বরগুনার পাথরঘাটায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার ওপর হামলা চালিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলের দিকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাড়িটানা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পাথরঘাটা শহরে লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জামায়াত সমর্থকরা।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হামলার শিকার ওই নেতার নাম, নাসির উদ্দিন। তিনি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের অর্থ সম্পাদক। পরে রাতে পাথরঘাটা পৌরশহরে হামলাকারীর শাস্তির দাবিতে মিছিল করা হয়।
জামায়াত নেতাকর্মীদের দাবি, হামলাকারী নুর আলম স্থানীয় বিএনপির সমর্থক, তবে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি বিএনপির কোনো পদে নেই বলে জানিয়েছেন পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নারী কর্মী দলীয় কাজে পাথারঘাটার হাড়িটানা এলাকায় যান। এসময় নুর আলমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তিনি তাদের ধাওয়া করেন। পরে বিষয়টি জানতে নাসির উদ্দিন এগিয়ে এলে তার ওপরও হামলা চালান নুর আলম।
এতে নাসিরে পা ভেঙে যায়। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠান।
এদিকে এ ঘটনার পরপরই রাতে পাথারঘাটা শহরে জামায়াত নেতা নাসির উদ্দিনের ওপর হামলার প্রতিবাদে লাঠি মিছিল করেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা বিভিন্ন ধরনের লাঠিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বেঁধে মিছিল করেন তারা।
নির্বাচনের আগমুহূর্তে লাঠি হাতে স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে জানতে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ওসি) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত জাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার মোবাইলে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
হামলার বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মাসুদুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, নাসিরের ওপর হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি নুর আলম বিএনপির কর্মী। ক্ষমতার মোহে জামায়াতকে নির্মূল করতে এ হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমানে আহত নাসিরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
লাঠি হাতে প্রতিবাদ মিছিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিনের স্বজন ও এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা এ মিছিল করে। মিছিলে দলের কোনো ব্যানার ছিল না।
হামলার বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, এটি সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলীয় কোনো বিষয় নেই। হয়ত ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত নুর আলম আমাদের দলীয় কেউ না। সে বিএনপির সমর্থক হতে পারে, তবে কোনো কমিটিতে তার নাম নেই।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন, প্রাথমিকভাবে জেনেছি জামায়াতের কার্যক্রম প্রচারণাকালে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৮
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৫
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৫২
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটার মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি বরকত’ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর পাঁচ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গভীর সমুদ্র থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
ট্রলারটির মালিক ও মাঝি বাদল মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, গভীর সমুদ্র থেকে পাঁচ জেলের লাশ উদ্ধার করে একটি ট্রলার বর্তমানে উপকূলের দিকে ফিরছে। পাথরঘাটায় পৌঁছাতে তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচজন।
নিখোঁজ পাঁচ জেলে হলেন—নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইকুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)। তাদের বাড়ি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের বাবুর্চি ইউনুস মোল্লা জানান, দুর্ঘটনার সময় সাগরে প্রচণ্ড ঝড় ও তুফান চলছিল। জাল ফেলার প্রস্তুতির মধ্যে ক্লান্ত হয়ে কয়েকজন জেলে ট্রলারের ব্রিজের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড় ও ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উলটে যায়। পরে আট জেলে প্রায় দুই ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারে উঠে প্রাণে বাঁচেন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে একটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ জেলের লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটার মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি বরকত’ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর পাঁচ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গভীর সমুদ্র থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
ট্রলারটির মালিক ও মাঝি বাদল মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, গভীর সমুদ্র থেকে পাঁচ জেলের লাশ উদ্ধার করে একটি ট্রলার বর্তমানে উপকূলের দিকে ফিরছে। পাথরঘাটায় পৌঁছাতে তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচজন।
নিখোঁজ পাঁচ জেলে হলেন—নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইকুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)। তাদের বাড়ি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের বাবুর্চি ইউনুস মোল্লা জানান, দুর্ঘটনার সময় সাগরে প্রচণ্ড ঝড় ও তুফান চলছিল। জাল ফেলার প্রস্তুতির মধ্যে ক্লান্ত হয়ে কয়েকজন জেলে ট্রলারের ব্রিজের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড় ও ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উলটে যায়। পরে আট জেলে প্রায় দুই ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারে উঠে প্রাণে বাঁচেন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে একটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ জেলের লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।

১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:১৫
বরগুনার পাথরঘাটায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার ওপর হামলা চালিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলের দিকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাড়িটানা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পাথরঘাটা শহরে লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জামায়াত সমর্থকরা।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হামলার শিকার ওই নেতার নাম, নাসির উদ্দিন। তিনি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের অর্থ সম্পাদক। পরে রাতে পাথরঘাটা পৌরশহরে হামলাকারীর শাস্তির দাবিতে মিছিল করা হয়।
জামায়াত নেতাকর্মীদের দাবি, হামলাকারী নুর আলম স্থানীয় বিএনপির সমর্থক, তবে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি বিএনপির কোনো পদে নেই বলে জানিয়েছেন পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নারী কর্মী দলীয় কাজে পাথারঘাটার হাড়িটানা এলাকায় যান। এসময় নুর আলমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তিনি তাদের ধাওয়া করেন। পরে বিষয়টি জানতে নাসির উদ্দিন এগিয়ে এলে তার ওপরও হামলা চালান নুর আলম।
এতে নাসিরে পা ভেঙে যায়। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠান।
এদিকে এ ঘটনার পরপরই রাতে পাথারঘাটা শহরে জামায়াত নেতা নাসির উদ্দিনের ওপর হামলার প্রতিবাদে লাঠি মিছিল করেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা বিভিন্ন ধরনের লাঠিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বেঁধে মিছিল করেন তারা।
নির্বাচনের আগমুহূর্তে লাঠি হাতে স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে জানতে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ওসি) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত জাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার মোবাইলে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
হামলার বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মাসুদুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, নাসিরের ওপর হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি নুর আলম বিএনপির কর্মী। ক্ষমতার মোহে জামায়াতকে নির্মূল করতে এ হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমানে আহত নাসিরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
লাঠি হাতে প্রতিবাদ মিছিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিনের স্বজন ও এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা এ মিছিল করে। মিছিলে দলের কোনো ব্যানার ছিল না।
হামলার বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, এটি সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলীয় কোনো বিষয় নেই। হয়ত ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত নুর আলম আমাদের দলীয় কেউ না। সে বিএনপির সমর্থক হতে পারে, তবে কোনো কমিটিতে তার নাম নেই।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন, প্রাথমিকভাবে জেনেছি জামায়াতের কার্যক্রম প্রচারণাকালে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