ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান চপলকে (৫৬) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এইচ এম কবির হোসেন এ আদেশ দেন।
দুপুরের পর ঝালকাঠি সদর থানা থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন না করায় বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, ২০০৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কর্ণফুলি গার্ডেন ও নাভানা টাওয়ার মার্কেটের স্বর্ণ ডাকাতি মামলায় আগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এছাড়া চলতি বছরের ৫ আগস্টের পর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সোমবার সন্ধ্যায় ঝালকাঠি শহরের চাদকাঠি তিনঘাটলা এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীকে মারধরের অভিযোগে তাকে থানায় নেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হলেও নির্দিষ্ট মামলা না থাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, আনিসুজ্জামান চপল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দলের ভেতরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুলিশ প্রশাসনকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তাকে হয়রানির শিকার করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও চপলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সময়মতো ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদন না পাওয়ায় আদালতে জামিন আবেদন করাও সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
ঝালকাঠি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক পুলক চন্দ্র রায় জানান, আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ৫৪ ধারায় দাখিল করা ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতির অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:২৫
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় স্ত্রীর ঋণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী খায়রুল ইসলাম পলাশের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজা হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে আঘাত করলে পলাশের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত খায়রুল ইসলাম পলাশ নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে—চার বছর বয়সী জায়ান ও দুই মাস বয়সী রুকাইয়া।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পুলিশ ইসরাত জাহান লিজাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় লিজার কোলে দুই মাস বয়সী রুকাইয়া ও পাশে চার বছর বয়সী জায়ানকে দেখা যায়।
এ ঘটনায় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজাকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনের বিরুদ্ধে কাঠালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন পলাশের চাচাতো ভাই মিরাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কাঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ আউড়া গ্রামে পলাশের শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত খায়রুল ইসলাম পলাশ পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। তার গ্রামের বাড়ি নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে। কিছুদিন আগে দ্বিতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজাকে নিয়ে কাঠালিয়া উপজেলা সদরের দক্ষিণ আউড়া গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফার্মেসিও চালু করেন তিনি।
অনেক দিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্বামী পলাশকে না জানিয়ে স্ত্রী লিজা যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি ঋণ গ্রহণ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার লিজা ও পলাশের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে লিজা প্রথমে হাতুড়ি এবং পরে শাবল দিয়ে পলাশকে গুরুতর জখম করেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহ আলম সাংবাদিকদের জানান, ইসরাত জাহান লিজাকে গ্রেপ্তার করে ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার সঙ্গে দুটি অবুঝ কন্যাসন্তান রয়েছে। তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:১৫
বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতা ও চেঁচরীরামপুর এমএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান।
গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ সংগঠনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।
কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান জানান, উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৪

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩৮
ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান চপলকে (৫৬) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এইচ এম কবির হোসেন এ আদেশ দেন।
দুপুরের পর ঝালকাঠি সদর থানা থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন না করায় বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, ২০০৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কর্ণফুলি গার্ডেন ও নাভানা টাওয়ার মার্কেটের স্বর্ণ ডাকাতি মামলায় আগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এছাড়া চলতি বছরের ৫ আগস্টের পর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সোমবার সন্ধ্যায় ঝালকাঠি শহরের চাদকাঠি তিনঘাটলা এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীকে মারধরের অভিযোগে তাকে থানায় নেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হলেও নির্দিষ্ট মামলা না থাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, আনিসুজ্জামান চপল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দলের ভেতরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুলিশ প্রশাসনকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তাকে হয়রানির শিকার করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও চপলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সময়মতো ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদন না পাওয়ায় আদালতে জামিন আবেদন করাও সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
ঝালকাঠি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক পুলক চন্দ্র রায় জানান, আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ৫৪ ধারায় দাখিল করা ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতির অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় স্ত্রীর ঋণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী খায়রুল ইসলাম পলাশের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজা হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে আঘাত করলে পলাশের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত খায়রুল ইসলাম পলাশ নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে—চার বছর বয়সী জায়ান ও দুই মাস বয়সী রুকাইয়া।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পুলিশ ইসরাত জাহান লিজাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় লিজার কোলে দুই মাস বয়সী রুকাইয়া ও পাশে চার বছর বয়সী জায়ানকে দেখা যায়।
