ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীসহ দেশের ৬৪ জেলায় ,চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি করছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তালিকা প্রস্তুত শেষে এতে থাকা সব অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদাবাজদের একটি 'আনবায়াসড' তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যারাই তালিকায় থাকবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকলে কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থাকবে না।
যে অপরাধী, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কতদিনের মধ্যে এ তালিকা সম্পন্ন হবে? এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানালেও তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠে অভিযান শুরু করা হবে। আজকেও হতে পারে।
তিনি জানান, চাঁদাবাজি শুধু একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবহন খাতে মহাসড়ক কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি, সব ধরনের চাঁদাবাজিকে এ তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সবস্তরের অপরাধীকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
র্যাব বলছে, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না। সেক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
কল্যাণপুরে একটি হাসপাতালের উদ্যোক্তার কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রথমে পুলিশের কাছে গেছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে। একইসঙ্গে র্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক একটি বড় ইয়াবা চালান আটকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে যারা ধরা পড়ে তারা সাধারণত নিম্নস্তরের সদস্য। তবে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা বা গডফাদারদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়। একদিনে সব হয় না, কিন্তু আমাদের চেষ্টা চলমান থাকে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কোনো ধরনের চাপ আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে র্যাব স্বাধীনভাবেই কাজ করছে এবং কোনো ধরনের বেআইনি চাপ নেই। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বরিশাল টাইমস

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৯
নড়াইল জেলা আদালতে মামলার হাজিরা দিতে এসে দেশীয় অস্ত্রসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালত চত্বরের একটি আইনজীবীর চেম্বার থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, মারামারির মামলায় হাজিরা দিতে এসে তারা চেম্বারে অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে রামদা, চাপাতি ও দাসহ ১২টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
নড়াইল সদর থানার ওসি রাসেল সরোয়ার জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আদালতে অস্ত্র নিয়ে আসার কারণও তদন্ত করা হচ্ছে।
নড়াইল জেলা আদালতে মামলার হাজিরা দিতে এসে দেশীয় অস্ত্রসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালত চত্বরের একটি আইনজীবীর চেম্বার থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, মারামারির মামলায় হাজিরা দিতে এসে তারা চেম্বারে অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে রামদা, চাপাতি ও দাসহ ১২টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
নড়াইল সদর থানার ওসি রাসেল সরোয়ার জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আদালতে অস্ত্র নিয়ে আসার কারণও তদন্ত করা হচ্ছে।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫৪
সেনবাগে আ.লীগ সমর্থকের বাড়িতে ভূরিভোজ, ওসি প্রত্যাহার
নোয়াখালীর সেনবাগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সমর্থকের বাড়িতে দাওয়াতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত ভূরিভোজে ওসি আবদুর রহিম সরকার অংশ নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর মধ্যে শুক্রবার রাতে কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনাতেও ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই ঘটনায় শনিবার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ওসিকে প্রত্যাহারের পর তিনি থানা থেকে চলে যান। বর্তমানে তিনিই থানার দায়িত্ব পালন করছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার বলেন, একজনের বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।
সেনবাগে আ.লীগ সমর্থকের বাড়িতে ভূরিভোজ, ওসি প্রত্যাহার
নোয়াখালীর সেনবাগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সমর্থকের বাড়িতে দাওয়াতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত ভূরিভোজে ওসি আবদুর রহিম সরকার অংশ নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর মধ্যে শুক্রবার রাতে কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনাতেও ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই ঘটনায় শনিবার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ওসিকে প্রত্যাহারের পর তিনি থানা থেকে চলে যান। বর্তমানে তিনিই থানার দায়িত্ব পালন করছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার বলেন, একজনের বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:১৬
খুলনা নগরের একটি ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরি করে খাওয়ার’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজমুল হোসেন (২১) নামে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গভীর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ইসলাম নগর রোডের একটি চারতলা ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আজমুলের বাবা মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ভবনটি পুরোপুরি ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। একই তলায় ডি-২ নম্বর কক্ষে থাকেন মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদী।
মেসের ছাত্রদের কাছ থেকে স্থানীয়রা জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে মেহেদীর রান্না করা ভাত আজমুল খেয়ে ফেলেন। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে মেহেদীসহ মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বাইরে থেকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
রাত পৌনে ১টার দিকে আশপাশের বাসিন্দারা ছাদ থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার মতো জোরে শব্দ শুনতে পান। পরে গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মেসের কয়েকজন ছাত্র তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর দুই পা ভাঙা ছিল। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মেসের ছাত্ররা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে দ্রুত চলে যান বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মেসের বুয়া ফাতেমা বলেন, আজমুলের বিরুদ্ধে এর আগেও টাকা ও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ উঠেছিল। তবে শুক্রবার রাতে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে মেসের ছাত্র ও বহিরাগত কয়েকজন তাকে মারধর করেন। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা তাঁর কথা শোনেননি বলে জানান তিনি।
