রাজশাহীতে বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন দুই ভাই। পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে তারা একে-অপরকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দোষারোপ করেছেন। কেউ ছাত্রলীগের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, কেউ তুলে ধরেছেন আওয়ামী লীগের প্রত্যয়নপত্র। দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব এখন আদালত নয়, সরাসরি গণমাধ্যমের মঞ্চে।
জানা গেছে, নগরীর শালবাগান এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান সিজার ও তার ছোট ভাই মাহমুদ হাসান শিশিল- বাবা মাহবুব আলম। রাজশাহীতে পরিচিত ছিলেন ‘মাহবুব কন্ট্রাক্টর’ নামে। তার মৃত্যুর পর প্রায় ২০-২৫ কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ছোট ভাই শিশিল রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি। গত বৃহস্পতিবার তার নেতৃত্বে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা পদ্মা পারিজাত এলাকার একটি বহুতল ভবন ঘেরাও করেন। তাদের ধারণা, সেখানে রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌরিদ আল মাসুদ রনি অবস্থান করছিলেন।
তল্লাশি চালানো হয় ষষ্ঠতলার একটি ফ্ল্যাটে, যা ছিল সিজারের শাশুড়ি হাবিবা আক্তার মুক্তার বাসা। এ সময় রনি ফোনে জানান, তিনি অনেক দূরে আছেন। পরে ওই অভিযান শেষ হয়।
এরপর হাবিবা আক্তার মুক্তা অভিযোগ করেন, রনিকে ধরার নামে নয়, বরং তার জামাতা সিজারকে ভয় দেখাতে পরিকল্পিতভাবে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। ‘মব’ সৃষ্টি করে আতঙ্ক তৈরি ও লুটপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করেন শিশিলসহ কয়েকজনের নামে।
শনিবার (৫ জুলাই) সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন মুক্তা ও সিজার। সেখানে সিজার অভিযোগ করেন, ছোট ভাই সম্পত্তির পুরোটা দখল করে নিয়েছেন, এমনকি বাবার দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও নিজের নামে নিয়েছেন।
এ জন্য সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ডিও লেটার কাজে লাগানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে ছোট ভাই শিশিলের ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে ছবি দেখিয়ে তাকে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ প্রমাণের চেষ্টা করেন সিজার।
এর জবাবে একইদিন বিকেলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে শিশিল বলেন, আসলে তার ভাই-ই ছাত্রলীগ করতেন। প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি তাজুল ইসলাম ফারুকের দেওয়া একটি প্রত্যয়নপত্র, যেখানে সিজারকে ছাত্রলীগকর্মী বলা হয়েছে।
শিশিল দাবি করেন, তারা কোনো মব তৈরি করেননি। বরং তারা খবর পেয়েছিলেন যে, ভবনটিতে যুবলীগ নেতা অবস্থান করছেন। উত্তেজনা কমাতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতেই তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে জানা যায়, সেটি বড় ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি। দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা দাবি করে তিনি সেটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিশিলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফায়সাল সরকার ডিকো, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক, সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান জনি, ছাত্রদলের সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভ।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

০৬ জুলাই, ২০২৫ ১৪:১৬
রাজশাহীতে বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন দুই ভাই। পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে তারা একে-অপরকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দোষারোপ করেছেন। কেউ ছাত্রলীগের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, কেউ তুলে ধরেছেন আওয়ামী লীগের প্রত্যয়নপত্র। দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব এখন আদালত নয়, সরাসরি গণমাধ্যমের মঞ্চে।
জানা গেছে, নগরীর শালবাগান এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান সিজার ও তার ছোট ভাই মাহমুদ হাসান শিশিল- বাবা মাহবুব আলম। রাজশাহীতে পরিচিত ছিলেন ‘মাহবুব কন্ট্রাক্টর’ নামে। তার মৃত্যুর পর প্রায় ২০-২৫ কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ছোট ভাই শিশিল রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি। গত বৃহস্পতিবার তার নেতৃত্বে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা পদ্মা পারিজাত এলাকার একটি বহুতল ভবন ঘেরাও করেন। তাদের ধারণা, সেখানে রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌরিদ আল মাসুদ রনি অবস্থান করছিলেন।
তল্লাশি চালানো হয় ষষ্ঠতলার একটি ফ্ল্যাটে, যা ছিল সিজারের শাশুড়ি হাবিবা আক্তার মুক্তার বাসা। এ সময় রনি ফোনে জানান, তিনি অনেক দূরে আছেন। পরে ওই অভিযান শেষ হয়।
এরপর হাবিবা আক্তার মুক্তা অভিযোগ করেন, রনিকে ধরার নামে নয়, বরং তার জামাতা সিজারকে ভয় দেখাতে পরিকল্পিতভাবে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। ‘মব’ সৃষ্টি করে আতঙ্ক তৈরি ও লুটপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করেন শিশিলসহ কয়েকজনের নামে।
শনিবার (৫ জুলাই) সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন মুক্তা ও সিজার। সেখানে সিজার অভিযোগ করেন, ছোট ভাই সম্পত্তির পুরোটা দখল করে নিয়েছেন, এমনকি বাবার দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও নিজের নামে নিয়েছেন।
এ জন্য সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ডিও লেটার কাজে লাগানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে ছোট ভাই শিশিলের ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে ছবি দেখিয়ে তাকে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ প্রমাণের চেষ্টা করেন সিজার।
এর জবাবে একইদিন বিকেলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে শিশিল বলেন, আসলে তার ভাই-ই ছাত্রলীগ করতেন। প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি তাজুল ইসলাম ফারুকের দেওয়া একটি প্রত্যয়নপত্র, যেখানে সিজারকে ছাত্রলীগকর্মী বলা হয়েছে।
শিশিল দাবি করেন, তারা কোনো মব তৈরি করেননি। বরং তারা খবর পেয়েছিলেন যে, ভবনটিতে যুবলীগ নেতা অবস্থান করছেন। উত্তেজনা কমাতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতেই তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে জানা যায়, সেটি বড় ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি। দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা দাবি করে তিনি সেটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিশিলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফায়সাল সরকার ডিকো, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক, সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান জনি, ছাত্রদলের সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভ।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৪
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৪