বাংলাদেশ পুলিশের একাডেমি সারদা থেকে রহস্যজনকভাবে পলাতক ডিআইজি এহসান উল্যাহ সাবেক কর্মস্থল বরিশালেও বহুমুখী অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন। বরিশাল জেলার সাবেক পুলিশ সুপার এহসানের নির্দেশে ২০১৫ সালে আগৈলঝাড়া ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক কবির হোসেন রনিকে ক্রোসফায়ার দেওয়া হয়। সেই কিলিং পরিকল্পনায় বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি ও শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ রাজনৈতিক ও পুলিশ প্রশাসনের আরও বেশ কজন কর্মকর্তা সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ছাত্রদল নেতা রনি খুনের ঘটনায় তার ছেলে আশিকুর রহমান আসিফ (২০) বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
সূত্রে জানা গেছে, এই মামলাটিতে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর পাশাপাশি বরিশাল রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি মো. হুমায়ন কবির, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি আকরাম হোসেন, বরিশাল জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. এহসান উল্যাহ, সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর মল্লিক এবং আগৈলঝাড়া থানার সাবেক ওসি মনিরুল ইসলামসহ স্থানীয় অর্ধশত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে গত বছরের ৮ অক্টোবর বরিশালের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলাটি করা হলে বিচারক তা আগৈলঝাড়া থানা পুলিশকে রুজু করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপরে বছরখানেক সময় অতিবাহিত হলেও এই মামলায় অভিযুক্ত কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এখন খবর পাওয়া যাচ্ছে, বরিশালের আলোচিত এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার এহসান উল্যাহ খোদ বাংলাদেশ পুলিশের একাডেমি সারদা থেকে পালিয়ে গেছেন। বহু অঘটন পটিয়াসী এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে ক্রোসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে।
সূত্রের খবর হচ্ছে, বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সাপ্লাই বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডিআইজি এহসান উল্যাহকে আটক করতে বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে পুলিশ একাডেমিতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি, এমনকি তিনি কোথায় আছেন তাও নিশ্চিত বলতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকার।
পুলিশ কর্মকর্তা এহসান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডেরার মধ্যে থেকে পালিয়ে যাওয়ায় বেশ উদ্বিগ্ন নিহত ছাত্রদল নেতা রনির পরিবার। খুনির এই অন্তর্ধান নিয়ে ছাত্রদল নেতার পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করাসহ শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি রেখেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্ররোচনায় পুলিশ কর্মকর্তারা ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদল নেতা রনিকে রাজধানী ঢাকার নবীনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই ছাত্রদল নেতাকে আটকে রেখে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এবং একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি রাত আড়াইটায় আগৈলঝাড়া উপজেলার বাইপাস ব্রিজের পশ্চিম পাশে রাস্তায় রনিকে গুলি করে হত্যা করে। পরে সব আসামিরা বিষয়টি একযোগে ক্রোসফায়ার ও এনকাউন্টার বলে প্রচারণা করেন।
রনির ছেলে সিয়াম রূপালী বাংলাদেশকে জানান, তার বাবা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে তাকে খুন করা হয়েছে। তৎসময়ে আসামিদের ভয়ে মামলা করতে পর্যন্ত সাহস পাননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে আদালতে মামলা করে বিচার চেয়েছেন। সেই মামলার অভিযুক্ত বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার পালিয়ে গেছেন, এমন খবর খুবই হতাশাজনক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য লজ্জারও বটে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এহসান উল্যাহ জেলার এসপি থাকাকালীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতাদের ইশারায় নিরাপরাধ ছাত্রদল নেতা রনিকে খুন করাসহ বিরোধী মতকে দমনে দৈবশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। এবং নিজেকে আওয়ামী লীগপন্থী পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানামুখী গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস দেখাননি। বরং তৎকালীন রেঞ্জ ডিআইজি হুমায়ন কবির তার এই অনৈতিক কাজসমূহকে প্রশ্রয় দিয়ে গেছেন।
সূত্রটি জানায়, এর কয়েক বছর পরে এহসান উল্যাহ বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হয়ে এসে বদলি বাণিজ্যসহ পূর্বের ন্যায় অনুরূপ অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এবং তৎকালীন সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম রোহিত করতে তাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাদৃশ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়।
বরিশালে আলোচিত ছাত্রদল নেতা খুনের মামলার আসামি এই পুলিশ কর্মকর্তা সন্তপর্ণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা গন্ডির মধ্যে থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটিতে অভিজ্ঞমহল বিস্ময়প্রকাশ করেছেন। এবং এজাহারভুক্ত মামলার আসামি এহসান উল্যাকে গ্রেপ্তারে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ এতদিন কোনো উদ্যোগ নিল না তা নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আলোচিত মামলার আসামিকে এক বছরেও কোনো গ্রেপ্তার করা গেলো না জানতে চাইলে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, বাদী মামলাটি পরিচালানা করতে চাননি। এবং বিষয়টি নির্বাহী আদেশে তদন্ত করা শেষে একটি রিপোর্ট আদালতে আদালতে জমা দেওয়া হয়। এখানে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের গাফলতি করেছে এমনটি বলার সুযোগ নেই, মন্তব্য করেন ওসি।
