ছবি: বরিশাল টাইমস
নানামুখী সমস্যায় জর্জড়িত বরিশাল শহরকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন নগর প্রশাসক বিএনপি নেত্রী বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। প্রাথমিকভাবে শহরের রাস্তা-ঘাট দখল করে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অপসারণ করা এবং যানজট নিরসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। এবং কীর্তনখোলা নদীতীরবর্তী এই কবি জীবনানন্দের শহরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে প্রশাসক শিরিন আরও বেশকিছু পদক্ষেদ রাখতে যাচ্ছেন। অবহেলিত নগর উন্নয়নে তার এই ভাবনাকে ত্রিশটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাথে থেকে সহযোগিতারও অঙ্গীকার করেছন।
বিসিসি প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাসহ বিনোদনকেন্দ্রগুলোর প্রবেশমুখে যত্রতত্র ভ্রাম্যমাণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করায় শহরে প্রতিদিনের চলাচলে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে এই ভ্রাম্যমাণ প্রতিষ্ঠান পসরা সাজিয়ে বসার কারণে কখনও কখনও শহরের সদর রোড, চকবাজার, নতুন বাজার, বাংলা বাজারসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকাসমূহে যানজট দেখা যায়। এনিয়ে জনসাধারণের মধ্যেকার ক্ষোভও আছে এবং তাদের তরফ থেকে দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছেদের অনুরোধ করা হচ্ছিল।
জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন আপাদমস্তক রাজনৈতিক শিরিন। তাছাড়া শহরের সমস্যাগুলো তিনিও প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করেন। গত ৩ এপ্রিল বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে নোটিস জারি করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সাত দিনের সময় দিয়ে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। এবং এই সময়সীমা শেষ হলে কঠোর অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিসিসি উচ্ছেদে আল্টিমেটাম দেওয়ার পরে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অভিযান বন্ধ রাখতে প্রশাসক শিরিনের ধর্না ধরলেও তিনি কোনো প্রকার আপস করেননি। বরং সকলকে সাফ জানিয়ে দেন ১০ এপ্রিলের আগে অবৈধ স্থাপনা স্বেচ্ছায় সরিয়ে না নিলে বিসিসি ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।
প্রশাসক শিরিনের সেই হুঁশিয়ারির বাস্তবায়ন রোববার অফিস শুরুর দিনে দেখতে পেয়েছে শহরবাসী। এদিন সকালে সিটি কর্পোরেশন শহরের ফজলুল হক অ্যাভিনিউ রোড-বেলসপার্কে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। পূর্ব ঘোষণা প্রাপ্তির পরেও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। অবশ্য এরআগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে বেশ কদিন সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়েছিল। কিন্তু তা কর্ণপাত করেননি ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা, যার কারণে নগর প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা রাখতে হয়।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার জানান, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে নগর প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনের উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রথমদিন প্রাথমিকভাবে ফজলুল হক অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন স্থানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানে শতাধিক প্রতিষ্ঠান বুলডেজার দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। নগরমাতা জনস্বার্থে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন, এখন থেকে প্রতিনিয়তই এই ধরনের তৎপরতা চলমান থাকবে।
তবে সিটি প্রশাসন এবারই প্রথম বরিশাল শহরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উদ্যোগ নেয়নি, এরআগে বিগত সময়েও একাধিক অভিযান চালিয়েছে। সবশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শুরুর দিকেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পরেই বিসিসির কর্মকর্তাদের সাথে আপসরফা করে ফের রাস্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসাতে দেখা যায়।
অভিযোগ আছে, যখন যে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বা মেয়র হয়েছেন, তিনিই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে আপসরফা করে ফের দখল দিয়ে ফেলেন ব্যবসায়ীরা। অবশ্য এতে জনপ্রতিনিধিদেরও স্বার্থ নিহিত থাকে বলে মন্তব্য পাওয়া যায়।
