
১৭ মার্চ, ২০২৬ ১৬:২৬
আসন্ন ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ যেন নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেলপথ, নৌপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বহুল প্রতীক্ষিত গোমা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সমন্বিতভাবে কাজ করায় এবার ঈদযাত্রা স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এখনও দুই লেনের হওয়ায় যান চলাচলে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সড়কটি তুলনামূলকভাবে সরু হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে এবং দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি নিজে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
গোমা সেতুর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সেতু কেবল একটি এলাকার নয়, বরং বরিশাল ও পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন একটি অংশের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে। ফলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় এক দশক পর বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে গোমা সেতু উদ্বোধনের পর বিকেল ৩টার পর সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের লক্ষ্মীপাশা থেকে পটুয়াখালীর দুমকী সড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে এই সেতু। প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ ও দুমকী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আগে এই পথে দুটি ফেরিঘাট থাকায় যাতায়াতে সময় বেশি লাগত। গোমা সেতু চালু হওয়ায় একটি ফেরির প্রয়োজনীয়তা কমে গিয়ে যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর একনেক সভায় গোমা সেতু প্রকল্প অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকায়। সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধি এবং নৌযান চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে কারিগরি পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি পিসি গার্ডার ও স্টিল ট্রাস কাঠামোয় নির্মিত হয়েছে। সেতুর সঙ্গে প্রায় ১ দশমিক ৯০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোট ৬ দশমিক ৫১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি ৮ মিটার এবং একটি ৬ মিটার আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর দুই পাড়ে প্রায় ১১ হাজার ৮৬০ বর্গমিটার এলাকায় নদী শাসনকাজ এবং ৩১ হাজার ৮৮৬ বর্গমিটার এলাকায় কংক্রিট স্লোপ প্রটেকশন করা হয়েছে।
গোমা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে এবং নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আসন্ন ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ যেন নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেলপথ, নৌপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বহুল প্রতীক্ষিত গোমা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সমন্বিতভাবে কাজ করায় এবার ঈদযাত্রা স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এখনও দুই লেনের হওয়ায় যান চলাচলে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সড়কটি তুলনামূলকভাবে সরু হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে এবং দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি নিজে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
গোমা সেতুর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সেতু কেবল একটি এলাকার নয়, বরং বরিশাল ও পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন একটি অংশের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে। ফলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় এক দশক পর বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে গোমা সেতু উদ্বোধনের পর বিকেল ৩টার পর সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের লক্ষ্মীপাশা থেকে পটুয়াখালীর দুমকী সড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে এই সেতু। প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ ও দুমকী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আগে এই পথে দুটি ফেরিঘাট থাকায় যাতায়াতে সময় বেশি লাগত। গোমা সেতু চালু হওয়ায় একটি ফেরির প্রয়োজনীয়তা কমে গিয়ে যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর একনেক সভায় গোমা সেতু প্রকল্প অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকায়। সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধি এবং নৌযান চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে কারিগরি পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি পিসি গার্ডার ও স্টিল ট্রাস কাঠামোয় নির্মিত হয়েছে। সেতুর সঙ্গে প্রায় ১ দশমিক ৯০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোট ৬ দশমিক ৫১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি ৮ মিটার এবং একটি ৬ মিটার আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর দুই পাড়ে প্রায় ১১ হাজার ৮৬০ বর্গমিটার এলাকায় নদী শাসনকাজ এবং ৩১ হাজার ৮৮৬ বর্গমিটার এলাকায় কংক্রিট স্লোপ প্রটেকশন করা হয়েছে।
গোমা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে এবং নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

২৫ মে, ২০২৬ ২৩:৫৭
বরিশালের হিজলায় ঝড়ে নৌকাডুবিতে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় এক দুর্ঘটনায় তাঁরা নিখোঁজ হন। আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটে যাওয়ার সময় আটজন যাত্রী, জেলে কার্ডের ৫০০ কেজি চালসহ একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
এ সময় জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও ৩ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিজলা ফায়ার সার্ভিস, থানা ও নৌ পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালায়। হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের জাফর জোমাদ্দারের ছেলে নুর ইসলাম জোমাদ্দার (৪৫), নুর ইসলাম জোমাদ্দারের ছেলে মো. ইব্রাহিম (১২) এবং হামিদ বিশ্বাসের ছেলে মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।
হিজলা নৌ পুলিশ জানায়, আজ বিকেলে জেলে কার্ডের সরকারি ৫০০ কেজি চাল নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। নৌকাটিতে চালের পাশাপাশি আটজন যাত্রীও ছিল। নৌকাটি হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে।
বাতাসের তীব্রতা ও ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পরপরই কাছাকাছি থাকা স্থানীয় জেলেরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে নদী থেকে পাঁচজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করলেও তিনজন নিখোঁজ হয়। সংবাদ পেয়ে হিজলা থানা-পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং হিজলা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান শুরু করে।
হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় প্রশাসনের উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।’

