পিরোজপুরের নেছারাবাদে এক সময়ের ব্যস্ততম নৌযান নির্মাণ কেন্দ্রগুলোতে এখন নীরবতা। ছোট-বড় মিলিয়ে ৩০টি ডকইয়ার্ডের মধ্যে গত দুই বছরে বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৭টি। বন্ধ হয়ে যাওয়া এই ডকগুলোর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে হাজারো শ্রমিকের স্বপ্ন। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় আড়াই হাজার দক্ষ শ্রমিক। সংকটে রয়েছে বাকি ডকইয়ার্ডগুলোও।
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ২৭ কিলোমিটার উজানে অবস্থিত নেছারাবাদ উপজেলার দুই পাশে বয়ে চলেছে সন্ধ্যা নদী। নদী ঘেঁষেই গড়ে ওঠে ছারছিনা, নান্দুহার, কালীবাড়ি, বালিহারী, মাগুরাসহ আশপাশের গ্রামগুলোর ডকইয়ার্ডগুলো। ৩৫ বছর আগে বরছাকাঠির আবদুল বারেক ও রুস্তম আলীর হাত ধরে যাত্রা শুরু হয় এই শিল্পের।
তখন থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রায় ৩০টিরও বেশি ডকইয়ার্ড। এই ডকইয়ার্ডগুলোতে বছরে তৈরি হতো প্রায় ২০০টি নৌযান। মেরামত করা হতো আরও দেড় থেকে দুই হাজার নৌযান। এখানে ৫০ লাখ থেকে শুরু করে ১০ কোটি টাকা মূল্যের জাহাজ নির্মাণ হতো, যার মধ্যে ছিল লঞ্চ, উন্নতমানের ট্রলার ও বড় আকারের কার্গো জাহাজ। ২০০ থেকে ২৫০ ফুট দীর্ঘ নৌযান নির্মাণে সময় লাগতো প্রায় ৯-১০ মাস।
তবে করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকেই হঠাৎ থমকে যায় এই শিল্পের চাকা। মহামারির পর থেকে নৌযান নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দামের বৃদ্ধি এবং সড়ক ও রেলপথে পরিবহনের ওপর নির্ভরতা বাড়ার ফলে ডকইয়ার্ডগুলোর ওপর চাপ বাড়তে থাকে। এখন এই ডকইয়ার্ডগুলোতে শুধু মেরামতের কাজই সীমিতভাবে চলছে।
নেছারাবাদ উপজেলার ডকইয়ার্ড গুলোতে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি ডকইয়ার্ডে কমপক্ষে ৫০ থেকে ১০০ জন শ্রমিকের জায়গায় কাজ করছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন। বিশাল আকারের জাহাজ নির্মাণের জায়গাগুলো খালি পড়ে আছে। আগের মতো লোহার শব্দ নেই। নদীর পাড়ে পড়ে থাকা জাহাজের খোলা খোলস যেন কথা বলছে একটি সম্ভাবনাময় শিল্পের জীর্ণ দশার।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ না থাকলে এই শিল্প পুরোপুরি বিলুপ্তির পথে যাবে। অথচ নেছারাবাদের ডকইয়ার্ড শিল্প দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সম্ভাবনাময় খাত হতে পারত।
নুরুল হায়দার নামে এক শ্রমিক বলেন, আমি প্রায় ১৮ বছর ধরে এই কাজ করি। ডকইয়ার্ডে এখন তেমন কাজ নেই। যে মজুরি পাই তাতে আমাদের সংসারও চলে না। সরকার যদি আমাদের একটা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিত যদি একটা সার্টিফিকেট এর ব্যবস্থা করত তাইলে আমরা অন্য জায়গায় গিয়েও কাজ করতে পারতাম।
মো. রিয়াজ নামে আরেক শ্রমিক বলেন, আগে দিনে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা রোজগার হইতো, এখন হাত গুটাইয়া বসে আছি। যদি সরকার কিছু সহযোগিতা করত, এই শিল্প আবার দাঁড়াইত। নইলে আমাদের সবাইকে না খেয়ে মরতে হবে।
জাহাজ মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, মূলত এই জাহাজ ব্যবসা আগের মতো আর নেই। করোনার পরে বিদেশী জাহাজ এখন আর বাংলাদেশে আসে না। এ কারণে আমরা জাহাজের কাঁচামাল এবং পুরাতন জাহাজের মাল পাচ্ছি না। এ কারণে কাঁচামালের দামও বেশি সব মিলিয়ে আমাদের জাহাজ ব্যবসা এখন আর আগের মতো নেই। এই ব্যবসায় সরকার যদি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতো তবেই ব্যবসাটি টিকে থাকতো।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং সরকারি তদারকি থাকলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নেছারাবাদ উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রয়েছে এর মধ্যে ডকইয়ার্ড শিল্প গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। নিজস্ব উদ্যোগে এখানের কিছু মানুষ এ উপজেলার সন্ধ্যা নদীর তীরে ডকইয়ার্ড শিল্প গড়ে তুলেছে।
ডকইয়ার্ড শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে নিয়ে গত বছরের জুন মাসের মাঝামাঝি একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলাম। যাতে করে তারা এই কাজটি ভালো করে করতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি গড়তে ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সার্বিক খেয়াল রাখছে।

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৩
