যশোরের বেনাপোলে দুই কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০ টাকা মূল্যের এক কাভার্ডভ্যানসহ (ট্রাক) ভারতীয় বিপুল পরিমাণের শাড়ি, থ্রি পিচ, ওষুধ, মোটর সাইকেলের টায়ার এবং বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মালামালের কোন মালিক না থাকায় চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়।
সোমবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বেনাপোলের ভবের বেড় ট্রাক টার্মিনাল এর সামনে থেকে কাভার্ডভ্যানটি আটক করে বেনাপোল সদর ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার সকালে গনণা করে দুপুরের দিকে বিজিবি প্রেস নোটে এ তথ্য জানান।
আটক চালক হচ্ছেন, মাগুরা জেলার সদর থানার হাজী কলেজ পাড়া এলাকার নাদের মোল্যার ছেলে আব্দুল মালেক (৪৬) ও হেলপার একই থানার শিবরামপুর পাড়া এলাকার সুশান্ত কর্মকারের ছেলে অন্তর কর্মকার (২৯)।
বিজিবি জানান, ভারতীয় চোরাচালানী পণ্য পাচাররোধে বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের একটি বিশেষ চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। বেনাপোল ভবেরবেড় ট্রাক টার্মিনাল এর সামনে পাকা রাস্তার উপর হতে মাগুরা কার্গো সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৭৫৬৬) তল্লাশির জন্য থামানো হয়।
পরবর্তীতে কাভার্ড ভ্যানটিতে অবৈধ মালামাল বহন করতে পারে মর্মে সন্দেহ হলে তল্লাশির জন্য বেনাপোল ক্যাম্পে আনা হয়। পরে তল্লাশি করে কাভার্ড ভ্যানের ভিতর হতে ১৪৭৪ পিস ভারতীয় শাড়ি, ২১৫ পিস থ্রীপিচ, দুইটি মোটর সাইকেলের টায়ার, ১০ হাজার ৬৯৩ টি বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, ৭৪ হাজার ৪৫৫ টি বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স সামগ্রী এর বৈধ কাগজপত্র না থাকায় জব্দ করা হয়।
এ সময় কাভার্ড ভ্যানসহ চালক আব্দুল মালেক ও হেলপার অন্তর কর্মকারকে আটক করা হয়। জব্দকৃত মালামালের মূল্য কাভার্ড ভ্যানসহ দুই কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০ টাকা।
আটককৃত চালক ও হেলপারকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার নামাজগ্রামের মো: বাবুল এর মো: বিল্লাল ২০ হাজার টাকা চুক্তির বিনিময়ে উক্ত মালামালগুলো বেনাপোল থেকে ঢাকার মিপরপুর পাচার করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। আটককৃত চোরাচালানী মালামালসহ আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এর মাধ্যমে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ্ সিদ্দিকী জানান, আসন্ন দূর্গা পূজা উপলক্ষে ভারত হতে বাংলাদেশে ভারতীয় শাড়ি, থ্রি পিচ, ওষুধ, বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স সামগ্রী পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উক্ত চোরাচালানী মালামালসহ পাচারকারী আটকের নিমিত্তে বিজিবি’র আভিযানিক কার্যক্রম ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তবে বেনাপোলের একাধিক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছে, আটককৃত মালামাল বেনাপোল বন্দর থেকে লোড করা হয়েছিল। একটি চোরাচালানী সিন্ডিকেট বৈধ মালামালের সাথে বিনা এন্ট্রিতে এসব অবৈধ পণ্য ভারত থেকে বন্দরের শেডে এনে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে এসব মালামাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে থাকে।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৮:৫২
যশোরের বেনাপোলে দুই কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০ টাকা মূল্যের এক কাভার্ডভ্যানসহ (ট্রাক) ভারতীয় বিপুল পরিমাণের শাড়ি, থ্রি পিচ, ওষুধ, মোটর সাইকেলের টায়ার এবং বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মালামালের কোন মালিক না থাকায় চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়।
সোমবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বেনাপোলের ভবের বেড় ট্রাক টার্মিনাল এর সামনে থেকে কাভার্ডভ্যানটি আটক করে বেনাপোল সদর ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার সকালে গনণা করে দুপুরের দিকে বিজিবি প্রেস নোটে এ তথ্য জানান।
আটক চালক হচ্ছেন, মাগুরা জেলার সদর থানার হাজী কলেজ পাড়া এলাকার নাদের মোল্যার ছেলে আব্দুল মালেক (৪৬) ও হেলপার একই থানার শিবরামপুর পাড়া এলাকার সুশান্ত কর্মকারের ছেলে অন্তর কর্মকার (২৯)।
বিজিবি জানান, ভারতীয় চোরাচালানী পণ্য পাচাররোধে বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের একটি বিশেষ চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। বেনাপোল ভবেরবেড় ট্রাক টার্মিনাল এর সামনে পাকা রাস্তার উপর হতে মাগুরা কার্গো সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৭৫৬৬) তল্লাশির জন্য থামানো হয়।
পরবর্তীতে কাভার্ড ভ্যানটিতে অবৈধ মালামাল বহন করতে পারে মর্মে সন্দেহ হলে তল্লাশির জন্য বেনাপোল ক্যাম্পে আনা হয়। পরে তল্লাশি করে কাভার্ড ভ্যানের ভিতর হতে ১৪৭৪ পিস ভারতীয় শাড়ি, ২১৫ পিস থ্রীপিচ, দুইটি মোটর সাইকেলের টায়ার, ১০ হাজার ৬৯৩ টি বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, ৭৪ হাজার ৪৫৫ টি বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স সামগ্রী এর বৈধ কাগজপত্র না থাকায় জব্দ করা হয়।
এ সময় কাভার্ড ভ্যানসহ চালক আব্দুল মালেক ও হেলপার অন্তর কর্মকারকে আটক করা হয়। জব্দকৃত মালামালের মূল্য কাভার্ড ভ্যানসহ দুই কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০ টাকা।
আটককৃত চালক ও হেলপারকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার নামাজগ্রামের মো: বাবুল এর মো: বিল্লাল ২০ হাজার টাকা চুক্তির বিনিময়ে উক্ত মালামালগুলো বেনাপোল থেকে ঢাকার মিপরপুর পাচার করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। আটককৃত চোরাচালানী মালামালসহ আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এর মাধ্যমে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ্ সিদ্দিকী জানান, আসন্ন দূর্গা পূজা উপলক্ষে ভারত হতে বাংলাদেশে ভারতীয় শাড়ি, থ্রি পিচ, ওষুধ, বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স সামগ্রী পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উক্ত চোরাচালানী মালামালসহ পাচারকারী আটকের নিমিত্তে বিজিবি’র আভিযানিক কার্যক্রম ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তবে বেনাপোলের একাধিক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছে, আটককৃত মালামাল বেনাপোল বন্দর থেকে লোড করা হয়েছিল। একটি চোরাচালানী সিন্ডিকেট বৈধ মালামালের সাথে বিনা এন্ট্রিতে এসব অবৈধ পণ্য ভারত থেকে বন্দরের শেডে এনে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে এসব মালামাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে থাকে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪১
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:০২
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩১
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৮