
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:১৬
সরকারি নথিতে রাস্তার কাজ শেষ, কিন্তু বাস্তবে সেখানে মাটির একটা কোদালও পড়েনি। মেম্বারের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে তোলা হয়েছে বরাদ্দের টাকা। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে দুর্নীতির এমন এক ‘মায়াজাল’ বুনেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে জালিয়াতি আর অর্থ আত্মসাতের এই রোমহর্ষক চিত্র। নড়েচড়ে বসেন যে সকল ইউপি সদস্যদের নাম ভাঙিয়ে, স্বাক্ষর জাল করে অভিনব পন্থায় অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে তাঁরা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) জনাব জুয়েল রানা মির্জাগঞ্জের দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে আসলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। জুয়েল রানা উপস্থিত ইউপি সদস্যদের প্রকল্পের কথা জিজ্ঞেস করলে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ার অবস্থা হয় তাদের।
পরিষদের আওতাধীন এই সকল স্কীমের জন্য যে এলাকায় কাজ, সেই ওয়ার্ডের মেম্বার ‘সভাপতি’, থাকেন। অথচ এই প্রজেক্টের জন্য নথিতে তাদের সভাপতি দেখানো হলে তাঁরা যে সভাপতি তা জানেনই না।
৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ জানান,তার নামে হাট-বাজার কোটার ১ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প উত্তর রানীপুর রমজান হাওলাদার বাড়ির রাস্তা বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে, যার সভাপতি তিনি। অথচ তিনি জানেনইনা,এখানে প্রকল্প হয়েছে এবং সেটা তাঁর নামে।
আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিডিএলজি স্যার আমাকে প্রকল্পের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আমি উপস্থিত সবার সামনেই এই প্রজেক্টের ব্যাপারে কিছু জানিনা সাথে সাথে জানাই। তিনি আরো বলেন, "আমি স্যারের কাছে বলি এখানে কাজ হলো কবে এবং কে করেছে। এই প্রকল্প বাবদ আমি তো কোন টাকা পাইনি। তাহলে আমার নাম দেখানো হলো কেন।" তিনি দাবি করেন,"রেজিস্ট্রারে তাঁর স্বাক্ষর মুনসুর হেলাল জাল করেছেন।"
আবুল কালাম আজাদের কথা অনুযায়ী রমজান হাওলাদার বাড়ি রাস্তায় দেখা যায় মাটির কাজ করা হয়েছে। তবে রমজান হাওলাদার জানান, "মাটির কাজ তিনি নিজ খরচে করেছেন,কোনো সরকারি তরফে নয়।" স্থানীয়দের সাথেও কথা বলে জানা যায়, মেম্বার আবুল কালাম আজাদ ও রমজান হাওলাদার সঠিক বলছেন।
৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম সোহাগ। তার নামে ২ লক্ষ টাকার প্রকল্প দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না ডিডিএলজিকে জানিয়ে দেন।
কামরুল ইসলাম সোহাগের নামে যে প্রকল্প দেখানো হয়ছে সেই কাজ আসলে টিআর প্রকল্পের টাকায় অনেক আগেই করে রেখেছেন মহিলা মেম্বার নাসিমা বেগম।
এবিষয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য নাসিমা বেগম জানান,পিআইও থেকে দেউলী বাবুল সিকদারের বাড়ির থেকে লেমুয়া ওয়াপদা পর্যন্ত সড়কে কাজ করার জন্য ১ লক্ষ টাকা আমাকে বরাদ্দ দেয়। সে অনুযায়ী আমি কাজ করি।
তিনি আরও জানান,একই রাস্তা আমাকে পিআইও থেকে দেখানো হয়ছে বাবুল সিকদারের বাড়ির রাস্তা আবার সোহাগ মেম্বারকে দেখানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান সড়ক নামে। কিন্তু ইউপি বরাদ্দ থেকে আদৌ কোনো কাজ করা হয়নি। কামরুল ইসলাম সোহাগ ও নাসিমা বেগমের দাবি, এই প্রকল্পের অর্থ মুনসুর হেলাল সরকারি তহবিল থেকে তুলে নিয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়, সোহাগ মেম্বারের নামে কাবিটা প্রকল্পের ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার প্রকল্পের অর্ধেক অর্থাৎ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকাও গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে এই সচিবের বিরুদ্ধে।
সোহাগ মেম্বার আরো বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের পিআইও অফিস হতে কাবিটা প্রকল্প হতে মােট ২৮০০০০ (দুই লক্ষ আশি হাজার ) টাকার একটি স্কীম বাস্তাবায়ন করি।
