Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

০৯ আগস্ট, ২০২৫ ১৯:১৮
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপলক্ষে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার ২১টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে খেলাফত মজলিশ। শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছে দলটির যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী। এ সময় তিনি বিভাগটির ২১টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে লেভেল প্লেইং ফিল্ড বজায় রাখাসহ প্রশাসনিক সব কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখারও দাবি জানিয়ে বলেন, দেশের সব বিভাগেই প্রার্থী ঘোষণার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বরিশাল বিভাগের প্রার্থী ঘোষণা হলো। ইসলামি জোট হলে জোটভুক্ত দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কোন আসনে কোন দলের প্রার্থী থাকবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জোট না হলে এই তালিকাই বলা চলে চূড়ান্ত।
বিভাগের ২১টি আসনের যারা প্রার্থী হচ্ছেন তারা হলেন- বরিশাল-১ অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান শাহীন, বরিশাল-২ মো. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বরিশাল-৩ অধ্যাপক রুহুল আমিন কামাল, বরিশাল-৪, বরিশাল-৫ অধ্যাপক এ. কে. এম. মাহবুব আলম, বরিশাল-৬ অধ্যাপক মো. মোশাররেফ হোসেন খান, বরগুনা-১ অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গির হোসাইন, বরগুনা-২ অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ মুয়াজ্জেম হোসাইন, পটুয়াখালী-১ অধ্যাপক মাওলানা মো. সাইদুর রহমান, পটুয়াখালী-২ মাওলানা মো. আইয়ুব বিন মুসা, পটুয়াখালী-৩ অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন, পটুয়াখালী-৪ ডা. জহির আহম্মেদ, ঝালকাঠী-১ মাওলানা মইনুল ইসলাম, ঝালকাঠী-২ ডা. মো. ছিদ্দিকুর রহমান, ভোলা-১ অধ্যক্ষ মাওলানা সালেহ উদ্দীন, ভোলা-২ মাওলানা শামসুল আলম, ভোলা-৩ মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, ভোলা-৪ ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহফুজুর রহমান, পিরোজপুর-১ হাফেজ মো. নূরুল হক, পিরোজপুর-২ মাওলানা আবদুল গফ্ফার পিরোজপুর-৩ অধ্যাপক মোতালেব হোসেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপলক্ষে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার ২১টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে খেলাফত মজলিশ। শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছে দলটির যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী। এ সময় তিনি বিভাগটির ২১টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে লেভেল প্লেইং ফিল্ড বজায় রাখাসহ প্রশাসনিক সব কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখারও দাবি জানিয়ে বলেন, দেশের সব বিভাগেই প্রার্থী ঘোষণার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বরিশাল বিভাগের প্রার্থী ঘোষণা হলো। ইসলামি জোট হলে জোটভুক্ত দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কোন আসনে কোন দলের প্রার্থী থাকবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জোট না হলে এই তালিকাই বলা চলে চূড়ান্ত।
বিভাগের ২১টি আসনের যারা প্রার্থী হচ্ছেন তারা হলেন- বরিশাল-১ অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান শাহীন, বরিশাল-২ মো. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বরিশাল-৩ অধ্যাপক রুহুল আমিন কামাল, বরিশাল-৪, বরিশাল-৫ অধ্যাপক এ. কে. এম. মাহবুব আলম, বরিশাল-৬ অধ্যাপক মো. মোশাররেফ হোসেন খান, বরগুনা-১ অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গির হোসাইন, বরগুনা-২ অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ মুয়াজ্জেম হোসাইন, পটুয়াখালী-১ অধ্যাপক মাওলানা মো. সাইদুর রহমান, পটুয়াখালী-২ মাওলানা মো. আইয়ুব বিন মুসা, পটুয়াখালী-৩ অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন, পটুয়াখালী-৪ ডা. জহির আহম্মেদ, ঝালকাঠী-১ মাওলানা মইনুল ইসলাম, ঝালকাঠী-২ ডা. মো. ছিদ্দিকুর রহমান, ভোলা-১ অধ্যক্ষ মাওলানা সালেহ উদ্দীন, ভোলা-২ মাওলানা শামসুল আলম, ভোলা-৩ মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, ভোলা-৪ ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহফুজুর রহমান, পিরোজপুর-১ হাফেজ মো. নূরুল হক, পিরোজপুর-২ মাওলানা আবদুল গফ্ফার পিরোজপুর-৩ অধ্যাপক মোতালেব হোসেন।

০৫ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪২
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্। বর্তমান কমিশনার মো. আশিক সাঈদকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বর্তমান পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ গত ৫ মে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। কর্মক্ষেত্রে সৎ এবং পরিচ্ছন্ন এই কর্মকর্তাকে দুই মাসের মাথায় রাজশাহী রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হলো।
আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং তিনি পুলিশ অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
তবে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ বাহিনীতে কোনঠাসা ছিলেন। তাকে সেই সময়ে যোগ্য কোথাও পদায়ন করা হয়নি বলেও অভিযোগ আছে।
তবে অতীত কর্মের কারণে আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্কে বরিশালের মানুষ এখন সম্মানের দৃষ্টিতে দেখেন এবং তিনি নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়েছে।’

০৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪৯

০৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:০৫
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্। বর্তমান কমিশনার মো. আশিক সাঈদকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বর্তমান পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ গত ৫ মে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। কর্মক্ষেত্রে সৎ এবং পরিচ্ছন্ন এই কর্মকর্তাকে দুই মাসের মাথায় রাজশাহী রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হলো।
আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং তিনি পুলিশ অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
তবে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ বাহিনীতে কোনঠাসা ছিলেন। তাকে সেই সময়ে যোগ্য কোথাও পদায়ন করা হয়নি বলেও অভিযোগ আছে।
তবে অতীত কর্মের কারণে আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্কে বরিশালের মানুষ এখন সম্মানের দৃষ্টিতে দেখেন এবং তিনি নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়েছে।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের সর্বাধিক বিতর্কিত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমানকে শাস্তিমূলক অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মামলা এবং সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে বাণিজ্য করার বিস্তর অভিযোগ আছে। এই নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তাকে কীর্তনখোলা তীরের জনপদ বরিশাল থেকে সরিয়ে নেওয়ায় এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন এবং হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন।
মাঠপুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে পুলিশের চেইন অব কমান্ড কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মোস্তফিজুর রহমানকে সরিয়ে বেতাগীর সন্তান মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা যোগদানের পরপরই জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক মামলা হয়, যার অধিকাংশতে বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ-ব্যবসায়ী, এমনকি বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, এই মামলাগুলো নিয়ে ওসি মিজান এবং কতিপয় সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী যুবক মিলেমিশে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করেন। অসংখ্য নিরীহ মানুষকে ফোন করে থানায় ডেকে নিয়ে তিনি ব্যাপক অর্থ হাতিয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকদের কাকে কয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখাবেন তা নিয়ে বাণিজ্য করেন ওসি মিজান।
আইনসিক্ত নয় এমন বিষয়গুলো নিয়ে থানা পুলিশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা কানাঘুষা চললেও অপরাপর কর্মকর্তারা মুখ খোলাস সাহস দেখাননি। তবে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চমহলসহ সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে অসংখ্য অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে বদলি করে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে সেখানে গিয়ে তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়েন। এবং তার দেওয়া দিকনির্দেশনায় ছাত্রশক্তির মারযুক আব্দুল্লাহসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন লোকদের মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন।
কিন্তু সেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত আর থাকতে পারলেন না। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষমহলে রদবদল আসার পরপরই তার মামলা-বাণিজ্য এবং সাধারণ নিরীহ মানুষ জিম্মি অপকৌশল প্রকাশ হয়ে যায়।
দুদিন পূর্বে তাকে বরিশাল থেকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তার বদলি নিয়ে বরিশাল পুলিশ কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওসি মিজানকে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তার বদলি যে শাস্তিমূলক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ওসি মিজানের বদলিতে স্বস্তিপ্রকাশ করে কোতয়ালি মডেল থানা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত ২ বছর তিনি পুলিশের পোশাক পরে বহুমুখী অপরাধ করেছেন। নিরীহ এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে, এর সাথে কজন যুবকও জড়িত আছে, তাদের একজন মারযুক আব্দুল্লাহ।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত ২ জুলাই বরিশাল আদালতে ছাত্রশক্তির নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ যে মামলাটি করে, তাতে ঘটনাস্থল ওসি মিজানের বিমানবন্দর থানা এলাকা দেখানো হয়। কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই বরিশাল আদালতে মামলাটি হওয়ায় তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। এবং এই মামলাটিতে ওসি মিজানের যোগসূত্র থাকার একটি সম্ভবনা সামনে আসে। এনিয়ে বরিশাল পুলিশের উচ্চমহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ওসি মিজানকে বিমানবন্দর থানা থেকে সরিয়ে খুলনায় বদলি করা হয়।
