মোড়েলগঞ্জ নৌপথে যাত্রী পরিবহন করলেও দীর্ঘ অবহেলা ও উদাশীনতায় ২০২০ সালে সবগুলো প্যডেল জাহাজের মত ‘পিএস মাহসুদ’কেও বসিয়ে রাখা হয়।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৪
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫
বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক সহকারী শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম পাশে রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেহানা বেগম (৪৫) রাকুদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রেহানা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বেপরোয়া গতির বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদরাসার শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রেহানা বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর মাদরাসায় পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিচার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
সংবাদ পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে চালক ও বাস আটকের আশ্বাসসহ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করা হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ব্রেকিংনিউজ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২০

০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:১৭
রাষ্ট্রীয় নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে মেরামত শেষে ঐতিহ্যবাহী ‘পিএস মাহসুদ’ জাহাজটি বরিশাল-ঢাকা নৌপথে ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেব চালুর পরে আর দেখা নেই। প্রায় ৫ বছর বানিজ্যিক পরিচালন থেকে বাইরে রেখে কোটি টাকা ব্যায়ে মেরামত ও সংরক্ষন কাজ সমাপ্ত করে পিএস মাহসুদ গত ২৮ নভেম্বর ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেবে ঢাকা থেকে বরিশালে এবং ২৯ নভম্বর ঢাকায় ফেরত যায়। এর আগে ১৫ নভেম্বর মেরামতকৃত নৌযানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা। এমনকি মেরামতকৃত নৌযানটির পরিক্ষামূলক পরিচালনেও উপদেষ্টা ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে ভ্রমন করেছিলেন।
কিন্তু ৫ ডিসেম্বর নৌযানটির দ্বিতীয় বানিজ্যিক পরিচালনে বরিশালে এসে ৬ ডিসেম্বর ফেরত যাবার পরে আর বরিশাল মুখি হয়নি। গত ১২ ডিসেম্বর কয়েকজন বিদেশী কুটনীতিককে নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘পিএস মাহসুদ’এ ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে ভ্রমনের পরে তা ইজারাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ‘গ্রীন টুর এন্ড ট্রাভেলস’ মাসে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকার বিনিময়ে পিএস মাহসুদ ইজারা গ্রহন করার পরে আর বরিশালমুখি হয়নি। এমনকি ইজারা প্রদানের আগে নৌযানটি ‘সপ্তাহে অন্তত ১দিন বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চরাচল করবে’ বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হলেও সে কথা রাখেনি ইজারাদার সহ নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠানটিও। গত দু মাসে একবারও বরিশালবাসী পিএস মাহসুদ’র হুইসাল শোনেনি। তবে এখন সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র বলছে ‘ইজারাদার তার বানিজ্যিক সুবিধার বিবেচনায়ই নৌযানটি পরিচালন করছে। ফলে বিআইডব্লিউটিসি নৌযানটি সপ্তাহে অন্তত ১দিন ঢাকা ও বরিশাল থেকে, যথাক্রমে শুক্র ও শণিবার পরিচালন’র যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিল, তা তা আর কার্যকর রইল না।
ইজারাদার নৌযানটিতে কর্মরত সংস্থার ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ ২ লাখ টাকা এবং ইজারামূল্য বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ করছে বলে জানা গেছে। ৬ মাসের ভাড়া আগাম পরিশোধের বিনিময়ে দু বছরের জন্য নৌযানটি ইজারা চুক্তি করেছে বিআইডব্লিউটিসি। এব্যপারে বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ সলিম উল্লাহ ইতোপূর্বে জানিয়েছিলন, ‘আমরা পর্যটন বিকাশের স্বার্থেই পিএস মাহসদু’কে একটি দক্ষ ট্যুর অপারেটরকে দায়িত্ব দিচ্ছি। তবে ‘কোন বিশ^ ঐতিহ্য ইজারা দেয়া যায় কিনা’, এমন প্রশ্নের জবাবে এড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নৌযানটির সঠিক ব্যবহার ও দেশের পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।
