পিরোজপুরের নাজিরপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করার পর এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে সার ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দীঘিরজান বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।
আহত কর্মকর্তার নাম বিপুল কুমার মল্লিক (৪৬)। তিনি নাজিরপুরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত বাবুল মোল্লার (৫৫) বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে দীঘিরজান বাজারে লাইসেন্স ছাড়াই সার বিক্রি করে আসছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে ওই বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন বিপুল কুমার মল্লিক।
এ সময় বাবুল মোল্লার দোকান ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে দুই বস্তা ইউরিয়া, সাড়ে তিন বস্তা ডিএপি, এক বস্তা এমওপি ও পাঁচ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়। লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযান শেষে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর বিপুল কুমার মল্লিক বাজারে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় বাবুল মোল্লা তাঁর পথরোধ করেন। মোবাইল কোর্টে সহযোগিতা করার জেরে তাঁকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই কর্মকর্তা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা এশা বলেন, ‘লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সার জব্দ করা হয়। আমরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বাবুল মোল্লা আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব বলেন, দীঘিরজান বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযান শেষে চলে আসার পর কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তাকে ওই ব্যবসায়ী মারধর করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। অফিস খোলার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৯
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বসতঘরে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুভ সাচকী (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় অলিউর রহমান (৪৯) নামে আরেক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চালিতাবুনিয়া গ্রামের একটি বসতঘরে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল।
এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে তিনটি প্যাকেটে সংরক্ষিত ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সুভ সাচকীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও অলিউর রহমান পালিয়ে যান।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চার কেজি গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বসতঘরে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুভ সাচকী (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় অলিউর রহমান (৪৯) নামে আরেক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চালিতাবুনিয়া গ্রামের একটি বসতঘরে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল।
এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে তিনটি প্যাকেটে সংরক্ষিত ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সুভ সাচকীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও অলিউর রহমান পালিয়ে যান।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চার কেজি গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০৯
কষ্টের উপার্জনে কিনেছিলেন দুটি ছাগল। নিজের শ্রম আর যত্নে সেগুলো লালন পালন করে ধীরে ধীরে ছাগলের সংখ্যা বাড়িয়ে করেছিলেন সাতটি। স্বপ্ন ছিল, ছাগলগুলোই এক দিন অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই ভেঙে গেল।
গ্রাম্য পশু চিকিৎসকের চিকিৎসা দেওয়ার পর একে একে মারা গেছে তার চারটি গর্ভবতী ছাগল। এতে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন হতদরিদ্র ভ্যানচালক শহিদুল ইসলাম। এখন প্রিয় ছাগলগুলো হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেসন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেলের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে বিচার চেয়ে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হতদরিদ্র শহিদুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন ভ্যানচালক। ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে প্রথমে দুটি ছাগল কেনেন তিনি। যত্ন নিয়ে ছাগলগুলো লালন পালন করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার ছাগলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাতটিতে। এর মধ্যে চারটি ছাগল ছিল গর্ভবতী। ছাগলগুলোকে ঘিরে তার মনে ছিল বাড়তি আয়ের স্বপ্ন। কিন্তু গত দুদিন আগে হঠাৎ ছাগলগুলো অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি স্থানীয় গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেলের শরণাপন্ন হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক অসুস্থ ছাগলগুলোকে একাধিক ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। এর পরপরই তিনটি ছাগল কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। অপর ছাগলটিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে সেটিকে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। মারা যাওয়া ছাগলগুলো উন্নত জাতের যমুনাপাড়ি বলে দাবি করেছেন মালিক শহিদুল ইসলাম। তার অভিযোগ, গ্রাম্য পশু চিকিৎসক সোহেলের ভুল চিকিৎসার কারণে ছাগলগুলোর মৃত্যু হয়েছে। এতে তার প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কষ্টের উপার্জনে গড়া স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় হতাশ শহিদুল। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছাগল লালন পালন করে আর্থিকভাবে কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু চারটি গর্ভবতী ছাগলের মৃত্যুতে সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গৌতম পাল চাংকি বলেন, শহিদুল ইসলামের চারটি ছাগল মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভ্যান চালিয়ে অনেক কষ্টে ছাগলগুলো লালন পালন করছিলেন শহিদুল। তার দাবি অনুযায়ী, ছাগল চারটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, গ্রামে কিছু ব্যক্তি যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে নেওয়া প্রয়োজন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেল বলেন, ছাগলগুলোর পিপিআর রোগ হয়েছিল। তাই তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। ছাগলগুলোর পাতলা পায়খানা হওয়ায় খাবারের জন্য কৃমিনাশক ওষুধও দিয়েছিলেন। তার দাবি, ওই ওষুধে ছাগল মারা যাওয়ার কথা নয়। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার ঘোষ বলেন, গর্ভবতী ছাগলকে কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে, যা মেনে চলা জরুরি। পিপিআর রোগ হলে ছাগলের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা যায়। সেসব লক্ষণ পর্যবেক্ষণ না করে চিকিৎসা দেওয়া হলে ছাগলের মৃত্যু হতে পারে। তবে ছাগলগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।
নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় তারা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কষ্টের উপার্জনে কিনেছিলেন দুটি ছাগল। নিজের শ্রম আর যত্নে সেগুলো লালন পালন করে ধীরে ধীরে ছাগলের সংখ্যা বাড়িয়ে করেছিলেন সাতটি। স্বপ্ন ছিল, ছাগলগুলোই এক দিন অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই ভেঙে গেল।