২৫ মে, ২০২৬ ২১:১২
কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ‘ত্রিশ গোডাউন’ এলাকায় ট্রলার মাঝিদের সিন্ডিকেট ও পর্যটক হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ‘জাস্টিস অব দ্যা পিস’ এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ।
ভ্রমণপিপাসুদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং দুর্ব্যবহারের বিষয়টি এই বিচারকের নজরে এলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পর্যটকদের এভাবে ঠকানো স্পষ্টত ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’ এর চরম লঙ্ঘন।
শুধু আদেশই দেননি, সংশ্লিষ্টদের ডেকে সতর্ক করেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারকের নির্দেশের পরই বদলে গেছে ত্রিশ গোডাউন ঘাটের চিত্র। এখন নৌকাঘাটেই শোভা পাচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার মূল্যতালিকা।
ত্রিশ গোডাউনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সাদ্দাম কিবরিয়া বলেন, 'আগে মাঝিরা মুখ দেখে ভাড়া চাইত। প্রতিবাদ করলে দল বেঁধে এসে অপমান করত। ঘাটে ভাড়ার তালিকা দেখে স্বস্তি লাগছে।'
পরিবার নিয়ে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন বলেন, 'আগে এখানে এসে মাঝিদের সাথে দরদাম করতে গিয়ে মেজাজটাই খারাপ হয়ে যেত। কোনো দরাদরি নেই, তালিকায় যা লেখা, তা-ই দিচ্ছি।'
বিচারক এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ’র এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বরিশালের স্থানীয় সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, পর্যটন নগরী হিসেবে বরিশালের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের আইন কানুন অনেক আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে তার প্রয়োগ দেখা যায় খুব কম। একজন ম্যাজিস্ট্রেট যখন নিজের স্ব-প্রণোদিত ক্ষমতায় নৈরাজ্য থামান, তখন আইনের প্রতি মানুষের আস্থা শতগুণ বেড়ে যায়। বরিশালের অন্যান্য সেক্টরেও এমন দৃশ্যমান তদারকি চলুক।'

২৫ মে, ২০২৬ ২১:০৬
বরিশালে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোট ১ হাজার ৩৭৮ জন কর্মীকে এ উপহার দেওয়া হয়।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে বরিশাল নগর ভবনের নগর মিলনায়তনে (অডিটোরিয়াম) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
তিনি বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের এ পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এই উপহার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এবং কর্মীদের কল্যাণে বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, সাবেক কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ সিকদার, শাহ্ আমিনুল ইসলাম আমিন, হাবিবুর রহমান টিপুসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
বরিশালের হিজলায় ঝড়ে নৌকাডুবিতে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় এক দুর্ঘটনায় তাঁরা নিখোঁজ হন। আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটে যাওয়ার সময় আটজন যাত্রী, জেলে কার্ডের ৫০০ কেজি চালসহ একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
এ সময় জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও ৩ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিজলা ফায়ার সার্ভিস, থানা ও নৌ পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালায়। হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ধুলখোলা গ্রামের জাফর জোমাদ্দারের ছেলে নুর ইসলাম জোমাদ্দার (৪৫), নুর ইসলাম জোমাদ্দারের ছেলে মো. ইব্রাহিম (১২) এবং হামিদ বিশ্বাসের ছেলে মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।
হিজলা নৌ পুলিশ জানায়, আজ বিকেলে জেলে কার্ডের সরকারি ৫০০ কেজি চাল নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। নৌকাটিতে চালের পাশাপাশি আটজন যাত্রীও ছিল। নৌকাটি হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে।
বাতাসের তীব্রতা ও ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পরপরই কাছাকাছি থাকা স্থানীয় জেলেরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে নদী থেকে পাঁচজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করলেও তিনজন নিখোঁজ হয়। সংবাদ পেয়ে হিজলা থানা-পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং হিজলা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান শুরু করে।
হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় প্রশাসনের উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।’
কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ‘ত্রিশ গোডাউন’ এলাকায় ট্রলার মাঝিদের সিন্ডিকেট ও পর্যটক হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ‘জাস্টিস অব দ্যা পিস’ এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ।
ভ্রমণপিপাসুদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং দুর্ব্যবহারের বিষয়টি এই বিচারকের নজরে এলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পর্যটকদের এভাবে ঠকানো স্পষ্টত ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন’ এর চরম লঙ্ঘন।
শুধু আদেশই দেননি, সংশ্লিষ্টদের ডেকে সতর্ক করেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারকের নির্দেশের পরই বদলে গেছে ত্রিশ গোডাউন ঘাটের চিত্র। এখন নৌকাঘাটেই শোভা পাচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার মূল্যতালিকা।
ত্রিশ গোডাউনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সাদ্দাম কিবরিয়া বলেন, 'আগে মাঝিরা মুখ দেখে ভাড়া চাইত। প্রতিবাদ করলে দল বেঁধে এসে অপমান করত। ঘাটে ভাড়ার তালিকা দেখে স্বস্তি লাগছে।'
পরিবার নিয়ে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন বলেন, 'আগে এখানে এসে মাঝিদের সাথে দরদাম করতে গিয়ে মেজাজটাই খারাপ হয়ে যেত। কোনো দরাদরি নেই, তালিকায় যা লেখা, তা-ই দিচ্ছি।'
বিচারক এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ’র এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বরিশালের স্থানীয় সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, পর্যটন নগরী হিসেবে বরিশালের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের আইন কানুন অনেক আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে তার প্রয়োগ দেখা যায় খুব কম। একজন ম্যাজিস্ট্রেট যখন নিজের স্ব-প্রণোদিত ক্ষমতায় নৈরাজ্য থামান, তখন আইনের প্রতি মানুষের আস্থা শতগুণ বেড়ে যায়। বরিশালের অন্যান্য সেক্টরেও এমন দৃশ্যমান তদারকি চলুক।'
বরিশালে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোট ১ হাজার ৩৭৮ জন কর্মীকে এ উপহার দেওয়া হয়।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে বরিশাল নগর ভবনের নগর মিলনায়তনে (অডিটোরিয়াম) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
তিনি বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের এ পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এই উপহার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এবং কর্মীদের কল্যাণে বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, সাবেক কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ সিকদার, শাহ্ আমিনুল ইসলাম আমিন, হাবিবুর রহমান টিপুসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।