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই যুবককে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রদীপ হালদার (৩০) এবং সমির চন্দ্র খরাতী (৪০) মাত্র তিন ঘণ্টায় একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫২ টাকা লেনদেন করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া পৌরশহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে অঙ্গন শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত একটি বিকাশ অফিসে অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তা করা হয়।
পুলিশ জানায়, একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন সমির চন্দ্র খরাতী। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১৭টি সিম কার্ড, দুটি ল্যাপটপ এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে সমিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর হরহর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভোররাতে বিকাশ ম্যানেজার প্রদীপ হালদারকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার আলামত ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার প্রদীপ হালদার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর হরহর গ্রামের মৃত পরিমল হালদারের ছেলে এবং সমির চন্দ্র খরাতী পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের নলী গোলবুনিয়া গ্রামের মৃত সন্তোষ কুমার খরাতীর ছেলে। এই দুজনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান সিকদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। অনলাইন জুয়া প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে, জানান পুলিশ কর্মকর্তা।’
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই যুবককে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রদীপ হালদার (৩০) এবং সমির চন্দ্র খরাতী (৪০) মাত্র তিন ঘণ্টায় একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫২ টাকা লেনদেন করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া পৌরশহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে অঙ্গন শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত একটি বিকাশ অফিসে অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তা করা হয়।
পুলিশ জানায়, একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন সমির চন্দ্র খরাতী। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১৭টি সিম কার্ড, দুটি ল্যাপটপ এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে সমিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর হরহর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভোররাতে বিকাশ ম্যানেজার প্রদীপ হালদারকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার আলামত ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার প্রদীপ হালদার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর হরহর গ্রামের মৃত পরিমল হালদারের ছেলে এবং সমির চন্দ্র খরাতী পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের নলী গোলবুনিয়া গ্রামের মৃত সন্তোষ কুমার খরাতীর ছেলে। এই দুজনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান সিকদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। অনলাইন জুয়া প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে, জানান পুলিশ কর্মকর্তা।’

২২ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪৬
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরে এক ভাড়া বাসা থেকে ওবায়দুর রহমান সুমন (৩০) নামে এক রাজমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুইচগেট এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওবায়দুর রহমান বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম ময়েন প্রামাণিক। তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের সুইজগেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আর্থিক সংকট ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ হতো। এ কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের স্ত্রী সখি বেগম জানান, তার স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে বাসায় বাজার করতো না এবং এমনকি ছেলেরও খরচ দিতো না। সে প্রতিদিন কাজ করতো আবার অন্যের কাছ থেকে টাকা ধারদেনা করতো। গতকালও বাজার করে নাই। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। দেনার চাপ ও পারিবারিক অশান্তির মধ্যে বুধবার সকালে তার স্বামী আত্মহত্যা করে।
মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরে এক ভাড়া বাসা থেকে ওবায়দুর রহমান সুমন (৩০) নামে এক রাজমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুইচগেট এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওবায়দুর রহমান বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম ময়েন প্রামাণিক। তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের সুইজগেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আর্থিক সংকট ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ হতো। এ কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের স্ত্রী সখি বেগম জানান, তার স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে বাসায় বাজার করতো না এবং এমনকি ছেলেরও খরচ দিতো না। সে প্রতিদিন কাজ করতো আবার অন্যের কাছ থেকে টাকা ধারদেনা করতো। গতকালও বাজার করে নাই। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। দেনার চাপ ও পারিবারিক অশান্তির মধ্যে বুধবার সকালে তার স্বামী আত্মহত্যা করে।
মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪১
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় স্মার্ট ফোন চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ২টি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সেউতিবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই কিশোরের নাম জাকারিয়া (১৭)। সে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেউতিবাড়িয়া গ্রামের জসিম মল্লিকের ঘর থেকে শনিবার দুপুরে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্মার্ট ফোন ও কিছু নগদ টাকা চুরি হয়।
এ সময় স্থানীয়রা ওই কিশোরকে সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্ট ফোন এবং টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় কিছু লোক গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর মাথার চুল কেটে দেয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্থানীয় কিছু লোক মারধর করছেন। এ সময় চুরির কথা স্বীকার করে ওই কিশোর। এরপর কিশোরটির মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কিশোর জাকারিয়া এর আগেও বিভিন্ন চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। সেউতিবাড়িয়া গ্রামের জসিম মল্লিকের ঘর থেকে দুটি অ্যানড্রয়েড ফোন চুরি করে। চোর পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘরের মালিক জসিমের সন্দেহ হলে চোরকে আটক করেন।
এ সময় ওই চোরের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ফোন দুটি পাওয়া যায়। এর আগেও দুটি ঘরে চুরি করে বলে স্বীকারোক্তি দেয় অভিযুক্ত জাকারিয়া।
সেউতিবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ হোসেন জানান, স্থানীয় জসিম মল্লিকের ঘর থেকে দুটি অ্যানড্রয়েড ফোন চুরি করে যাওয়ার সময় সন্দেহজনকভাবে ওই চোরকে আটক করেন। এ সময় চোরের কাছ থেকে দুটি ফোন উদ্ধার করা হয়, তখন স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে চোরকে মারধর করেন। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকায় এ রকম চুরির ঘটনা ঘটছে। এসব চোরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় স্মার্ট ফোন চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ২টি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সেউতিবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই কিশোরের নাম জাকারিয়া (১৭)। সে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেউতিবাড়িয়া গ্রামের জসিম মল্লিকের ঘর থেকে শনিবার দুপুরে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্মার্ট ফোন ও কিছু নগদ টাকা চুরি হয়।
এ সময় স্থানীয়রা ওই কিশোরকে সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্ট ফোন এবং টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় কিছু লোক গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর মাথার চুল কেটে দেয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্থানীয় কিছু লোক মারধর করছেন। এ সময় চুরির কথা স্বীকার করে ওই কিশোর। এরপর কিশোরটির মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কিশোর জাকারিয়া এর আগেও বিভিন্ন চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। সেউতিবাড়িয়া গ্রামের জসিম মল্লিকের ঘর থেকে দুটি অ্যানড্রয়েড ফোন চুরি করে। চোর পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘরের মালিক জসিমের সন্দেহ হলে চোরকে আটক করেন।
এ সময় ওই চোরের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ফোন দুটি পাওয়া যায়। এর আগেও দুটি ঘরে চুরি করে বলে স্বীকারোক্তি দেয় অভিযুক্ত জাকারিয়া।
সেউতিবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ হোসেন জানান, স্থানীয় জসিম মল্লিকের ঘর থেকে দুটি অ্যানড্রয়েড ফোন চুরি করে যাওয়ার সময় সন্দেহজনকভাবে ওই চোরকে আটক করেন। এ সময় চোরের কাছ থেকে দুটি ফোন উদ্ধার করা হয়, তখন স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে চোরকে মারধর করেন। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকায় এ রকম চুরির ঘটনা ঘটছে। এসব চোরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:১৬
পিরোজপুরের নেছারাবাদে এক সময়ের ব্যস্ততম নৌযান নির্মাণ কেন্দ্রগুলোতে এখন নীরবতা। ছোট-বড় মিলিয়ে ৩০টি ডকইয়ার্ডের মধ্যে গত দুই বছরে বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৭টি। বন্ধ হয়ে যাওয়া এই ডকগুলোর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে হাজারো শ্রমিকের স্বপ্ন। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় আড়াই হাজার দক্ষ শ্রমিক। সংকটে রয়েছে বাকি ডকইয়ার্ডগুলোও।
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ২৭ কিলোমিটার উজানে অবস্থিত নেছারাবাদ উপজেলার দুই পাশে বয়ে চলেছে সন্ধ্যা নদী। নদী ঘেঁষেই গড়ে ওঠে ছারছিনা, নান্দুহার, কালীবাড়ি, বালিহারী, মাগুরাসহ আশপাশের গ্রামগুলোর ডকইয়ার্ডগুলো। ৩৫ বছর আগে বরছাকাঠির আবদুল বারেক ও রুস্তম আলীর হাত ধরে যাত্রা শুরু হয় এই শিল্পের।
তখন থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রায় ৩০টিরও বেশি ডকইয়ার্ড। এই ডকইয়ার্ডগুলোতে বছরে তৈরি হতো প্রায় ২০০টি নৌযান। মেরামত করা হতো আরও দেড় থেকে দুই হাজার নৌযান। এখানে ৫০ লাখ থেকে শুরু করে ১০ কোটি টাকা মূল্যের জাহাজ নির্মাণ হতো, যার মধ্যে ছিল লঞ্চ, উন্নতমানের ট্রলার ও বড় আকারের কার্গো জাহাজ। ২০০ থেকে ২৫০ ফুট দীর্ঘ নৌযান নির্মাণে সময় লাগতো প্রায় ৯-১০ মাস।
তবে করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকেই হঠাৎ থমকে যায় এই শিল্পের চাকা। মহামারির পর থেকে নৌযান নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দামের বৃদ্ধি এবং সড়ক ও রেলপথে পরিবহনের ওপর নির্ভরতা বাড়ার ফলে ডকইয়ার্ডগুলোর ওপর চাপ বাড়তে থাকে। এখন এই ডকইয়ার্ডগুলোতে শুধু মেরামতের কাজই সীমিতভাবে চলছে।
নেছারাবাদ উপজেলার ডকইয়ার্ড গুলোতে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি ডকইয়ার্ডে কমপক্ষে ৫০ থেকে ১০০ জন শ্রমিকের জায়গায় কাজ করছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন। বিশাল আকারের জাহাজ নির্মাণের জায়গাগুলো খালি পড়ে আছে। আগের মতো লোহার শব্দ নেই। নদীর পাড়ে পড়ে থাকা জাহাজের খোলা খোলস যেন কথা বলছে একটি সম্ভাবনাময় শিল্পের জীর্ণ দশার।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ না থাকলে এই শিল্প পুরোপুরি বিলুপ্তির পথে যাবে। অথচ নেছারাবাদের ডকইয়ার্ড শিল্প দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সম্ভাবনাময় খাত হতে পারত।
নুরুল হায়দার নামে এক শ্রমিক বলেন, আমি প্রায় ১৮ বছর ধরে এই কাজ করি। ডকইয়ার্ডে এখন তেমন কাজ নেই। যে মজুরি পাই তাতে আমাদের সংসারও চলে না। সরকার যদি আমাদের একটা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিত যদি একটা সার্টিফিকেট এর ব্যবস্থা করত তাইলে আমরা অন্য জায়গায় গিয়েও কাজ করতে পারতাম।
মো. রিয়াজ নামে আরেক শ্রমিক বলেন, আগে দিনে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা রোজগার হইতো, এখন হাত গুটাইয়া বসে আছি। যদি সরকার কিছু সহযোগিতা করত, এই শিল্প আবার দাঁড়াইত। নইলে আমাদের সবাইকে না খেয়ে মরতে হবে।
জাহাজ মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, মূলত এই জাহাজ ব্যবসা আগের মতো আর নেই। করোনার পরে বিদেশী জাহাজ এখন আর বাংলাদেশে আসে না। এ কারণে আমরা জাহাজের কাঁচামাল এবং পুরাতন জাহাজের মাল পাচ্ছি না। এ কারণে কাঁচামালের দামও বেশি সব মিলিয়ে আমাদের জাহাজ ব্যবসা এখন আর আগের মতো নেই। এই ব্যবসায় সরকার যদি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতো তবেই ব্যবসাটি টিকে থাকতো।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং সরকারি তদারকি থাকলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নেছারাবাদ উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রয়েছে এর মধ্যে ডকইয়ার্ড শিল্প গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। নিজস্ব উদ্যোগে এখানের কিছু মানুষ এ উপজেলার সন্ধ্যা নদীর তীরে ডকইয়ার্ড শিল্প গড়ে তুলেছে।
ডকইয়ার্ড শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে নিয়ে গত বছরের জুন মাসের মাঝামাঝি একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলাম। যাতে করে তারা এই কাজটি ভালো করে করতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি গড়তে ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সার্বিক খেয়াল রাখছে।