স্কীমের নাম ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাহজাহান সড়ক হতে মােসলেম মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত ইট সলিং করা। বরাদ্দের অর্ধেক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আমার একাউন্টে জমা হলে আমি স্কীমের কাজ সমাপ্ত করি। বাকি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিলের কাগজ মুনসুর হেলাল নিয়ে যান। যে টাকা আমার একাউন্টে জমা হয়নি- আজ পর্যন্ত আমি হাতে পাইনি । মুনসুর হেলাল কিভাবে টাকা উত্তোলন করলেন কারা সহযোগিতা করলেন এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি।
৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মো.সোবাহানের কাছেও ২ লাখ টাকার একটি স্কিমের কথা জানান কর্মকর্তা জুয়েল রানা। কর্মকর্তার সামনে একই অভিযোগ করেন সোবাহান মেম্বার। তিনিও দাবি করেন,এ প্রজেক্টের কথা তিনি জানেন না বা তাঁর কাছে কোন টাকা আসেনি। এমনকি তিনি বলে দিয়েছেন সে সকল স্থানে কোন কাজও হয়নি।
সোবাহান মেম্বার তাঁর নামের সিল দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন,"সচিব মুনসুর হেলাল আমার সই জাল করেছেন এবং আমার সিলের চেয়ে বড় সাইজের একটি ভুয়া সিল বানিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন।"
ডিডিএলজির জিজ্ঞাসা মতে যে রাস্তার বিল তোলা হয়েছে এই স্কীমের ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, এই রাস্তায় সর্বশেষ কাজ হয়েছিল ২০০৩-০৪ সালে সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক আলী মুন্সীর আমলে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি।
আরো একজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মােসা: রীনা বেগম জানান, ডিডিএলজি স্যারের পরিদর্শন কালে আমি জানতে পারি আমর নামে হাট- বাজারের বরাদ্দ হতে ২ লাখ টাকা করে ২টি স্কীম মোট ৪ লাখ টাকা বাস্তবায়ন হয়েছে। এই স্কীম সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুনসুর হেলাল আমার স্বাক্ষর নিয়ে নেছেন। আমার একাউন্টে ঐ টাকা আসেনি অথবা নগদ কোন টাকা প্রদান করেনি। ওই টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য স্থানীয়রা জানান, ডিডিএলজি জুয়েল রানা হাতেনাতে সরাসরি এতসব গুরুতর আত্মসাতের পাহাড় এবং জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও অভিযুক্ত মুনসুর হেলাল বর্তমানে মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৮ মার্চ "জেলের চালে ‘প্রবাসী’ ও ‘ভুতুড়ে’ নাম মুনসুর হেলালের দুর্নীতির থাবা থেকে বাদ যায়নি জেলেদের বরাদ্দকৃত চালও।"
এই শিরোনামে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু সবকিছু ম্যানেজ করে চালাচ্ছেন তিনি। তার চোখে-মুখে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী জনপ্রনিধিরা এই ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ মুনসুর হেলালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান,মুনসুর হেলাল একজন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর। কাউকে সম্মান দেন না এমনকি তোয়াক্কা করেন না। সরকারি সেবা গ্রহীতারা তাঁর কাছ থেকে নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হন। আরও বলেন,যত দুর্নীতি করুক আর মুনসুর হেলালকে কেউ কিছু করতে পারবেন না। কারণ তার সঙ্গে বড় বড় রাঘব বোয়াল রয়েছেন। যারা নেপথে কল কাঠি নাড়েন এবং তাঁর একজন আত্মীয় মুক্তিযোদ্ধা। তিনি যে কোন কাজের জন্য সচিবালায় পর্যন্ত পৌঁছেন। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয়রা আরও জানান, ওই মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটের বিপরীতে মামলা রয়েছে। তিনি নাকি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল তার ওপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, "চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো বিল তোলা সম্ভব নয়। আমি একা কিছু করিনি।" তবে তিনি ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি বা প্রকল্পের অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে ডিডিএলজি জুয়েল রানা জানান, "আমার পরিদর্শনে বেশ কিছু এলোমেলো মনে হয়েছে। উত্তরগুলো (মুনসুর হেলালের) ভালো পাইনি। আমি আমার প্রতিবেদনে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করব যাতে সাইট ভিজিট করে নিশ্চিত হওয়া যায়।"
