বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার কৃতি ছাত্রীদের সংবর্ধনা দিচ্ছে আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজ। আগামীকাল ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে কৃতি ছাত্রীদের ওই রাজসিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাবুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আকতার।
আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আফসানা জাহান মিমের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ও মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখবেন গুয়াংদং হংহুয়া নিউ মেটেরিয়ালস কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিসা ইয়াং। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃতি ছাত্রীরা ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, 'বাবুগঞ্জে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন জায়গায় বালিকা বিদ্যালয় থাকলেও তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য এই উপজেলায় কোনো স্বতন্ত্র মহিলা কলেজ ছিল না। ফলে তাদের অনেক শ্রম, অর্থ এবং সময় ব্যয় করে বরিশালে গিয়ে উইমেন্স কলেজে লেখাপড়া করতে হতো। তাদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে এই অঞ্চলে নারী শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেই জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রীদের ১০ হাজার টাকার স্কলারশিপ দেওয়া হবে। এছাড়াও মেধাবী ছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবর্ষ জুড়ে থাকবে বিভিন্ন অফার এবং প্রণোদনা। আমরা একটি নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশে নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে চাই। #

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪৭
বরিশাল সদর উপজেলায় পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে এক ঠিকাদারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে তার ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে। প্রাণ বাঁচাতে খালে ঝাঁপ দিয়ে রক্ষা পান ভুক্তভোগী। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাখরকাঠি গ্রামে গনি হাওলাদারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার শিকার ঠিকাদার সুলতান আহমেদ নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়া এলাকার সালাম হাওলাদারের ছেলে। তার ‘নুসরাত এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার বাহিনীতে জুতা, কালি, বেল্টসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহ করে।
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনাকারী সুলতান তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার মাগুরা জেলার বাসিন্দা সালাহউদ্দিন ওরফে সোহেল রানার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা পান।
ফরিদ আহমেদ বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় পাওনা টাকা পরিশোধ করতে সোহেল রানা সেখানে আসেন। তবে টাকা না দিয়ে চেক দেওয়ার পর একটি স্ট্যাম্পে সুলতানকে স্বাক্ষর করতে বললে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সুলতানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় আত্মরক্ষায় খালে ঝাঁপ দিয়ে চিৎকার শুরু করেন সুলতান। পরে মাইক্রোবাস নিয়ে আসা সোহেল রানা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন সাবেক এই কাউন্সিলর।
হামলার শিকার সুলতান আহমেদ বলেন, তাঁরা খারাপ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে বিস্তারিত বলার আগেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন সুলতান।
বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
বরিশাল সদর উপজেলায় পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে এক ঠিকাদারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে তার ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে। প্রাণ বাঁচাতে খালে ঝাঁপ দিয়ে রক্ষা পান ভুক্তভোগী। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাখরকাঠি গ্রামে গনি হাওলাদারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার শিকার ঠিকাদার সুলতান আহমেদ নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়া এলাকার সালাম হাওলাদারের ছেলে। তার ‘নুসরাত এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার বাহিনীতে জুতা, কালি, বেল্টসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহ করে।
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনাকারী সুলতান তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার মাগুরা জেলার বাসিন্দা সালাহউদ্দিন ওরফে সোহেল রানার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা পান।
ফরিদ আহমেদ বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় পাওনা টাকা পরিশোধ করতে সোহেল রানা সেখানে আসেন। তবে টাকা না দিয়ে চেক দেওয়ার পর একটি স্ট্যাম্পে সুলতানকে স্বাক্ষর করতে বললে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সুলতানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় আত্মরক্ষায় খালে ঝাঁপ দিয়ে চিৎকার শুরু করেন সুলতান। পরে মাইক্রোবাস নিয়ে আসা সোহেল রানা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন সাবেক এই কাউন্সিলর।
হামলার শিকার সুলতান আহমেদ বলেন, তাঁরা খারাপ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে বিস্তারিত বলার আগেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন সুলতান।
বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪০
মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আটক ব্যক্তিদের পেটানো, সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া, এরপর বিতর্কিত বক্তব্য—সব মিলিয়ে চাপে পড়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক। মাদক নির্মূলের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কি কোনো রাজনৈতিক নেতার আছে?
