
২২ আগস্ট, ২০২৫ ২০:১৫
"স্বর্নালী সম্ভাবে সাজাই জীবন" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝালকাঠিতে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠির সুগন্ধা সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার সকাল ৯টায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা মাওলানা মিরাজুল ইসলাম, পৌর উপদেষ্টা মাওলানা মনিরুজ্জামান।
সকাল ১০টায় মাওলানা কাওছার হামিদীর কুরআন অধ্যায়নের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরু হয়ে সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ ফরিদুল হক'র সভাপতিত্বে পরিচালক আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় সংগীতের আদ্যপান্ত নিয়ে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা করেন বাংলাদেশ সংগীত কেন্দ্রের অফিস সম্পাদক এবং গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী মাসুদ রানা।
নাটক ও অভিনয়ের মৌলিক তত্ত্ব বিষয়ে আলোচনা করেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের অফিস সম্পাদক বিশিষ্ট নাট্যকার ও অভিনেতা মনিরুল ইসলাম। সাহিত্য সাংস্কৃতিক আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সাহিত্য সম্পাদক, বরিশাল অঞ্চল তত্বাবধায়ক, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক ইয়াসিন মাহমুদ।
সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রতিবেদন তৈরির কলাকৌশল বিষয়ে আলোচনা করেন বরিশাল সংস্কৃতি কেন্দ্র ও দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক সাংবাদিক আযাদ আলাউদ্দিন।
মনোমুগ্ধকর কুরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আশরাফুল ইসলাম। এসময় সুগন্ধা, সংশপ্তক, বিষখালী, প্রজাপতি সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
সকাল ৯টায় কর্মশালা শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হয়।
"স্বর্নালী সম্ভাবে সাজাই জীবন" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝালকাঠিতে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠির সুগন্ধা সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার সকাল ৯টায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা মাওলানা মিরাজুল ইসলাম, পৌর উপদেষ্টা মাওলানা মনিরুজ্জামান।
সকাল ১০টায় মাওলানা কাওছার হামিদীর কুরআন অধ্যায়নের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরু হয়ে সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ ফরিদুল হক'র সভাপতিত্বে পরিচালক আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় সংগীতের আদ্যপান্ত নিয়ে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা করেন বাংলাদেশ সংগীত কেন্দ্রের অফিস সম্পাদক এবং গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী মাসুদ রানা।
নাটক ও অভিনয়ের মৌলিক তত্ত্ব বিষয়ে আলোচনা করেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের অফিস সম্পাদক বিশিষ্ট নাট্যকার ও অভিনেতা মনিরুল ইসলাম। সাহিত্য সাংস্কৃতিক আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সাহিত্য সম্পাদক, বরিশাল অঞ্চল তত্বাবধায়ক, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক ইয়াসিন মাহমুদ।
সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রতিবেদন তৈরির কলাকৌশল বিষয়ে আলোচনা করেন বরিশাল সংস্কৃতি কেন্দ্র ও দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক সাংবাদিক আযাদ আলাউদ্দিন।
মনোমুগ্ধকর কুরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আশরাফুল ইসলাম। এসময় সুগন্ধা, সংশপ্তক, বিষখালী, প্রজাপতি সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
সকাল ৯টায় কর্মশালা শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হয়।
১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৩:৩১
১৫ মার্চ, ২০২৬ ২০:৩৩
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৫৭
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৩৫

১৪ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫০
ঝালকাঠির রাজাপুরে নৌ কর্মকর্তার প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দেড় বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা স্বামী-স্ত্রী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে ঝালকাঠি -পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজাপুর উপজেলার বাগড়ি বাজার ব্র্যাক অফিস সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ইমতিয়াজ আলম (৩৫) বরিশাল নৌবাহিনীতে কর্মরত। তিনি নিজেই প্রাইভেট কার চালিয়ে মংলা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে বাগড়ি বাজার এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
