
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১৮:২৫
পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে। আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তাঁদের বদলির কথা জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বগুড়ার এসপি মো. শাহাদাত হোসেনকে এপিবিএনে (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন), খাগড়াছড়ির এসপি মির্জা সায়েম মাহমুদকে বগুড়ায় এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার মো. মোস্তাক সরকারকে খাগড়াছড়ি জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলার এসপি মো. মিজানুর রহমানকে নোয়াখালীর পিটিসিতে (পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) এবং ডিএমপির উপকমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এ ছাড়া সিলেটের এসপি কাজী আখতার উল আলমকে এপিবিএনে, জামালপুরের এসপি চৌধুরী মো. যাবের সাদেককে সিলেট জেলায়, ডিএমপির উপকমিশনার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনকে জামালপুর জেলায়, বরিশালের পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামকে নৌ পুলিশে এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানকে বরিশাল জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলমকে ট্যুরিস্ট পুলিশ ঢাকায়, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে এবং এপিবিএন-৫-এর (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) অধিনায়ক মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদকে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে বদলি করা হয়।’
পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে। আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তাঁদের বদলির কথা জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বগুড়ার এসপি মো. শাহাদাত হোসেনকে এপিবিএনে (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন), খাগড়াছড়ির এসপি মির্জা সায়েম মাহমুদকে বগুড়ায় এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার মো. মোস্তাক সরকারকে খাগড়াছড়ি জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলার এসপি মো. মিজানুর রহমানকে নোয়াখালীর পিটিসিতে (পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) এবং ডিএমপির উপকমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এ ছাড়া সিলেটের এসপি কাজী আখতার উল আলমকে এপিবিএনে, জামালপুরের এসপি চৌধুরী মো. যাবের সাদেককে সিলেট জেলায়, ডিএমপির উপকমিশনার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনকে জামালপুর জেলায়, বরিশালের পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামকে নৌ পুলিশে এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানকে বরিশাল জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলমকে ট্যুরিস্ট পুলিশ ঢাকায়, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে এবং এপিবিএন-৫-এর (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) অধিনায়ক মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদকে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে বদলি করা হয়।’

০৬ মে, ২০২৬ ১৩:৫৩
ভালো জীবনের আশায় লিবিয়ায় পাড়ি জমানো বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার এক যুবক এখন মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি। দুই মাস ধরে নির্যাতনের শিকার এই যুবকের নাম আসাদুল বক্তিয়ার।
পরিবার জানায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের চাত্রিশিরা গ্রামের আবু বক্তিয়ারের ছেলে আসাদুল ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর ভিজিট ভিসায় আত্মীয়ের মাধ্যমে লিবিয়ায় যান। সেখানে একটি দোকানে টেইলারিং কাজ করে মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা দেশে পাঠাতেন।
গত রমজানের ৯ তারিখ ভোরে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র চক্র তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে একটি অজ্ঞাতস্থানে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করা হচ্ছে বলে আসাদুলের পরিবার অভিযোগ করেন।
পরিবারের সদস্যদের কাছে ভিডিও কলের মাধ্যমে আসাদুলের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ধারদেনা করে ৪ লাখ টাকা পাঠানো হলেও বাকি টাকা দুই দিনের মধ্যে না দিলে তাকে হত্যা করে মরুভূমিতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে অপহরণকারীরা।