আমার কাছে সমস্যা সম্পূর্ণই মনে হয়েছে এবং কারণ অ্যানসার গুলো ভালো পাইনি। তো এজন্য যেহেতু আমি জাস্ট একটা ভিজিট করতে গিয়েছি... আমার বক্তব্য এইটাই।"
সরকারি নথিতে রাস্তার কাজ শেষ, কিন্তু বাস্তবে সেখানে মাটির একটা কোদালও পড়েনি। মেম্বারের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে তোলা হয়েছে বরাদ্দের টাকা। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে দুর্নীতির এমন এক ‘মায়াজাল’ বুনেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে জালিয়াতি আর অর্থ আত্মসাতের এই রোমহর্ষক চিত্র। নড়েচড়ে বসেন যে সকল ইউপি সদস্যদের নাম ভাঙিয়ে, স্বাক্ষর জাল করে অভিনব পন্থায় অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে তাঁরা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) জনাব জুয়েল রানা মির্জাগঞ্জের দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে আসলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। জুয়েল রানা উপস্থিত ইউপি সদস্যদের প্রকল্পের কথা জিজ্ঞেস করলে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ার অবস্থা হয় তাদের।
পরিষদের আওতাধীন এই সকল স্কীমের জন্য যে এলাকায় কাজ, সেই ওয়ার্ডের মেম্বার ‘সভাপতি’, থাকেন। অথচ এই প্রজেক্টের জন্য নথিতে তাদের সভাপতি দেখানো হলে তাঁরা যে সভাপতি তা জানেনই না।
৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ জানান,তার নামে হাট-বাজার কোটার ১ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প উত্তর রানীপুর রমজান হাওলাদার বাড়ির রাস্তা বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে, যার সভাপতি তিনি। অথচ তিনি জানেনইনা,এখানে প্রকল্প হয়েছে এবং সেটা তাঁর নামে।
আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিডিএলজি স্যার আমাকে প্রকল্পের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আমি উপস্থিত সবার সামনেই এই প্রজেক্টের ব্যাপারে কিছু জানিনা সাথে সাথে জানাই। তিনি আরো বলেন, "আমি স্যারের কাছে বলি এখানে কাজ হলো কবে এবং কে করেছে। এই প্রকল্প বাবদ আমি তো কোন টাকা পাইনি। তাহলে আমার নাম দেখানো হলো কেন।" তিনি দাবি করেন,"রেজিস্ট্রারে তাঁর স্বাক্ষর মুনসুর হেলাল জাল করেছেন।"
আবুল কালাম আজাদের কথা অনুযায়ী রমজান হাওলাদার বাড়ি রাস্তায় দেখা যায় মাটির কাজ করা হয়েছে। তবে রমজান হাওলাদার জানান, "মাটির কাজ তিনি নিজ খরচে করেছেন,কোনো সরকারি তরফে নয়।" স্থানীয়দের সাথেও কথা বলে জানা যায়, মেম্বার আবুল কালাম আজাদ ও রমজান হাওলাদার সঠিক বলছেন।
৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম সোহাগ। তার নামে ২ লক্ষ টাকার প্রকল্প দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না ডিডিএলজিকে জানিয়ে দেন।
কামরুল ইসলাম সোহাগের নামে যে প্রকল্প দেখানো হয়ছে সেই কাজ আসলে টিআর প্রকল্পের টাকায় অনেক আগেই করে রেখেছেন মহিলা মেম্বার নাসিমা বেগম।
এবিষয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য নাসিমা বেগম জানান,পিআইও থেকে দেউলী বাবুল সিকদারের বাড়ির থেকে লেমুয়া ওয়াপদা পর্যন্ত সড়কে কাজ করার জন্য ১ লক্ষ টাকা আমাকে বরাদ্দ দেয়। সে অনুযায়ী আমি কাজ করি।
তিনি আরও জানান,একই রাস্তা আমাকে পিআইও থেকে দেখানো হয়ছে বাবুল সিকদারের বাড়ির রাস্তা আবার সোহাগ মেম্বারকে দেখানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান সড়ক নামে। কিন্তু ইউপি বরাদ্দ থেকে আদৌ কোনো কাজ করা হয়নি। কামরুল ইসলাম সোহাগ ও নাসিমা বেগমের দাবি, এই প্রকল্পের অর্থ মুনসুর হেলাল সরকারি তহবিল থেকে তুলে নিয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়, সোহাগ মেম্বারের নামে কাবিটা প্রকল্পের ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার প্রকল্পের অর্ধেক অর্থাৎ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকাও গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে এই সচিবের বিরুদ্ধে।
সোহাগ মেম্বার আরো বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের পিআইও অফিস হতে কাবিটা প্রকল্প হতে মােট ২৮০০০০ (দুই লক্ষ আশি হাজার ) টাকার একটি স্কীম বাস্তাবায়ন করি।
