রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ইমাম মাহদি দাবি করা নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার বাড়িতে হামলার ঘটনায় ২ মামলায় ১৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জনমনে সৃষ্টি হয়েছে গ্রেপ্তার আতঙ্ক।
গ্রেপ্তার আতঙ্কে উপজেলার অধিকাংশ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা গা-ঢাকা দিয়েছেন। এমনকি বাজারের অনেক দোকানদার তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার যেসব মসজিদের ইমামদের বাড়ি গোয়ালন্দের বাইরে শুক্রবারের ঘটনার পর তারা কেউ ছুটি নিয়ে আবার কেউ ছুটি ছাড়াই মসজিদ ছেড়ে নিজ নিজ বাড়ি অথবা সুবিধাজনক স্থানে চলে গেছেন। স্থানীয় ইমামদের মধ্যেও অধিকাংশ মসজিদ ও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির নেতারাও গ্রেপ্তার আতঙ্কে সতর্কভাবে চলাফেরা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেম জানান, আমরা ছুটিতে রয়েছি। ছুটির বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলায় একটি ঝামেলা হয়েছে। সেই ঝামেলাকে কেন্দ্র করে সাধারণ ইমাম মোয়াজ্জেম আমরা খুব আতঙ্কে আছি।
দৌলতদিয়া একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন আজিম খাঁ বলেন, এখানকার ইমাম হাফেজ মো. মনিরুজ্জামান শুক্রবারের ঘটনার পর মাগুরায় তার গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। এখন আমি নামাজ পড়াচ্ছি।
একইভাবে ইদ্রিসিয়া ইসলামিয়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আব্দুল লতিফ শুক্রবারের পর তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জে চলে গেছেন। গোয়ালন্দ বাজার বড় মসজিদের ইমাম এবং উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ আবু সাইদ মুঠোফোনে বলেন, আমার এক আত্নীয় অসুস্থ তাই তাকে দেখতে আসছি। শুক্রবারে কিছু উশৃঙ্খল যুবক প্রশাসনের গাড়ি ভেঙছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, নুরাল পাগলার বাড়িতে এবং তার মরদেহের সঙ্গে যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা পবিত্র ধর্ম ইসলাম সমর্থন করে না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করছি।
এদিকে গোয়ালন্দ বাজারের বেশ কিছু ব্যবসায়ীর দোকানপাট শুক্রবারের পর হতে বন্ধ থাকতে দেখা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, শুক্রবারের ন্যক্কারজনক ঘটনার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছি। কোনো ধরনের অন্যায় করিনি। তারপরও ভয় হয় কখন জানি কী হয়ে যায়।
এদিকে সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল নুরাল পাগলের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও তার দরবার পরিদর্শনে আসেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি নিরপরাধ সাধারণ জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বাদ জুমা গোয়ালন্দ শহরের ফকির মহিউদ্দিন আনছার ক্লাব ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি। নুরাল পাগলার কাবাসদৃশ কবর ভেঙে নিচু করা ও তার দরবারে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে এ সমাবেশ ডাকা হয়।
সমাবেশকে সফল করতে উপজেলার প্রতিটি মসজিদের ইমামরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধ করে সমাবেশে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে একদল উশৃঙ্খল যুবক বিনা উসকানিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে।
এ ঘটনায় ওই রাতে থানার এসআই সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া, সোমবার রাতে নিহত রাসেল মোল্লার বাবা আজাদ মোল্লা বাদী ৩৫০০ থেকে ৪ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই দুইটি মামলায় এখন পর্যন্ত ১৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম বরেন, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অযথা কাউকে গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হবে না।

০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩০
দুর্গোৎসবে মদ পান করে নাচানাচি কিংবা মাতলামি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি বলেছেন, মদ খেয়ে কেউ নাচানাচি করলে তাকে ঘাড় ধরে নিয়ে এসে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ ও হুইস্কির প্রাদুর্ভাব বেশি। পূজার সময় কেউ মদ পান করে নাচানাচি বা মাতলামি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে ধরে পুলিশের মেডিকেল টিমের কাছে নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে দুই-একজন মদ খেয়ে মাতলামি করে পরিবেশ নষ্ট করে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এসব পুলিশ কঠোর হাতে দমন করবে।’
প্রত্যুষ কুমার মজুমদার আরও বলেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপনে পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে এবং পুলিশ তা যথাযথভাবে পালন করবে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে। বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির সময়ও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি দাবি করেন, ফেনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যও অনেকটা কমানো হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে সে যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, পূজায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। গুজব বা অতিরঞ্জিত তথ্য যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পূজাকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপদেষ্টা হীরালাল চক্রবর্তী ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তি চৌধুরীসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।
দুর্গোৎসবে মদ পান করে নাচানাচি কিংবা মাতলামি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি বলেছেন, মদ খেয়ে কেউ নাচানাচি করলে তাকে ঘাড় ধরে নিয়ে এসে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ ও হুইস্কির প্রাদুর্ভাব বেশি। পূজার সময় কেউ মদ পান করে নাচানাচি বা মাতলামি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে ধরে পুলিশের মেডিকেল টিমের কাছে নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে দুই-একজন মদ খেয়ে মাতলামি করে পরিবেশ নষ্ট করে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এসব পুলিশ কঠোর হাতে দমন করবে।’
প্রত্যুষ কুমার মজুমদার আরও বলেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপনে পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে এবং পুলিশ তা যথাযথভাবে পালন করবে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে। বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির সময়ও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি দাবি করেন, ফেনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যও অনেকটা কমানো হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে সে যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, পূজায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। গুজব বা অতিরঞ্জিত তথ্য যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পূজাকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপদেষ্টা হীরালাল চক্রবর্তী ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তি চৌধুরীসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৫২
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী মাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চললেও শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, মাহিমার মৃত্যুর পর রাতে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি যুবদল নেতা পরিচয়ে হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিকেলে প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে হাসপাতালে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তিনি মাহিমার চাচাতো ভাই দাবি করে বলেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, প্রথমে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে ভাঙচুর শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহিমার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা এবং হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী মাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চললেও শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, মাহিমার মৃত্যুর পর রাতে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি যুবদল নেতা পরিচয়ে হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিকেলে প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে হাসপাতালে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
তবে টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তিনি মাহিমার চাচাতো ভাই দাবি করে বলেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, প্রথমে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে ভাঙচুর শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাহিমার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা এবং হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৩
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তার আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের ১৬ জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ২৩টি দল একযোগে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে এ তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বিধি মানা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে। বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তার আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের ১৬ জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ২৩টি দল একযোগে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে এ তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বিধি মানা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে জানানো যাবে। বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৫:২১
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ইমাম মাহদি দাবি করা নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার বাড়িতে হামলার ঘটনায় ২ মামলায় ১৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জনমনে সৃষ্টি হয়েছে গ্রেপ্তার আতঙ্ক।
গ্রেপ্তার আতঙ্কে উপজেলার অধিকাংশ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা গা-ঢাকা দিয়েছেন। এমনকি বাজারের অনেক দোকানদার তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার যেসব মসজিদের ইমামদের বাড়ি গোয়ালন্দের বাইরে শুক্রবারের ঘটনার পর তারা কেউ ছুটি নিয়ে আবার কেউ ছুটি ছাড়াই মসজিদ ছেড়ে নিজ নিজ বাড়ি অথবা সুবিধাজনক স্থানে চলে গেছেন। স্থানীয় ইমামদের মধ্যেও অধিকাংশ মসজিদ ও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির নেতারাও গ্রেপ্তার আতঙ্কে সতর্কভাবে চলাফেরা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেম জানান, আমরা ছুটিতে রয়েছি। ছুটির বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলায় একটি ঝামেলা হয়েছে। সেই ঝামেলাকে কেন্দ্র করে সাধারণ ইমাম মোয়াজ্জেম আমরা খুব আতঙ্কে আছি।
দৌলতদিয়া একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন আজিম খাঁ বলেন, এখানকার ইমাম হাফেজ মো. মনিরুজ্জামান শুক্রবারের ঘটনার পর মাগুরায় তার গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। এখন আমি নামাজ পড়াচ্ছি।
একইভাবে ইদ্রিসিয়া ইসলামিয়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আব্দুল লতিফ শুক্রবারের পর তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জে চলে গেছেন। গোয়ালন্দ বাজার বড় মসজিদের ইমাম এবং উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ আবু সাইদ মুঠোফোনে বলেন, আমার এক আত্নীয় অসুস্থ তাই তাকে দেখতে আসছি। শুক্রবারে কিছু উশৃঙ্খল যুবক প্রশাসনের গাড়ি ভেঙছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, নুরাল পাগলার বাড়িতে এবং তার মরদেহের সঙ্গে যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা পবিত্র ধর্ম ইসলাম সমর্থন করে না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করছি।
এদিকে গোয়ালন্দ বাজারের বেশ কিছু ব্যবসায়ীর দোকানপাট শুক্রবারের পর হতে বন্ধ থাকতে দেখা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, শুক্রবারের ন্যক্কারজনক ঘটনার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছি। কোনো ধরনের অন্যায় করিনি। তারপরও ভয় হয় কখন জানি কী হয়ে যায়।
এদিকে সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল নুরাল পাগলের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও তার দরবার পরিদর্শনে আসেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি নিরপরাধ সাধারণ জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বাদ জুমা গোয়ালন্দ শহরের ফকির মহিউদ্দিন আনছার ক্লাব ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি। নুরাল পাগলার কাবাসদৃশ কবর ভেঙে নিচু করা ও তার দরবারে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে এ সমাবেশ ডাকা হয়।
সমাবেশকে সফল করতে উপজেলার প্রতিটি মসজিদের ইমামরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধ করে সমাবেশে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে একদল উশৃঙ্খল যুবক বিনা উসকানিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে।
এ ঘটনায় ওই রাতে থানার এসআই সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া, সোমবার রাতে নিহত রাসেল মোল্লার বাবা আজাদ মোল্লা বাদী ৩৫০০ থেকে ৪ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই দুইটি মামলায় এখন পর্যন্ত ১৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম বরেন, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অযথা কাউকে গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হবে না।
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০৬