পাশের ভবনের এক নারী বাসিন্দা বলেন, রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি জোরে একটি শব্দ শুনে দরজা খুলে বাইরে আসেন। তখন বাড়ির সামনের গলিতে একজন তরুণকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মেসের ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন বলেন, প্রায় এক বছর আগে পড়াশোনার জন্য আজমুল বাড়ি থেকে খুলনায় আসেন। ২০২৫ সালে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি তিনি। মাত্র ১০ দিন আগে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন আজমুল।
কুতুব উদ্দিন জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আজমুল খুলনায় পৌঁছান। রাত ৯টার দিকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন আজমুল বলেছিলেন, তিনি ভালো আছেন এবং তাঁকে নিয়ে চিন্তা না করতে।
নিহতের বাবা আরও অভিযোগ করেন, রাত ১২টার পর আজমুলের মোবাইল ফোন থেকে অন্য একজন তাঁকে কল করেন। ওই ব্যক্তি তাঁর ছেলেকে পেতে দ্রুত এক লাখ টাকা নিয়ে খুলনায় আসতে বলেন। টাকা না আনলে ছেলেকে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
কুতুব উদ্দিন বলেন, তিনি কৃষিকাজ করেন এবং এত টাকা তাঁর পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয় বলে জানালে ওই ব্যক্তি তাঁকে দ্রুত খুলনায় আসতে বলেন। পরে সকালে খুলনায় এসে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছেলে আর বেঁচে নেই।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটেছে। ফলে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি কোনো এখতিয়ার নেই। তবে ঘটনা জানার পর থেকে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খুলনা নগরের একটি ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরি করে খাওয়ার’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজমুল হোসেন (২১) নামে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গভীর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ইসলাম নগর রোডের একটি চারতলা ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আজমুলের বাবা মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ভবনটি পুরোপুরি ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। একই তলায় ডি-২ নম্বর কক্ষে থাকেন মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদী।
মেসের ছাত্রদের কাছ থেকে স্থানীয়রা জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে মেহেদীর রান্না করা ভাত আজমুল খেয়ে ফেলেন। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে মেহেদীসহ মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বাইরে থেকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
রাত পৌনে ১টার দিকে আশপাশের বাসিন্দারা ছাদ থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার মতো জোরে শব্দ শুনতে পান। পরে গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মেসের কয়েকজন ছাত্র তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর দুই পা ভাঙা ছিল। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মেসের ছাত্ররা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে দ্রুত চলে যান বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মেসের বুয়া ফাতেমা বলেন, আজমুলের বিরুদ্ধে এর আগেও টাকা ও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ উঠেছিল। তবে শুক্রবার রাতে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে মেসের ছাত্র ও বহিরাগত কয়েকজন তাকে মারধর করেন। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা তাঁর কথা শোনেননি বলে জানান তিনি।
পাশের ভবনের এক নারী বাসিন্দা বলেন, রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি জোরে একটি শব্দ শুনে দরজা খুলে বাইরে আসেন। তখন বাড়ির সামনের গলিতে একজন তরুণকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মেসের ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন বলেন, প্রায় এক বছর আগে পড়াশোনার জন্য আজমুল বাড়ি থেকে খুলনায় আসেন। ২০২৫ সালে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি তিনি। মাত্র ১০ দিন আগে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন আজমুল।
কুতুব উদ্দিন জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আজমুল খুলনায় পৌঁছান। রাত ৯টার দিকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন আজমুল বলেছিলেন, তিনি ভালো আছেন এবং তাঁকে নিয়ে চিন্তা না করতে।
নিহতের বাবা আরও অভিযোগ করেন, রাত ১২টার পর আজমুলের মোবাইল ফোন থেকে অন্য একজন তাঁকে কল করেন। ওই ব্যক্তি তাঁর ছেলেকে পেতে দ্রুত এক লাখ টাকা নিয়ে খুলনায় আসতে বলেন। টাকা না আনলে ছেলেকে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
কুতুব উদ্দিন বলেন, তিনি কৃষিকাজ করেন এবং এত টাকা তাঁর পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয় বলে জানালে ওই ব্যক্তি তাঁকে দ্রুত খুলনায় আসতে বলেন। পরে সকালে খুলনায় এসে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছেলে আর বেঁচে নেই।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটেছে। ফলে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি কোনো এখতিয়ার নেই। তবে ঘটনা জানার পর থেকে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৪১
রাজধানীসহ দেশের ৬৪ জেলায় ,চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি করছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তালিকা প্রস্তুত শেষে এতে থাকা সব অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদাবাজদের একটি 'আনবায়াসড' তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যারাই তালিকায় থাকবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকলে কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থাকবে না।
যে অপরাধী, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কতদিনের মধ্যে এ তালিকা সম্পন্ন হবে? এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানালেও তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠে অভিযান শুরু করা হবে। আজকেও হতে পারে।
তিনি জানান, চাঁদাবাজি শুধু একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবহন খাতে মহাসড়ক কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি, সব ধরনের চাঁদাবাজিকে এ তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সবস্তরের অপরাধীকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
র্যাব বলছে, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না। সেক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
কল্যাণপুরে একটি হাসপাতালের উদ্যোক্তার কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রথমে পুলিশের কাছে গেছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে। একইসঙ্গে র্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক একটি বড় ইয়াবা চালান আটকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে যারা ধরা পড়ে তারা সাধারণত নিম্নস্তরের সদস্য। তবে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা বা গডফাদারদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়। একদিনে সব হয় না, কিন্তু আমাদের চেষ্টা চলমান থাকে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কোনো ধরনের চাপ আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে র্যাব স্বাধীনভাবেই কাজ করছে এবং কোনো ধরনের বেআইনি চাপ নেই। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বরিশাল টাইমস
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৪
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১৬