স্কীমের নাম ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাহজাহান সড়ক হতে মােসলেম মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত ইট সলিং করা। বরাদ্দের অর্ধেক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আমার একাউন্টে জমা হলে আমি স্কীমের কাজ সমাপ্ত করি। বাকি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিলের কাগজ মুনসুর হেলাল নিয়ে যান। যে টাকা আমার একাউন্টে জমা হয়নি- আজ পর্যন্ত আমি হাতে পাইনি । মুনসুর হেলাল কিভাবে টাকা উত্তোলন করলেন কারা সহযোগিতা করলেন এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি।
৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মো.সোবাহানের কাছেও ২ লাখ টাকার একটি স্কিমের কথা জানান কর্মকর্তা জুয়েল রানা। কর্মকর্তার সামনে একই অভিযোগ করেন সোবাহান মেম্বার। তিনিও দাবি করেন,এ প্রজেক্টের কথা তিনি জানেন না বা তাঁর কাছে কোন টাকা আসেনি। এমনকি তিনি বলে দিয়েছেন সে সকল স্থানে কোন কাজও হয়নি।
সোবাহান মেম্বার তাঁর নামের সিল দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন,"সচিব মুনসুর হেলাল আমার সই জাল করেছেন এবং আমার সিলের চেয়ে বড় সাইজের একটি ভুয়া সিল বানিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন।"
ডিডিএলজির জিজ্ঞাসা মতে যে রাস্তার বিল তোলা হয়েছে এই স্কীমের ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, এই রাস্তায় সর্বশেষ কাজ হয়েছিল ২০০৩-০৪ সালে সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক আলী মুন্সীর আমলে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি।
আরো একজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মােসা: রীনা বেগম জানান, ডিডিএলজি স্যারের পরিদর্শন কালে আমি জানতে পারি আমর নামে হাট- বাজারের বরাদ্দ হতে ২ লাখ টাকা করে ২টি স্কীম মোট ৪ লাখ টাকা বাস্তবায়ন হয়েছে। এই স্কীম সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুনসুর হেলাল আমার স্বাক্ষর নিয়ে নেছেন। আমার একাউন্টে ঐ টাকা আসেনি অথবা নগদ কোন টাকা প্রদান করেনি। ওই টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য স্থানীয়রা জানান, ডিডিএলজি জুয়েল রানা হাতেনাতে সরাসরি এতসব গুরুতর আত্মসাতের পাহাড় এবং জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও অভিযুক্ত মুনসুর হেলাল বর্তমানে মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৮ মার্চ "জেলের চালে ‘প্রবাসী’ ও ‘ভুতুড়ে’ নাম মুনসুর হেলালের দুর্নীতির থাবা থেকে বাদ যায়নি জেলেদের বরাদ্দকৃত চালও।"
এই শিরোনামে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু সবকিছু ম্যানেজ করে চালাচ্ছেন তিনি। তার চোখে-মুখে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী জনপ্রনিধিরা এই ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ মুনসুর হেলালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান,মুনসুর হেলাল একজন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর। কাউকে সম্মান দেন না এমনকি তোয়াক্কা করেন না। সরকারি সেবা গ্রহীতারা তাঁর কাছ থেকে নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হন। আরও বলেন,যত দুর্নীতি করুক আর মুনসুর হেলালকে কেউ কিছু করতে পারবেন না। কারণ তার সঙ্গে বড় বড় রাঘব বোয়াল রয়েছেন। যারা নেপথে কল কাঠি নাড়েন এবং তাঁর একজন আত্মীয় মুক্তিযোদ্ধা। তিনি যে কোন কাজের জন্য সচিবালায় পর্যন্ত পৌঁছেন। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয়রা আরও জানান, ওই মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটের বিপরীতে মামলা রয়েছে। তিনি নাকি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মুনসুর হেলাল তার ওপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, "চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো বিল তোলা সম্ভব নয়। আমি একা কিছু করিনি।" তবে তিনি ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি বা প্রকল্পের অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে ডিডিএলজি জুয়েল রানা জানান, "আমার পরিদর্শনে বেশ কিছু এলোমেলো মনে হয়েছে। উত্তরগুলো (মুনসুর হেলালের) ভালো পাইনি। আমি আমার প্রতিবেদনে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করব যাতে সাইট ভিজিট করে নিশ্চিত হওয়া যায়।"
