আসন্ন ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ যেন নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেলপথ, নৌপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বহুল প্রতীক্ষিত গোমা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সমন্বিতভাবে কাজ করায় এবার ঈদযাত্রা স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এখনও দুই লেনের হওয়ায় যান চলাচলে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সড়কটি তুলনামূলকভাবে সরু হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে এবং দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি নিজে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
গোমা সেতুর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সেতু কেবল একটি এলাকার নয়, বরং বরিশাল ও পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন একটি অংশের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে। ফলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় এক দশক পর বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে গোমা সেতু উদ্বোধনের পর বিকেল ৩টার পর সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের লক্ষ্মীপাশা থেকে পটুয়াখালীর দুমকী সড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে এই সেতু। প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ ও দুমকী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আগে এই পথে দুটি ফেরিঘাট থাকায় যাতায়াতে সময় বেশি লাগত। গোমা সেতু চালু হওয়ায় একটি ফেরির প্রয়োজনীয়তা কমে গিয়ে যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর একনেক সভায় গোমা সেতু প্রকল্প অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকায়। সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধি এবং নৌযান চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে কারিগরি পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি পিসি গার্ডার ও স্টিল ট্রাস কাঠামোয় নির্মিত হয়েছে। সেতুর সঙ্গে প্রায় ১ দশমিক ৯০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোট ৬ দশমিক ৫১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি ৮ মিটার এবং একটি ৬ মিটার আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর দুই পাড়ে প্রায় ১১ হাজার ৮৬০ বর্গমিটার এলাকায় নদী শাসনকাজ এবং ৩১ হাজার ৮৮৬ বর্গমিটার এলাকায় কংক্রিট স্লোপ প্রটেকশন করা হয়েছে।
গোমা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে এবং নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৫
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার সরকারি উন্নয়ন কাজের তদারকিতে গাফেলতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. মাছুম হাওলাদার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ লিখিত আভিযোগ দিয়েছেন।
এতে তিনি আভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজসে সরকারের অর্থের অপচয়সহ নানা দুর্নীতি মূলক কর্মকান্ডের সাথে লিপ্ত রয়েছেন। যা তদন্ত করলেই প্রমান মিলবে। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কর্য্যলয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগটি করা হয়।
অভিযোগকারী মাছুম হাওলাদার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে চাকুরি করা সুব্রত রায় তার তদারকিতে থাকা বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও কালর্ভাট নির্মাণে ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়মকে অর্থের বিনিময়ে সহয়াতা করেন ।
বর্তমান সরকারের আমলেও তিনি উজিরপুরে একই ভাবে চাকুরি করছেন। তার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। যা দুর্নীতির শামিল। উপজেলার ধামুরা এলাকার বেশ কয়েকটি ব্রিজের পুরাতন মালপত্র নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তার তদারকিতে থাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন দাবি করে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, উপজেলার ধামুরা এলাকায়।নির্মিত একটি ব্রিজের সম্প্রতি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে কিছু সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে মাছুম হাওলাদার কাজে বাধা দেন। কাগজপত্রে দেখা যায় ওটা খাস সম্পত্তি।
তারপরেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অংশের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়। ব্রিজের সংযোগ সড়কের এ সম্পত্তি নিয়ে ক্ষিপ্ত মাছুম হাওলাদার তাকে হয়রাণি ও তার পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুদকে এ অভিযোগ দিয়েছেন।’

১৭ মার্চ, ২০২৬ ১৬:২৬
আসন্ন ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ যেন নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেলপথ, নৌপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বহুল প্রতীক্ষিত গোমা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সমন্বিতভাবে কাজ করায় এবার ঈদযাত্রা স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এখনও দুই লেনের হওয়ায় যান চলাচলে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সড়কটি তুলনামূলকভাবে সরু হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে এবং দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি নিজে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
গোমা সেতুর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সেতু কেবল একটি এলাকার নয়, বরং বরিশাল ও পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন একটি অংশের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে। ফলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় এক দশক পর বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে গোমা সেতু উদ্বোধনের পর বিকেল ৩টার পর সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের লক্ষ্মীপাশা থেকে পটুয়াখালীর দুমকী সড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে এই সেতু। প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ ও দুমকী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আগে এই পথে দুটি ফেরিঘাট থাকায় যাতায়াতে সময় বেশি লাগত। গোমা সেতু চালু হওয়ায় একটি ফেরির প্রয়োজনীয়তা কমে গিয়ে যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর একনেক সভায় গোমা সেতু প্রকল্প অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকায়। সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধি এবং নৌযান চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে কারিগরি পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি পিসি গার্ডার ও স্টিল ট্রাস কাঠামোয় নির্মিত হয়েছে। সেতুর সঙ্গে প্রায় ১ দশমিক ৯০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোট ৬ দশমিক ৫১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি ৮ মিটার এবং একটি ৬ মিটার আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর দুই পাড়ে প্রায় ১১ হাজার ৮৬০ বর্গমিটার এলাকায় নদী শাসনকাজ এবং ৩১ হাজার ৮৮৬ বর্গমিটার এলাকায় কংক্রিট স্লোপ প্রটেকশন করা হয়েছে।
গোমা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে এবং নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৪