
২৫ মে, ২০২৫ ২১:০৯
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মুফতি আমীর হামজা।
রোববার (২৫ মে) আব্দুল ওয়াহিদ অডিটরিয়ামে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল সমাবেশে তার নাম ঘোষণা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন।
অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় প্রধান অতিথি মোবারক হোসেন বলেন, ‘কুষ্টিয়া-৩ আসনের মধ্য দিয়ে ৩০০ আসনের প্রায় অধিকাংশ আসনের প্রার্থী ঘোষণা সম্পূর্ণ হলো।’
রাস্তায় নামলে ইউনূস সাহেব ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না : গয়েশ্বর
মুফতি আমীর হামজাকে নিয়ে মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমরা এ আসনে যে প্রার্থী (আমীর হামজা) দিয়েছি তিনি শুধু দেশের মধ্যেই নন আন্তর্জাতিকভাবে একজন পরিচিত প্রার্থী।’
বিশেষ অতিথি ছিলেন, যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য আলমগীর বিশ্বাস ও অধ্যাপক খন্দকার এ কে এম আলী মহসীন।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল গফুর, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হুসাইন, কুষ্টিয়া শহর আমির এনামুল হক, ছাত্রশিবিরের শহর সভাপতি সেলিম রেজা, জেলা সভাপতি খাজা আহমেদ প্রমুখ।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মুফতি আমীর হামজা।
রোববার (২৫ মে) আব্দুল ওয়াহিদ অডিটরিয়ামে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল সমাবেশে তার নাম ঘোষণা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন।
অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় প্রধান অতিথি মোবারক হোসেন বলেন, ‘কুষ্টিয়া-৩ আসনের মধ্য দিয়ে ৩০০ আসনের প্রায় অধিকাংশ আসনের প্রার্থী ঘোষণা সম্পূর্ণ হলো।’
রাস্তায় নামলে ইউনূস সাহেব ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না : গয়েশ্বর
মুফতি আমীর হামজাকে নিয়ে মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমরা এ আসনে যে প্রার্থী (আমীর হামজা) দিয়েছি তিনি শুধু দেশের মধ্যেই নন আন্তর্জাতিকভাবে একজন পরিচিত প্রার্থী।’
বিশেষ অতিথি ছিলেন, যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য আলমগীর বিশ্বাস ও অধ্যাপক খন্দকার এ কে এম আলী মহসীন।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল গফুর, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হুসাইন, কুষ্টিয়া শহর আমির এনামুল হক, ছাত্রশিবিরের শহর সভাপতি সেলিম রেজা, জেলা সভাপতি খাজা আহমেদ প্রমুখ।

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৩

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:২৬
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার আসামি হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ শেখ ফারুক হোসেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানার শিক্ষকরা হলেন, পুতুল রানি মন্ডল, কল্যাণী দেবনাথ, গোলাপি রানি, সাবরিন জাহান, সুরাইয়া সুলতানা, সুবর্ণা আক্তার, কাওসার হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান, ফাতেমাতুজ হোজরা, রোকসানা খানম, শহিদুল ইসলাম, রেশমা আক্তার, রহিমা খাতুন, আকতার হোসেন খোকন, নাছরিন, মনির হোসেন, রেহেনা পারভীন, আহসান হাবীব, সামসুন্নাহার, আক্তারুজ্জামান মিলন ও মনিরুজ্জামান।
বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম জানান, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নয়টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়।
এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভুয়া রেকর্ডপত্র সঠিক হিসেবে ব্যবহার করে নিয়োগ দেখিয়ে এক কোটি ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ টাকা আত্মসাৎ করে। তিনি জানান, এ ঘটনায় দুদকের বর্তমানের কেন্দ্রীয় দপ্তরের উপ-পরিচালক ও বরিশালের সাবেক সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর মামলা করে।
দুদক কর্মকর্তা রাজ কুমার সাহা ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। বেঞ্চ সহকারী জানান, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিচারক গ্রেপ্তারি গ্রহণ করে ২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৩:৪৬

