পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ; ভুয়া বিল-ভাউচারে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার একটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস. এম. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিসহ ২৪টি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা প্রায় ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন এবং সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০৫.১০.৭৯১৪.০০০.০৭.০০১.২৬-৯৪২-এর মাধ্যমে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ওই নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি ও বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা আনুমানিক ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার বিষয়টি। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যাংক হিসাব একক স্বাক্ষরে পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫৪ টাকা উত্তোলন এবং নির্ধারিত সময়ে ২৪ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকার হিসাব দিতে না পারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি পিবিজিএসআই (PBGSI) প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যয় না করে ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে ২০ জন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রী, ছয়জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাশাপাশি গত আড়াই বছরে উৎসে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্ট্যাম্প আইন অমান্য করে নগদ ভাউচারে স্ট্যাম্প ব্যবহার না করেও লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত রোল নম্বর অতিক্রম করে বেআইনিভাবে ছাত্রী ভর্তি, শিক্ষকদের মধ্যে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমতি ছাড়া স্কুলের বেঞ্চ-টেবিল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের বেঞ্চ ও টেবিল বাইরে নিয়ে গিয়ে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় একটি হোটেল মালিকের কাছে বিক্রি করা হয়।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুমা সুলতানা আক্তারের ব্যক্তিগত বিষয়—বিয়ে, বয়স, গায়ের রং ও পোশাক নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতির অনুমোদন ছাড়া একক সিদ্ধান্তে সহকারী প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার এবং শিক্ষকদের বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা বেআইনিভাবে বন্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪-এর ৫৩(২) বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না কেন, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে চান কি না, সেটিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৬
পূজার আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই নেমে এলো বিষাদ। পিরোজপুরের নাজিরপুরে কালিগঙ্গা নদীতে যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শিশুটির মা। নদীতে স্বজনকে হারিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদের ভরতকাঠী ফেরিঘাটের মধ্যবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরিবার নিয়ে এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন নেছারাবাদ উপজেলার ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারী। পূজা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য তাঁরা ট্রলারে ওঠেন। ট্রলারটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রীর পাশাপাশি ৬টি মোটরসাইকেল ছিল বলে জানা গেছে।
ঘাট ছাড়ার পরপরই ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। এ সময় অনেক যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে শংকর বেপারীর স্ত্রী রিনা বেপারী এবং তাঁদের মেয়ে নিখোঁজ হন। পরে উদ্ধার অভিযানে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। রাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে মঙ্গলবার সকালে পুনরায় অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়।
পূজার আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই নেমে এলো বিষাদ। পিরোজপুরের নাজিরপুরে কালিগঙ্গা নদীতে যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শিশুটির মা। নদীতে স্বজনকে হারিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদের ভরতকাঠী ফেরিঘাটের মধ্যবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরিবার নিয়ে এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন নেছারাবাদ উপজেলার ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারী। পূজা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য তাঁরা ট্রলারে ওঠেন। ট্রলারটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রীর পাশাপাশি ৬টি মোটরসাইকেল ছিল বলে জানা গেছে।
ঘাট ছাড়ার পরপরই ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। এ সময় অনেক যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে শংকর বেপারীর স্ত্রী রিনা বেপারী এবং তাঁদের মেয়ে নিখোঁজ হন। পরে উদ্ধার অভিযানে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। রাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে মঙ্গলবার সকালে পুনরায় অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়।

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩৪
পিরোজপুরের নাজিরপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করার পর এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে সার ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দীঘিরজান বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।
আহত কর্মকর্তার নাম বিপুল কুমার মল্লিক (৪৬)। তিনি নাজিরপুরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত বাবুল মোল্লার (৫৫) বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে দীঘিরজান বাজারে লাইসেন্স ছাড়াই সার বিক্রি করে আসছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে ওই বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন বিপুল কুমার মল্লিক।
এ সময় বাবুল মোল্লার দোকান ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে দুই বস্তা ইউরিয়া, সাড়ে তিন বস্তা ডিএপি, এক বস্তা এমওপি ও পাঁচ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়। লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযান শেষে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর বিপুল কুমার মল্লিক বাজারে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় বাবুল মোল্লা তাঁর পথরোধ করেন। মোবাইল কোর্টে সহযোগিতা করার জেরে তাঁকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই কর্মকর্তা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা এশা বলেন, ‘লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সার জব্দ করা হয়। আমরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বাবুল মোল্লা আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব বলেন, দীঘিরজান বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযান শেষে চলে আসার পর কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তাকে ওই ব্যবসায়ী মারধর করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। অফিস খোলার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