এই বিষয়টি নিয়ে জানতে পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, হেডকোয়াটার্সের নির্দেশে ওসি মিজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের সর্বাধিক বিতর্কিত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমানকে শাস্তিমূলক অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মামলা এবং সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে বাণিজ্য করার বিস্তর অভিযোগ আছে। এই নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তাকে কীর্তনখোলা তীরের জনপদ বরিশাল থেকে সরিয়ে নেওয়ায় এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন এবং হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন।
মাঠপুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে পুলিশের চেইন অব কমান্ড কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তৎকালীন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মোস্তফিজুর রহমানকে সরিয়ে বেতাগীর সন্তান মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা যোগদানের পরপরই জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক মামলা হয়, যার অধিকাংশতে বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ-ব্যবসায়ী, এমনকি বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, এই মামলাগুলো নিয়ে ওসি মিজান এবং কতিপয় সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী যুবক মিলেমিশে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করেন। অসংখ্য নিরীহ মানুষকে ফোন করে থানায় ডেকে নিয়ে তিনি ব্যাপক অর্থ হাতিয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকদের কাকে কয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখাবেন তা নিয়ে বাণিজ্য করেন ওসি মিজান।
আইনসিক্ত নয় এমন বিষয়গুলো নিয়ে থানা পুলিশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা কানাঘুষা চললেও অপরাপর কর্মকর্তারা মুখ খোলাস সাহস দেখাননি। তবে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চমহলসহ সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে অসংখ্য অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে বদলি করে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে সেখানে গিয়ে তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়েন। এবং তার দেওয়া দিকনির্দেশনায় ছাত্রশক্তির মারযুক আব্দুল্লাহসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন লোকদের মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন।
কিন্তু সেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত আর থাকতে পারলেন না। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষমহলে রদবদল আসার পরপরই তার মামলা-বাণিজ্য এবং সাধারণ নিরীহ মানুষ জিম্মি অপকৌশল প্রকাশ হয়ে যায়।
দুদিন পূর্বে তাকে বরিশাল থেকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তার বদলি নিয়ে বরিশাল পুলিশ কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওসি মিজানকে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তার বদলি যে শাস্তিমূলক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ওসি মিজানের বদলিতে স্বস্তিপ্রকাশ করে কোতয়ালি মডেল থানা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত ২ বছর তিনি পুলিশের পোশাক পরে বহুমুখী অপরাধ করেছেন। নিরীহ এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে, এর সাথে কজন যুবকও জড়িত আছে, তাদের একজন মারযুক আব্দুল্লাহ।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত ২ জুলাই বরিশাল আদালতে ছাত্রশক্তির নেতা মারযুক আব্দুল্লাহ যে মামলাটি করে, তাতে ঘটনাস্থল ওসি মিজানের বিমানবন্দর থানা এলাকা দেখানো হয়। কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই বরিশাল আদালতে মামলাটি হওয়ায় তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। এবং এই মামলাটিতে ওসি মিজানের যোগসূত্র থাকার একটি সম্ভবনা সামনে আসে। এনিয়ে বরিশাল পুলিশের উচ্চমহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ওসি মিজানকে বিমানবন্দর থানা থেকে সরিয়ে খুলনায় বদলি করা হয়।
এই বিষয়টি নিয়ে জানতে পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, হেডকোয়াটার্সের নির্দেশে ওসি মিজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।’
ছাত্রনেতা সুজয় শুভকে নিয়ে অপপ্রচার, মানহানির অভিযোগে মামলা
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা সুজয় বিশ্বাস শুভর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার ও মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি সুজয় শুভ বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে এ মামলা করেন।
এদিকে, সুজয় শুভর বিচারের দাবিতে সম্প্রতি বরিশাল নগরীতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ৯ জনের মধ্যে অন্তত দুজন জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত না হয়েই তারা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাদীর সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশে তার সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার শরীর, সম্পত্তি ও সামাজিক সুনামের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের নেতা মাহিদুল ইসলাম দাউদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এরপর মাহিদুল ইসলাম দাউদ ক্ষুব্ধ হয়ে আলিসা মুনতাজ, হুজাইফা রহমানসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে মামলার বাদী সুজয় বিশ্বাস শুভর মানহানি করার উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও অপমানজনক বক্তব্য প্রচার শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় মামলার অন্যান্য আসামিরা ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সুজয় শুভকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অবমাননাকর মন্তব্য ও বক্তব্য প্রকাশ করেন। পরে একই বছরের ১৬ এপ্রিল পুনরায় বাদীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালানো হয়।