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা এরই মধ্যে বেশ জোরেসরে নির্বাচনি প্রচার মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি ক্যাম্প বসিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা।
তবে এসব নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনে এগিয়ে রয়েছে কেবল বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বাকি প্রার্থীরা নামমাত্র কয়েকটি ক্যাম্প বসিয়ে ঢিমেতালে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ একটি করে নির্বাচনি ক্যাম্প করা যাবে। সেই হিসাবে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে এরই মধ্যে মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে একটি করে মোট ৪০টি ক্যাম্প করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির হাতপাখার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের নেতাকর্মীরাও বিএনপির প্রার্থীর মতো একই সংখ্যক ক্যাম্প তৈরি করেছেন।
কিন্তু আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ৬টি নির্বাচনি ক্যাম্প রয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মই প্রতীকের ডা. মনীষা চক্রবর্তীর। অন্যান্য প্রার্থীদের যেখানে ৪০টি করে নির্বাচনি ক্যাম্প, সেখানে মনীষা চক্রবর্তীর ক্যাম্প সংখ্যা মাত্র ৬টি।
মই প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সুজন আহমেদ জানান, প্রথমে আমাদের ৬টি ক্যাম্প ছিল, এখন পর্যন্ত আমাদের ১০টির মতো হয়েছে। বাকি ৩০টি ক্যাম্প দ্রুত চালুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নানা সংকটের মধ্যেও গণতান্ত্রিক পন্থায় সমাজের পিছিয়ে থাকা জনসাধারণের অধিকার আদায়ের লড়াই চলছে। খেটে খাওয়া মানুষদের দেওয়া টাকা খরচ করে তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি।
ধানের শীষের নির্বাচনি মিডিয়া সেলের সদস্য আকতারুজ্জামান সাব্বির বলেন, বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং বরিশাল সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে একটি করে মোট ৪০টি নির্বাচনি ক্যাম্প করা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি।
হাতপাখার নির্বাচনি মিডিয়া সেলের সদস্য এইচএম তরিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে নগরীর ত্রিশ ওয়ার্ডে একটি করে ক্যাম্প করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলায় ১০টি ক্যাম্প করা হয়েছে।
এদিকে আম প্রতীকের প্রার্থী ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আব্দুল হান্নান সিকদার বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনি ক্যাম্পই দিতে পারেননি। তবে কোনো ক্যাম্প না দিলেও তিনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, তার নির্বাচনি ক্যাম্প মাত্র দুটি। এর মধ্যে একটি তার নিজের বাসা ও অপরটি সদর উপজেলার রায়াপুরে। এছাড়া মাইকিং ও তিনটি গ্ৰুপে লোকজন দিয়ে তিনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
এছাড়া লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পার্টির আখতার রহমান বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত নগরীর ভাটাখানা এলাকায় মাত্র একটি ক্যাম্প উদ্বোধন করেছেন। তবে ১ ফেব্রুয়ারির পর আরও কিছু ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা এরই মধ্যে বেশ জোরেসরে নির্বাচনি প্রচার মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি ক্যাম্প বসিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা।
তবে এসব নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনে এগিয়ে রয়েছে কেবল বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বাকি প্রার্থীরা নামমাত্র কয়েকটি ক্যাম্প বসিয়ে ঢিমেতালে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ একটি করে নির্বাচনি ক্যাম্প করা যাবে। সেই হিসাবে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে এরই মধ্যে মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে একটি করে মোট ৪০টি ক্যাম্প করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির হাতপাখার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের নেতাকর্মীরাও বিএনপির প্রার্থীর মতো একই সংখ্যক ক্যাম্প তৈরি করেছেন।