এ সময় গাড়িতে থাকা তার দেড় বছর বয়সী মেয়ে মেহেরিনা গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ইমতিয়াজ আলম ও তার স্ত্রী আতিয়া রাতু রুমানা (৩৩) আহত হয়েছেন।
রাজাপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলার বাগড়ি বাজার এলাকায় একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে গাড়িতে থাকা এক শিশু মারা গেছে এবং দুজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমি পুলিশ ঘটনাস্থলে যাই। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ঝালকাঠির রাজাপুরে নৌ কর্মকর্তার প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দেড় বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা স্বামী-স্ত্রী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে ঝালকাঠি -পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজাপুর উপজেলার বাগড়ি বাজার ব্র্যাক অফিস সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ইমতিয়াজ আলম (৩৫) বরিশাল নৌবাহিনীতে কর্মরত। তিনি নিজেই প্রাইভেট কার চালিয়ে মংলা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে বাগড়ি বাজার এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
এ সময় গাড়িতে থাকা তার দেড় বছর বয়সী মেয়ে মেহেরিনা গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ইমতিয়াজ আলম ও তার স্ত্রী আতিয়া রাতু রুমানা (৩৩) আহত হয়েছেন।
রাজাপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলার বাগড়ি বাজার এলাকায় একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে গাড়িতে থাকা এক শিশু মারা গেছে এবং দুজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমি পুলিশ ঘটনাস্থলে যাই। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

১৪ মার্চ, ২০২৬ ১১:৫৩
ঝালকাঠির গাবখান চ্যানেলের পাড়ে পুরোনো সড়কের দুই পাশে প্রায় ২ হাজার গাছ কাটার কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। গত এক সপ্তাহে ইতোমধ্যে অন্তত ১২০টি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে আপাতত গাছ কাটা স্থগিত করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গাবখান বাজার থেকে বারুহার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় নদীর পাড়ঘেঁষা পুরোনো সড়কের দুই পাশে থাকা গাছগুলো কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে এই কাজ শুরু করা হয়।
প্রকল্প অনুযায়ী মোট ৪৭টি লটে ১৮১৫টি গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়। প্রতিটি লটে গড়ে প্রায় ৪০টি করে গাছ ধরা হলেও বন বিভাগের একটি সূত্র জানায়, বাস্তবে প্রতি লটে প্রায় ৫০টি করে গাছ কাটার পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসেবে গাছের সংখ্যা ২ হাজারেরও বেশি হতে পারে।
ইতোমধ্যে তিনটি লটের প্রায় ১২০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছগুলোর মধ্যে রাজ কড়ই, অর্জুন, শিশু, তুলা, নিম ও বাবলাসহ অন্তত ১৫ প্রজাতির মূল্যবান গাছ রয়েছে।
গাছ কাটার বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু হয়। পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে গাছ কাটা বন্ধের দাবি জানান।
একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ উচ্চ আদালতের একটি রায়ের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।
এরপর বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে আবারও গাছ কাটার তথ্য জানানো হলে জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন ঝালকাঠি জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকারকে গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাবখান চ্যানেলের পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি ব্লক স্থাপনের প্রকল্প চলমান রয়েছে। নদীর দক্ষিণ পাড়ে নতুন ও পুরোনো দুটি সড়ক রয়েছে।
গাবখান বাজার থেকে বারুহার পর্যন্ত বেশিরভাগ স্থানে নদীর পাড় থেকে পুরোনো সড়কের দূরত্ব গড়ে ২০ ফুটের বেশি এবং অনেক জায়গায় এর চেয়েও বেশি।
কোথাও কোথাও জিও ব্যাগ পর্যন্ত পাড়ের প্রস্থ ৫০ ফুটেরও বেশি। এত জায়গা থাকার পরও পুরোনো সড়কের অংশেও ব্লক ফেলার পরিকল্পনা নেওয়ায় সড়কের দুই পাশে থাকা গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, মোট গাছের একটি অংশের হিসাব বিশ্লেষণ করেই অন্তত ২৬ প্রজাতির গাছ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজ কড়ই, কাঞ্চন, তুলা, অর্জুন, শিশু, বাবলা, তেঁতুল, জারুল, কড়ই, জাম, নিম, কাঁঠাল, গামার ও সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।
বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, ৪৭টি লটের মধ্যে ৩৭টি লটের ঠিকাদারি পেয়েছেন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নজরুল মেম্বারসহ চারজন ঠিকাদার।
বাকি ১০টি লট পেয়েছেন ঝালকাঠি সদর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার তিনজন ঠিকাদার। ১৮১৫টি গাছের বিপরীতে প্রায় ৬০ লাখ টাকায় দরপত্র অনুমোদন করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে ঝালকাঠির সিনিয়র আইনজীবী ও পরিবেশকর্মী নাসির উদ্দীন কবীর বলেন, সংখ্যা ২ হাজার হোক বা তার বেশি—এত বিপুল সংখ্যক গাছ কাটার চিন্তা কীভাবে করা হলো সেটিই প্রশ্ন।
এখানে সামাজিক বনায়নের একটি বড় অংশ রয়েছে। কমপক্ষে শতাধিক প্রজাতির পাখি ও নানা সরীসৃপ প্রাণীর আবাসস্থল এটি। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই গাছ কোনোভাবেই কাটা উচিত নয়। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
ঝালকাঠি জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশ পাওয়ার পর গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। আমি বলা ছাড়া কেউ একটি ডালও কাটতে পারবে না।
গাছের প্রতি বন বিভাগেরই সবচেয়ে বেশি মায়া। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে বলার পর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ব্লক স্থাপন করা হলে গাছগুলো এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এভাবে গাছ কাটা যাবে না। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে তাদের সুপারিশ ছাড়া কোনোভাবেই গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ উচ্চ আদালতের একটি রায়ের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। গাছ কাটার সময় ওই রায়টি ছিল না। এখন আপাতত গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পরবর্তী সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
ঝালকাঠির গাবখান চ্যানেলের পাড়ে পুরোনো সড়কের দুই পাশে প্রায় ২ হাজার গাছ কাটার কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। গত এক সপ্তাহে ইতোমধ্যে অন্তত ১২০টি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে আপাতত গাছ কাটা স্থগিত করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গাবখান বাজার থেকে বারুহার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় নদীর পাড়ঘেঁষা পুরোনো সড়কের দুই পাশে থাকা গাছগুলো কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে এই কাজ শুরু করা হয়।
প্রকল্প অনুযায়ী মোট ৪৭টি লটে ১৮১৫টি গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়। প্রতিটি লটে গড়ে প্রায় ৪০টি করে গাছ ধরা হলেও বন বিভাগের একটি সূত্র জানায়, বাস্তবে প্রতি লটে প্রায় ৫০টি করে গাছ কাটার পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসেবে গাছের সংখ্যা ২ হাজারেরও বেশি হতে পারে।
ইতোমধ্যে তিনটি লটের প্রায় ১২০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছগুলোর মধ্যে রাজ কড়ই, অর্জুন, শিশু, তুলা, নিম ও বাবলাসহ অন্তত ১৫ প্রজাতির মূল্যবান গাছ রয়েছে।
গাছ কাটার বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু হয়। পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে গাছ কাটা বন্ধের দাবি জানান।
একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ উচ্চ আদালতের একটি রায়ের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।
এরপর বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে আবারও গাছ কাটার তথ্য জানানো হলে জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন ঝালকাঠি জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকারকে গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাবখান চ্যানেলের পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি ব্লক স্থাপনের প্রকল্প চলমান রয়েছে। নদীর দক্ষিণ পাড়ে নতুন ও পুরোনো দুটি সড়ক রয়েছে।
গাবখান বাজার থেকে বারুহার পর্যন্ত বেশিরভাগ স্থানে নদীর পাড় থেকে পুরোনো সড়কের দূরত্ব গড়ে ২০ ফুটের বেশি এবং অনেক জায়গায় এর চেয়েও বেশি।
কোথাও কোথাও জিও ব্যাগ পর্যন্ত পাড়ের প্রস্থ ৫০ ফুটেরও বেশি। এত জায়গা থাকার পরও পুরোনো সড়কের অংশেও ব্লক ফেলার পরিকল্পনা নেওয়ায় সড়কের দুই পাশে থাকা গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, মোট গাছের একটি অংশের হিসাব বিশ্লেষণ করেই অন্তত ২৬ প্রজাতির গাছ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজ কড়ই, কাঞ্চন, তুলা, অর্জুন, শিশু, বাবলা, তেঁতুল, জারুল, কড়ই, জাম, নিম, কাঁঠাল, গামার ও সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।
বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, ৪৭টি লটের মধ্যে ৩৭টি লটের ঠিকাদারি পেয়েছেন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নজরুল মেম্বারসহ চারজন ঠিকাদার।
বাকি ১০টি লট পেয়েছেন ঝালকাঠি সদর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার তিনজন ঠিকাদার। ১৮১৫টি গাছের বিপরীতে প্রায় ৬০ লাখ টাকায় দরপত্র অনুমোদন করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে ঝালকাঠির সিনিয়র আইনজীবী ও পরিবেশকর্মী নাসির উদ্দীন কবীর বলেন, সংখ্যা ২ হাজার হোক বা তার বেশি—এত বিপুল সংখ্যক গাছ কাটার চিন্তা কীভাবে করা হলো সেটিই প্রশ্ন।
এখানে সামাজিক বনায়নের একটি বড় অংশ রয়েছে। কমপক্ষে শতাধিক প্রজাতির পাখি ও নানা সরীসৃপ প্রাণীর আবাসস্থল এটি। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই গাছ কোনোভাবেই কাটা উচিত নয়। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
ঝালকাঠি জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশ পাওয়ার পর গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। আমি বলা ছাড়া কেউ একটি ডালও কাটতে পারবে না।
গাছের প্রতি বন বিভাগেরই সবচেয়ে বেশি মায়া। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে বলার পর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ব্লক স্থাপন করা হলে গাছগুলো এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এভাবে গাছ কাটা যাবে না। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে তাদের সুপারিশ ছাড়া কোনোভাবেই গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ উচ্চ আদালতের একটি রায়ের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। গাছ কাটার সময় ওই রায়টি ছিল না। এখন আপাতত গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পরবর্তী সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

১৪ মার্চ, ২০২৬ ১১:৩২
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সন্তান ও আলোচিত রাজনৈতিক আন্দোলনকর্মী শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির জীবনী যুক্ত হয়েছে মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায়। সম্প্রতি তার জীবন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মৃত্যুর ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে একটি বিস্তারিত নিবন্ধ সেখানে প্রকাশ করা হয়েছে।
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, শরিফ ওসমান বিন হাদি ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঝালকাঠির ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন এবং পরে উচ্চশিক্ষা নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শিক্ষকতা, লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন ও বক্তব্যের মাধ্যমে ওই সময় তিনি আলোচনায় আসেন।
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তিনি জুলাই শহীদদের অধিকার রক্ষা, ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ঢাকার বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্টের কাছে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রাবেয়া ইসলাম সম্পাকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর পর ঢাকায় কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সন্তান ও আলোচিত রাজনৈতিক আন্দোলনকর্মী শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির জীবনী যুক্ত হয়েছে মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায়। সম্প্রতি তার জীবন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মৃত্যুর ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে একটি বিস্তারিত নিবন্ধ সেখানে প্রকাশ করা হয়েছে।
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, শরিফ ওসমান বিন হাদি ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঝালকাঠির ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন এবং পরে উচ্চশিক্ষা নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শিক্ষকতা, লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন ও বক্তব্যের মাধ্যমে ওই সময় তিনি আলোচনায় আসেন।
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তিনি জুলাই শহীদদের অধিকার রক্ষা, ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ঢাকার বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্টের কাছে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রাবেয়া ইসলাম সম্পাকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর পর ঢাকায় কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.