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুজয় শুভ ২১ এপ্রিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও অভিযুক্তরা অপপ্রচার বন্ধ না করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার, ভিডিওচিত্র তৈরি এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে থাকেন।
অভিযোগপত্রে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের জুন মাসে বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে আদালতের কাছে বিচার চেয়ে মামলাটি দায়ের করেন সুজয় শুভ।
এদিকে, সুজয় শুভর বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ৯ জন ব্যক্তির একজন শামীম দাবি করেন, তাকে কার বিরুদ্ধে এবং কী অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা না জানিয়েই সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শামীম বলেন, ‘ও... হ্যাঁ, না, আমি ওইখানে ছিলাম আরকি। আমার এক বড় ভাই আমাকে নিয়ে গেছে।’
সুজয় শুভর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে এই ব্যাপারে তেমন কোনো তথ্য জানি না। আপনি বরং যারা ফ্রন্টে ছিল, ওনাদেরকে জিজ্ঞেস করেন। মানে... আমাদের ওই সিরাজুল ভাইসহ যারা ছিল, ওনাদেরকে জিজ্ঞেস করেন।’
আপনি মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছেন, কিন্তু কেন অংশ নিচ্ছেন তা জানেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, ‘না, আমি জানি যে আমি একটা প্রতিবাদী মিছিলে অংশগ্রহণ করছি আরকি, এইটুকু।’
অভিযোগ সত্য না মিথ্যা তা না জেনেই মানববন্ধনে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘না, কারণ ছাড়া বলতে কী, আমাকে তো এমনিতে বলা হইছে যে চলো...।’
মানববন্ধনের অভিযোগকারীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না- এ অবস্থায় কীভাবে মানববন্ধনে অংশ নিলেন জানতে চাইলে শামীম বলেন, ‘যারা লিডিংয়ে ছিল, ওনারা হয়তো জানেন আরকি। এই ব্যাপারে আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য নাই। আমার যেটা মনে হয় যে হয়তোবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওনারে(সুজয় শুভকে) হয়তো হ্যারাস করার জন্য এটা করছে।"
এছাড়া মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধনা হালদার নামে এক নারীও একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সুজয় শুভর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি শুনেছেন, তাই তিনি মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন।
সাধনা হালদার আরও বলেন, ‘আমি সুজয় শুভকে চিনতাম। বিভিন্ন আন্দোলন তাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। গত কিছুদিন ধরে শুনতেছি- আমাদের সিনিয়র আপুরা তারা বলতেছে, তারা বিভিন্ন ধরণের যৌন নির্যাতনবা নিপীড়নের শিকার হইছে, ব্যাড টাচের শিকার হইছে, এই ধরণের ম্যানুপুলেশন বা ভিক্টিম ব্লেমিং এর শিকার হইছে। যখন শুনলাম একাধিক মানুষের কাছ থেকে তখন খুবই খারাপ লাগছে।’
মামলার বাদীপক্ষের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই সাধারণ মানুষকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করানো হয়েছে এবং তাদের ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একজন ছাত্রনেতার মানহানি করা হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন বাদী সুজয় শুভ।
সুজয় আরও বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষের জায়গা থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কিছুদিন ধরে আমার বিরদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তারা ফেইসবুকে নানা অসত্য, অসংলগ্ন ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুললেও কোনো অভিযোগের স্বপক্ষে ন্যূনতম প্রমাণ হাজির করতে পারেন নি। কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে তথ্য, প্রমাণহীন ভুয়া অভিযোগ সাজিয়ে ভিকটিম কার্ড প্লে করা ; গুরুতর অন্যায় বলে মনে করি। এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমি আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমি চাই এই অসাধু চক্রের দ্বারা আর কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য প্রচলিত আইনে মামলা করেছি।
এ সকল বিষয় বক্তব্য জানতে মামলার আসামি হুজাইফা রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
ছাত্রনেতা সুজয় শুভকে নিয়ে অপপ্রচার, মানহানির অভিযোগে মামলা
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা সুজয় বিশ্বাস শুভর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার ও মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি সুজয় শুভ বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে এ মামলা করেন।