এহসান উল্যার পলায়নের বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত বুধবার থেকে তিনি একাডেমিতে অনুপস্থিত রয়েছেন। ঢাকা থেকে ২৯ অক্টোবর একটি টিম তাকে আটক করতে এসেছিল। কিন্তু তাকে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন এই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৪:০৯
বরিশাল নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিহ্নিত মাদক কারবারি 'গাঁজা রফিক'-এর স্ত্রী ও একাধিক মাদক মামলার আসামি আনু বেগম কর্তৃক অনলাইন নিউজপোর্টাল 'তালাশ বিডি'-র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলামকে মুঠোফোনে মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এই হুমকির ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে প্রকাশিত সংবাদ এবং বিচারাধীন একটি মামলাকে কেন্দ্র করেই এই হুমকির জন্ম। গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিটে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন সংগ্রাম রাস্তায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে একদল চিহ্নিত অপরাধী। ওই দলে উপস্থিত ছিল এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ফকির, 'ইতালি শহীদ'-এর সহযোগী তাপস, গাঁজা রফিক, তুহিন এবং কালাম মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।
সে সময় সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ও তাপস অস্ত্র উঁচিয়ে সাংবাদিক আসলামের মাথায় ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখায়। তারা নাক কাটা রুবেলের বিরুদ্ধে পূর্বে প্রকাশিত সকল সংবাদ অনলাইন থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেয় এবং ভবিষ্যতে তাদের কোনো অপরাধের খবর প্রকাশ না করার জন্য চূড়ান্ত হুমকি প্রদান করে।
প্রাণনাশের হুমকির পর সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম তার পত্রিকা সম্পাদকের সাথে পরামর্শ করে বরিশাল তৃতীয় যুগ্ম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ‘দ্রুত বিচার আইনে’ একটি নালিশি দরখাস্ত করেন। বিজ্ঞ বিচারক প্রাথমিক শুনানি ও ঘটনার বিবরণ দেখে সত্যতা অনুধাবন করেন এবং কোতয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) ঘটনাটি সরাসরি এজাহার বা এফআইআর (FIR) হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশের পর কোতয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি তাপস এবং মাইনুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত শেষে কোতয়ালি থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রাজিব দাস সনেট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।
আদালতে চার্জশিট দাখিল ও আসামিদের কারাবরণের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অপরাধী চক্রটি। এর জের ধরেই গতকাল রাতে গাঁজা রফিকের স্ত্রী আনু বেগম মুঠোফোনে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আদালত থেকে মামলা উঠিয়ে না নিলে তাকে বড় ধরনের মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের মামলায় জড়িয়ে চিরতরে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে।
পরপর এমন প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে সাংবাদিক আসলাম বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে তিনি পুনরায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নগরীর কোতয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।’
বরিশাল নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিহ্নিত মাদক কারবারি 'গাঁজা রফিক'-এর স্ত্রী ও একাধিক মাদক মামলার আসামি আনু বেগম কর্তৃক অনলাইন নিউজপোর্টাল 'তালাশ বিডি'-র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলামকে মুঠোফোনে মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এই হুমকির ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে প্রকাশিত সংবাদ এবং বিচারাধীন একটি মামলাকে কেন্দ্র করেই এই হুমকির জন্ম। গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিটে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন সংগ্রাম রাস্তায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে একদল চিহ্নিত অপরাধী। ওই দলে উপস্থিত ছিল এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ফকির, 'ইতালি শহীদ'-এর সহযোগী তাপস, গাঁজা রফিক, তুহিন এবং কালাম মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।
সে সময় সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেল, মাইনুল ও তাপস অস্ত্র উঁচিয়ে সাংবাদিক আসলামের মাথায় ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখায়। তারা নাক কাটা রুবেলের বিরুদ্ধে পূর্বে প্রকাশিত সকল সংবাদ অনলাইন থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেয় এবং ভবিষ্যতে তাদের কোনো অপরাধের খবর প্রকাশ না করার জন্য চূড়ান্ত হুমকি প্রদান করে।
প্রাণনাশের হুমকির পর সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম তার পত্রিকা সম্পাদকের সাথে পরামর্শ করে বরিশাল তৃতীয় যুগ্ম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ‘দ্রুত বিচার আইনে’ একটি নালিশি দরখাস্ত করেন। বিজ্ঞ বিচারক প্রাথমিক শুনানি ও ঘটনার বিবরণ দেখে সত্যতা অনুধাবন করেন এবং কোতয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) ঘটনাটি সরাসরি এজাহার বা এফআইআর (FIR) হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশের পর কোতয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি তাপস এবং মাইনুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত শেষে কোতয়ালি থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রাজিব দাস সনেট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।
