ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ১১ বছর পর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবামেক) ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত সোমবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত ৩০ সদস্যের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রদলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ওই কমিটির তালিকাটি শেয়ার করা হয়। এতে আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৮ জনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই নিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ আর অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
কলেজ সূত্র জানায়, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১১ আগস্ট শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্তে সব ছাত্র সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়।
জানা যায়, নবগঠিত কমিটি ৩০ সদস্যের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৮ জনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এ নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
সূত্র জানায়, নতুন কমিটির সভাপতি পদে থাকা মো. আসাদুজ্জামান প্রিন্স ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সময়কালে ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দলটির পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীমের উপস্থিতিতে একাধিক কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের সুদৃষ্টিতে থাকায় তাকে সব সময় সমীহ করত ছাত্রলীগের নেতারা।
নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা আব্দুল্লাহ আল ফাহিদও ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষে দলবল নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে। নির্বাচনের সময় নৌকার লিফলেট বিতরণ ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে তার সবর উপস্থিতি ছিল।
এছাড়া সাবেক মন্ত্রী খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শেবামেক ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি জুবায়ের আল মাহমুদ, ফাইয়ান আলম ফাহিম, শোভন দেব দত্ত, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হাকিম আদিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাগীব মাহফুজ, শাওন আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হক শান্ত, সিয়াম হোসেন, শেখ আসিফ হাসান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এন এম রোহান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পাদক তীর্থ মণ্ডল, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক রাফিউল ইসলাম শোভন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জিসান হোসেন আল দ্বীনকে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি জুবায়ের আল মাহমুদ ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রচার করেছেন।
ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে শেবামেক শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান প্রিন্সকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি ক্লাসে রয়েছেন এখন কথা বলতে পারবেন না। পরে আপনার সঙ্গে কথা বলব। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কলেজের নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফাহিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বার বার ফোনের লাইন কেটে দেওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. সাকিবুল হক রাসেল বলেন, বরিশাল মহানগর বিএনপির ও মহানগর ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করে কেন্দ্রীয় নেতারা কোনো কমিটি দিতে পারেন না। অবশ্যই বরিশাল মহানগর বিএনপি ও ছাত্রদলের সাইনিং পাওয়ার থাকা নেতারা নতুন কমিটির বিষয়ে জানেন বলে আমার বিশ্বাস।
তিনি বলেন, বরিশালে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভাব নেই। ত্যাগী নেতারা কোনো ব্যক্তির হয় না, তারা দলের সম্পদ। এ কারণে ব্যক্তি পছন্দের কাছে বার বার তারা হেরে যান। ব্যক্তি পছন্দের কারণে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করে ছাত্রলীগের নেতাদের সংযুক্ত করা হয়েছে নতুন কমিটিতে। এর দায়ভার বরিশাল মহানগর বিএনপি কিংবা ছাত্রদলের নেতারা এড়াতে পারে না।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মো. রেজাউল করিম রনি বলেন, বিগত দিনগুলোতে শেবামেক ছাত্রদল বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের অধীনে ছিল। কমিটি হলেও তা মহানগর নেতারা যাচাই-বাছাই করে নতুন কমিটি দিয়েছেন। তবে এবারই প্রথম কেন্দ্র থেকে সরাসরি কমিটি ঘোষণা করেছে। নতুন কমিটিতে যারা এসেছেন তাদের বিষয়ে তিনি অবগত নন। কমিটিতে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসিত করা হলে তার দায়ভার বরিশাল মহানগর কমিটির নেতারা নেবে না।
এদিকে ছাত্রদলের একটি সূত্র জানায়, শেবামেকের কমিটি পুনর্গঠন বিষয়ে টিম প্রধান ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি দীপু পটোয়ারী। তার নেতৃত্বেই ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশীদের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তবে কমিটিতে ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তার মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২২

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৬
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৭

২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:৩৬
ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ১১ বছর পর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবামেক) ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত সোমবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত ৩০ সদস্যের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রদলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ওই কমিটির তালিকাটি শেয়ার করা হয়। এতে আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৮ জনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই নিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ আর অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
কলেজ সূত্র জানায়, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১১ আগস্ট শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্তে সব ছাত্র সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়।