ফুটপাতের একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সাথে আলাপচারিতায় জানা গেছে, বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র আবুল খায়ের খোকন এবং সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহও উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে অভিযান শুরু করেন। কিন্তু ব্যবসায়ী নেতারা সাক্ষাৎ লাভ এবং তাদের পক্ষে মিছিল-মিটিং করার অভয় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখা হয়। ব্যবসায়ীদের ধারনা ছিল, সাবেক মেয়রদের ন্যায় প্রশাসক শিরিনও ব্যক্তি স্বার্থ লুটতে উচ্ছেদ অভিযানে যাচ্ছেন, কিন্তু এবার তেমনটি হয়নি বা হওয়ার সম্ভবনা নেই। বরং শান্ত-স্নিগ্ধ কীর্তনখোলার তীর জনপদের এই শহরকে কী ভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং যানজটমুক্ত রাখা যায়, শিরিন সেই পথেই যেনো হাঁটছেন।
অবহেলিত বরিশাল শহরকে উন্নত এবং পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসক শিরিন যে কতটা অন্তরিক তা তার বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য দেখলেও কিছুটা অনুমান করা যায়। প্রতাপশালী বিএনপি নেত্রী রোববার দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, ছলচাতুরি করে জনগণের ভালোবাসা পাওয়ার সুযোগ নেই। কাজ এবং জনসেবা করে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হয়, তিনি সেই পথেই হাঁটছেন। প্রাথমিকভাবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করাসহ যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নিলেও আরও বেশ কিছু উদ্যোগ রয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ময়লাখোলা অপসাপরণ এবং স্বল্পসময়ের মধ্যে ভবন মালিকদের নির্মাণশৈলী প্রদানের বিষয়টি অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে। এছাড়াও বরিশাল শহরের উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসক শিরিনের বহুমুখী চিন্তা-ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১৪ মার্চ বরিশাল সিটির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই তার বেশ কিছু উদ্যোগ শহরবাসীকে বিমুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে শহর থেকে ময়লাখোলা অপসারণ এবং ফুটপাথ দখলমুক্তকরণে তার উদ্যোগ আলোচনায় বেশিমাত্রায় গুরুত্ব পাচ্ছে। সাহসী শিরিনের এই যাত্রা অব্যাহত থাকলে এবং সেবার মাধ্যমে জনসমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হলে আগামী সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ার সম্ভবনা প্রবল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:১৮
নানামুখী সমস্যায় জর্জড়িত বরিশাল শহরকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন নগর প্রশাসক বিএনপি নেত্রী বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। প্রাথমিকভাবে শহরের রাস্তা-ঘাট দখল করে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অপসারণ করা এবং যানজট নিরসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। এবং কীর্তনখোলা নদীতীরবর্তী এই কবি জীবনানন্দের শহরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে প্রশাসক শিরিন আরও বেশকিছু পদক্ষেদ রাখতে যাচ্ছেন। অবহেলিত নগর উন্নয়নে তার এই ভাবনাকে ত্রিশটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাথে থেকে সহযোগিতারও অঙ্গীকার করেছন।
বিসিসি প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাসহ বিনোদনকেন্দ্রগুলোর প্রবেশমুখে যত্রতত্র ভ্রাম্যমাণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করায় শহরে প্রতিদিনের চলাচলে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে এই ভ্রাম্যমাণ প্রতিষ্ঠান পসরা সাজিয়ে বসার কারণে কখনও কখনও শহরের সদর রোড, চকবাজার, নতুন বাজার, বাংলা বাজারসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকাসমূহে যানজট দেখা যায়। এনিয়ে জনসাধারণের মধ্যেকার ক্ষোভও আছে এবং তাদের তরফ থেকে দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছেদের অনুরোধ করা হচ্ছিল।
জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন আপাদমস্তক রাজনৈতিক শিরিন। তাছাড়া শহরের সমস্যাগুলো তিনিও প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করেন। গত ৩ এপ্রিল বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে নোটিস জারি করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সাত দিনের সময় দিয়ে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। এবং এই সময়সীমা শেষ হলে কঠোর অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিসিসি উচ্ছেদে আল্টিমেটাম দেওয়ার পরে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অভিযান বন্ধ রাখতে প্রশাসক শিরিনের ধর্না ধরলেও তিনি কোনো প্রকার আপস করেননি। বরং সকলকে সাফ জানিয়ে দেন ১০ এপ্রিলের আগে অবৈধ স্থাপনা স্বেচ্ছায় সরিয়ে না নিলে বিসিসি ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।
প্রশাসক শিরিনের সেই হুঁশিয়ারির বাস্তবায়ন রোববার অফিস শুরুর দিনে দেখতে পেয়েছে শহরবাসী। এদিন সকালে সিটি কর্পোরেশন শহরের ফজলুল হক অ্যাভিনিউ রোড-বেলসপার্কে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। পূর্ব ঘোষণা প্রাপ্তির পরেও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। অবশ্য এরআগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে বেশ কদিন সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়েছিল। কিন্তু তা কর্ণপাত করেননি ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা, যার কারণে নগর প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা রাখতে হয়।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার জানান, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে নগর প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনের উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রথমদিন প্রাথমিকভাবে ফজলুল হক অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন স্থানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানে শতাধিক প্রতিষ্ঠান বুলডেজার দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। নগরমাতা জনস্বার্থে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন, এখন থেকে প্রতিনিয়তই এই ধরনের তৎপরতা চলমান থাকবে।
তবে সিটি প্রশাসন এবারই প্রথম বরিশাল শহরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উদ্যোগ নেয়নি, এরআগে বিগত সময়েও একাধিক অভিযান চালিয়েছে। সবশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শুরুর দিকেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পরেই বিসিসির কর্মকর্তাদের সাথে আপসরফা করে ফের রাস্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসাতে দেখা যায়।
অভিযোগ আছে, যখন যে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বা মেয়র হয়েছেন, তিনিই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে আপসরফা করে ফের দখল দিয়ে ফেলেন ব্যবসায়ীরা। অবশ্য এতে জনপ্রতিনিধিদেরও স্বার্থ নিহিত থাকে বলে মন্তব্য পাওয়া যায়।
ফুটপাতের একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সাথে আলাপচারিতায় জানা গেছে, বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র আবুল খায়ের খোকন এবং সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহও উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে অভিযান শুরু করেন। কিন্তু ব্যবসায়ী নেতারা সাক্ষাৎ লাভ এবং তাদের পক্ষে মিছিল-মিটিং করার অভয় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখা হয়। ব্যবসায়ীদের ধারনা ছিল, সাবেক মেয়রদের ন্যায় প্রশাসক শিরিনও ব্যক্তি স্বার্থ লুটতে উচ্ছেদ অভিযানে যাচ্ছেন, কিন্তু এবার তেমনটি হয়নি বা হওয়ার সম্ভবনা নেই। বরং শান্ত-স্নিগ্ধ কীর্তনখোলার তীর জনপদের এই শহরকে কী ভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং যানজটমুক্ত রাখা যায়, শিরিন সেই পথেই যেনো হাঁটছেন।
অবহেলিত বরিশাল শহরকে উন্নত এবং পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসক শিরিন যে কতটা অন্তরিক তা তার বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য দেখলেও কিছুটা অনুমান করা যায়। প্রতাপশালী বিএনপি নেত্রী রোববার দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, ছলচাতুরি করে জনগণের ভালোবাসা পাওয়ার সুযোগ নেই। কাজ এবং জনসেবা করে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হয়, তিনি সেই পথেই হাঁটছেন। প্রাথমিকভাবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করাসহ যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নিলেও আরও বেশ কিছু উদ্যোগ রয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ময়লাখোলা অপসাপরণ এবং স্বল্পসময়ের মধ্যে ভবন মালিকদের নির্মাণশৈলী প্রদানের বিষয়টি অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে। এছাড়াও বরিশাল শহরের উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসক শিরিনের বহুমুখী চিন্তা-ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১৪ মার্চ বরিশাল সিটির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই তার বেশ কিছু উদ্যোগ শহরবাসীকে বিমুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে শহর থেকে ময়লাখোলা অপসারণ এবং ফুটপাথ দখলমুক্তকরণে তার উদ্যোগ আলোচনায় বেশিমাত্রায় গুরুত্ব পাচ্ছে। সাহসী শিরিনের এই যাত্রা অব্যাহত থাকলে এবং সেবার মাধ্যমে জনসমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হলে আগামী সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ার সম্ভবনা প্রবল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।’