উল্লেখ্য, নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন গত ১২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস’র সাথে সাক্ষাত করে পিএস মাহসুদ পুনরায় চালুর বিষয়টি অবহিত করলে তিনি এ বিষয়ে যথেষ্ঠ উচ্ছাস প্রকাশ করে ‘কোন ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেয়া হবে না’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এসময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের বৈচিত্রপূর্ণ নৌকার ডিজাইন পুরো পৃথিবীতে বিখ্যাত। অথচ এসম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানে না’ । এসময় প্রধান উপদেষ্টা ‘আমাদের এই ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেয়া যাবে না’ বলে মন্তব্য করে ‘প্যাডেল স্টিমার সহ যত পুরনো নৌযান আছে সবকটিই সংরক্ষনের ব্যবস্থা নিতে হবে’ বলেও জানিয়েছিলেন।
এসময় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত বলেন, ‘পিএস মাহসুদ কেবল একটি নৌযান নয়, এটি বাংলাদেশের নদীজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিক, আমরা চাই নতুন প্রজন্ম কাছে থেকে জানুক, দেখুক। এক সময় নদীপথই ছিল যোগাযোগ ও সংস্কৃতির প্রাণ’। তিনি ‘পিএস মাহসুদ’র পাশাপাশি পিএস অস্ট্রিচ ও পিএস লেপচা সহ অন্য পুরনো স্টিমারগুলোও সংস্কারের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে’ বলে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেছিলেন।
কিন্তু ইতোমধ্যে পিএস মাহসুদ ইজারাদারের কাছে হস্তান্তরের পরে পিএস অস্ট্রিচ’র ইজারাও চুড়ান্ত হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহেই ব্যাংক গ্যরান্টি পরিষোধ সাপেক্ষে নৌযানটি ৫ বছরের জন্য ইাজারাদারের কাছে চুড়ান্ত হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংস্থার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। ইতোপূর্বে ২০১৮ সালে ‘পিএস অস্ট্রিচ’ বেআইনীভাবে বিনা দরপত্রে ইজারা দেয়া হয় বিগত সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশে। ইজারাদার নৌযানটির উপরিকাঠামোর প্রায় পুরোটাই ভেঙে তছনছ করে দেয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়াও পরিরেশাধ করেনি। দীর্ঘদিন ইজারাদারের হাতে ‘আটক’ থাকার পরে ম্যজিষ্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে পিএস অস্ট্রিচ উদ্ধার করা হলেও বকেয়া আদায়ে আদালতে মামলা চলছে।
অপরদিকে সংস্থার হাতে থাকা ‘পিএস লেপচা’ ও পিএস টার্ণ’ নামের অপর দুটি নৌযানও মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষনহীন অবস্থায় অযতœ অবহেলায় পড়ে আছে। সংস্থাটির দায়িত্বশীল মহলের কেউ এসব নৌযানের মেরামত ও পূনর্বাশনের বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।
ফলে প্রধান উপদেষ্টার সামনে নৌ পরিবহন উপদেষ্টার ‘পিএস অস্ট্রিচ সহ সবগুলো প্যডেল নৌযানই ঐতিহ্য হিসেব সংরক্ষন করা হবে’ বলে যে ঘোষনা দিয়েছিলন, তা কতটুকু কার্যকর হবে, সে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে ওয়াকিবাহাল মহলে। এমনকি গত অক্টোবরে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বরিশালে গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে ‘নভেম্বর থেকে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে পিএস মাহসুদ যাত্রী পরিবহন করবে’ বলে জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ইয়ার্ডে নির্মিত পিএস মাহসুদ সহ বিআইডব্লিউটিসি’র হাতে থাকা ৪টি প্যডেল জাহাজই বিযুক্ত অবস্থায় এনে ১৯৩৮ থেকে ’৪৮ সালে কোলকাতার গার্ডেনরীচ শিপবিল্ডার্সে সংযোজন করা হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় অন্য আরো অন্তত ২৫টি প্যাডেল জাহাজের সাথে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হিস্যায় পরে ‘পিএস গাজী, পিএস মাহসুদ,পিএস অস্ট্রিচ, পিএস লেপচা ও পিএস টার্ণ’ নামের নৌযানগুলো। এসব নৌযান ১৯৪৮ সালে গঠিত ‘পাকিস্তান রিভার স্টিমার্স-পিআরএস’র তত্বাবধানে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে মেইল সার্ভিস এবং নারায়গঞ্জ-বরিশাল-খুলনা নৌপথে রকেট সার্ভিসেও দীর্ঘদিন চলাচল করে।
১৯৭৮ থেকে ’৮২ সালে বেলজীয় সরকারের আর্থিক ও কারিগড়ি সহায়তায় পিএস মাহসুদ, পিএস অষ্ট্রিাচ ও পিএএস লেপচা’ কয়লা চালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন সংযোজন সহ পরিপূর্ণ পূণর্বাশন করা হয়। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ হাইড্রোলিক গীয়ারের কারণে মাত্র ৩ হাজার ঘন্টা চলাচলের পরেই পূণর্বাশনকৃত ৩টি নৌযানই বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে সবগুলো নৌযানেই হাইড্রোলিক গীয়ারের পরিবর্তে মেকানিক্যাল গীয়ার সংযোজন সহ আরেক দফা পূনর্বাশন শেষে চালু করা হয়।
সে থেকে টানা ২৫ বছর মাহসুদ সহ এসব নৌযান ঢাকা-বরিশাল-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল-মোড়েলগঞ্জ নৌপথে যাত্রী পরিবহন করলেও দীর্ঘ অবহেলা ও উদাশীনতায় ২০২০ সালে সবগুলো প্যডেল জাহাজের মত ‘পিএস মাহসুদ’কেও বসিয়ে রাখা হয়।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।
বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক সহকারী শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম পাশে রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেহানা বেগম (৪৫) রাকুদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রেহানা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বেপরোয়া গতির বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদরাসার শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রেহানা বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর মাদরাসায় পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিচার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
সংবাদ পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে চালক ও বাস আটকের আশ্বাসসহ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করা হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ব্রেকিংনিউজ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’
একসময় ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ আর নদী-খালের সৌন্দর্যে ‘বাংলার ভেনিস’ নামে পরিচিত ছিল বরিশাল। বন্দরে দূর-দূরান্তের বণিকদের আনাগোনা ছিল। সেই বরিশাল এখন দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ। কৃষি উৎপাদন কমেছে, গড়ে ওঠেনি শিল্প-কারখানা, তৈরি হয়নি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। গ্যাসের বড় মজুদ থাকার পরও কাজে লাগানো যায়নি সেই সম্পদ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বরিশাল বিভাগে এ হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। একসময় দেশের দরিদ্রতম বিভাগ রংপুর হলেও এখন সেই অবস্থানে বরিশাল। কর্মসংস্থানের অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বরিশালের স্থানীয় বাসিন্দাদের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন ঢাকায় বসবাস করছে। স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বস্তিবাসীর প্রায় ১৩ শতাংশ বরিশালের।
বরিশালকে একসময় শস্যভাণ্ডার বলা হলেও ধান উৎপাদনে এখন পিছিয়ে পড়ছে বিভাগটি। বিবিএসের ইয়ারবুক অব অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৫ অনুযায়ী, আউশ উৎপাদনে বরিশাল চতুর্থ, আমনে পঞ্চম এবং বোরো উৎপাদনে অষ্টম।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভাগটিতে আউশ উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন।
পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টনে। আমন উৎপাদনও ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৯ টন থেকে কমে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ টনে নেমেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরিশাল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বাড়ায় অনেক জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষক বিকল্প হিসেবে চিংড়ি চাষসহ অন্য কাজে যাচ্ছেন।
আরো পড়ুন
মৎস্যসম্পদেও একই চিত্র। বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশালে ৩ লাখ ৭২ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার টন। তিন বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিবিএসের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ধান, গম ও শস্য উৎপাদনে বরিশালের কৃষকদের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা আট বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভোলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ সম্পদকে ঘিরে বড় শিল্পায়ন হয়নি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে শিল্প-কারখানা কার্যত সীমিত। বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল ছাড়া বাকি পাঁচ জেলায় উল্লেখযোগ্য কলকারখানা নেই। বরিশাল জেলায় কারখানা রয়েছে ৪০৯টি, যেখানে কাজ করেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যে ধরনের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কৃষি ও মৎস্যকে ঘিরে আগের অর্থনৈতিক তৎপরতাও কমেছে। ফলে কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নদীনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাব বরিশালের অর্থনৈতিক বিকাশে বড় বাধা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বড় রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী ছিলেন। পুরো অঞ্চলের জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং দুর্গম যোগাযোগের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প গড়ে ওঠেনি। ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার, পায়রা বন্দর সচল, কুয়াকাটায় পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলে যেতে পারে।
একসময় ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ আর নদী-খালের সৌন্দর্যে ‘বাংলার ভেনিস’ নামে পরিচিত ছিল বরিশাল। বন্দরে দূর-দূরান্তের বণিকদের আনাগোনা ছিল। সেই বরিশাল এখন দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ। কৃষি উৎপাদন কমেছে, গড়ে ওঠেনি শিল্প-কারখানা, তৈরি হয়নি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। গ্যাসের বড় মজুদ থাকার পরও কাজে লাগানো যায়নি সেই সম্পদ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বরিশাল বিভাগে এ হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। একসময় দেশের দরিদ্রতম বিভাগ রংপুর হলেও এখন সেই অবস্থানে বরিশাল। কর্মসংস্থানের অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বরিশালের স্থানীয় বাসিন্দাদের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন ঢাকায় বসবাস করছে। স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বস্তিবাসীর প্রায় ১৩ শতাংশ বরিশালের।
বরিশালকে একসময় শস্যভাণ্ডার বলা হলেও ধান উৎপাদনে এখন পিছিয়ে পড়ছে বিভাগটি। বিবিএসের ইয়ারবুক অব অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৫ অনুযায়ী, আউশ উৎপাদনে বরিশাল চতুর্থ, আমনে পঞ্চম এবং বোরো উৎপাদনে অষ্টম।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভাগটিতে আউশ উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন।
পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টনে। আমন উৎপাদনও ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৯ টন থেকে কমে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ টনে নেমেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরিশাল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বাড়ায় অনেক জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষক বিকল্প হিসেবে চিংড়ি চাষসহ অন্য কাজে যাচ্ছেন।
আরো পড়ুন
মৎস্যসম্পদেও একই চিত্র। বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশালে ৩ লাখ ৭২ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার টন। তিন বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিবিএসের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ধান, গম ও শস্য উৎপাদনে বরিশালের কৃষকদের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা আট বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভোলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ সম্পদকে ঘিরে বড় শিল্পায়ন হয়নি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে শিল্প-কারখানা কার্যত সীমিত। বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল ছাড়া বাকি পাঁচ জেলায় উল্লেখযোগ্য কলকারখানা নেই। বরিশাল জেলায় কারখানা রয়েছে ৪০৯টি, যেখানে কাজ করেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যে ধরনের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কৃষি ও মৎস্যকে ঘিরে আগের অর্থনৈতিক তৎপরতাও কমেছে। ফলে কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নদীনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাব বরিশালের অর্থনৈতিক বিকাশে বড় বাধা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বড় রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী ছিলেন। পুরো অঞ্চলের জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং দুর্গম যোগাযোগের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প গড়ে ওঠেনি। ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার, পায়রা বন্দর সচল, কুয়াকাটায় পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলে যেতে পারে।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৮
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:৫৬