বরিশাল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী সিটি করপোরেশনের পর এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয়ও মেটাবেন অনুদানের টাকায়। তিনি শ্রমজীবীদের কাছ থেকে মাটির ব্যাংকে টাকা সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও অনুদান নিচ্ছেন।
মনীষা চক্রবর্তী বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এই আসনে এবারই প্রথম নারী প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর আগে ২০১৮ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বাসদের প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মনীষা। ওই নির্বাচনে মাটির ব্যাংকের টাকায় নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তিনি আলোচনায় আসেন। তাঁর নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি মানুষের নজর কেড়েছিল। মাটির ব্যাংকে সাধারণ মানুষের জমানো টাকায় চলেছিল তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রম।
এবারও মনীষা একই প্রক্রিয়ায় মাটির ব্যাংকে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ করছেন। প্রচার শুরুর আগেই কয়েক শ ছোট মাটির ব্যাংক তুলে দিয়েছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে। অর্থদাতাদের বেশির ভাগই ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকচালক ও বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক।
এ বিষয়ে মনীষা বলেন, নির্বাচনে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এর সবই গণচাঁদা এবং জনগণের দেওয়া অনুদান থেকে আসবে। এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ অনুদান এসেছে, তা জানতে চাইলে আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি বলেন, ‘মাটির ব্যাংকগুলো এখনো আমরা সংগ্রহ করিনি। এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে প্রচার চালানোর মতো লাখ তিনেক টাকার তহবিল রয়েছে। নির্বাচন মানেই তো প্রার্থীদের টাকার খেলা। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এটা ব্যতিক্রম। উল্টো শ্রমিকেরা নির্বাচনের খরচ দিচ্ছেন।’
জনগণের জন্য রাজনীতি করেন জানিয়ে মনীষা বলেন, ‘আমরা কোনো কোটিপতির কাছে মাথা বিক্রি করে নির্বাচন করতে চাই না। কালোটাকা ও দুর্নীতির বাইরে গিয়ে আমরা স্বচ্ছতা ও সততার রাজনীতি করি। নির্বাচনেও আমরা সেটার প্রতিফলন ঘটাতে চাই, এ জন্য মানুষের কাছ থেকে ক্ষুদ্র সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করব। কারণ, আমরা মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ।’
অনেক শ্রমিক খুশি মনে টাকা দিয়ে মনীষা চক্রবর্তীকে সহযোগিতা করছেন বলে জানান নগরের ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক আলী হোসেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকেরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন। অনেক বড় বড় নেতার কাছে গিয়েও এ ব্যাপারে কোনো সহায়তা পাইনি। মনীষা চক্রবর্তী আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বরিশাল নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, মনীষা চক্রবর্তী প্রথাগত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে থেকে নীরবে অথচ দৃঢ়ভাবে একটি স্বতন্ত্র জননেতৃত্বের অবস্থান তৈরি করেছেন, যা তাঁকে ভোটের মাঠে সুবিধা দিতে পারে। একই সঙ্গে মাটির ব্যাংকে মানুষের অর্থদান দানের বিষয়টি শুধু ব্যাতিক্রমী নয় বরং বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতির ভেতর একটি গভীর কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ।
ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও তিন চাকার যান চলাচলের বৈধতার দাবিতে রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বরিশালে পরিচিত হয়ে ওঠেন বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বরিশাল জেলা বাসদের সমন্বয়ক। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি নগরের প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষের নানা দাবিতে সক্রিয়।
২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল রিকশা উচ্ছেদের প্রতিবাদে শ্রমিকদের মিছিলে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হন মনীষা। ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে তাঁকে নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
বাসদ নেতা শহিদ হাওলাদার জানান, মনীষা ৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ পেলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত থাকেন। তিনি গরিব মানুষের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেন এবং শ্রমিকদের অধিকার আন্দোলনে সক্রিয়। তাঁর দাদা ও বাবা মুক্তিযোদ্ধা। পারিবারিক ঐতিহ্যও তাঁকে পরিচিত করেছে।
বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফয়জুল করীম ও মনীষা চক্রবর্তীসহ ছয়জন প্রার্থী আছেন।

২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ২৭ জুলাই ২০২৬: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের কৃতী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২৫ টি বিভাগের মোট ৭টি অনুষদের ১০৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সুনাগরিক ও দেশের কর্ণধার। তাদের মেধা, সততা, গবেষণামনস্কতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির ওপর নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই, তোমাদের জ্ঞানচর্চায় মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি। সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক। ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রাপ্তদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত বিভাগ কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী এই সম্মাননা লাভ করেন। তাদের মধ্যে নিহাল ইসলাম খন্দকার, পিতা: খন্দকার নজরুল ইসলাম, বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার কৃতী সন্তান। . হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপকূল অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বাংলাদেশের একমাত্র বিভাগ যেখানে উপকূল দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা বিষয়ে স্নাতক(সম্মান) ডিগ্রি দেওয়া হয় যা বাংলাদেশের কোথাও দেওয়া হয় না।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ২৭ জুলাই ২০২৬: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের কৃতী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২৫ টি বিভাগের মোট ৭টি অনুষদের ১০৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সুনাগরিক ও দেশের কর্ণধার। তাদের মেধা, সততা, গবেষণামনস্কতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির ওপর নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই, তোমাদের জ্ঞানচর্চায় মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি। সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক। ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রাপ্তদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত বিভাগ কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী এই সম্মাননা লাভ করেন। তাদের মধ্যে নিহাল ইসলাম খন্দকার, পিতা: খন্দকার নজরুল ইসলাম, বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার কৃতী সন্তান। . হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপকূল অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বাংলাদেশের একমাত্র বিভাগ যেখানে উপকূল দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা বিষয়ে স্নাতক(সম্মান) ডিগ্রি দেওয়া হয় যা বাংলাদেশের কোথাও দেওয়া হয় না।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