এদিকে, সুজয় শুভর বিচারের দাবিতে সম্প্রতি বরিশাল নগরীতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ৯ জনের মধ্যে অন্তত দুজন জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত না হয়েই তারা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাদীর সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশে তার সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার শরীর, সম্পত্তি ও সামাজিক সুনামের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের নেতা মাহিদুল ইসলাম দাউদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এরপর মাহিদুল ইসলাম দাউদ ক্ষুব্ধ হয়ে আলিসা মুনতাজ, হুজাইফা রহমানসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে মামলার বাদী সুজয় বিশ্বাস শুভর মানহানি করার উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও অপমানজনক বক্তব্য প্রচার শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় মামলার অন্যান্য আসামিরা ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সুজয় শুভকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অবমাননাকর মন্তব্য ও বক্তব্য প্রকাশ করেন। পরে একই বছরের ১৬ এপ্রিল পুনরায় বাদীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালানো হয়।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুজয় শুভ ২১ এপ্রিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও অভিযুক্তরা অপপ্রচার বন্ধ না করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার, ভিডিওচিত্র তৈরি এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে থাকেন।
অভিযোগপত্রে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের জুন মাসে বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে আদালতের কাছে বিচার চেয়ে মামলাটি দায়ের করেন সুজয় শুভ।
এদিকে, সুজয় শুভর বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ৯ জন ব্যক্তির একজন শামীম দাবি করেন, তাকে কার বিরুদ্ধে এবং কী অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা না জানিয়েই সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শামীম বলেন, ‘ও... হ্যাঁ, না, আমি ওইখানে ছিলাম আরকি। আমার এক বড় ভাই আমাকে নিয়ে গেছে।’
সুজয় শুভর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে এই ব্যাপারে তেমন কোনো তথ্য জানি না। আপনি বরং যারা ফ্রন্টে ছিল, ওনাদেরকে জিজ্ঞেস করেন। মানে... আমাদের ওই সিরাজুল ভাইসহ যারা ছিল, ওনাদেরকে জিজ্ঞেস করেন।’
আপনি মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছেন, কিন্তু কেন অংশ নিচ্ছেন তা জানেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, ‘না, আমি জানি যে আমি একটা প্রতিবাদী মিছিলে অংশগ্রহণ করছি আরকি, এইটুকু।’
অভিযোগ সত্য না মিথ্যা তা না জেনেই মানববন্ধনে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘না, কারণ ছাড়া বলতে কী, আমাকে তো এমনিতে বলা হইছে যে চলো...।’
মানববন্ধনের অভিযোগকারীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না- এ অবস্থায় কীভাবে মানববন্ধনে অংশ নিলেন জানতে চাইলে শামীম বলেন, ‘যারা লিডিংয়ে ছিল, ওনারা হয়তো জানেন আরকি। এই ব্যাপারে আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য নাই। আমার যেটা মনে হয় যে হয়তোবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওনারে(সুজয় শুভকে) হয়তো হ্যারাস করার জন্য এটা করছে।"
এছাড়া মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধনা হালদার নামে এক নারীও একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সুজয় শুভর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি শুনেছেন, তাই তিনি মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন।
সাধনা হালদার আরও বলেন, ‘আমি সুজয় শুভকে চিনতাম। বিভিন্ন আন্দোলন তাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। গত কিছুদিন ধরে শুনতেছি- আমাদের সিনিয়র আপুরা তারা বলতেছে, তারা বিভিন্ন ধরণের যৌন নির্যাতনবা নিপীড়নের শিকার হইছে, ব্যাড টাচের শিকার হইছে, এই ধরণের ম্যানুপুলেশন বা ভিক্টিম ব্লেমিং এর শিকার হইছে। যখন শুনলাম একাধিক মানুষের কাছ থেকে তখন খুবই খারাপ লাগছে।’
মামলার বাদীপক্ষের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই সাধারণ মানুষকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করানো হয়েছে এবং তাদের ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একজন ছাত্রনেতার মানহানি করা হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন বাদী সুজয় শুভ।
সুজয় আরও বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষের জায়গা থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কিছুদিন ধরে আমার বিরদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তারা ফেইসবুকে নানা অসত্য, অসংলগ্ন ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুললেও কোনো অভিযোগের স্বপক্ষে ন্যূনতম প্রমাণ হাজির করতে পারেন নি। কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে তথ্য, প্রমাণহীন ভুয়া অভিযোগ সাজিয়ে ভিকটিম কার্ড প্লে করা ; গুরুতর অন্যায় বলে মনে করি। এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমি আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমি চাই এই অসাধু চক্রের দ্বারা আর কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য প্রচলিত আইনে মামলা করেছি।
এ সকল বিষয় বক্তব্য জানতে মামলার আসামি হুজাইফা রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৩৪
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪২
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪৯
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:০৫