জানা যায়, নবগঠিত কমিটি ৩০ সদস্যের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৮ জনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এ নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
সূত্র জানায়, নতুন কমিটির সভাপতি পদে থাকা মো. আসাদুজ্জামান প্রিন্স ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সময়কালে ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দলটির পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীমের উপস্থিতিতে একাধিক কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের সুদৃষ্টিতে থাকায় তাকে সব সময় সমীহ করত ছাত্রলীগের নেতারা।
নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা আব্দুল্লাহ আল ফাহিদও ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষে দলবল নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে। নির্বাচনের সময় নৌকার লিফলেট বিতরণ ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে তার সবর উপস্থিতি ছিল।
এছাড়া সাবেক মন্ত্রী খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শেবামেক ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি জুবায়ের আল মাহমুদ, ফাইয়ান আলম ফাহিম, শোভন দেব দত্ত, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হাকিম আদিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাগীব মাহফুজ, শাওন আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হক শান্ত, সিয়াম হোসেন, শেখ আসিফ হাসান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এন এম রোহান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পাদক তীর্থ মণ্ডল, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক রাফিউল ইসলাম শোভন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জিসান হোসেন আল দ্বীনকে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি জুবায়ের আল মাহমুদ ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রচার করেছেন।
ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে শেবামেক শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান প্রিন্সকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি ক্লাসে রয়েছেন এখন কথা বলতে পারবেন না। পরে আপনার সঙ্গে কথা বলব। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কলেজের নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফাহিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বার বার ফোনের লাইন কেটে দেওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. সাকিবুল হক রাসেল বলেন, বরিশাল মহানগর বিএনপির ও মহানগর ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করে কেন্দ্রীয় নেতারা কোনো কমিটি দিতে পারেন না। অবশ্যই বরিশাল মহানগর বিএনপি ও ছাত্রদলের সাইনিং পাওয়ার থাকা নেতারা নতুন কমিটির বিষয়ে জানেন বলে আমার বিশ্বাস।
তিনি বলেন, বরিশালে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভাব নেই। ত্যাগী নেতারা কোনো ব্যক্তির হয় না, তারা দলের সম্পদ। এ কারণে ব্যক্তি পছন্দের কাছে বার বার তারা হেরে যান। ব্যক্তি পছন্দের কারণে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করে ছাত্রলীগের নেতাদের সংযুক্ত করা হয়েছে নতুন কমিটিতে। এর দায়ভার বরিশাল মহানগর বিএনপি কিংবা ছাত্রদলের নেতারা এড়াতে পারে না।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মো. রেজাউল করিম রনি বলেন, বিগত দিনগুলোতে শেবামেক ছাত্রদল বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের অধীনে ছিল। কমিটি হলেও তা মহানগর নেতারা যাচাই-বাছাই করে নতুন কমিটি দিয়েছেন। তবে এবারই প্রথম কেন্দ্র থেকে সরাসরি কমিটি ঘোষণা করেছে। নতুন কমিটিতে যারা এসেছেন তাদের বিষয়ে তিনি অবগত নন। কমিটিতে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসিত করা হলে তার দায়ভার বরিশাল মহানগর কমিটির নেতারা নেবে না।
এদিকে ছাত্রদলের একটি সূত্র জানায়, শেবামেকের কমিটি পুনর্গঠন বিষয়ে টিম প্রধান ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি দীপু পটোয়ারী। তার নেতৃত্বেই ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশীদের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তবে কমিটিতে ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তার মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সম্মুখে যুবকদের দুটি গ্রুপ শুক্রবার মধ্য রাতে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠিসোঠা নিয়ে উভয়গ্রুপের ঘণ্টাব্যাপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভিসি গেটসংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নৈরাজ্যে কারা জড়িত তা নিশ্চিত বলতে পারছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশের একটি মেসে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপ আকস্মিক লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এবং একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছেন। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘণ্টাখানেক ধরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার রাত ১০টার এই সংঘাতে কারা জড়িত তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, ১ নম্বর গেটের বিপরিত পাশের মেস থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ব্যাপক আকারে রূপ এবং তার আভা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ দুটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সড়কে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। মেসের অভ্যন্তরে দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
তবে এই সংঘাতে কারা জড়িত সেই খবর তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে না পারলেও সূত্রগুলো গভীর রাতে জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাতটি সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকলেও পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন।
সবশেষ রাত ১২টার সময় খবর নিয়ে জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছেন। অনুরূপভাবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের এই মুখোমুখি অবস্থান রাতে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বদ্ধমূল করে তুলেছে, পুলিশও আছে সতর্ক।
পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের এই সংঘাত রোধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন। তবে ঘটনায় কারা জড়িত তিনিও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, দুটি গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে আছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও কাজ করছেন। তবে কি কারণে এবং কারা গভীর রাতে সংঘাতে জড়ালেন তা সুনিশ্চিত বলা সম্ভব হচ্ছে না, মন্তব্য করেন ওসি।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সম্মুখে যুবকদের দুটি গ্রুপ শুক্রবার মধ্য রাতে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠিসোঠা নিয়ে উভয়গ্রুপের ঘণ্টাব্যাপি পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভিসি গেটসংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশ এলাকাসমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেট্রোপলিটন বন্দর (সাহেবেরহাট) পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নৈরাজ্যে কারা জড়িত তা নিশ্চিত বলতে পারছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশের একটি মেসে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপ আকস্মিক লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এবং একপর্যায়ে দুটি গ্রুপ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছেন। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘণ্টাখানেক ধরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার রাত ১০টার এই সংঘাতে কারা জড়িত তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, ১ নম্বর গেটের বিপরিত পাশের মেস থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ব্যাপক আকারে রূপ এবং তার আভা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ দুটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সড়কে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। মেসের অভ্যন্তরে দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
তবে এই সংঘাতে কারা জড়িত সেই খবর তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে না পারলেও সূত্রগুলো গভীর রাতে জানিয়েছে, প্রথমে সংঘাতটি সমাজবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকলেও পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন।
সবশেষ রাত ১২টার সময় খবর নিয়ে জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের বিপরিত পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছেন। অনুরূপভাবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের এই মুখোমুখি অবস্থান রাতে ফের সংঘাতের আশঙ্কা বদ্ধমূল করে তুলেছে, পুলিশও আছে সতর্ক।
পুলিশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের এই সংঘাত রোধে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন। তবে ঘটনায় কারা জড়িত তিনিও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে জানান, দুটি গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে আছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও কাজ করছেন। তবে কি কারণে এবং কারা গভীর রাতে সংঘাতে জড়ালেন তা সুনিশ্চিত বলা সম্ভব হচ্ছে না, মন্তব্য করেন ওসি।’
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকাগামী ইউরো স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২৭৯৫) আশোকাঠী এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৌরনদীর মো. মাহবুব (৩৯) ও শিশু আব্দুর রহমান (২), বরিশালের মনিরুজ্জামান (৩৮) ও মমতাজ বেগম (৬০) এবং চট্টগ্রামের জামাল হোসেন (৩৩)।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দেড় বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়কের অভাবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
এদিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে জমির মালিকদের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জমির মালিক আঃ রব হাওলাদার অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের সময় তার জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহণ করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তার দাবি।
আঃ রব হাওলাদারের অভিযোগ, বর্তমানে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হয়ে বরং মামলা করার হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় জমির মালিকদের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করা হবে কি না। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প হলেও জমির মালিকের সম্পত্তির অধিকার এবং প্রচলিত আইন মেনেই জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময়ই সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, মালিকানা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন প্রকল্পের সেই ঘাটতির দায় সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কোনো কাজ না করার দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা না হলে জমির মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি উন্নয়নের নামে জমি দখল নয়, আইনানুগভাবে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দেড় বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়কের অভাবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
এদিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, যথাযথ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে জমির মালিকদের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জমির মালিক আঃ রব হাওলাদার অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের সময় তার জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রকৌশলী সুব্রত রায় সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহণ করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তার দাবি।
আঃ রব হাওলাদারের অভিযোগ, বর্তমানে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হয়ে বরং মামলা করার হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় জমির মালিকদের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করা হবে কি না। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প হলেও জমির মালিকের সম্পত্তির অধিকার এবং প্রচলিত আইন মেনেই জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময়ই সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, মালিকানা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন প্রকল্পের সেই ঘাটতির দায় সাধারণ জমির মালিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের নকশা, জমির দাগ-খতিয়ান, মালিকানা এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কোনো কাজ না করার দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা না হলে জমির মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি উন্নয়নের নামে জমি দখল নয়, আইনানুগভাবে জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