আমার কাছে সমস্যা সম্পূর্ণই মনে হয়েছে এবং কারণ অ্যানসার গুলো ভালো পাইনি। তো এজন্য যেহেতু আমি জাস্ট একটা ভিজিট করতে গিয়েছি... আমার বক্তব্য এইটাই।"

১৫ জুন, ২০২৬ ১৯:০০
গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ প্যাদাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (১৪ জুন) রাতে পুলিশের একটি টিম গলাচিপা পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসা থেকে তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নাশকতাবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তিনি মৃত বাদশাহ প্যাদার ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ প্যাদা নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।
গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার সোহাগ প্যাদার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’
গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ প্যাদাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (১৪ জুন) রাতে পুলিশের একটি টিম গলাচিপা পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসা থেকে তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নাশকতাবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তিনি মৃত বাদশাহ প্যাদার ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ প্যাদা নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।
গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার সোহাগ প্যাদার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

১৫ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।
সেতুর মূল কাঠামোর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেতুর আশপাশের সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না।
মাছ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ভালো রাস্তা না থাকায় অনেক গাড়ি আসতে চায় না। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজের কাজ শেষ হলে এলাকার অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ। মাঝে কয়েক দফা কাজ বন্ধও ছিল। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতুটি চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।
পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।
সেতুর মূল কাঠামোর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেতুর আশপাশের সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না।
মাছ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ভালো রাস্তা না থাকায় অনেক গাড়ি আসতে চায় না। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজের কাজ শেষ হলে এলাকার অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ। মাঝে কয়েক দফা কাজ বন্ধও ছিল। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতুটি চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।

১১ জুন, ২০২৬ ১৪:৩৪
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় লিপি আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী শাহ জামাল (৩৫) এবং শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে (৭০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই নারীর করা মামলায় পরে স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীকে নির্যাতনের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, টমটমের ওপর এক নারীর হাত বেঁধে তাঁকে মারধর করা হচ্ছে। মারধরের শিকার ওই নারী চিৎকার করে সাহায্য চাইছেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি টমটম থামিয়ে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে নির্যাতনে যুক্ত দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেন এবং দশমিনা থানা-পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ভুক্তভোগী লিপি আক্তারকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল মৃধা (৬৫) আহত হন। অভিযোগ আছে, এ সময় লিপি আক্তারের শ্বশুর হাতে থাকা লাঠি দিয়ে হেলাল মৃধার মাথায় আঘাত করেন। এতে হেলালের মাথা ফেটে যায় এবং তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত অবস্থায় হেলাল মৃধা বলেন, ওই নারীর চিৎকার শুনে তিনি এবং আরও কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে টমটমটি থামান। তখন টমটমে থাকা শাহ জামাল ও তাঁর বাবা মোসলেম মৃধা তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আটক করে পুলিশে খবর দেন।
দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন লিপি আক্তার বলেন, তাঁর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে আছে। তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এর পর থেকে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল। স্বামী শাহ জামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধা প্রায়ই তাঁর ওপর নির্যাতন চালাতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিসবৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
লিপি আক্তারের ভাষ্য, গতকাল সকালে মারধরের একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখেন, তাঁর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় টমটমে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে স্বামী শাহ জামাল দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে প্রথম স্ত্রী লিপি আক্তারের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। গতকালও তাঁকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে স্বামী ও শ্বশুর কোথাও নিয়ে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।’
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় লিপি আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী শাহ জামাল (৩৫) এবং শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে (৭০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই নারীর করা মামলায় পরে স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীকে নির্যাতনের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, টমটমের ওপর এক নারীর হাত বেঁধে তাঁকে মারধর করা হচ্ছে। মারধরের শিকার ওই নারী চিৎকার করে সাহায্য চাইছেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি টমটম থামিয়ে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে নির্যাতনে যুক্ত দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেন এবং দশমিনা থানা-পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ভুক্তভোগী লিপি আক্তারকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল মৃধা (৬৫) আহত হন। অভিযোগ আছে, এ সময় লিপি আক্তারের শ্বশুর হাতে থাকা লাঠি দিয়ে হেলাল মৃধার মাথায় আঘাত করেন। এতে হেলালের মাথা ফেটে যায় এবং তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত অবস্থায় হেলাল মৃধা বলেন, ওই নারীর চিৎকার শুনে তিনি এবং আরও কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে টমটমটি থামান। তখন টমটমে থাকা শাহ জামাল ও তাঁর বাবা মোসলেম মৃধা তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আটক করে পুলিশে খবর দেন।
দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন লিপি আক্তার বলেন, তাঁর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে আছে। তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এর পর থেকে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল। স্বামী শাহ জামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধা প্রায়ই তাঁর ওপর নির্যাতন চালাতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিসবৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
লিপি আক্তারের ভাষ্য, গতকাল সকালে মারধরের একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখেন, তাঁর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় টমটমে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে স্বামী শাহ জামাল দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে প্রথম স্ত্রী লিপি আক্তারের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। গতকালও তাঁকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে স্বামী ও শ্বশুর কোথাও নিয়ে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।’
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.