লিবিয়ায় থাকা তার শ্যালক বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানালে তাকেও হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণে তিনি দেশে ফিরে এসে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এরপর থেকে আসাদুলের ওপর নির্যাতন আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
আসাদুলের বাবা আবু বক্তিয়ার বলেন, ভিডিও ফোনে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ধারদেনা করে ৪ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে।
বাকি টাকা দুই দিনের মধ্যে না দিলে আসাদুলকে হত্যা করে মরদেহ ৪ টুকরা করে মরুভূমিতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে অপহরণকারীরা।
আমরা গরিব মানুষ। এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব না। আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চাই। মা বকুল বেগম ও স্ত্রী নিপা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমের দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, দুই মাস ধরে তারা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, বিষয়টি লিখিত আকারে জানানো হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভালো জীবনের আশায় লিবিয়ায় পাড়ি জমানো বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার এক যুবক এখন মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি। দুই মাস ধরে নির্যাতনের শিকার এই যুবকের নাম আসাদুল বক্তিয়ার।
পরিবার জানায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের চাত্রিশিরা গ্রামের আবু বক্তিয়ারের ছেলে আসাদুল ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর ভিজিট ভিসায় আত্মীয়ের মাধ্যমে লিবিয়ায় যান। সেখানে একটি দোকানে টেইলারিং কাজ করে মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা দেশে পাঠাতেন।
গত রমজানের ৯ তারিখ ভোরে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র চক্র তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে একটি অজ্ঞাতস্থানে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করা হচ্ছে বলে আসাদুলের পরিবার অভিযোগ করেন।
পরিবারের সদস্যদের কাছে ভিডিও কলের মাধ্যমে আসাদুলের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ধারদেনা করে ৪ লাখ টাকা পাঠানো হলেও বাকি টাকা দুই দিনের মধ্যে না দিলে তাকে হত্যা করে মরুভূমিতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে অপহরণকারীরা।
লিবিয়ায় থাকা তার শ্যালক বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানালে তাকেও হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণে তিনি দেশে ফিরে এসে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এরপর থেকে আসাদুলের ওপর নির্যাতন আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
আসাদুলের বাবা আবু বক্তিয়ার বলেন, ভিডিও ফোনে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ধারদেনা করে ৪ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে।
বাকি টাকা দুই দিনের মধ্যে না দিলে আসাদুলকে হত্যা করে মরদেহ ৪ টুকরা করে মরুভূমিতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে অপহরণকারীরা।
আমরা গরিব মানুষ। এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব না। আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চাই। মা বকুল বেগম ও স্ত্রী নিপা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমের দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, দুই মাস ধরে তারা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, বিষয়টি লিখিত আকারে জানানো হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

০৬ মে, ২০২৬ ১৩:৩৯
বরিশালে অভিযান চালিয়ে নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯৮৩ অ্যাম্পুল নেশাজাতীয় ইনজেকশন।
মঙ্গলবার (০৫ মে) সন্ধ্যায় নগরীর ফরেস্টারবাড়ি রোড এলাকার বাদামতলা এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন ওই নগরীর বগুড়া রোড মুন্সী গ্যারেজ পীর সাহেবের বাড়ির বাসিন্দা মতিউর রহমানের ছেলে হানিফুর রহমান হৃদয় রিদু (৩২) ও তার স্ত্রী ফাবিহা মিনহা রেখা (২৬)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক তানভীর হোসেন খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদককারবারি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে নেশাজাতীয় ইনজেকশন ১০৩ অ্যাম্পুল জি-মরফিন, ১৫৫ অ্যাম্পুল ডায়াজিয়াম বা ইজিয়াম, ৪৫ অ্যাম্পুল সিভিল এবং ২৪০ অ্যাম্পুল ফ্যানারেক্স জব্দ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুজনকে থানায় হস্তান্তর করেছি।
বরিশালে অভিযান চালিয়ে নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯৮৩ অ্যাম্পুল নেশাজাতীয় ইনজেকশন।
মঙ্গলবার (০৫ মে) সন্ধ্যায় নগরীর ফরেস্টারবাড়ি রোড এলাকার বাদামতলা এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন ওই নগরীর বগুড়া রোড মুন্সী গ্যারেজ পীর সাহেবের বাড়ির বাসিন্দা মতিউর রহমানের ছেলে হানিফুর রহমান হৃদয় রিদু (৩২) ও তার স্ত্রী ফাবিহা মিনহা রেখা (২৬)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক তানভীর হোসেন খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদককারবারি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে নেশাজাতীয় ইনজেকশন ১০৩ অ্যাম্পুল জি-মরফিন, ১৫৫ অ্যাম্পুল ডায়াজিয়াম বা ইজিয়াম, ৪৫ অ্যাম্পুল সিভিল এবং ২৪০ অ্যাম্পুল ফ্যানারেক্স জব্দ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুজনকে থানায় হস্তান্তর করেছি।

০৬ মে, ২০২৬ ০৩:১৫
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ইতিহাস মানেই বিশাল সব জলযানের রাজত্ব। আজকের দিনে আমরা যখন এমভি মানামী, অ্যাডভেঞ্চার বা সুরভী-এর মতো দানবীয় ও আধুনিক লঞ্চ দেখি, তখন প্রবীণ যাত্রী ও নৌ-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে একটি নাম— ‘সামাদ’। এক সময় এই রুটে ‘সামাদ’ ছিল আভিজাত্য, গতি এবং নির্ভরতার সমার্থক। আধুনিক লঞ্চের ভিড়ে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী সামাদ লঞ্চের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
গৌরবোজ্জ্বল পথচলা
আশি ও নব্বইয়ের দশকে যখন ঢাকা-বরিশাল রুটে আজকের মতো শত শত কেবিন সমৃদ্ধ লঞ্চ ছিল না, তখন সামাদ লঞ্চ ছিল যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে এর গঠনশৈলী এবং নদীতে চলার সময় এর রাজকীয় ভঙ্গিমা মানুষকে মুগ্ধ করত। সেই সময় এই লঞ্চটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক প্রকার গর্বের বিষয়। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই লঞ্চের কেবিন পাওয়া ছিল রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার।
নকশা ও ঐতিহ্যের মিশেল
পুরনো লঞ্চগুলোর মধ্যে সামাদ-এর বিশেষত্ব ছিল এর মজবুত কাঠামো এবং কাঠের নিখুঁত কারুকাজ। আজকের লঞ্চগুলোতে স্টিল আর কাঁচের আধিক্য থাকলেও, সামাদ লঞ্চের অন্দরসজ্জায় ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। বড় বড় কাঠের জানালা, প্রশস্ত ডেক এবং মাঝ বরাবর চলে যাওয়া গলিগুলো আজও প্রবীণদের নস্টালজিক করে তোলে। লঞ্চটির সার্চলাইট যখন রাতের আঁধারে মেঘনার বুকে আছড়ে পড়ত, তীরের মানুষ বুঝত— ‘সামাদ’ যাচ্ছে।
যাত্রীদের গভীর আবেগ
বরিশাল-ঢাকা রুটের নিয়মিত যাত্রীদের কাছে সামাদ কেবল একটি নৌযান ছিল না, বরং ছিল যাতায়াতের এক নিরাপদ আশ্রয়। লঞ্চের মাস্টার থেকে শুরু করে সারেং ও সুকানিদের সাথে যাত্রীদের গড়ে উঠত এক নিবিড় সম্পর্ক। এই লঞ্চের ডাইনিং বা ক্যান্টিনের রান্নার স্বাদও ছিল লোকমুখে প্রচলিত। নদীর টাটকা ইলিশ আর ঘন ডাল দিয়ে রাতের ডিনার সেরে ডেকের ওপর চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকার যে আনন্দ, তা আজকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে অনেক যাত্রীই খুঁজে পান না।
কালের বিবর্তনে প্রস্থান
সময়ের সাথে সাথে নৌ-প্রকৌশল বিদ্যায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নতুন নতুন স্টিল বডি ও ডাবল ডেকার-ট্রিপল ডেকার লঞ্চের ভিড়ে পুরনো কাঠের অবকাঠামোর লঞ্চগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। নাব্য সংকট, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে এক সময় ঐতিহ্যের সামাদ লঞ্চটি এই রুট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। যদিও সামাদ নামধারী বিভিন্ন নৌযান পরবর্তী সময়ে এসেছে, কিন্তু সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘সামাদ’ আজও মানুষের স্মৃতির পাতায় এক সোনালী অধ্যায় হয়ে আছে।
স্মৃতিতে অম্লান ঐতিহ্য
বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো এর চেয়েও দশগুণ বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু বরিশালের প্রবীণ মানুষরা যখন আজও স্টিমার ঘাটে দাঁড়ান, তখন তারা সেই পুরনো ভোঁ-র শব্দ আর কাঠের কাঠামোর সামাদ লঞ্চটিকে মিস করেন। এটি কেবল একটি পরিবহন ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিনিধি।
নৌপথের আধুনিকায়ন অবশ্যই কাম্য, তবে সামাদের মতো যেসব লঞ্চ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাদের ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বরিশালের নৌ-সংস্কৃতিতে ‘সামাদ’ লঞ্চটি তাই কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অবিনাশী ঐতিহ্য হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ইতিহাস মানেই বিশাল সব জলযানের রাজত্ব। আজকের দিনে আমরা যখন এমভি মানামী, অ্যাডভেঞ্চার বা সুরভী-এর মতো দানবীয় ও আধুনিক লঞ্চ দেখি, তখন প্রবীণ যাত্রী ও নৌ-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে একটি নাম— ‘সামাদ’। এক সময় এই রুটে ‘সামাদ’ ছিল আভিজাত্য, গতি এবং নির্ভরতার সমার্থক। আধুনিক লঞ্চের ভিড়ে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী সামাদ লঞ্চের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
গৌরবোজ্জ্বল পথচলা
আশি ও নব্বইয়ের দশকে যখন ঢাকা-বরিশাল রুটে আজকের মতো শত শত কেবিন সমৃদ্ধ লঞ্চ ছিল না, তখন সামাদ লঞ্চ ছিল যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে এর গঠনশৈলী এবং নদীতে চলার সময় এর রাজকীয় ভঙ্গিমা মানুষকে মুগ্ধ করত। সেই সময় এই লঞ্চটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক প্রকার গর্বের বিষয়। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই লঞ্চের কেবিন পাওয়া ছিল রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার।
নকশা ও ঐতিহ্যের মিশেল
পুরনো লঞ্চগুলোর মধ্যে সামাদ-এর বিশেষত্ব ছিল এর মজবুত কাঠামো এবং কাঠের নিখুঁত কারুকাজ। আজকের লঞ্চগুলোতে স্টিল আর কাঁচের আধিক্য থাকলেও, সামাদ লঞ্চের অন্দরসজ্জায় ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। বড় বড় কাঠের জানালা, প্রশস্ত ডেক এবং মাঝ বরাবর চলে যাওয়া গলিগুলো আজও প্রবীণদের নস্টালজিক করে তোলে। লঞ্চটির সার্চলাইট যখন রাতের আঁধারে মেঘনার বুকে আছড়ে পড়ত, তীরের মানুষ বুঝত— ‘সামাদ’ যাচ্ছে।
যাত্রীদের গভীর আবেগ
বরিশাল-ঢাকা রুটের নিয়মিত যাত্রীদের কাছে সামাদ কেবল একটি নৌযান ছিল না, বরং ছিল যাতায়াতের এক নিরাপদ আশ্রয়। লঞ্চের মাস্টার থেকে শুরু করে সারেং ও সুকানিদের সাথে যাত্রীদের গড়ে উঠত এক নিবিড় সম্পর্ক। এই লঞ্চের ডাইনিং বা ক্যান্টিনের রান্নার স্বাদও ছিল লোকমুখে প্রচলিত। নদীর টাটকা ইলিশ আর ঘন ডাল দিয়ে রাতের ডিনার সেরে ডেকের ওপর চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকার যে আনন্দ, তা আজকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে অনেক যাত্রীই খুঁজে পান না।
কালের বিবর্তনে প্রস্থান
সময়ের সাথে সাথে নৌ-প্রকৌশল বিদ্যায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নতুন নতুন স্টিল বডি ও ডাবল ডেকার-ট্রিপল ডেকার লঞ্চের ভিড়ে পুরনো কাঠের অবকাঠামোর লঞ্চগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। নাব্য সংকট, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে এক সময় ঐতিহ্যের সামাদ লঞ্চটি এই রুট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। যদিও সামাদ নামধারী বিভিন্ন নৌযান পরবর্তী সময়ে এসেছে, কিন্তু সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘সামাদ’ আজও মানুষের স্মৃতির পাতায় এক সোনালী অধ্যায় হয়ে আছে।
স্মৃতিতে অম্লান ঐতিহ্য
বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো এর চেয়েও দশগুণ বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু বরিশালের প্রবীণ মানুষরা যখন আজও স্টিমার ঘাটে দাঁড়ান, তখন তারা সেই পুরনো ভোঁ-র শব্দ আর কাঠের কাঠামোর সামাদ লঞ্চটিকে মিস করেন। এটি কেবল একটি পরিবহন ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিনিধি।
নৌপথের আধুনিকায়ন অবশ্যই কাম্য, তবে সামাদের মতো যেসব লঞ্চ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাদের ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বরিশালের নৌ-সংস্কৃতিতে ‘সামাদ’ লঞ্চটি তাই কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অবিনাশী ঐতিহ্য হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.