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ফারুক। একপর্যায়ে দুই যুবককে চড়-থাপ্পড় মারতে এবং কয়েকজনকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে পেটাতে দেখা যায়।
মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাভিদ রহমান তুষারের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাদক সেবনের অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় মুরব্বি ও অভিভাবকদের অনুরোধে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযানের আগে পুলিশকে জানানো হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক ফারুকের নিজের বক্তব্য। আটক ব্যক্তিদের মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে কী করব, তারা তো ছেড়ে দেয়। তাই উত্তমমাধ্যম দিয়ে আমরাও ছেড়ে দিয়েছি।’
এই বক্তব্য ঘিরেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে কাউকে মারধরের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার এই যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) এসআই রেজাউল ইসলাম রেজা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অভিযানে পুলিশের কোনো সদস্য ছিলেন না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশালের উপ-পরিচালক মো. তানভীর হোসেন খানও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। কর্মকর্তা বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছাড়া এ ধরনের অভিযান পরিচালনার সুযোগ নেই।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকন কুদ্দুসুর রহমানের বক্তব্যেও প্রশাসনের ভূমিকাই গুরুত্ব পেয়েছে। এই নেতার মতে, মাদক নির্মূলে নেতা-কর্মীরা পুলিশকে সহায়তা করতে পারেন, কিন্তু অভিযান পরিচালনা করবে প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু আল রায়হানও বলেছেন, মাদকসহ কাউকে আটক করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্কে ঢাকার বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় আসছে। সম্প্রতি ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া এবং পিস্তল হাতে থাকার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার ঘোষণা দেন।
ইশরাকের ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই বরিশালে ফারুকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দুই ঘটনার প্রেক্ষাপট এক না হলেও মাদকবিরোধী তৎপরতায় রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা, আইন প্রয়োগের সীমা এবং প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ফারুককে ঘিরে গণমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সমালোচনাও চোখে পড়ছে।
এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ফারুকের বক্তব্যের বাইরে আর কী ব্যাখ্যা সামনে আসে, বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না এবং প্রশাসন ঘটনাটি খতিয়ে দেখে কি না। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আটক ব্যক্তিদের মারধরের এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি ইশরাকের ন্যায় পরিণতি ফারুকেরও হয় সেই বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।’
মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আটক ব্যক্তিদের পেটানো, সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া, এরপর বিতর্কিত বক্তব্য—সব মিলিয়ে চাপে পড়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক। মাদক নির্মূলের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কি কোনো রাজনৈতিক নেতার আছে?
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ফারুক। একপর্যায়ে দুই যুবককে চড়-থাপ্পড় মারতে এবং কয়েকজনকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে পেটাতে দেখা যায়।
মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাভিদ রহমান তুষারের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাদক সেবনের অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় মুরব্বি ও অভিভাবকদের অনুরোধে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযানের আগে পুলিশকে জানানো হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক ফারুকের নিজের বক্তব্য। আটক ব্যক্তিদের মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে কী করব, তারা তো ছেড়ে দেয়। তাই উত্তমমাধ্যম দিয়ে আমরাও ছেড়ে দিয়েছি।’
এই বক্তব্য ঘিরেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে কাউকে মারধরের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার এই যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) এসআই রেজাউল ইসলাম রেজা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অভিযানে পুলিশের কোনো সদস্য ছিলেন না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশালের উপ-পরিচালক মো. তানভীর হোসেন খানও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। কর্মকর্তা বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছাড়া এ ধরনের অভিযান পরিচালনার সুযোগ নেই।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকন কুদ্দুসুর রহমানের বক্তব্যেও প্রশাসনের ভূমিকাই গুরুত্ব পেয়েছে। এই নেতার মতে, মাদক নির্মূলে নেতা-কর্মীরা পুলিশকে সহায়তা করতে পারেন, কিন্তু অভিযান পরিচালনা করবে প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু আল রায়হানও বলেছেন, মাদকসহ কাউকে আটক করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্কে ঢাকার বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় আসছে। সম্প্রতি ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া এবং পিস্তল হাতে থাকার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার ঘোষণা দেন।
ইশরাকের ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই বরিশালে ফারুকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দুই ঘটনার প্রেক্ষাপট এক না হলেও মাদকবিরোধী তৎপরতায় রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা, আইন প্রয়োগের সীমা এবং প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ফারুককে ঘিরে গণমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সমালোচনাও চোখে পড়ছে।
এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ফারুকের বক্তব্যের বাইরে আর কী ব্যাখ্যা সামনে আসে, বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না এবং প্রশাসন ঘটনাটি খতিয়ে দেখে কি না। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আটক ব্যক্তিদের মারধরের এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি ইশরাকের ন্যায় পরিণতি ফারুকেরও হয় সেই বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।’

২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১১
বরিশাল বিভাগের সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের পুরো সুবিধা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিভাগটির বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মোট ২১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হয়েছে ৪১ লাখ ২১ হাজার টাকা। পাশাপাশি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ২০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
তবে বরিশাল বিভাগের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতার তথ্য পাওয়া যায়নি। বরিশাল ও ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সক্ষমতার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, ঝালকাঠিতে বরাদ্দ থাকলেও তা ব্যয় করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শুধু বরিশাল বিভাগ নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মোট উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ০৭ মেগাওয়াটে। এসব ব্যবস্থা পুরোপুরি কাজে লাগানো এবং নেট মিটারিং কার্যকর করা গেলে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরশীলতাও কমানো সম্ভব হবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৬০ কিলোওয়াট এবং পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৫০ কিলোওয়াট করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবস্থা রয়েছে। চার জেলার এই ব্যবস্থার সম্মিলিত সক্ষমতা ২১০ কিলোওয়াট।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ২০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর জন্য ব্যয় হয়েছে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
তবে বরিশাল ও ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিভাগটির সব সরকারি কার্যালয়ে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতিবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত দেশের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়গুলোতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মোট সক্ষমতা ৪ হাজার ৬৬৩ কিলোওয়াট। পাঁচটি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ সক্ষমতা ৪০৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট। সব মিলিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৬৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বা প্রায় ৫ দশমিক ০৭ মেগাওয়াট।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারিভাবে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়গুলোতে এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা। খুলনা বিভাগে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৭৪ লাখ ৬৩ হাজার, রংপুরে ২ কোটি ৮ লাখ ৫২ হাজার, রাজশাহীতে ২ কোটি ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার, সিলেটে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে ১ কোটি ২৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
এ ছাড়া খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের কমিশনারের কার্যালয়গুলোতেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সক্ষমতা ও ব্যয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ভাড়া ভবনে পরিচালিত হওয়ায় সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ক্যাপেক্স মডেলে এসব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে দিনের বেলায় সরকারি কার্যালয়গুলোর নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে নেট মিটারিংয়ের অনুমোদন ও সংযোগ-সংক্রান্ত কিছু প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে বিল সমন্বয়ের সুযোগ পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
নেট মিটারিং চালু হলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। এর বিপরীতে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) শরীয়তপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেখানকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। নেট মিটারিংয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকায় অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে বিল সমন্বয় এখনো শুরু হয়নি।
ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতি মাসে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫ হাজার ইউনিট। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর পর প্রতি মাসে প্রায় ৮০০ ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রয়োজন কমছে এবং বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হচ্ছে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ছাদে স্থাপিত ৫ মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা জাতীয় পর্যায়ে খুব বড় অবদান না রাখলেও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে সরকারি ও বেসরকারি অন্যান্য ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ পর্যায়ে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে নেট মিটারিং সংযোগ দিতে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও নেট মিটারিং সংযোগের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগের আওতায় মেহেরপুরে ইতোমধ্যে ৮০ কিলোওয়াট সক্ষমতার ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর বিদ্যুতের চাহিদাজনিত চাপ কমাতে সহায়তা করবে। বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।
সরকারের ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’-এ ২০৩০ সালের মধ্যে সাড়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট আসার কথা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ১ হাজার ৬৪২ মেগাওয়াট।
সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা, নেট মিটারিং দ্রুত কার্যকর করা এবং যেসব কার্যালয়ে এখনো ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়নি সেখানে উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও অগ্রগতি সম্ভব হবে।’
বরিশাল বিভাগের সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের পুরো সুবিধা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিভাগটির বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মোট ২১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হয়েছে ৪১ লাখ ২১ হাজার টাকা। পাশাপাশি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ২০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
তবে বরিশাল বিভাগের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতার তথ্য পাওয়া যায়নি। বরিশাল ও ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সক্ষমতার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, ঝালকাঠিতে বরাদ্দ থাকলেও তা ব্যয় করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শুধু বরিশাল বিভাগ নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মোট উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ০৭ মেগাওয়াটে। এসব ব্যবস্থা পুরোপুরি কাজে লাগানো এবং নেট মিটারিং কার্যকর করা গেলে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরশীলতাও কমানো সম্ভব হবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৬০ কিলোওয়াট এবং পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৫০ কিলোওয়াট করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবস্থা রয়েছে। চার জেলার এই ব্যবস্থার সম্মিলিত সক্ষমতা ২১০ কিলোওয়াট।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ২০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর জন্য ব্যয় হয়েছে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
তবে বরিশাল ও ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিভাগটির সব সরকারি কার্যালয়ে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতিবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত দেশের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়গুলোতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মোট সক্ষমতা ৪ হাজার ৬৬৩ কিলোওয়াট। পাঁচটি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ সক্ষমতা ৪০৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট। সব মিলিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৬৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বা প্রায় ৫ দশমিক ০৭ মেগাওয়াট।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারিভাবে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়গুলোতে এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা। খুলনা বিভাগে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৭৪ লাখ ৬৩ হাজার, রংপুরে ২ কোটি ৮ লাখ ৫২ হাজার, রাজশাহীতে ২ কোটি ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার, সিলেটে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে ১ কোটি ২৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
এ ছাড়া খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের কমিশনারের কার্যালয়গুলোতেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সক্ষমতা ও ব্যয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ভাড়া ভবনে পরিচালিত হওয়ায় সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ক্যাপেক্স মডেলে এসব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে দিনের বেলায় সরকারি কার্যালয়গুলোর নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে নেট মিটারিংয়ের অনুমোদন ও সংযোগ-সংক্রান্ত কিছু প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে বিল সমন্বয়ের সুযোগ পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
নেট মিটারিং চালু হলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। এর বিপরীতে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) শরীয়তপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেখানকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। নেট মিটারিংয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকায় অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে বিল সমন্বয় এখনো শুরু হয়নি।
ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতি মাসে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫ হাজার ইউনিট। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর পর প্রতি মাসে প্রায় ৮০০ ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রয়োজন কমছে এবং বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হচ্ছে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ছাদে স্থাপিত ৫ মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা জাতীয় পর্যায়ে খুব বড় অবদান না রাখলেও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে সরকারি ও বেসরকারি অন্যান্য ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ পর্যায়ে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে নেট মিটারিং সংযোগ দিতে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও নেট মিটারিং সংযোগের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগের আওতায় মেহেরপুরে ইতোমধ্যে ৮০ কিলোওয়াট সক্ষমতার ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর বিদ্যুতের চাহিদাজনিত চাপ কমাতে সহায়তা করবে। বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।
সরকারের ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’-এ ২০৩০ সালের মধ্যে সাড়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট আসার কথা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ১ হাজার ৬৪২ মেগাওয়াট।
সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা, নেট মিটারিং দ্রুত কার্যকর করা এবং যেসব কার্যালয়ে এখনো ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়নি সেখানে উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও অগ্রগতি সম্ভব হবে।’

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩১
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার কৃতি ছাত্রীদের সংবর্ধনা দিচ্ছে আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজ। আগামীকাল ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে কৃতি ছাত্রীদের ওই রাজসিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাবুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আকতার।
আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আফসানা জাহান মিমের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ও মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখবেন গুয়াংদং হংহুয়া নিউ মেটেরিয়ালস কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিসা ইয়াং। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃতি ছাত্রীরা ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, 'বাবুগঞ্জে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন জায়গায় বালিকা বিদ্যালয় থাকলেও তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য এই উপজেলায় কোনো স্বতন্ত্র মহিলা কলেজ ছিল না। ফলে তাদের অনেক শ্রম, অর্থ এবং সময় ব্যয় করে বরিশালে গিয়ে উইমেন্স কলেজে লেখাপড়া করতে হতো। তাদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে এই অঞ্চলে নারী শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেই জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রীদের ১০ হাজার টাকার স্কলারশিপ দেওয়া হবে। এছাড়াও মেধাবী ছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবর্ষ জুড়ে থাকবে বিভিন্ন অফার এবং প্রণোদনা। আমরা একটি নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশে নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে চাই। #
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১১