এ ঘটনায় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজাকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনের বিরুদ্ধে কাঠালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন পলাশের চাচাতো ভাই মিরাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কাঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ আউড়া গ্রামে পলাশের শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত খায়রুল ইসলাম পলাশ পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। তার গ্রামের বাড়ি নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে। কিছুদিন আগে দ্বিতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজাকে নিয়ে কাঠালিয়া উপজেলা সদরের দক্ষিণ আউড়া গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফার্মেসিও চালু করেন তিনি।
অনেক দিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্বামী পলাশকে না জানিয়ে স্ত্রী লিজা যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি ঋণ গ্রহণ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার লিজা ও পলাশের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে লিজা প্রথমে হাতুড়ি এবং পরে শাবল দিয়ে পলাশকে গুরুতর জখম করেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহ আলম সাংবাদিকদের জানান, ইসরাত জাহান লিজাকে গ্রেপ্তার করে ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার সঙ্গে দুটি অবুঝ কন্যাসন্তান রয়েছে। তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতা ও চেঁচরীরামপুর এমএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান।
গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ সংগঠনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।
কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান জানান, উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ঝালকাঠির ৫৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৫টিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। এর পাশাপাশি জেলায় সহকারী শিক্ষকের ২৮৭টি পদও শূন্য রয়েছে। ফলে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৯৫ জন। বাকি ১২৫টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে, ঝালকাঠি সদরের ১৬২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫১টিতে, নলছিটির ১৬৭টির মধ্যে ৫৭টিতে, রাজাপুরের ১২৪টির মধ্যে ৪২টিতে এবং কাঁঠালিয়ার ১৩২টির মধ্যে ৪৫টিতে প্রধান শিক্ষক নেই।
জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ৫৭ হাজার ২৮০ জন। এর মধ্যে ছেলে ২৬ হাজার ৮৫৪ এবং মেয়ে ৩০ হাজার ৫২৬ জন।
প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক সংকটও প্রকট। জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৩ হাজার ৩টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ২ হাজার ৭১৬ জন এবং চলতি দায়িত্বে রয়েছেন ১২৫ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ২৮৭টি পদ।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে, ঝালকাঠি সদরে সহকারী শিক্ষকের ৩২টি, নলছিটিতে ৬৬টি, রাজাপুরে ১১৭টি এবং কাঁঠালিয়ায় ৭২টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক দুই ধরনের সংকটই দেখা দিয়েছে।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা তদারকি এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৯১ নম্বর দেরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, দুই বছর ধরে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ে তাকে নিয়ে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
কাঁঠালিয়া উপজেলার ৪৪ নম্বর কাঁঠালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান বলেন, দেড় বছর ধরে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৩০১ জন। সহকারী শিক্ষকের দায়িত্বের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঝালকাঠি জেলার সাধারণ সম্পাদক ও টিআইবির সনাক সদস্য ইসমাঈল মুসাফির বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষক পদ শূন্য থাকলে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করারও প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে শুধু বিদ্যালয় পর্যায়েই নয়, প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের প্রশাসনেও জনবল সংকট রয়েছে। জেলার চার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ২৬টি পদের মধ্যে ১২টি এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ১১টি পদের মধ্যে ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার বলেন, প্রধান শিক্ষকের সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সরকারের ওপর নির্ভরশীল। নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত না হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন। তাই ঝালকাঠির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করে শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল।
ঝালকাঠির ৫৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৫টিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। এর পাশাপাশি জেলায় সহকারী শিক্ষকের ২৮৭টি পদও শূন্য রয়েছে। ফলে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৯৫ জন। বাকি ১২৫টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে, ঝালকাঠি সদরের ১৬২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫১টিতে, নলছিটির ১৬৭টির মধ্যে ৫৭টিতে, রাজাপুরের ১২৪টির মধ্যে ৪২টিতে এবং কাঁঠালিয়ার ১৩২টির মধ্যে ৪৫টিতে প্রধান শিক্ষক নেই।
জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ৫৭ হাজার ২৮০ জন। এর মধ্যে ছেলে ২৬ হাজার ৮৫৪ এবং মেয়ে ৩০ হাজার ৫২৬ জন।
প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক সংকটও প্রকট। জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৩ হাজার ৩টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ২ হাজার ৭১৬ জন এবং চলতি দায়িত্বে রয়েছেন ১২৫ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ২৮৭টি পদ।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে, ঝালকাঠি সদরে সহকারী শিক্ষকের ৩২টি, নলছিটিতে ৬৬টি, রাজাপুরে ১১৭টি এবং কাঁঠালিয়ায় ৭২টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক দুই ধরনের সংকটই দেখা দিয়েছে।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা তদারকি এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৯১ নম্বর দেরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, দুই বছর ধরে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ে তাকে নিয়ে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
কাঁঠালিয়া উপজেলার ৪৪ নম্বর কাঁঠালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান বলেন, দেড় বছর ধরে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৩০১ জন। সহকারী শিক্ষকের দায়িত্বের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঝালকাঠি জেলার সাধারণ সম্পাদক ও টিআইবির সনাক সদস্য ইসমাঈল মুসাফির বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষক পদ শূন্য থাকলে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করারও প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে শুধু বিদ্যালয় পর্যায়েই নয়, প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের প্রশাসনেও জনবল সংকট রয়েছে। জেলার চার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ২৬টি পদের মধ্যে ১২টি এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ১১টি পদের মধ্যে ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার বলেন, প্রধান শিক্ষকের সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সরকারের ওপর নির্ভরশীল। নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত না হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন। তাই ঝালকাঠির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করে শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৪