কিন্তু আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ৬টি নির্বাচনি ক্যাম্প রয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মই প্রতীকের ডা. মনীষা চক্রবর্তীর। অন্যান্য প্রার্থীদের যেখানে ৪০টি করে নির্বাচনি ক্যাম্প, সেখানে মনীষা চক্রবর্তীর ক্যাম্প সংখ্যা মাত্র ৬টি।
মই প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সুজন আহমেদ জানান, প্রথমে আমাদের ৬টি ক্যাম্প ছিল, এখন পর্যন্ত আমাদের ১০টির মতো হয়েছে। বাকি ৩০টি ক্যাম্প দ্রুত চালুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নানা সংকটের মধ্যেও গণতান্ত্রিক পন্থায় সমাজের পিছিয়ে থাকা জনসাধারণের অধিকার আদায়ের লড়াই চলছে। খেটে খাওয়া মানুষদের দেওয়া টাকা খরচ করে তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি।
ধানের শীষের নির্বাচনি মিডিয়া সেলের সদস্য আকতারুজ্জামান সাব্বির বলেন, বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং বরিশাল সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে একটি করে মোট ৪০টি নির্বাচনি ক্যাম্প করা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি।
হাতপাখার নির্বাচনি মিডিয়া সেলের সদস্য এইচএম তরিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে নগরীর ত্রিশ ওয়ার্ডে একটি করে ক্যাম্প করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলায় ১০টি ক্যাম্প করা হয়েছে।
এদিকে আম প্রতীকের প্রার্থী ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আব্দুল হান্নান সিকদার বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনি ক্যাম্পই দিতে পারেননি। তবে কোনো ক্যাম্প না দিলেও তিনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, তার নির্বাচনি ক্যাম্প মাত্র দুটি। এর মধ্যে একটি তার নিজের বাসা ও অপরটি সদর উপজেলার রায়াপুরে। এছাড়া মাইকিং ও তিনটি গ্ৰুপে লোকজন দিয়ে তিনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
এছাড়া লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পার্টির আখতার রহমান বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত নগরীর ভাটাখানা এলাকায় মাত্র একটি ক্যাম্প উদ্বোধন করেছেন। তবে ১ ফেব্রুয়ারির পর আরও কিছু ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার আসামি হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ শেখ ফারুক হোসেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানার শিক্ষকরা হলেন, পুতুল রানি মন্ডল, কল্যাণী দেবনাথ, গোলাপি রানি, সাবরিন জাহান, সুরাইয়া সুলতানা, সুবর্ণা আক্তার, কাওসার হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান, ফাতেমাতুজ হোজরা, রোকসানা খানম, শহিদুল ইসলাম, রেশমা আক্তার, রহিমা খাতুন, আকতার হোসেন খোকন, নাছরিন, মনির হোসেন, রেহেনা পারভীন, আহসান হাবীব, সামসুন্নাহার, আক্তারুজ্জামান মিলন ও মনিরুজ্জামান।
বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম জানান, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নয়টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়।
এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভুয়া রেকর্ডপত্র সঠিক হিসেবে ব্যবহার করে নিয়োগ দেখিয়ে এক কোটি ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ টাকা আত্মসাৎ করে। তিনি জানান, এ ঘটনায় দুদকের বর্তমানের কেন্দ্রীয় দপ্তরের উপ-পরিচালক ও বরিশালের সাবেক সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর মামলা করে।
দুদক কর্মকর্তা রাজ কুমার সাহা ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। বেঞ্চ সহকারী জানান, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিচারক গ্রেপ্তারি গ্রহণ করে ২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর জবানবন্দিতে লোমহর্ষক কাহিনী শুনে বিস্মিত আদালত। জড়িত জামায়াত কর্মীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে বিচারকের নির্দেশে মামলা
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনকে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো ফেঁসে যাচ্ছেন জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম। গত ১২ জানুয়ারি অপরাহ্নে মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানাধীন শহরের ডিসি অফিসের পেছনে কালেকটরেট পুকুরের পাড় জনাকীর্ণ রাস্তা থেকে প্রকাশ্যে ববির প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সহযোগীদের সহায়তায় আটকে মারধর করা শেষে তাকে একটি গ্যাসচালিত সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরে তাকে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার আওতাধীন একটি নির্জন কক্ষে আটকে রেখে ফের মারধর করাসহ সাদা স্ট্যাম্প ও বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে নেন জামায়াত কর্মী নজরুল। কিন্তু এসব ঘটনা আড়াল করে আব্দুল বাতেনকে আওয়ামী লীগের দোসর তকমা দিয়ে ওইদিনই কোতয়ালি পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। কোতয়ালি পুলিশ বাতেনকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে বিচারক রোমহর্ষক এই ঘটনার ইতিবৃত্ত শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং এতে জড়িত জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলামসহ ৯জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল বাতেনের অভিযোগ, বাবুগঞ্জের রহমতপুরের বাসিন্দা কথিত জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম শহরের বিএম কলেজ এলাকার বাসিন্দা মোসা: নারগিজ আক্তার লিপি এবং নুরুন্নাহারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের নির্দেশনা অনুসারে তাকে গত ১২ জানুয়ারি শহরের কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যায়। এতে দুই নারীসহ অন্তত ৯জন তাকে সহযোগিতা করেন, যা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তাছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগের দোসর বানাতে জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম যে প্রয়াস চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বুঝতে বাকি নেই। পুলিশ বলছে, ববির কর্মকর্তাকে শ্রমিক লীগের বরিশাল মহানগর শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য দাবি করে নজরুল ইসলাম এবং তিনি এর স্বপক্ষে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাশ হওয়া একটি তালিকাও সরবরাহ করেন। এই তালিকার ২৯ নম্বর সদস্য হিসেবে আব্দুল বাতেনকে দেখানো হলেও সরকারি কর্মকর্তার নামটি কম্পিউটারের কারসাজি করে বসানো হয়। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের ২৮ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করেছে।
কোতয়ালি পুলিশ বলছে, আব্দুল বাতেনকে ফাঁসাতে অপহরণ এবং নির্জন স্থানে আটকে রেখে মারধর করাসহ স্ট্যাম্পে সই-স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টিও সন্দেহজন করে তুলেছে জড়িতদের আচরণে। তারা ১২ জানুয়ারি সরকারি কর্মকর্তাকে শহরের কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে অপহরণ করলেও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করা হয় নথুল্লাবাদ থেকে ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে ঘটনাস্থল অনুসারে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে চাইলে সেখান থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশালটাইমসকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাকে ১২ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিয়ে আসা হয়েছিল। এবং নজরুল ইসলামসহ সকলে দাবি করেছিলেন তাকে নথুল্লাবাদ থেকে আটক করা হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, বাতেনকে আদালতসংলগ্ন কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে আটক করে নিয়ে এসেছে। ফলে তাকে সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি থানায় সোপর্দের পরামর্শ দেওয়া হলে পরবর্তীতে সেখানে নিয়ে যায়।
এর আগে আব্দুল বাতেনকে চোখ-মুখ বেঁখে রহমতপুর এলাকার একটি নির্জন স্থানে বাসায় নিয়ে যায় নজরুল ইসলামসহ সহযোগীরা। সেখানে আটকে রেখে দুই নারী নারগিজ এবং নুরুন্নাহারের উপস্থিতিতে তাকে মারধর করাসহ ইলেকট্রিক শর্ট দেওয়া হয়। এতে তার দুই পাসহ শরীরের একাধিক স্থানে ক্ষত চিহ্ন হলে ভয়ে তিনি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেন। এবং বিষয়টি পুলিশ বা অন্য কারও কাছে শেয়ার করলে স্ত্রীসহ তাকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছেন নজরুলসহ সহযোগীরা।