আদালতে চার্জশিট দাখিল ও আসামিদের কারাবরণের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অপরাধী চক্রটি। এর জের ধরেই গতকাল রাতে গাঁজা রফিকের স্ত্রী আনু বেগম মুঠোফোনে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আদালত থেকে মামলা উঠিয়ে না নিলে তাকে বড় ধরনের মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের মামলায় জড়িয়ে চিরতরে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে।
পরপর এমন প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে সাংবাদিক আসলাম বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে তিনি পুনরায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নগরীর কোতয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।’

৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৩:১৮
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ছত্তিশগড়ে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ থেকে আগামী ৫ দিন বরিশালসহ সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আগামী ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামীকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
আগামী শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আগামী রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামী সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারীবর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।’
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ছত্তিশগড়ে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ থেকে আগামী ৫ দিন বরিশালসহ সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আগামী ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামীকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
আগামী শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আগামী রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামী সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারীবর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।’

২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ২৭ জুলাই ২০২৬: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের কৃতী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২৫ টি বিভাগের মোট ৭টি অনুষদের ১০৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সুনাগরিক ও দেশের কর্ণধার। তাদের মেধা, সততা, গবেষণামনস্কতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির ওপর নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই, তোমাদের জ্ঞানচর্চায় মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি। সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক। ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রাপ্তদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত বিভাগ কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী এই সম্মাননা লাভ করেন। তাদের মধ্যে নিহাল ইসলাম খন্দকার, পিতা: খন্দকার নজরুল ইসলাম, বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার কৃতী সন্তান। . হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপকূল অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বাংলাদেশের একমাত্র বিভাগ যেখানে উপকূল দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা বিষয়ে স্নাতক(সম্মান) ডিগ্রি দেওয়া হয় যা বাংলাদেশের কোথাও দেওয়া হয় না।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ২৭ জুলাই ২০২৬: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের কৃতী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২৫ টি বিভাগের মোট ৭টি অনুষদের ১০৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সুনাগরিক ও দেশের কর্ণধার। তাদের মেধা, সততা, গবেষণামনস্কতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির ওপর নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই, তোমাদের জ্ঞানচর্চায় মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি। সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক। ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রাপ্তদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত বিভাগ কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী এই সম্মাননা লাভ করেন। তাদের মধ্যে নিহাল ইসলাম খন্দকার, পিতা: খন্দকার নজরুল ইসলাম, বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার কৃতী সন্তান। . হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপকূল অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বাংলাদেশের একমাত্র বিভাগ যেখানে উপকূল দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা বিষয়ে স্নাতক(সম্মান) ডিগ্রি দেওয়া হয় যা বাংলাদেশের কোথাও দেওয়া হয় না।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

০১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:৪৪
বাংলাদেশ পুলিশের একাডেমি সারদা থেকে রহস্যজনকভাবে পলাতক ডিআইজি এহসান উল্যাহ সাবেক কর্মস্থল বরিশালেও বহুমুখী অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন। বরিশাল জেলার সাবেক পুলিশ সুপার এহসানের নির্দেশে ২০১৫ সালে আগৈলঝাড়া ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক কবির হোসেন রনিকে ক্রোসফায়ার দেওয়া হয়। সেই কিলিং পরিকল্পনায় বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি ও শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ রাজনৈতিক ও পুলিশ প্রশাসনের আরও বেশ কজন কর্মকর্তা সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ছাত্রদল নেতা রনি খুনের ঘটনায় তার ছেলে আশিকুর রহমান আসিফ (২০) বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