পিরোজপুরের নাজিরপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করার পর এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে সার ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দীঘিরজান বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।
আহত কর্মকর্তার নাম বিপুল কুমার মল্লিক (৪৬)। তিনি নাজিরপুরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত বাবুল মোল্লার (৫৫) বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে দীঘিরজান বাজারে লাইসেন্স ছাড়াই সার বিক্রি করে আসছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে ওই বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন বিপুল কুমার মল্লিক।
এ সময় বাবুল মোল্লার দোকান ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে দুই বস্তা ইউরিয়া, সাড়ে তিন বস্তা ডিএপি, এক বস্তা এমওপি ও পাঁচ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়। লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযান শেষে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর বিপুল কুমার মল্লিক বাজারে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় বাবুল মোল্লা তাঁর পথরোধ করেন। মোবাইল কোর্টে সহযোগিতা করার জেরে তাঁকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই কর্মকর্তা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা এশা বলেন, ‘লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সার জব্দ করা হয়। আমরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বাবুল মোল্লা আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব বলেন, দীঘিরজান বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযান শেষে চলে আসার পর কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তাকে ওই ব্যবসায়ী মারধর করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। অফিস খোলার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৯
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বসতঘরে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুভ সাচকী (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় অলিউর রহমান (৪৯) নামে আরেক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চালিতাবুনিয়া গ্রামের একটি বসতঘরে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল।
এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে তিনটি প্যাকেটে সংরক্ষিত ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সুভ সাচকীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও অলিউর রহমান পালিয়ে যান।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চার কেজি গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বসতঘরে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুভ সাচকী (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় অলিউর রহমান (৪৯) নামে আরেক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চালিতাবুনিয়া গ্রামের একটি বসতঘরে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল।
এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে তিনটি প্যাকেটে সংরক্ষিত ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সুভ সাচকীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও অলিউর রহমান পালিয়ে যান।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চার কেজি গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ; ভুয়া বিল-ভাউচারে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার একটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস. এম. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিসহ ২৪টি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা প্রায় ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন এবং সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০৫.১০.৭৯১৪.০০০.০৭.০০১.২৬-৯৪২-এর মাধ্যমে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ওই নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি ও বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা আনুমানিক ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার বিষয়টি। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যাংক হিসাব একক স্বাক্ষরে পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫৪ টাকা উত্তোলন এবং নির্ধারিত সময়ে ২৪ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকার হিসাব দিতে না পারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি পিবিজিএসআই (PBGSI) প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যয় না করে ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে ২০ জন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রী, ছয়জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাশাপাশি গত আড়াই বছরে উৎসে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্ট্যাম্প আইন অমান্য করে নগদ ভাউচারে স্ট্যাম্প ব্যবহার না করেও লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত রোল নম্বর অতিক্রম করে বেআইনিভাবে ছাত্রী ভর্তি, শিক্ষকদের মধ্যে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমতি ছাড়া স্কুলের বেঞ্চ-টেবিল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের বেঞ্চ ও টেবিল বাইরে নিয়ে গিয়ে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় একটি হোটেল মালিকের কাছে বিক্রি করা হয়।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুমা সুলতানা আক্তারের ব্যক্তিগত বিষয়—বিয়ে, বয়স, গায়ের রং ও পোশাক নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতির অনুমোদন ছাড়া একক সিদ্ধান্তে সহকারী প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার এবং শিক্ষকদের বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা বেআইনিভাবে বন্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪-এর ৫৩(২) বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না কেন, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে চান কি না, সেটিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪২
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৮
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২৪