অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে বরিশালে আসা এবং শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করাসহ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগ্রহণে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ছাত্র-জনতা। রোববার বিকেল ৫টার দিকে সংগঠক মহিউদ্দিন রনির এমন আল্টিমেটাম ঘোষণা পরপরই বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এর আগে বেলা ১১টা থেকে টানা চতুর্থ দিনের মতো শহরের নথুল্লাবাদ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে ছাত্র-জনতা। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বরিশালের কিছু অংশসহ পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী এবং পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সবরকম যানবাহন চলাচল রয়েছে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।
জানা গেছে, স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং শেবাচিম হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধ করাসহ ৩ দফা দাবিতে দুই সপ্তাহ আগে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে বরিশালে আসেন সংগঠক মহিউদ্দিন রনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত এই শিক্ষার্থীর ডাকে সাড়া দিয়ে যৌক্তিক ইস্যুতে রাজপথে নেমে আসেন শতশত মানুষ। প্রথম ১০ দিন তারা বরিশাল শহরের সদর রোড অশ্বিনী কুমার হলের সম্মুখে মানববন্ধনসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে ছাত্র-জনতা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়। গত ৪ দিন যাবৎ বেলা ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্র-জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করা নিয়ে শনিবার বাস শ্রমিকদের সাথে ছাত্র-জনতার হাতাহাতির মতো ঘটনাও ঘটে। কিন্তু স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং শেবাচিম হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধ করা ইস্যুটি যৌক্তিক হওয়ায় উভয়পক্ষ রাতে বৈঠক করে সমঝোতায় আসেন। এবং ছাত্র-জনতার সড়ক অবরোধ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকে।
জানা গেছে, রোববার ১১টায় চতুর্থ দিনের মতো নথুল্লাবাদ এলাকায় রনির নেতৃত্বে মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কের দুই পাশে কয়েক শ যানবাহন আটকে যায়। এবং যাত্রী সাধারণকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। এদিন দুপুর ২টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে সংগঠক মহিউদ্দিন রনিসহ ছাত্র-জনতাকে সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলেও সেখানে উত্তেজনাকর পরিবেশ-পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ফয়জুল করিমসহ তার অনুগত কর্মী-সমর্থকেরা। এরপরে দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ রাখা হয় এবং বিকেল ৫টার দিকে সেখানে সাংবাদিক সম্মেলন করে ছাত্র-জনতা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সরে যান।
২০২২ সালে রেলওয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে প্রতিবাদ করে আলোচনায় আসা রনি রূপালী বাংলাদেশকে জানান, স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং শেবাচিম হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধ করাসহ ৩ দফা দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছে। কিন্তু এই যৌক্তিক ইস্যু নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা তার স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কোনো মাথা ব্যথা নেই। রোববার সড়ক ছেড়ে দিয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশালে আসবেন এবং শেবাচিমের দুর্নীতি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন। নতুবা সাধারণ মানুষের এই দাবি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও কঠোর কর্মসূচির বিষয়টিও আলোচনায় রাখা হয়েছে।
ছাত্র-জনতা রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার পরে যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করছে এবং যাত্রী সাধারণের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন সিকদার। তিনি জানান, তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা রোববারও মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে বিকেল ৫টার দিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে শেবাচিমের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দিয়েছে। এদিন বেলা ১১টায় শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর।

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:০৯
বরিশালের বানারীপাড়ায় ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মান্নান জুয়েলকে ১৪ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল র্যাব-৮ এর মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. শাহরিয়ার রিফাত অভি বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) রাতে র্যাব-৭ এর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুল মান্নান জুয়েল (৩৫) বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের আব্দুল হক মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, মান্নান জুয়েলের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণেন অভিযোগে ২০১২ সালে বরিশালের বানারীপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় জুয়েলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরোয়ানা তামিলকারী বানারীপাড়া থানার কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-৮ অধিনায়ক বরাবর একটি অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৮ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১ সেপ্টেম্বর রাতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জুয়েলকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বরিশালের বানারীপাড়ায় ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মান্নান জুয়েলকে ১৪ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল র্যাব-৮ এর মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. শাহরিয়ার রিফাত অভি বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) রাতে র্যাব-৭ এর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুল মান্নান জুয়েল (৩৫) বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের আব্দুল হক মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, মান্নান জুয়েলের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণেন অভিযোগে ২০১২ সালে বরিশালের বানারীপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় জুয়েলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরোয়ানা তামিলকারী বানারীপাড়া থানার কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-৮ অধিনায়ক বরাবর একটি অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৮ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১ সেপ্টেম্বর রাতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জুয়েলকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১৯
২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে মোসা. সেলিনা বেগমের বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার। সেদিন রাতে গোয়েন্দা (ডিবি) পরিচয়ে টিপুকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর এক দিন পরই টিপুকে ক্রসফায়ারে হত্যা করার খবর পান সেলিনা বেগম।
বরিশালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ার দেওয়ার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ মঙ্গলবার সাক্ষী হিসেবে সেলিনা বেগম এ কথা বলেন।
সেলিনা বেগমের ভাগনির স্বামী টিপু হাওলাদার। ২০১১ সালে সাক্ষীর ভাগনির সঙ্গে টিপুর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়।
আজকের জবানবন্দিতে সেলিনা বেগম বলেন, টিপু হাওলাদার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরের বাড়িতে আসেন টিপু হাওলাদার। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তাঁর বাসায় ডিবি পুলিশ আসে। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলে আসা লোকজন জানান যে তাঁরা বরিশাল থেকে এসেছেন এবং তাঁদের সঙ্গে ঢাকার কিছু লোক আছেন। তাঁরা টিপুকে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে যান।
সাক্ষী সেলিনা আরও বলেন, এ ঘটনার সময় তিনি চিৎকার করেন। তখন পাশের বাসা থেকে নাহার বেগম নামে একজন প্রতিবেশী এগিয়ে আসেন। তাঁরা দুজন টিপুকে যে স্থানে গাড়িতে তোলা হয়, সে পর্যন্ত যান। সে রাতেই ভাগনিকে ফোন দিয়ে তিনি ঘটনা জানান। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনে দেখেন টিপু ও কবির নামে দুজন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। তাঁর ভাগনির কাছে তিনি শুনেছেন, অন্য থানার দুজন পুলিশ টিপুকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করেছেন।
এ মামলায় চারজন আসামি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক। অপর দুই আসামি বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম এবং মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।’
২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে মোসা. সেলিনা বেগমের বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার। সেদিন রাতে গোয়েন্দা (ডিবি) পরিচয়ে টিপুকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর এক দিন পরই টিপুকে ক্রসফায়ারে হত্যা করার খবর পান সেলিনা বেগম।
বরিশালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ার দেওয়ার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ মঙ্গলবার সাক্ষী হিসেবে সেলিনা বেগম এ কথা বলেন।
সেলিনা বেগমের ভাগনির স্বামী টিপু হাওলাদার। ২০১১ সালে সাক্ষীর ভাগনির সঙ্গে টিপুর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়।
আজকের জবানবন্দিতে সেলিনা বেগম বলেন, টিপু হাওলাদার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরের বাড়িতে আসেন টিপু হাওলাদার। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তাঁর বাসায় ডিবি পুলিশ আসে। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলে আসা লোকজন জানান যে তাঁরা বরিশাল থেকে এসেছেন এবং তাঁদের সঙ্গে ঢাকার কিছু লোক আছেন। তাঁরা টিপুকে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে যান।
সাক্ষী সেলিনা আরও বলেন, এ ঘটনার সময় তিনি চিৎকার করেন। তখন পাশের বাসা থেকে নাহার বেগম নামে একজন প্রতিবেশী এগিয়ে আসেন। তাঁরা দুজন টিপুকে যে স্থানে গাড়িতে তোলা হয়, সে পর্যন্ত যান। সে রাতেই ভাগনিকে ফোন দিয়ে তিনি ঘটনা জানান। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনে দেখেন টিপু ও কবির নামে দুজন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। তাঁর ভাগনির কাছে তিনি শুনেছেন, অন্য থানার দুজন পুলিশ টিপুকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করেছেন।
এ মামলায় চারজন আসামি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক। অপর দুই আসামি বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম এবং মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।’

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৫
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে অনশনে বসেছেন বিভাগের প্রায় ১৩০ শিক্ষার্থী।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে উপাচার্যের দপ্তরের সামনে অনশন করছেন তারা। বিকেল ৫টার দিকে চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকসহ বিভাগের অন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে সেখানে গেলে সেখানে হাফিজ আশরাফুল হককে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান সজিব বলেন, ‘স্বৈরাচার হাফিজ আশরাফুল হকের অপসারণের দাবিতে আমরা অনশনে বসেছি। তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবে।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা চলছে। বিভাগে পক্ষপাতমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা, সেশনজটসহ বিভিন্ন সমস্যার জন্য তারা বর্তমান চেয়ারম্যানকে দায়ী করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে চেয়ারম্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক থেকে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে হাফিজ আশরাফুল হক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগটির মাত্র দুটি ব্যাচ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে অনশনে বসেছেন বিভাগের প্রায় ১৩০ শিক্ষার্থী।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে উপাচার্যের দপ্তরের সামনে অনশন করছেন তারা। বিকেল ৫টার দিকে চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকসহ বিভাগের অন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে সেখানে গেলে সেখানে হাফিজ আশরাফুল হককে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান সজিব বলেন, ‘স্বৈরাচার হাফিজ আশরাফুল হকের অপসারণের দাবিতে আমরা অনশনে বসেছি। তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবে।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা চলছে। বিভাগে পক্ষপাতমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা, সেশনজটসহ বিভিন্ন সমস্যার জন্য তারা বর্তমান চেয়ারম্যানকে দায়ী করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে চেয়ারম্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক থেকে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে হাফিজ আশরাফুল হক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগটির মাত্র দুটি ব্যাচ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছে।

১১ আগস্ট, ২০২৫ ০০:৫৪
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে বরিশালে আসা এবং শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করাসহ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগ্রহণে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ছাত্র-জনতা। রোববার বিকেল ৫টার দিকে সংগঠক মহিউদ্দিন রনির এমন আল্টিমেটাম ঘোষণা পরপরই বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এর আগে বেলা ১১টা থেকে টানা চতুর্থ দিনের মতো শহরের নথুল্লাবাদ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে ছাত্র-জনতা। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বরিশালের কিছু অংশসহ পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী এবং পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সবরকম যানবাহন চলাচল রয়েছে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।
জানা গেছে, স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং শেবাচিম হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধ করাসহ ৩ দফা দাবিতে দুই সপ্তাহ আগে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে বরিশালে আসেন সংগঠক মহিউদ্দিন রনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত এই শিক্ষার্থীর ডাকে সাড়া দিয়ে যৌক্তিক ইস্যুতে রাজপথে নেমে আসেন শতশত মানুষ। প্রথম ১০ দিন তারা বরিশাল শহরের সদর রোড অশ্বিনী কুমার হলের সম্মুখে মানববন্ধনসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে ছাত্র-জনতা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়। গত ৪ দিন যাবৎ বেলা ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্র-জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করা নিয়ে শনিবার বাস শ্রমিকদের সাথে ছাত্র-জনতার হাতাহাতির মতো ঘটনাও ঘটে। কিন্তু স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং শেবাচিম হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধ করা ইস্যুটি যৌক্তিক হওয়ায় উভয়পক্ষ রাতে বৈঠক করে সমঝোতায় আসেন। এবং ছাত্র-জনতার সড়ক অবরোধ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকে।
জানা গেছে, রোববার ১১টায় চতুর্থ দিনের মতো নথুল্লাবাদ এলাকায় রনির নেতৃত্বে মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কের দুই পাশে কয়েক শ যানবাহন আটকে যায়। এবং যাত্রী সাধারণকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। এদিন দুপুর ২টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে সংগঠক মহিউদ্দিন রনিসহ ছাত্র-জনতাকে সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলেও সেখানে উত্তেজনাকর পরিবেশ-পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ফয়জুল করিমসহ তার অনুগত কর্মী-সমর্থকেরা। এরপরে দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ রাখা হয় এবং বিকেল ৫টার দিকে সেখানে সাংবাদিক সম্মেলন করে ছাত্র-জনতা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সরে যান।
২০২২ সালে রেলওয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে প্রতিবাদ করে আলোচনায় আসা রনি রূপালী বাংলাদেশকে জানান, স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং শেবাচিম হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধ করাসহ ৩ দফা দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছে। কিন্তু এই যৌক্তিক ইস্যু নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা তার স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কোনো মাথা ব্যথা নেই। রোববার সড়ক ছেড়ে দিয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশালে আসবেন এবং শেবাচিমের দুর্নীতি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন। নতুবা সাধারণ মানুষের এই দাবি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও কঠোর কর্মসূচির বিষয়টিও আলোচনায় রাখা হয়েছে।
ছাত্র-জনতা রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার পরে যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করছে এবং যাত্রী সাধারণের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন সিকদার। তিনি জানান, তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা রোববারও মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে বিকেল ৫টার দিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে শেবাচিমের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দিয়েছে। এদিন বেলা ১১টায় শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