সূত্রে জানা গেছে, এই মামলাটিতে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর পাশাপাশি বরিশাল রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি মো. হুমায়ন কবির, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি আকরাম হোসেন, বরিশাল জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. এহসান উল্যাহ, সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর মল্লিক এবং আগৈলঝাড়া থানার সাবেক ওসি মনিরুল ইসলামসহ স্থানীয় অর্ধশত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে গত বছরের ৮ অক্টোবর বরিশালের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলাটি করা হলে বিচারক তা আগৈলঝাড়া থানা পুলিশকে রুজু করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপরে বছরখানেক সময় অতিবাহিত হলেও এই মামলায় অভিযুক্ত কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এখন খবর পাওয়া যাচ্ছে, বরিশালের আলোচিত এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার এহসান উল্যাহ খোদ বাংলাদেশ পুলিশের একাডেমি সারদা থেকে পালিয়ে গেছেন। বহু অঘটন পটিয়াসী এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে ক্রোসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে।
সূত্রের খবর হচ্ছে, বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সাপ্লাই বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডিআইজি এহসান উল্যাহকে আটক করতে বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে পুলিশ একাডেমিতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি, এমনকি তিনি কোথায় আছেন তাও নিশ্চিত বলতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকার।
পুলিশ কর্মকর্তা এহসান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডেরার মধ্যে থেকে পালিয়ে যাওয়ায় বেশ উদ্বিগ্ন নিহত ছাত্রদল নেতা রনির পরিবার। খুনির এই অন্তর্ধান নিয়ে ছাত্রদল নেতার পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করাসহ শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি রেখেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্ররোচনায় পুলিশ কর্মকর্তারা ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদল নেতা রনিকে রাজধানী ঢাকার নবীনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই ছাত্রদল নেতাকে আটকে রেখে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এবং একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি রাত আড়াইটায় আগৈলঝাড়া উপজেলার বাইপাস ব্রিজের পশ্চিম পাশে রাস্তায় রনিকে গুলি করে হত্যা করে। পরে সব আসামিরা বিষয়টি একযোগে ক্রোসফায়ার ও এনকাউন্টার বলে প্রচারণা করেন।
রনির ছেলে সিয়াম রূপালী বাংলাদেশকে জানান, তার বাবা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে তাকে খুন করা হয়েছে। তৎসময়ে আসামিদের ভয়ে মামলা করতে পর্যন্ত সাহস পাননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে আদালতে মামলা করে বিচার চেয়েছেন। সেই মামলার অভিযুক্ত বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার পালিয়ে গেছেন, এমন খবর খুবই হতাশাজনক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য লজ্জারও বটে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এহসান উল্যাহ জেলার এসপি থাকাকালীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতাদের ইশারায় নিরাপরাধ ছাত্রদল নেতা রনিকে খুন করাসহ বিরোধী মতকে দমনে দৈবশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। এবং নিজেকে আওয়ামী লীগপন্থী পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানামুখী গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস দেখাননি। বরং তৎকালীন রেঞ্জ ডিআইজি হুমায়ন কবির তার এই অনৈতিক কাজসমূহকে প্রশ্রয় দিয়ে গেছেন।
সূত্রটি জানায়, এর কয়েক বছর পরে এহসান উল্যাহ বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হয়ে এসে বদলি বাণিজ্যসহ পূর্বের ন্যায় অনুরূপ অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এবং তৎকালীন সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম রোহিত করতে তাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাদৃশ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়।
বরিশালে আলোচিত ছাত্রদল নেতা খুনের মামলার আসামি এই পুলিশ কর্মকর্তা সন্তপর্ণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা গন্ডির মধ্যে থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটিতে অভিজ্ঞমহল বিস্ময়প্রকাশ করেছেন। এবং এজাহারভুক্ত মামলার আসামি এহসান উল্যাকে গ্রেপ্তারে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ এতদিন কোনো উদ্যোগ নিল না তা নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আলোচিত মামলার আসামিকে এক বছরেও কোনো গ্রেপ্তার করা গেলো না জানতে চাইলে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, বাদী মামলাটি পরিচালানা করতে চাননি। এবং বিষয়টি নির্বাহী আদেশে তদন্ত করা শেষে একটি রিপোর্ট আদালতে আদালতে জমা দেওয়া হয়। এখানে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের গাফলতি করেছে এমনটি বলার সুযোগ নেই, মন্তব্য করেন ওসি।
এহসান উল্যার পলায়নের বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত বুধবার থেকে তিনি একাডেমিতে অনুপস্থিত রয়েছেন। ঢাকা থেকে ২৯ অক্টোবর একটি টিম তাকে আটক করতে এসেছিল। কিন্তু তাকে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন এই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’