সরকারি কর্মকর্তাকে তুলে নেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও বরিশালটাইমসের এ প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে জামায়াত কর্মী নজরুলের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল তাকে ধরে টেনে হিঁচড়ে সিএনজিতে তুলছেন। এসময় সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় থাকলেও সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে কেউ এগিয়ে আসেনি।
ভুক্তভোগী বাতেন বরিশালটাইমসকে জানান, গত বছরের শেষের দিকে বিএম কলেজ মসজিদ গেটের বিপরিত পাশের বাসিন্দা নারগিজ এবং নুরুন্নাহারের ০.৯২ শতাংশ ভূমি ক্রয়ের উদ্দেশে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে বায়না করেন। কিন্তু তারা দুজন এই ভূমিটি এক লক্ষ টাকা বেশি পেয়ে জনৈক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিলে তিনি পরবর্তীতে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪২০/৪০৬ ধারায় একটি মামলা করেন। সেই মামলা দুই নারী আদালতে হাজিরা দিয়ে দুটি কিস্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামিন নেন। ১১ জানুয়ারি একটি কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা তা রক্ষা করেননি। বরং টাকা না দেওয়ার বিভিন্ন ফন্দি আটছিলেন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসা: সাদিয়া আফরিন অভিযোগ, ১১ জানুয়ারি আদালতে গিয়ে জানা যায় দুই নারীর কেউ টাকা নিয়ে আদালতে আসেননি। একদিন বাদে ১২ জানুয়ারি বাতেন ডিসি অফিসের পেছনে আইনজীবী সমিতির কাছে অবস্থান করলে সেখান থেকে তাকে জামায়াত নেতা পরিচয় দিয়ে নজরুল সহযোগীদের সহায়তায় তুলে নিয়ে যায়। প্রকাশ্যে অপহরণ করার এই লোমহর্ষক ঘটনাটি বরিশালের প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক তৈরি করেছে।
এদিকে আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুলিশ গ্রহণ করার পরে দুই নারীসহ অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম পলাতক আছেন। এই বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার দুপুরে নজরুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি নিজেকে জামায়াত নেতা পরিচয় দেন এবং আব্দুল বাতেনকে স্বৈরাচারের দোসর উল্লেখ করেন। এবং বাতেন শ্রমিক লীগ মহানগরের কার্যনির্বাহী সদস্য বলেও প্রচার করেন। কিন্তু এই তালিকা আপনার তৈরি এবং দুই নারীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যে বাতেনকে ফাঁসাতে চেয়েছেন তার প্রমাণও পুলিশ পেয়েছে, এমনটি বলার পরে তিনি বক্তব্যে তালগোল পাকিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বর্ণনা শুনে বরিশাল মহানগর জাময়াতের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এবং বলছেন, তিনি নজরুল ইসলামকে চেনেন, তিনি জামায়াতের সমর্থক, তার কোনো দলীয় পদপদবি নেই। এবং এই ধরনের অপরাধ জামায়াত করে না এবং এর দায়ও নেওয়ার সুযোগ নাই। অপরাধর করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচিত এই মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাম মো. নাসিম বরিশালটাইমসকে জানান, আব্দুল বাতেন আসামি থেকে মামলার বাদী হয়েছেন। নজরুল ইসলামসহ ৯জনকে আসামি করে মামলা গ্রহণ করা হয়। এই মামলায় মঙ্গলবার নারগিজের ছেলে মো. নাহিদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক কারাকারে পাঠিয়ে দেন। পলাতক বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চলছে।
সবশেষ খবরে জানা গেছে, নারগিজের ছেলেকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে মঙ্গলবার দিনভর কথিত জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম পুলিশের বিভিন্ন মহলে সুপারিশ রাখেন। কিন্তু আলোচিত এই ঘটনাটিতে অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলছে পুলিশ। কারণ মামলা গ্রহণ থেকে শুরু করে সব কিছু আদালত পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে এই মামলাটি থেকে যে কথিত জামায়াত নেতা সহসাই রেহাই পাচ্ছেন না তা পুলিশের বক্তব্যেও অনুমান করা যায়।’
ভুক্তভোগীর জবানবন্দিতে লোমহর্ষক কাহিনী শুনে বিস্মিত আদালত। জড়িত জামায়াত কর্মীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে বিচারকের নির্দেশে মামলা
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনকে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো ফেঁসে যাচ্ছেন জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম। গত ১২ জানুয়ারি অপরাহ্নে মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানাধীন শহরের ডিসি অফিসের পেছনে কালেকটরেট পুকুরের পাড় জনাকীর্ণ রাস্তা থেকে প্রকাশ্যে ববির প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সহযোগীদের সহায়তায় আটকে মারধর করা শেষে তাকে একটি গ্যাসচালিত সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরে তাকে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার আওতাধীন একটি নির্জন কক্ষে আটকে রেখে ফের মারধর করাসহ সাদা স্ট্যাম্প ও বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে নেন জামায়াত কর্মী নজরুল। কিন্তু এসব ঘটনা আড়াল করে আব্দুল বাতেনকে আওয়ামী লীগের দোসর তকমা দিয়ে ওইদিনই কোতয়ালি পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। কোতয়ালি পুলিশ বাতেনকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে বিচারক রোমহর্ষক এই ঘটনার ইতিবৃত্ত শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং এতে জড়িত জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলামসহ ৯জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল বাতেনের অভিযোগ, বাবুগঞ্জের রহমতপুরের বাসিন্দা কথিত জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম শহরের বিএম কলেজ এলাকার বাসিন্দা মোসা: নারগিজ আক্তার লিপি এবং নুরুন্নাহারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের নির্দেশনা অনুসারে তাকে গত ১২ জানুয়ারি শহরের কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যায়। এতে দুই নারীসহ অন্তত ৯জন তাকে সহযোগিতা করেন, যা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তাছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগের দোসর বানাতে জামায়াত কর্মী নজরুল ইসলাম যে প্রয়াস চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বুঝতে বাকি নেই। পুলিশ বলছে, ববির কর্মকর্তাকে শ্রমিক লীগের বরিশাল মহানগর শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য দাবি করে নজরুল ইসলাম এবং তিনি এর স্বপক্ষে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাশ হওয়া একটি তালিকাও সরবরাহ করেন। এই তালিকার ২৯ নম্বর সদস্য হিসেবে আব্দুল বাতেনকে দেখানো হলেও সরকারি কর্মকর্তার নামটি কম্পিউটারের কারসাজি করে বসানো হয়। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের ২৮ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করেছে।
কোতয়ালি পুলিশ বলছে, আব্দুল বাতেনকে ফাঁসাতে অপহরণ এবং নির্জন স্থানে আটকে রেখে মারধর করাসহ স্ট্যাম্পে সই-স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টিও সন্দেহজন করে তুলেছে জড়িতদের আচরণে। তারা ১২ জানুয়ারি সরকারি কর্মকর্তাকে শহরের কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে অপহরণ করলেও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করা হয় নথুল্লাবাদ থেকে ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে ঘটনাস্থল অনুসারে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে চাইলে সেখান থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশালটাইমসকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাকে ১২ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিয়ে আসা হয়েছিল। এবং নজরুল ইসলামসহ সকলে দাবি করেছিলেন তাকে নথুল্লাবাদ থেকে আটক করা হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, বাতেনকে আদালতসংলগ্ন কালেকটরেট পুকুরের পাড় থেকে আটক করে নিয়ে এসেছে। ফলে তাকে সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি থানায় সোপর্দের পরামর্শ দেওয়া হলে পরবর্তীতে সেখানে নিয়ে যায়।
এর আগে আব্দুল বাতেনকে চোখ-মুখ বেঁখে রহমতপুর এলাকার একটি নির্জন স্থানে বাসায় নিয়ে যায় নজরুল ইসলামসহ সহযোগীরা। সেখানে আটকে রেখে দুই নারী নারগিজ এবং নুরুন্নাহারের উপস্থিতিতে তাকে মারধর করাসহ ইলেকট্রিক শর্ট দেওয়া হয়। এতে তার দুই পাসহ শরীরের একাধিক স্থানে ক্ষত চিহ্ন হলে ভয়ে তিনি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেন। এবং বিষয়টি পুলিশ বা অন্য কারও কাছে শেয়ার করলে স্ত্রীসহ তাকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছেন নজরুলসহ সহযোগীরা।
সরকারি কর্মকর্তাকে তুলে নেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও বরিশালটাইমসের এ প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে জামায়াত কর্মী নজরুলের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল তাকে ধরে টেনে হিঁচড়ে সিএনজিতে তুলছেন। এসময় সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় থাকলেও সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে কেউ এগিয়ে আসেনি।
ভুক্তভোগী বাতেন বরিশালটাইমসকে জানান, গত বছরের শেষের দিকে বিএম কলেজ মসজিদ গেটের বিপরিত পাশের বাসিন্দা নারগিজ এবং নুরুন্নাহারের ০.৯২ শতাংশ ভূমি ক্রয়ের উদ্দেশে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে বায়না করেন। কিন্তু তারা দুজন এই ভূমিটি এক লক্ষ টাকা বেশি পেয়ে জনৈক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিলে তিনি পরবর্তীতে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪২০/৪০৬ ধারায় একটি মামলা করেন। সেই মামলা দুই নারী আদালতে হাজিরা দিয়ে দুটি কিস্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামিন নেন। ১১ জানুয়ারি একটি কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা তা রক্ষা করেননি। বরং টাকা না দেওয়ার বিভিন্ন ফন্দি আটছিলেন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসা: সাদিয়া আফরিন অভিযোগ, ১১ জানুয়ারি আদালতে গিয়ে জানা যায় দুই নারীর কেউ টাকা নিয়ে আদালতে আসেননি। একদিন বাদে ১২ জানুয়ারি বাতেন ডিসি অফিসের পেছনে আইনজীবী সমিতির কাছে অবস্থান করলে সেখান থেকে তাকে জামায়াত নেতা পরিচয় দিয়ে নজরুল সহযোগীদের সহায়তায় তুলে নিয়ে যায়। প্রকাশ্যে অপহরণ করার এই লোমহর্ষক ঘটনাটি বরিশালের প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক তৈরি করেছে।
এদিকে আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুলিশ গ্রহণ করার পরে দুই নারীসহ অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম পলাতক আছেন। এই বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার দুপুরে নজরুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি নিজেকে জামায়াত নেতা পরিচয় দেন এবং আব্দুল বাতেনকে স্বৈরাচারের দোসর উল্লেখ করেন। এবং বাতেন শ্রমিক লীগ মহানগরের কার্যনির্বাহী সদস্য বলেও প্রচার করেন। কিন্তু এই তালিকা আপনার তৈরি এবং দুই নারীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যে বাতেনকে ফাঁসাতে চেয়েছেন তার প্রমাণও পুলিশ পেয়েছে, এমনটি বলার পরে তিনি বক্তব্যে তালগোল পাকিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বর্ণনা শুনে বরিশাল মহানগর জাময়াতের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এবং বলছেন, তিনি নজরুল ইসলামকে চেনেন, তিনি জামায়াতের সমর্থক, তার কোনো দলীয় পদপদবি নেই। এবং এই ধরনের অপরাধ জামায়াত করে না এবং এর দায়ও নেওয়ার সুযোগ নাই। অপরাধর করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচিত এই মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাম মো. নাসিম বরিশালটাইমসকে জানান, আব্দুল বাতেন আসামি থেকে মামলার বাদী হয়েছেন। নজরুল ইসলামসহ ৯জনকে আসামি করে মামলা গ্রহণ করা হয়। এই মামলায় মঙ্গলবার নারগিজের ছেলে মো. নাহিদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক কারাকারে পাঠিয়ে দেন। পলাতক বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চলছে।
সবশেষ খবরে জানা গেছে, নারগিজের ছেলেকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে মঙ্গলবার দিনভর কথিত জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম পুলিশের বিভিন্ন মহলে সুপারিশ রাখেন। কিন্তু আলোচিত এই ঘটনাটিতে অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলছে পুলিশ। কারণ মামলা গ্রহণ থেকে শুরু করে সব কিছু আদালত পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে এই মামলাটি থেকে যে কথিত জামায়াত নেতা সহসাই রেহাই পাচ্ছেন না তা পুলিশের বক্তব্যেও অনুমান করা যায়।’
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০০
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৩
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০৩
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫৫