গজারিয়া নদীর তলদেশের বিদ্যুতের কেব্ল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় টানা ছয় দিন ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা। এতে উপজেলার প্রায় চার লাখ বাসিন্দা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা; ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও মোবাইল যোগাযোগব্যবস্থা।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে মঙ্গলবার রাতে একটি মালবাহী জাহাজের নোঙরের আঘাতে কেব্লটি ছিঁড়ে যায়। এরপর থেকেই পুরো উপজেলা অন্ধকারে রয়েছে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) সূত্র জানায়, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলাটি নদীবেষ্টিত ও মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ২০০৪ সালে নলবুনিয়া এলাকায় গজারিয়া নদীর তলদেশ দিয়ে কেব্লের মাধ্যমে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে আছে ব্যাটারিচালিত যানবাহন। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। রেফ্রিজারেটর না চলায় ইনসুলিন, টিকা ও অ্যান্টিবায়োটিকের মতো জরুরি ওষুধপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা কার্যক্রমও প্রায় ভেঙে পড়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট যোগাযোগও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাজার ও দোকানপাটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।
সঞ্জীব কর্মকার নামের একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, 'ভেবেছিলাম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ চলে আসবে, কিন্তু পাঁচ দিন পেরিয়ে গেছে। জীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।'
মেহেন্দিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, 'গজারিয়া নদীর নিচের সাবমেরিন কেব্লটি সম্ভবত কোনো নৌযানের নোঙরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট থেকে ১৭টি ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ আছে। ডুবুরিরা এরই মধ্যে ত্রুটি শনাক্ত করেছেন এবং মেরামতের কাজ চলছে। মেরামত সম্ভব না হলে নতুন কেব্ল স্থাপন করতে হবে।'
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী যোগ করেন, ডুবুরিরা টানা চার দিন ধরে কাজ করছেন, কিন্তু সাড়ে চার কিলোমিটের বেশি প্রশস্ত এই নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় মেরামতকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৮
বরিশালের বাবুগঞ্জে বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। 'ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি' -এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, অগ্নিনির্বাপণী মহড়া এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এক বর্ণিল শোভাযাত্রার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের নানা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সোহেল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ন-আহবায়ক আব্দুল করিম হাওলাদার।
উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সোহেল হোসেন। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুর রহমান সন্ন্যামত, বাবুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার জাহিদুল ইসলাম, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুজন সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না, বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও বাবুগঞ্জ ও বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সাংবাদিক এবং বাবুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ফাইটাররা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার আগে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে একটি অগ্নিনির্বাপণী মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ওই মহড়ার দুর্যোগকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং অগ্নিনির্বাপণের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রদর্শন করা হয়।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, 'বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য সবার আগে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট দুর্যোগের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বাবুগঞ্জ অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু এবং বসতঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা অহরহ ঘটছে। অগ্নিনির্বাপণে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার এবং জনসমাগম হয় এমন স্থানে ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণ মহড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও বজ্রপাত প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে ৩ শতাধিক তালগাছের চারা রোপণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক ছাড়াও বজ্রপাতে কৃষকদের সুরক্ষায় এসব তালচারা ক্ষেতের পাশে ও বিভিন্ন কৃষি ব্লকের সীমানায় রোপণ করা হবে।' #
বরিশালের বাবুগঞ্জে বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। 'ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি' -এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, অগ্নিনির্বাপণী মহড়া এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এক বর্ণিল শোভাযাত্রার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের নানা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সোহেল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ন-আহবায়ক আব্দুল করিম হাওলাদার।
উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সোহেল হোসেন। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুর রহমান সন্ন্যামত, বাবুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার জাহিদুল ইসলাম, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুজন সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না, বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও বাবুগঞ্জ ও বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সাংবাদিক এবং বাবুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ফাইটাররা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার আগে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে একটি অগ্নিনির্বাপণী মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ওই মহড়ার দুর্যোগকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং অগ্নিনির্বাপণের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রদর্শন করা হয়।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, 'বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য সবার আগে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট দুর্যোগের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বাবুগঞ্জ অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু এবং বসতঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা অহরহ ঘটছে। অগ্নিনির্বাপণে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার এবং জনসমাগম হয় এমন স্থানে ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণ মহড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও বজ্রপাত প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে ৩ শতাধিক তালগাছের চারা রোপণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক ছাড়াও বজ্রপাতে কৃষকদের সুরক্ষায় এসব তালচারা ক্ষেতের পাশে ও বিভিন্ন কৃষি ব্লকের সীমানায় রোপণ করা হবে।' #

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩৩
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ফটোকপি মেশিন, স্ট্যান্ড ও পেপার শ্রেডার সরবরাহের কাজ পেয়েও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মালামাল সরবরাহ করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে চুক্তির কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির নামে ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ১০ টাকার চেক প্রস্তুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তর।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার এ দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ই-জিপি পোর্টালে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) আহ্বান করা দরপত্রে ১৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় কাজটি পায় ঢাকার পুরানা পল্টনের প্রতিষ্ঠান 'উইন ইন্টারন্যাশনাল'। চুক্তি অনুযায়ী, কার্যাদেশ পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সব মালামাল সরবরাহ করার কথা ছিল। নির্ধারিত শর্তে চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে কার্যাদেশ বাতিলের বিধানও রয়েছে।
দরপত্রের নথি অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সে হিসাবে নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে মালামাল সরবরাহের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি সব সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারেনি।
অভিযোগ রয়েছে, মালামাল সম্পূর্ণ সরবরাহ না হলেও নথিতে সেগুলো গ্রহণের তথ্য দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির নামে প্রায় ১৫ লাখ টাকার চেক প্রস্তুত করা হয়েছে।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টোরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শুধু ফটোকপি মেশিনের স্ট্যান্ডগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে। কোনো ফটোকপি মেশিন কিংবা পেপার শ্রেডার পাওয়া যায়নি।
কাজের অগ্রগতি ও মালামাল সরবরাহের বিষয়ে জানতে উইন ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. সুমনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা শুধু ফটোকপির স্ট্যান্ডগুলো পেয়েছি। বাকি কোনো কিছুই পাইনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আপনি পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক স্যারের সাথে কথা বলতে বলেন।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক হুমায়ুন কবির বলেন, জুন মাসে আমাদের ক্লোজিং মাস তার আগে আমাদের গোছায় রাখতে হয়। টাকাটা ধরে রাখতে হয়। মাল যখন আসবে, তখন টাকা দিতে হবে। যে মালগুলোর কথা বলছেন, সেগুলো বাংলাদেশে ছিল না। এ কারণে তারা দিতে পারেনি। আর আমিও ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে একাধিক বার ফোন করে পাচ্ছি না।
এদিকে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত কুমার বাহাদুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে চেক প্রস্তুতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা দপ্তর ও কেন্দ্রীয় স্টোরের একটি লিখিত রয়েছে। যেহেতু তারা ই-জিপিতে কাজ পেয়েছে এবং কোম্পানি মাল দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছে, এজন্য ভ্যাট-ট্যাক্স কেটে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ১০ টাকার একটি চেক প্রস্তুত করে রেখেছি। আবার জুন ক্লোজিং করতে হয়েছে। এখন মাল পুরোপুরি না দিলে চেক বাতিল হবে।
এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আব্দুল আলিম বছির বলেন, ঘটনা সত্য হলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ফটোকপি মেশিন, স্ট্যান্ড ও পেপার শ্রেডার সরবরাহের কাজ পেয়েও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মালামাল সরবরাহ করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে চুক্তির কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির নামে ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ১০ টাকার চেক প্রস্তুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তর।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার এ দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ই-জিপি পোর্টালে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) আহ্বান করা দরপত্রে ১৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় কাজটি পায় ঢাকার পুরানা পল্টনের প্রতিষ্ঠান 'উইন ইন্টারন্যাশনাল'। চুক্তি অনুযায়ী, কার্যাদেশ পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সব মালামাল সরবরাহ করার কথা ছিল। নির্ধারিত শর্তে চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে কার্যাদেশ বাতিলের বিধানও রয়েছে।
দরপত্রের নথি অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সে হিসাবে নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে মালামাল সরবরাহের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি সব সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারেনি।
অভিযোগ রয়েছে, মালামাল সম্পূর্ণ সরবরাহ না হলেও নথিতে সেগুলো গ্রহণের তথ্য দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির নামে প্রায় ১৫ লাখ টাকার চেক প্রস্তুত করা হয়েছে।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টোরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শুধু ফটোকপি মেশিনের স্ট্যান্ডগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে। কোনো ফটোকপি মেশিন কিংবা পেপার শ্রেডার পাওয়া যায়নি।
কাজের অগ্রগতি ও মালামাল সরবরাহের বিষয়ে জানতে উইন ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. সুমনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা শুধু ফটোকপির স্ট্যান্ডগুলো পেয়েছি। বাকি কোনো কিছুই পাইনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আপনি পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক স্যারের সাথে কথা বলতে বলেন।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক হুমায়ুন কবির বলেন, জুন মাসে আমাদের ক্লোজিং মাস তার আগে আমাদের গোছায় রাখতে হয়। টাকাটা ধরে রাখতে হয়। মাল যখন আসবে, তখন টাকা দিতে হবে। যে মালগুলোর কথা বলছেন, সেগুলো বাংলাদেশে ছিল না। এ কারণে তারা দিতে পারেনি। আর আমিও ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে একাধিক বার ফোন করে পাচ্ছি না।
এদিকে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত কুমার বাহাদুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে চেক প্রস্তুতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা দপ্তর ও কেন্দ্রীয় স্টোরের একটি লিখিত রয়েছে। যেহেতু তারা ই-জিপিতে কাজ পেয়েছে এবং কোম্পানি মাল দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছে, এজন্য ভ্যাট-ট্যাক্স কেটে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ১০ টাকার একটি চেক প্রস্তুত করে রেখেছি। আবার জুন ক্লোজিং করতে হয়েছে। এখন মাল পুরোপুরি না দিলে চেক বাতিল হবে।
এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আব্দুল আলিম বছির বলেন, ঘটনা সত্য হলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৬
তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মুখে বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন সেই শিক্ষার্থী। প্রাইমেরি শাখা খোলার খবরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির গুটিকয়েক শিক্ষার্থী সোমবার আন্দোলন শুরু করে এবং এনিয়ে অধ্যক্ষের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়ে। একজন শিক্ষকের সাথে শিক্ষার্থীর এমন আচরণের ভিডিওটি এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তোলপাড়। বিশেষ করে সুশীলসমাজ-সাংবাদিক এবং শিক্ষকেরা এই ঘটনাকে লজ্জাজনক ও ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে তুলে ধরে বেয়াদব শিক্ষার্থীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। এতে পরিবেশ বেগতিক হয়ে উঠলে একদিনের মাথায় মঙ্গলবার সেই আলোচিত শিক্ষার্থী আন্দোলনরতদের নিয়ে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহার কাছে গিয়ে পা ধরে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বেলসপার্কসংলগ্ন বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাইমেরী শাখা চালুর খবরে সোমবার দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার সাথে তর্ক এবং বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তখন দ্বাদশ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে আঙ্গুল উচিয়ে অধ্যক্ষকে হুমকি দিতে দেখা যায়, যার ভিডিওচিত্র সাংবাদিকেরা ক্যামেরায় ধারন করেন। সেই ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সমাজপাতায় ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় বিতর্ক।
বিশেষ করে বিএম কলেজের সাবেক এই শিক্ষকের সাথে এমন রূঢ় আচরণের ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন সাবেক শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ, যারা এখন প্রশাসন-সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীদের বেয়াদব আখ্যায়িত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ারও জোর দাবি ওঠে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পারিবারিক এবং সামাজিক শিক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ২০০৭ সালে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। কিন্তু সাবেক জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন ২০২৬ সালে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়। কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন প্রধান অতিথি হয়েছিলেন। তখন তিনি অভিভাবকদের দাবির প্রেক্ষিতে আবারও প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনিয়ে কজন শিক্ষকের উস্কানিতে শিক্ষার্থীরা বেসামাল হয়ে উঠে এবং অধ্যক্ষের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। সেখানে গিয়ে এই শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ¦ায়ক আফরোজা খানম নাসরিন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শিক্ষকের সাথে অসদ আচরণের এই ঘটনা নিয়ে সোমবার রাতভর ফেসবুকে নেতিবাচক লেখালেখি হলেও ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। এবং এ ঘটনার নেপথ্য কুশীলব একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কজন সিনিয়র শিক্ষক ও বরিশাল মহানগর বিএনপি নেত্রীর নাম সামনে আসে। সূত্র বলছে, স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে সিটি প্রশাসক বিএনপি নেত্রী বিলকিস জাহান শিরিন এবং নাসরিনের মধ্যেকার সম্পর্ক সাপেনেউলে। কোথায় সিটি প্রশাসক হস্তক্ষেপ রাখলে নাসরিনও সেখানে অতিউৎসাহী হয়ে ওঠেন।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ হেনস্তার এই ঘটনাটি সরকারের উচ্চমহলের নজরে গিয়েছে এবং এর নেপথ্য অনুঘটক কারা তা অনুসন্ধানে নির্দেশনা আসতে পারে। সম্ভব্য বিপদের আলামত পেয়ে আড়ালের কুশীলবেরা সোমবার রাতের পরিবেশ পর্যবেক্ষক পরবর্তী শিক্ষার্থীদের দিয়ে ক্ষমা চাইয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।
