ইলিশসহ সবধরনের মাছ শিকারে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। ফলে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞার সাতদিন পার হয়ে গেলেও জেলেদের কাছে পৌঁছেনি ভিজিএফের চাল। আর ওই চাল না পেয়ে রমজানের মধ্যে কষ্ট ও দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিন।
ভোলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল ও ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি মেঘনা নদীর পাড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীতে কদিন আগেও ট্রলার, নৌকা ও জালসহ মাছ শিকারের উপকরণ নিয়ে দাপিয়ে বেড়াত জেলেরা। আজ নিষেধাজ্ঞার কারণে নদী ও মৎস্য ঘাটে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়েছে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে।
ইলিশের অভয়াশ্রমের কারণে ভোলার ১৯০ কিলোমিটার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ নিষেধাজ্ঞা। তাই কেউ কেউ নদীর তীরে বসে জাল মেরামত করছেন। আবার কেউ কেউ ট্রলার মেরামতের কাজে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু কারো নেই কোনো আয়-রোজগার।
শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার জেলে মো. সাদ্দাম মাঝি জানান, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার আজ সাতদিন চলছে। আমরা জেলে এখন পর্যন্ত নদীতে গিয়ে মাছ ধরিনি। কিন্তু সরকারিভাবে চাল এখনও পাইনি।
একই এলাকার মো. শাজাহান মাঝি ও মাকসুদ মাঝি জানান, সাত দিন চলে গেছে। এখনও চাল আমাদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। আমাদের তো কাজ-কাম নেই, রোজগারও নেই, এখন কী করব? রমজান মাস চলছে, তার মধ্যে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে। এখন তো আমাদের অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
শিবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. রাকিব মাঝি জানান, সরকারি অভিযান মেনে তারা নদীতে যাচ্ছেন না। কিন্তু এনজিও থেকে কিস্তি আদায় বন্ধ হয়নি। সমিতির লোকজন সকাল-বিকেল আসেন কিস্তির টাকা নিতে। আমরা কী করব, আমাদের তো কোনো আয়-রোজগার নেই। এখনও যদি দুই মাসের কিস্তি আদায় বন্ধ না হয়, তাহলে কিস্তি পরিশোধের জন্য নদীতে গিয়ে মাছ ধরতে হবে।
ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার জেলে মো. সুমন মাঝি জানান, ১০–১২ বছর ধরে নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা পরিচালনা করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের জেলে কার্ড হয়নি। দুবার আইডি কার্ড জমা দিয়েছি। এখনও কার্ড হয়নি। অথচ জেলে না হয়েও জেলে কার্ড করছে। তারা জেলেদের চালও পায়। কিন্তু প্রকৃত জেলে হয়ে আমাদের জেলে কার্ড নেই।
একই এলাকার জেলে আরিফ মাঝি ও হাসান মাঝি জানান, আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই যেন আমাদের নিষেধাজ্ঞার চাল দ্রুত বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি যাদের এখনও জেলে নিবন্ধন হয়নি তাদের যাতে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসে। আর যারা জেলে না হয়ে জেলে কার্ড করে চাল নিচ্ছে, তাদের কার্ড বাতিল করা হোক।
ভোলা জেলা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত জাটকা আহরণ বিরত থাকা জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ শুরু হবে। এ চার মাস প্রতি জেলে ৪০ কেজি করে চাল পাবেন। আর জেলেদের নিবন্ধন হালনাগাদ চলছে। এতে অনিবন্ধিত জেলেদের বাদ দিয়ে প্রকৃত জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
জেলায় সাত উপজেলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যাও এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন। এ বছর জাটকা আহরণ বিরত থাকা জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ-এর চাল পাবেন প্রায় ৯০ হাজার ২০০ জন জেলে।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৬১ দিন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সবধরনের মাছ শিকার বন্ধ ঘোষণা করেছে মৎস্য বিভাগ।

২৯ জুলাই, ২০২৬ ০০:৩০
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’

২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩১
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

০৬ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৪৯
ইলিশসহ সবধরনের মাছ শিকারে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। ফলে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞার সাতদিন পার হয়ে গেলেও জেলেদের কাছে পৌঁছেনি ভিজিএফের চাল। আর ওই চাল না পেয়ে রমজানের মধ্যে কষ্ট ও দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিন।
ভোলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল ও ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি মেঘনা নদীর পাড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীতে কদিন আগেও ট্রলার, নৌকা ও জালসহ মাছ শিকারের উপকরণ নিয়ে দাপিয়ে বেড়াত জেলেরা। আজ নিষেধাজ্ঞার কারণে নদী ও মৎস্য ঘাটে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়েছে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জেলে।
ইলিশের অভয়াশ্রমের কারণে ভোলার ১৯০ কিলোমিটার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ নিষেধাজ্ঞা। তাই কেউ কেউ নদীর তীরে বসে জাল মেরামত করছেন। আবার কেউ কেউ ট্রলার মেরামতের কাজে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু কারো নেই কোনো আয়-রোজগার।
শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার জেলে মো. সাদ্দাম মাঝি জানান, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার আজ সাতদিন চলছে। আমরা জেলে এখন পর্যন্ত নদীতে গিয়ে মাছ ধরিনি। কিন্তু সরকারিভাবে চাল এখনও পাইনি।
একই এলাকার মো. শাজাহান মাঝি ও মাকসুদ মাঝি জানান, সাত দিন চলে গেছে। এখনও চাল আমাদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। আমাদের তো কাজ-কাম নেই, রোজগারও নেই, এখন কী করব? রমজান মাস চলছে, তার মধ্যে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে। এখন তো আমাদের অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
শিবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. রাকিব মাঝি জানান, সরকারি অভিযান মেনে তারা নদীতে যাচ্ছেন না। কিন্তু এনজিও থেকে কিস্তি আদায় বন্ধ হয়নি। সমিতির লোকজন সকাল-বিকেল আসেন কিস্তির টাকা নিতে। আমরা কী করব, আমাদের তো কোনো আয়-রোজগার নেই। এখনও যদি দুই মাসের কিস্তি আদায় বন্ধ না হয়, তাহলে কিস্তি পরিশোধের জন্য নদীতে গিয়ে মাছ ধরতে হবে।
ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার জেলে মো. সুমন মাঝি জানান, ১০–১২ বছর ধরে নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা পরিচালনা করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের জেলে কার্ড হয়নি। দুবার আইডি কার্ড জমা দিয়েছি। এখনও কার্ড হয়নি। অথচ জেলে না হয়েও জেলে কার্ড করছে। তারা জেলেদের চালও পায়। কিন্তু প্রকৃত জেলে হয়ে আমাদের জেলে কার্ড নেই।
একই এলাকার জেলে আরিফ মাঝি ও হাসান মাঝি জানান, আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই যেন আমাদের নিষেধাজ্ঞার চাল দ্রুত বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি যাদের এখনও জেলে নিবন্ধন হয়নি তাদের যাতে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসে। আর যারা জেলে না হয়ে জেলে কার্ড করে চাল নিচ্ছে, তাদের কার্ড বাতিল করা হোক।
ভোলা জেলা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত জাটকা আহরণ বিরত থাকা জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ শুরু হবে। এ চার মাস প্রতি জেলে ৪০ কেজি করে চাল পাবেন। আর জেলেদের নিবন্ধন হালনাগাদ চলছে। এতে অনিবন্ধিত জেলেদের বাদ দিয়ে প্রকৃত জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
জেলায় সাত উপজেলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যাও এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন। এ বছর জাটকা আহরণ বিরত থাকা জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ-এর চাল পাবেন প্রায় ৯০ হাজার ২০০ জন জেলে।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৬১ দিন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সবধরনের মাছ শিকার বন্ধ ঘোষণা করেছে মৎস্য বিভাগ।