গ্রাম্য পশু চিকিৎসকের চিকিৎসা দেওয়ার পর একে একে মারা গেছে তার চারটি গর্ভবতী ছাগল। এতে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন হতদরিদ্র ভ্যানচালক শহিদুল ইসলাম। এখন প্রিয় ছাগলগুলো হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেসন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেলের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে বিচার চেয়ে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হতদরিদ্র শহিদুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন ভ্যানচালক। ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে প্রথমে দুটি ছাগল কেনেন তিনি। যত্ন নিয়ে ছাগলগুলো লালন পালন করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার ছাগলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাতটিতে। এর মধ্যে চারটি ছাগল ছিল গর্ভবতী। ছাগলগুলোকে ঘিরে তার মনে ছিল বাড়তি আয়ের স্বপ্ন। কিন্তু গত দুদিন আগে হঠাৎ ছাগলগুলো অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি স্থানীয় গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেলের শরণাপন্ন হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক অসুস্থ ছাগলগুলোকে একাধিক ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। এর পরপরই তিনটি ছাগল কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। অপর ছাগলটিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে সেটিকে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। মারা যাওয়া ছাগলগুলো উন্নত জাতের যমুনাপাড়ি বলে দাবি করেছেন মালিক শহিদুল ইসলাম। তার অভিযোগ, গ্রাম্য পশু চিকিৎসক সোহেলের ভুল চিকিৎসার কারণে ছাগলগুলোর মৃত্যু হয়েছে। এতে তার প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কষ্টের উপার্জনে গড়া স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় হতাশ শহিদুল। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছাগল লালন পালন করে আর্থিকভাবে কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু চারটি গর্ভবতী ছাগলের মৃত্যুতে সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গৌতম পাল চাংকি বলেন, শহিদুল ইসলামের চারটি ছাগল মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভ্যান চালিয়ে অনেক কষ্টে ছাগলগুলো লালন পালন করছিলেন শহিদুল। তার দাবি অনুযায়ী, ছাগল চারটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, গ্রামে কিছু ব্যক্তি যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে নেওয়া প্রয়োজন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেল বলেন, ছাগলগুলোর পিপিআর রোগ হয়েছিল। তাই তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। ছাগলগুলোর পাতলা পায়খানা হওয়ায় খাবারের জন্য কৃমিনাশক ওষুধও দিয়েছিলেন। তার দাবি, ওই ওষুধে ছাগল মারা যাওয়ার কথা নয়। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার ঘোষ বলেন, গর্ভবতী ছাগলকে কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে, যা মেনে চলা জরুরি। পিপিআর রোগ হলে ছাগলের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা যায়। সেসব লক্ষণ পর্যবেক্ষণ না করে চিকিৎসা দেওয়া হলে ছাগলের মৃত্যু হতে পারে। তবে ছাগলগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।
নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় তারা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১১
পিরোজপুর সদর উপজেলার কঁচা নদীতে অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (বেকুটিয়া সেতু)–এর নিচ থেকে সরকারি লোহার পাইপ চুরির অভিযোগে শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হেমায়েত বেপারিসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সেতুর নিচে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাতে একটি চক্র সেতুর নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে সরকারি লোহার পাইপ কেটে চুরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা-পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করে। এ সময় পাইপ কাটার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আটক হেমায়েত বেপারির বিরুদ্ধে চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, তদন্তে হেমায়েত বেপারির সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পিরোজপুর সদর উপজেলার কঁচা নদীতে অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (বেকুটিয়া সেতু)–এর নিচ থেকে সরকারি লোহার পাইপ চুরির অভিযোগে শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হেমায়েত বেপারিসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সেতুর নিচে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাতে একটি চক্র সেতুর নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে সরকারি লোহার পাইপ কেটে চুরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা-পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করে। এ সময় পাইপ কাটার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আটক হেমায়েত বেপারির বিরুদ্ধে চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, তদন্তে হেমায়েত বেপারির সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩৪
পিরোজপুরের নাজিরপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করার পর এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে সার ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দীঘিরজান বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।
আহত কর্মকর্তার নাম বিপুল কুমার মল্লিক (৪৬)। তিনি নাজিরপুরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত বাবুল মোল্লার (৫৫) বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে দীঘিরজান বাজারে লাইসেন্স ছাড়াই সার বিক্রি করে আসছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে ওই বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন বিপুল কুমার মল্লিক।
এ সময় বাবুল মোল্লার দোকান ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে দুই বস্তা ইউরিয়া, সাড়ে তিন বস্তা ডিএপি, এক বস্তা এমওপি ও পাঁচ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়। লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযান শেষে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর বিপুল কুমার মল্লিক বাজারে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় বাবুল মোল্লা তাঁর পথরোধ করেন। মোবাইল কোর্টে সহযোগিতা করার জেরে তাঁকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই কর্মকর্তা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা এশা বলেন, ‘লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সার জব্দ করা হয়। আমরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বাবুল মোল্লা আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব বলেন, দীঘিরজান বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযান শেষে চলে আসার পর কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তাকে ওই ব্যবসায়ী মারধর করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। অফিস খোলার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৩৪
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:২৫
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৯
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৩