দ্বাদশ শ্রেণির সেই শিক্ষার্থী মঙ্গলবার অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চাইতে গিয়ে বলেন, সোমবার তারা উত্তেজিত ছিলেন, নিজেদের কন্ট্রোল করতে পারেননি। বিষয়টি পরবর্তীতে উপলব্ধি হয় এবং এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
আলোচিত শিক্ষক অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহা সাংবাদিক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দেন এবং তাদের ক্লাসে ফিরতে নির্দেশ দেন। সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সাবেক এই শিক্ষক সৎ এবং পরিচ্ছন্ন হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
এই পুরো ঘটনায় তার ভাষ্য হচ্ছে, ২০০৭ সালে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। কিন্তু সাবেক জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন ২০২৬ সালে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়। কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন প্রধান অতিথি হয়ে আসলে তখন তার কাছে অভিভাবকদের তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি ব্যবস্থার দাবি রাখেন। সেই দাবির প্রেক্ষাপটে আবারও প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলন করতে গিয়ে উদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করেছিল।
প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের দাবি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে একটি পক্ষ ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ এবং সংবাদমাধ্যমের জোরালো প্রতিবাদের মুখে সেই ষড়যন্ত্র ধোপে টেকেনি। মঙ্গলবার সেই শিক্ষার্থীরা অভিভাবক সহকারে এসে অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, তিনিও তাদের মন থেকে মার্জনা করেছেন।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহার বক্তব্য হচ্ছে, ‘সবাই আমার সন্তানের মতো। আমার সন্তান তাদের চেয়ে অন্তত ৫-৬ বছরের বড়। সন্তান অনেক সময় বাবা-মায়ের সাথে ভুল-ত্রুটি করে থাকে, তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। শিক্ষকের এই ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়টি নীতিবিবর্জিত সমাজে অনুকরণীয় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল— এমনটি মন্তব্য পাওয়া গেছে।’
তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মুখে বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন সেই শিক্ষার্থী। প্রাইমেরি শাখা খোলার খবরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির গুটিকয়েক শিক্ষার্থী সোমবার আন্দোলন শুরু করে এবং এনিয়ে অধ্যক্ষের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়ে। একজন শিক্ষকের সাথে শিক্ষার্থীর এমন আচরণের ভিডিওটি এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তোলপাড়। বিশেষ করে সুশীলসমাজ-সাংবাদিক এবং শিক্ষকেরা এই ঘটনাকে লজ্জাজনক ও ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে তুলে ধরে বেয়াদব শিক্ষার্থীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। এতে পরিবেশ বেগতিক হয়ে উঠলে একদিনের মাথায় মঙ্গলবার সেই আলোচিত শিক্ষার্থী আন্দোলনরতদের নিয়ে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহার কাছে গিয়ে পা ধরে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বেলসপার্কসংলগ্ন বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাইমেরী শাখা চালুর খবরে সোমবার দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার সাথে তর্ক এবং বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তখন দ্বাদশ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে আঙ্গুল উচিয়ে অধ্যক্ষকে হুমকি দিতে দেখা যায়, যার ভিডিওচিত্র সাংবাদিকেরা ক্যামেরায় ধারন করেন। সেই ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সমাজপাতায় ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় বিতর্ক।
বিশেষ করে বিএম কলেজের সাবেক এই শিক্ষকের সাথে এমন রূঢ় আচরণের ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন সাবেক শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ, যারা এখন প্রশাসন-সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীদের বেয়াদব আখ্যায়িত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ারও জোর দাবি ওঠে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পারিবারিক এবং সামাজিক শিক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ২০০৭ সালে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। কিন্তু সাবেক জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন ২০২৬ সালে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়। কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন প্রধান অতিথি হয়েছিলেন। তখন তিনি অভিভাবকদের দাবির প্রেক্ষিতে আবারও প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনিয়ে কজন শিক্ষকের উস্কানিতে শিক্ষার্থীরা বেসামাল হয়ে উঠে এবং অধ্যক্ষের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। সেখানে গিয়ে এই শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ¦ায়ক আফরোজা খানম নাসরিন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শিক্ষকের সাথে অসদ আচরণের এই ঘটনা নিয়ে সোমবার রাতভর ফেসবুকে নেতিবাচক লেখালেখি হলেও ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। এবং এ ঘটনার নেপথ্য কুশীলব একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কজন সিনিয়র শিক্ষক ও বরিশাল মহানগর বিএনপি নেত্রীর নাম সামনে আসে। সূত্র বলছে, স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে সিটি প্রশাসক বিএনপি নেত্রী বিলকিস জাহান শিরিন এবং নাসরিনের মধ্যেকার সম্পর্ক সাপেনেউলে। কোথায় সিটি প্রশাসক হস্তক্ষেপ রাখলে নাসরিনও সেখানে অতিউৎসাহী হয়ে ওঠেন।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ হেনস্তার এই ঘটনাটি সরকারের উচ্চমহলের নজরে গিয়েছে এবং এর নেপথ্য অনুঘটক কারা তা অনুসন্ধানে নির্দেশনা আসতে পারে। সম্ভব্য বিপদের আলামত পেয়ে আড়ালের কুশীলবেরা সোমবার রাতের পরিবেশ পর্যবেক্ষক পরবর্তী শিক্ষার্থীদের দিয়ে ক্ষমা চাইয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।
দ্বাদশ শ্রেণির সেই শিক্ষার্থী মঙ্গলবার অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চাইতে গিয়ে বলেন, সোমবার তারা উত্তেজিত ছিলেন, নিজেদের কন্ট্রোল করতে পারেননি। বিষয়টি পরবর্তীতে উপলব্ধি হয় এবং এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
আলোচিত শিক্ষক অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহা সাংবাদিক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দেন এবং তাদের ক্লাসে ফিরতে নির্দেশ দেন। সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সাবেক এই শিক্ষক সৎ এবং পরিচ্ছন্ন হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
এই পুরো ঘটনায় তার ভাষ্য হচ্ছে, ২০০৭ সালে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। কিন্তু সাবেক জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন ২০২৬ সালে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়। কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন প্রধান অতিথি হয়ে আসলে তখন তার কাছে অভিভাবকদের তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি ব্যবস্থার দাবি রাখেন। সেই দাবির প্রেক্ষাপটে আবারও প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলন করতে গিয়ে উদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করেছিল।
প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের দাবি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে একটি পক্ষ ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ এবং সংবাদমাধ্যমের জোরালো প্রতিবাদের মুখে সেই ষড়যন্ত্র ধোপে টেকেনি। মঙ্গলবার সেই শিক্ষার্থীরা অভিভাবক সহকারে এসে অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, তিনিও তাদের মন থেকে মার্জনা করেছেন।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহার বক্তব্য হচ্ছে, ‘সবাই আমার সন্তানের মতো। আমার সন্তান তাদের চেয়ে অন্তত ৫-৬ বছরের বড়। সন্তান অনেক সময় বাবা-মায়ের সাথে ভুল-ত্রুটি করে থাকে, তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। শিক্ষকের এই ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়টি নীতিবিবর্জিত সমাজে অনুকরণীয় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল— এমনটি মন্তব্য পাওয়া গেছে।’

৩১ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:৫৪
গজারিয়া নদীর তলদেশের বিদ্যুতের কেব্ল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় টানা ছয় দিন ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা। এতে উপজেলার প্রায় চার লাখ বাসিন্দা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা; ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও মোবাইল যোগাযোগব্যবস্থা।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে মঙ্গলবার রাতে একটি মালবাহী জাহাজের নোঙরের আঘাতে কেব্লটি ছিঁড়ে যায়। এরপর থেকেই পুরো উপজেলা অন্ধকারে রয়েছে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) সূত্র জানায়, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলাটি নদীবেষ্টিত ও মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ২০০৪ সালে নলবুনিয়া এলাকায় গজারিয়া নদীর তলদেশ দিয়ে কেব্লের মাধ্যমে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে আছে ব্যাটারিচালিত যানবাহন। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। রেফ্রিজারেটর না চলায় ইনসুলিন, টিকা ও অ্যান্টিবায়োটিকের মতো জরুরি ওষুধপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা কার্যক্রমও প্রায় ভেঙে পড়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট যোগাযোগও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাজার ও দোকানপাটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।
সঞ্জীব কর্মকার নামের একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, 'ভেবেছিলাম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ চলে আসবে, কিন্তু পাঁচ দিন পেরিয়ে গেছে। জীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।'
মেহেন্দিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, 'গজারিয়া নদীর নিচের সাবমেরিন কেব্লটি সম্ভবত কোনো নৌযানের নোঙরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট থেকে ১৭টি ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ আছে। ডুবুরিরা এরই মধ্যে ত্রুটি শনাক্ত করেছেন এবং মেরামতের কাজ চলছে। মেরামত সম্ভব না হলে নতুন কেব্ল স্থাপন করতে হবে।'
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী যোগ করেন, ডুবুরিরা টানা চার দিন ধরে কাজ করছেন, কিন্তু সাড়ে চার কিলোমিটের বেশি প্রশস্ত এই নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় মেরামতকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩৪
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩১
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৫
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫৩