নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একটি পুরোনো মসজিদ, দুটি বসতভিটা, দুটি দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ছবি:সংগ্রহীত
বরিশালের বাবুগঞ্জে সুগন্ধা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি পুরোনো মসজিদ, দুটি বসতভিটা ও দুটি দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের মুখে পড়েছে বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটের গণশৌচাগারসহ আরও কিছু স্থাপনা।
ভাঙন অব্যাহত থাকায় এখন ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় দুই শ বছরের পুরোনো বাবুগঞ্জ বাজার, খেয়াঘাট, কয়েকটি মসজিদ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙন আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এগিয়ে গেলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়ালও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, সুগন্ধা নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে পড়ছে। পাড়ের বড় বড় অংশ নদীতে পড়ে যাচ্ছে। নদীর কাছাকাছি থাকা বসতঘর ও দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। কেউ ঘরের বারান্দা খুলে অন্যত্র রাখছেন, কেউ বাঁশের চাটাই, পাইলিং ও বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
পশ্চিম ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক সরোয়ার হোসেনের বসতঘরও ভাঙনের মুখে। এরই মধ্যে তাঁর রান্নাঘর ও চুলা নদীতে চলে গেছে। ঘরের বারান্দা খুলে অন্যের বাড়িতে রেখে দিয়েছেন তিনি।
নদীর পাড়ে নতুন মাটির চুলা তৈরি করছিলেন সরোয়ারের স্ত্রী সুমি বেগম। তিনি বলেন, ‘পাঁচবার ভাঙনের পর এইহানে ঘর তুলছিলাম। তাও ভাঙনে নিতেছে। ঘরের বারান্দা খুইলা অন্য মানুষের বাড়িতে রাখছি। এহন আমাগো আর অন্য কোথাও যাওনের জায়গা নাই। বাচ্চা লইয়া আতঙ্কে নির্ঘুম রাইত কাডাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, তাঁদের গ্রামের শতাধিক পরিবার একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ভাঙন আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এগোলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়ালও নদীর ঝুঁকিতে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর নদীভাঙনে একটি পুরোনো মসজিদ বিলীন হয়ে যায়। পরে সেখানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হলেও সেটিও এখন ভাঙনের মুখে। মসজিদটি রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের চাটাই ও পাইলিং দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।
ভাঙনের কবলে পড়েছে বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটে যাতায়াতের সংযোগ সড়কও। ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুন ও ঘাটসংলগ্ন স্থাপনা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব স্থাপনার আরও কিছু অংশ নদীতে চলে যেতে পারে।
এক বছর আগে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলেছিল। তবে চলতি বছরের ভাঙনে সেগুলোর অনেকটাই নদীগর্ভে চলে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব মিস্ত্রি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙনের প্রভাব বাবুগঞ্জ বাজারেও পড়তে পারে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কয়েক শ মানুষের বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়বে।
সমাজসেবক মোয়াজ্জেম বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাবুগঞ্জ বাজার ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এবার ভাঙন আগের তুলনায় ভয়াবহ হয়েছে। বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বাবুগঞ্জের সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, বাবুগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকার সুগন্ধা নদীর বাঁ তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন বেড়েছে। এ অংশের জন্য ইতিমধ্যে সমীক্ষা শেষ হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সমীক্ষার ভিত্তিতে সুগন্ধা নদীর বাঁ তীরের প্রায় ৩ হাজার ৬২৬ মিটার এলাকায় সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ পেয়েছে। এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসে প্রকল্পটি অনুমোদন হতে পারে বলে আশা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, ভাঙনের ছবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বরাদ্দ বা নির্দেশনা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সময় লাগবে। নদীভাঙন সে সময়ের অপেক্ষা করবে না। তাই স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ, বালুভর্তি বস্তাসহ সাময়িক প্রতিরোধব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নদী আরও ভেতরের দিকে এগিয়ে আসবে। এতে বসতভিটা, মসজিদ, দোকান, খেয়াঘাটের পন্টুন ও সংযোগ সড়কের পর বাবুগঞ্জ বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়বে। একই সঙ্গে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়াল নিয়েও তৈরি হতে পারে নতুন উদ্বেগ।

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩৪
বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের হবিনগর-ঝুনাহার গ্রামে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞার দ্বিতীয় দিনেও ইলিশ শিকার ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আড়িয়াল খাঁ ও কালাবদর নদী সংলগ্ন ওই এলাকায় ৩৫ থেকে ৪০ জন জেলে মাছ শিকার করছেন। পরে সেসব মাছ প্রকাশ্যে প্রতি কেজি ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে হবিনগর ঝুনাহার গ্রামের রসুল মেম্বারের দোকানসংলগ্ন এলাকায় এ চিত্র দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, নদীতে অভিযান চলমান থাকার মধ্যেও কিছুক্ষণ পরপর মাছ শিকারে নামছেন। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এভাবে মাছ ধরা ও বিক্রি চলতে থাকায় মা ইলিশ সংরক্ষণের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ। এ সময়ে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াজুল ইসলাম সপন বলেন, ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করা উচিত নয়। বিষয়টি দুঃখজনক। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের পাশাপাশি অন্য পেশার লোকজনও ট্রলার নিয়ে নদীতে নামেন। মা ইলিশ শিকারের লোভে তাঁরা এ কাজ করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার জানামতে, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আপস না করে এ সময়ে কোনো জেলের নদীতে জাল ফেলার সুযোগ নেই। এমন অভিযোগও রয়েছে, জাল জব্দ করার পর তা আবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। মা ইলিশ শিকারের এই চক্র কবে বন্ধ হবে, সেটাই প্রশ্ন।’
হবিনগর এলাকার ২৮ নম্বর হবিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘জেলেরা এই সময়টির জন্য অপেক্ষা করেন। স্কুলে শিশুদের জিজ্ঞেস করি, তারা কী দিয়ে ভাত খেয়েছে। তখন কেউ কেউ বলে, ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খেয়েছে।
বরিশাল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করেছেন। এ ধরনের ঘটনার খবর পেলে তাঁকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। এ ছাড়া নদীতে টহল অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের হবিনগর-ঝুনাহার গ্রামে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞার দ্বিতীয় দিনেও ইলিশ শিকার ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আড়িয়াল খাঁ ও কালাবদর নদী সংলগ্ন ওই এলাকায় ৩৫ থেকে ৪০ জন জেলে মাছ শিকার করছেন। পরে সেসব মাছ প্রকাশ্যে প্রতি কেজি ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে হবিনগর ঝুনাহার গ্রামের রসুল মেম্বারের দোকানসংলগ্ন এলাকায় এ চিত্র দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, নদীতে অভিযান চলমান থাকার মধ্যেও কিছুক্ষণ পরপর মাছ শিকারে নামছেন। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এভাবে মাছ ধরা ও বিক্রি চলতে থাকায় মা ইলিশ সংরক্ষণের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ। এ সময়ে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াজুল ইসলাম সপন বলেন, ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করা উচিত নয়। বিষয়টি দুঃখজনক। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের পাশাপাশি অন্য পেশার লোকজনও ট্রলার নিয়ে নদীতে নামেন। মা ইলিশ শিকারের লোভে তাঁরা এ কাজ করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার জানামতে, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আপস না করে এ সময়ে কোনো জেলের নদীতে জাল ফেলার সুযোগ নেই। এমন অভিযোগও রয়েছে, জাল জব্দ করার পর তা আবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। মা ইলিশ শিকারের এই চক্র কবে বন্ধ হবে, সেটাই প্রশ্ন।’
হবিনগর এলাকার ২৮ নম্বর হবিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘জেলেরা এই সময়টির জন্য অপেক্ষা করেন। স্কুলে শিশুদের জিজ্ঞেস করি, তারা কী দিয়ে ভাত খেয়েছে। তখন কেউ কেউ বলে, ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খেয়েছে।
বরিশাল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করেছেন। এ ধরনের ঘটনার খবর পেলে তাঁকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। এ ছাড়া নদীতে টহল অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১২
রাজনৈতিক প্রভাব, পুলিশের সংশ্লিষ্টতা আর দলবল নিয়ে জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ- বরিশাল নগরীর রূপাতলীতে জমি নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিজের ও স্ত্রীর নামে কেনা ১০ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টায় বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন নাসির হাওলাদার। এ ঘটনায় মেহেন্দিগঞ্জ থানার এএসআই গোলাম কিবরিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে নিজের জমি ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন নাসির হাওলাদার। তিনি বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের উমেদার এবং নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী আহমেদ মোল্লা সড়ক এলাকার বাসিন্দা।
নাসিরের দাবি, ২০১৫ সালে নিজের ও স্ত্রীর নামে ১০ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখলে রয়েছে তাঁদের। সম্প্রতি সেখানে ভবন নির্মাণের জন্য বরিশাল সিটি করপোরেশন থেকে নকশা অনুমোদন নেন এবং জমির খাজনাও পরিশোধ করেন। কিন্তু জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলেই বাধার মুখে পড়েন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে নাসির অভিযোগ করেন, গত ৬ অক্টোবর সকালে এএসআই গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক জমিতে গিয়ে গেট, হোল্ডিংসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে গোলাম কিবরিয়া সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদের সঙ্গে চুক্তিনামা করে তাঁকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন বলে দাবি করেন নাসির। সেই দলিলের ভিত্তিতে ফিরোজ আহমেদ জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
নাসিরের অভিযোগ, দলবল নিয়ে জমিতে তৎপরতা চালানোর ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাননি। এর আগেও জমিতে থাকা বিভিন্ন মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। থানায় অভিযোগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান নাসির।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এএসআই গোলাম কিবরিয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ফিরোজ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এখন একটি সালিশিতে ব্যস্ত আছি। পরে সরাসরি সাক্ষাতে কথা হবে।”
ফিরোজ আহমেদ বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের শ্বশুর।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে বিএনপি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেয় দলটি।
এখন জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ ঘিরে ফিরোজ আহমেদ ও পুলিশ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী। জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন নাসির হাওলাদার।
রাজনৈতিক প্রভাব, পুলিশের সংশ্লিষ্টতা আর দলবল নিয়ে জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ- বরিশাল নগরীর রূপাতলীতে জমি নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিজের ও স্ত্রীর নামে কেনা ১০ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টায় বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন নাসির হাওলাদার। এ ঘটনায় মেহেন্দিগঞ্জ থানার এএসআই গোলাম কিবরিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে নিজের জমি ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন নাসির হাওলাদার। তিনি বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের উমেদার এবং নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী আহমেদ মোল্লা সড়ক এলাকার বাসিন্দা।
নাসিরের দাবি, ২০১৫ সালে নিজের ও স্ত্রীর নামে ১০ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখলে রয়েছে তাঁদের। সম্প্রতি সেখানে ভবন নির্মাণের জন্য বরিশাল সিটি করপোরেশন থেকে নকশা অনুমোদন নেন এবং জমির খাজনাও পরিশোধ করেন। কিন্তু জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলেই বাধার মুখে পড়েন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে নাসির অভিযোগ করেন, গত ৬ অক্টোবর সকালে এএসআই গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক জমিতে গিয়ে গেট, হোল্ডিংসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে গোলাম কিবরিয়া সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদের সঙ্গে চুক্তিনামা করে তাঁকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন বলে দাবি করেন নাসির। সেই দলিলের ভিত্তিতে ফিরোজ আহমেদ জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
নাসিরের অভিযোগ, দলবল নিয়ে জমিতে তৎপরতা চালানোর ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাননি। এর আগেও জমিতে থাকা বিভিন্ন মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। থানায় অভিযোগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান নাসির।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এএসআই গোলাম কিবরিয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ফিরোজ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এখন একটি সালিশিতে ব্যস্ত আছি। পরে সরাসরি সাক্ষাতে কথা হবে।”
ফিরোজ আহমেদ বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের শ্বশুর।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে বিএনপি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেয় দলটি।
এখন জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ ঘিরে ফিরোজ আহমেদ ও পুলিশ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী। জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন নাসির হাওলাদার।

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৯
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে বাহিনীর সদস্যরা ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। অভিযানে সহায়তা করতে যাওয়া মৎস্য বিভাগের একটি স্পিডবোটও হামলার শিকার হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চরজানপুর এলাকার মেঘনা নদীর ৭ নম্বর ঘাটসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে চলমান অভিযানের দ্বিতীয় দিনে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় সুত্রে জানান গেছে , প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষায় মেঘনায় টহল দেওয়ার সময় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরতে যাওয়া একদল জেলের মুখোমুখি হন অভিযানকারী সদস্যরা। একপর্যায়ে জেলেদের একটি দল টহল দলের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিজেদের সুরক্ষায় কোস্ট গার্ড সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। পরে ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার তৎপরতা তুলনামূলক কম থাকলেও পরদিন কিছু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করেন। এদিকে নৌ পুলিশের পৃথক অভিযানে ১০ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আটটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে গত ৮ অক্টোবর থেকে সারা দেশে ২২ দিনের জন্য মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। এ সময়ে নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হিজলায় নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে বাহিনীর সদস্যরা ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। অভিযানে সহায়তা করতে যাওয়া মৎস্য বিভাগের একটি স্পিডবোটও হামলার শিকার হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চরজানপুর এলাকার মেঘনা নদীর ৭ নম্বর ঘাটসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে চলমান অভিযানের দ্বিতীয় দিনে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় সুত্রে জানান গেছে , প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষায় মেঘনায় টহল দেওয়ার সময় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরতে যাওয়া একদল জেলের মুখোমুখি হন অভিযানকারী সদস্যরা। একপর্যায়ে জেলেদের একটি দল টহল দলের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিজেদের সুরক্ষায় কোস্ট গার্ড সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। পরে ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার তৎপরতা তুলনামূলক কম থাকলেও পরদিন কিছু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করেন। এদিকে নৌ পুলিশের পৃথক অভিযানে ১০ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আটটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে গত ৮ অক্টোবর থেকে সারা দেশে ২২ দিনের জন্য মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। এ সময়ে নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হিজলায় নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০৩
বরিশালের বাবুগঞ্জে সুগন্ধা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি পুরোনো মসজিদ, দুটি বসতভিটা ও দুটি দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের মুখে পড়েছে বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটের গণশৌচাগারসহ আরও কিছু স্থাপনা।
ভাঙন অব্যাহত থাকায় এখন ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় দুই শ বছরের পুরোনো বাবুগঞ্জ বাজার, খেয়াঘাট, কয়েকটি মসজিদ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙন আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এগিয়ে গেলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়ালও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, সুগন্ধা নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে পড়ছে। পাড়ের বড় বড় অংশ নদীতে পড়ে যাচ্ছে। নদীর কাছাকাছি থাকা বসতঘর ও দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। কেউ ঘরের বারান্দা খুলে অন্যত্র রাখছেন, কেউ বাঁশের চাটাই, পাইলিং ও বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
পশ্চিম ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক সরোয়ার হোসেনের বসতঘরও ভাঙনের মুখে। এরই মধ্যে তাঁর রান্নাঘর ও চুলা নদীতে চলে গেছে। ঘরের বারান্দা খুলে অন্যের বাড়িতে রেখে দিয়েছেন তিনি।
নদীর পাড়ে নতুন মাটির চুলা তৈরি করছিলেন সরোয়ারের স্ত্রী সুমি বেগম। তিনি বলেন, ‘পাঁচবার ভাঙনের পর এইহানে ঘর তুলছিলাম। তাও ভাঙনে নিতেছে। ঘরের বারান্দা খুইলা অন্য মানুষের বাড়িতে রাখছি। এহন আমাগো আর অন্য কোথাও যাওনের জায়গা নাই। বাচ্চা লইয়া আতঙ্কে নির্ঘুম রাইত কাডাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, তাঁদের গ্রামের শতাধিক পরিবার একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ভাঙন আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এগোলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়ালও নদীর ঝুঁকিতে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর নদীভাঙনে একটি পুরোনো মসজিদ বিলীন হয়ে যায়। পরে সেখানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হলেও সেটিও এখন ভাঙনের মুখে। মসজিদটি রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের চাটাই ও পাইলিং দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।
ভাঙনের কবলে পড়েছে বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটে যাতায়াতের সংযোগ সড়কও। ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুন ও ঘাটসংলগ্ন স্থাপনা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব স্থাপনার আরও কিছু অংশ নদীতে চলে যেতে পারে।
এক বছর আগে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলেছিল। তবে চলতি বছরের ভাঙনে সেগুলোর অনেকটাই নদীগর্ভে চলে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব মিস্ত্রি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙনের প্রভাব বাবুগঞ্জ বাজারেও পড়তে পারে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কয়েক শ মানুষের বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়বে।
সমাজসেবক মোয়াজ্জেম বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাবুগঞ্জ বাজার ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এবার ভাঙন আগের তুলনায় ভয়াবহ হয়েছে। বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বাবুগঞ্জের সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, বাবুগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকার সুগন্ধা নদীর বাঁ তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন বেড়েছে। এ অংশের জন্য ইতিমধ্যে সমীক্ষা শেষ হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সমীক্ষার ভিত্তিতে সুগন্ধা নদীর বাঁ তীরের প্রায় ৩ হাজার ৬২৬ মিটার এলাকায় সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ পেয়েছে। এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসে প্রকল্পটি অনুমোদন হতে পারে বলে আশা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, ভাঙনের ছবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বরাদ্দ বা নির্দেশনা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সময় লাগবে। নদীভাঙন সে সময়ের অপেক্ষা করবে না। তাই স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ, বালুভর্তি বস্তাসহ সাময়িক প্রতিরোধব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নদী আরও ভেতরের দিকে এগিয়ে আসবে। এতে বসতভিটা, মসজিদ, দোকান, খেয়াঘাটের পন্টুন ও সংযোগ সড়কের পর বাবুগঞ্জ বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়বে। একই সঙ্গে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাদেয়াল নিয়েও তৈরি হতে পারে নতুন উদ্বেগ।
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০৬