২৯ জুলাই, ২০২৬ ০০:৩০
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’

২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:২৬
বরিশাল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী সিটি করপোরেশনের পর এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয়ও মেটাবেন অনুদানের টাকায়। তিনি শ্রমজীবীদের কাছ থেকে মাটির ব্যাংকে টাকা সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও অনুদান নিচ্ছেন।
মনীষা চক্রবর্তী বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এই আসনে এবারই প্রথম নারী প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর আগে ২০১৮ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বাসদের প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মনীষা। ওই নির্বাচনে মাটির ব্যাংকের টাকায় নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তিনি আলোচনায় আসেন। তাঁর নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি মানুষের নজর কেড়েছিল। মাটির ব্যাংকে সাধারণ মানুষের জমানো টাকায় চলেছিল তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রম।
এবারও মনীষা একই প্রক্রিয়ায় মাটির ব্যাংকে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ করছেন। প্রচার শুরুর আগেই কয়েক শ ছোট মাটির ব্যাংক তুলে দিয়েছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে। অর্থদাতাদের বেশির ভাগই ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকচালক ও বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক।
এ বিষয়ে মনীষা বলেন, নির্বাচনে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এর সবই গণচাঁদা এবং জনগণের দেওয়া অনুদান থেকে আসবে। এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ অনুদান এসেছে, তা জানতে চাইলে আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি বলেন, ‘মাটির ব্যাংকগুলো এখনো আমরা সংগ্রহ করিনি। এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে প্রচার চালানোর মতো লাখ তিনেক টাকার তহবিল রয়েছে। নির্বাচন মানেই তো প্রার্থীদের টাকার খেলা। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এটা ব্যতিক্রম। উল্টো শ্রমিকেরা নির্বাচনের খরচ দিচ্ছেন।’
জনগণের জন্য রাজনীতি করেন জানিয়ে মনীষা বলেন, ‘আমরা কোনো কোটিপতির কাছে মাথা বিক্রি করে নির্বাচন করতে চাই না। কালোটাকা ও দুর্নীতির বাইরে গিয়ে আমরা স্বচ্ছতা ও সততার রাজনীতি করি। নির্বাচনেও আমরা সেটার প্রতিফলন ঘটাতে চাই, এ জন্য মানুষের কাছ থেকে ক্ষুদ্র সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করব। কারণ, আমরা মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ।’
অনেক শ্রমিক খুশি মনে টাকা দিয়ে মনীষা চক্রবর্তীকে সহযোগিতা করছেন বলে জানান নগরের ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক আলী হোসেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকেরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন। অনেক বড় বড় নেতার কাছে গিয়েও এ ব্যাপারে কোনো সহায়তা পাইনি। মনীষা চক্রবর্তী আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বরিশাল নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, মনীষা চক্রবর্তী প্রথাগত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে থেকে নীরবে অথচ দৃঢ়ভাবে একটি স্বতন্ত্র জননেতৃত্বের অবস্থান তৈরি করেছেন, যা তাঁকে ভোটের মাঠে সুবিধা দিতে পারে। একই সঙ্গে মাটির ব্যাংকে মানুষের অর্থদান দানের বিষয়টি শুধু ব্যাতিক্রমী নয় বরং বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতির ভেতর একটি গভীর কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ।
ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও তিন চাকার যান চলাচলের বৈধতার দাবিতে রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বরিশালে পরিচিত হয়ে ওঠেন বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বরিশাল জেলা বাসদের সমন্বয়ক। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি নগরের প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষের নানা দাবিতে সক্রিয়।
২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল রিকশা উচ্ছেদের প্রতিবাদে শ্রমিকদের মিছিলে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হন মনীষা। ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে তাঁকে নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
বাসদ নেতা শহিদ হাওলাদার জানান, মনীষা ৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ পেলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত থাকেন। তিনি গরিব মানুষের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেন এবং শ্রমিকদের অধিকার আন্দোলনে সক্রিয়। তাঁর দাদা ও বাবা মুক্তিযোদ্ধা। পারিবারিক ঐতিহ্যও তাঁকে পরিচিত করেছে।
বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফয়জুল করীম ও মনীষা চক্রবর্তীসহ ছয়জন প্রার্থী আছেন।