গত চার দিন ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যাল ক্যাম্পাসে চাপা অস্বস্তি বিরাজ করছিল সেখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য। আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগে সেই অস্বস্তি এবার বিস্ফোরিত।
নবীন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, একদল সিনিয়র শিক্ষার্থীর হাতে তিনি র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। রাতভর অপমান, ঠাট্টা আর ভয় দেখানো হয়েছে তাকে। সবকিছু মিলিয়ে তার সঙ্গে যা ঘটেছে তা নবীন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম অধ্যায়কে রীতিমতো দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে। অভিযোগকারী আল শাহারিয়ার মোহাম্মদ মুস্তাকিম মজুমদার বিভাগটির ১১তম ব্যাচের ছাত্র। রবিবার দুপুরে তিনি উপাচার্য, প্রক্টর এবং বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে তিনটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সেই অভিযোগে নাম উঠে এসেছে দশম ব্যাচের পাঁচ শিক্ষার্থীর। তারা হলেন নাফিজ ফারদিন আকন্দ স্বপ্নীল, মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন, ইমন মাহমুদ, নেহাল আহমেদ ও মিরাজ।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ‘বুধবার রাত ৮টার দিকে সিনিয়রদের নির্দেশে রুপাতলী হাউজিং মাঠে পৌঁছাই। আমরা ছিলাম ২৮ জন।
সেখান থেকে বাসে তুলে টোল প্লাজার পাশের এক বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। কক্ষে তুলেই গেট বন্ধ। তারপর সব মোবাইল, ডিভাইস বাজেয়াপ্ত, যেন কোনো প্রমাণ না থাকে।’ এরপর শুরু হয়, অভিযোগকারীর ভাষায় ‘অমানবিক মানসিক নির্যাতন’। কখনো কবিতা আবৃত্তি করতে বাধ্য করা, না করলে ‘মেন্টাল’ আখ্যা দেওয়া, বাবা-মাকে নিয়ে অশ্রাব্য মন্তব্য।
কখনো অভিনয়ের নামে সহপাঠীদের নিয়ে অশোভন দৃশ্য তৈরি করতে চাপ। চোখে জল দেখলে কটূক্তি, ‘সিম্পেথি পেতে কান্না করছিস?’ এমনকি লাঠি এনে মারার ভয় দেখানো হয়।
অভিযোগ আরো এগিয়ে যায়। বলা হয়, ছোট প্যান্ট পরিয়ে নাচতে বলা হয়েছে। প্রস্রাবের জন্য ওয়াশরুমে যেতে চাইলে দেওয়া হয়েছে বোতল, ‘এখানেই করো’। এমনকি দরজা খুলে রেখে ওয়াশরুম ব্যবহার করতে চাপ দেওয়া হয়। শীতের রাতে শার্ট খুলতে বাধ্য করা হয়। শেষে বিস্কুট দিয়ে বলা হয়, ‘কুকুরের মতো চেটে খা’। অভিযোগকারী বলেন, ‘এত অপমানের পর আর নিজেকে সামলাতে পারিনি, বসে বসে কাঁদছিলাম।’
অভিযুক্তদের একজন মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন অবশ্য সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, ‘জুনিয়রদের নিয়ে পিকনিক করছিলাম। একটু রাগারাগি হয়েছে, ব্যাস। র্যাগিং নয়।’
ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। র্যাগিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের নীতি স্পষ্ট, আর তা হচ্ছে জিরো টলারেন্স। তদন্ত কমিটি হচ্ছে। প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা কঠোরই হবে।’

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪০
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম।
রূপাতলী বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারী। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। এনিয়ে তার কর্মীদের সাথে স্থানীয় আরেক আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদের অনুসারীদের প্রায়শই সংঘাত-সংঘর্ষ হতো।
পুলিশ জানিয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা কাওসার হোসেন শিপনের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তিনি অন্তর্ধানে চলে গিয়েছিলেন।
বরিশাল কোতয়ালি পুলিশের ওসি মি. মামুন জানান, বৃহস্পতিবার অপরাহ্ণে পুলিশ শহরের ২৪ নং ওয়ার্ডের রূপাতলীতে অভিযান চালিয়ে কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।’
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম।
রূপাতলী বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারী। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। এনিয়ে তার কর্মীদের সাথে স্থানীয় আরেক আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদের অনুসারীদের প্রায়শই সংঘাত-সংঘর্ষ হতো।
পুলিশ জানিয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা কাওসার হোসেন শিপনের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে তিনি অন্তর্ধানে চলে গিয়েছিলেন।
বরিশাল কোতয়ালি পুলিশের ওসি মি. মামুন জানান, বৃহস্পতিবার অপরাহ্ণে পুলিশ শহরের ২৪ নং ওয়ার্ডের রূপাতলীতে অভিযান চালিয়ে কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।’

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানা ভবন (মেট্রো টাইপ-১) নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বন্দর থানা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর, এমপি।
এ সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্সহ বরিশাল পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং বিএমপি কমিশনার বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা থানার সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
নতুন থানা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।’
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরের বন্দর থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। বিভিন্ন কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো কাজে যাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধেও সরকারের অবস্থান কঠোর।’
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সভা হয়েছে জানিয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী বরিশাল বন্দর থানা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৯:৩৬
গত চার দিন ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যাল ক্যাম্পাসে চাপা অস্বস্তি বিরাজ করছিল সেখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য। আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগে সেই অস্বস্তি এবার বিস্ফোরিত।
নবীন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, একদল সিনিয়র শিক্ষার্থীর হাতে তিনি র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। রাতভর অপমান, ঠাট্টা আর ভয় দেখানো হয়েছে তাকে। সবকিছু মিলিয়ে তার সঙ্গে যা ঘটেছে তা নবীন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম অধ্যায়কে রীতিমতো দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে। অভিযোগকারী আল শাহারিয়ার মোহাম্মদ মুস্তাকিম মজুমদার বিভাগটির ১১তম ব্যাচের ছাত্র। রবিবার দুপুরে তিনি উপাচার্য, প্রক্টর এবং বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে তিনটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সেই অভিযোগে নাম উঠে এসেছে দশম ব্যাচের পাঁচ শিক্ষার্থীর। তারা হলেন নাফিজ ফারদিন আকন্দ স্বপ্নীল, মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন, ইমন মাহমুদ, নেহাল আহমেদ ও মিরাজ।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ‘বুধবার রাত ৮টার দিকে সিনিয়রদের নির্দেশে রুপাতলী হাউজিং মাঠে পৌঁছাই। আমরা ছিলাম ২৮ জন।
সেখান থেকে বাসে তুলে টোল প্লাজার পাশের এক বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। কক্ষে তুলেই গেট বন্ধ। তারপর সব মোবাইল, ডিভাইস বাজেয়াপ্ত, যেন কোনো প্রমাণ না থাকে।’ এরপর শুরু হয়, অভিযোগকারীর ভাষায় ‘অমানবিক মানসিক নির্যাতন’। কখনো কবিতা আবৃত্তি করতে বাধ্য করা, না করলে ‘মেন্টাল’ আখ্যা দেওয়া, বাবা-মাকে নিয়ে অশ্রাব্য মন্তব্য।
কখনো অভিনয়ের নামে সহপাঠীদের নিয়ে অশোভন দৃশ্য তৈরি করতে চাপ। চোখে জল দেখলে কটূক্তি, ‘সিম্পেথি পেতে কান্না করছিস?’ এমনকি লাঠি এনে মারার ভয় দেখানো হয়।
অভিযোগ আরো এগিয়ে যায়। বলা হয়, ছোট প্যান্ট পরিয়ে নাচতে বলা হয়েছে। প্রস্রাবের জন্য ওয়াশরুমে যেতে চাইলে দেওয়া হয়েছে বোতল, ‘এখানেই করো’। এমনকি দরজা খুলে রেখে ওয়াশরুম ব্যবহার করতে চাপ দেওয়া হয়। শীতের রাতে শার্ট খুলতে বাধ্য করা হয়। শেষে বিস্কুট দিয়ে বলা হয়, ‘কুকুরের মতো চেটে খা’। অভিযোগকারী বলেন, ‘এত অপমানের পর আর নিজেকে সামলাতে পারিনি, বসে বসে কাঁদছিলাম।’
অভিযুক্তদের একজন মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন অবশ্য সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, ‘জুনিয়রদের নিয়ে পিকনিক করছিলাম। একটু রাগারাগি হয়েছে, ব্যাস। র্যাগিং নয়।’
ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। র্যাগিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের নীতি স্পষ্ট, আর তা হচ্ছে জিরো টলারেন্স। তদন্ত কমিটি হচ্ছে। প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা কঠোরই হবে।’
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪০
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