বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি সুলতান হাওলাদার (৬৪) মারা গেছেন। বুধবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
সুলতান হাওলাদার বাবুগঞ্জ উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে।
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু ইউসুফ জানান, ২০০৪ সালের একটি হত্যা মামলায় আদালত সুলতান হাওলাদারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় বুধবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাঁকে দ্রুত শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত শেষে সুলতান হাওলাদারের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক সুব্রত কুমার বালা জানান, বন্দিদের মামলার বিস্তারিত তথ্য কারাগারে সংরক্ষিত থাকে না। আদালত থেকে পাঠানো ওয়ারেন্টই কারা কর্তৃপক্ষের কাছে থাকে। তাই সুলতান হাওলাদার কোন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, সে বিষয়ে কারাগারে বিস্তারিত তথ্য নেই।

০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১০
বরিশালের বাকেরগঞ্জে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ে ছাড়াই প্রায় সাত মাস ধরে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে এক মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে। স্থানীয় লোকজন ও ওই নারীর স্বামীর স্বজনরা ইমাম ও নারীকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। পরে কোনো অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে দুজনকে নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ তুহিন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামের আব্দুল কাশেমের ছেলে। তিনি দাড়িয়াল ইউনিয়নের বাংলাবাজার জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তুহিনের সঙ্গে পাশের গ্রামের এক নারীর বিয়ে হয়। পরে পটুয়াখালীর মজিদপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করার সময় ওই মসজিদের পাশের বাড়ির এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ওই নারী স্বামী-সংসার ছেড়ে তুহিনের সঙ্গে চলে আসেন।
সূত্রের দাবি, প্রায় সাত মাস আগে তারা বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে এসে বসবাস শুরু করেন। সেখানে বাংলাবাজার জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মসজিদের পাশেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করছিলেন তুহিন।
বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে বুধবার ওই ইমাম ও নারীকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ তুহিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে দুজনকে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ে ছাড়াই প্রায় সাত মাস ধরে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে এক মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে। স্থানীয় লোকজন ও ওই নারীর স্বামীর স্বজনরা ইমাম ও নারীকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। পরে কোনো অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে দুজনকে নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ তুহিন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামের আব্দুল কাশেমের ছেলে। তিনি দাড়িয়াল ইউনিয়নের বাংলাবাজার জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তুহিনের সঙ্গে পাশের গ্রামের এক নারীর বিয়ে হয়। পরে পটুয়াখালীর মজিদপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করার সময় ওই মসজিদের পাশের বাড়ির এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ওই নারী স্বামী-সংসার ছেড়ে তুহিনের সঙ্গে চলে আসেন।
সূত্রের দাবি, প্রায় সাত মাস আগে তারা বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে এসে বসবাস শুরু করেন। সেখানে বাংলাবাজার জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মসজিদের পাশেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করছিলেন তুহিন।
বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে বুধবার ওই ইমাম ও নারীকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ তুহিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে দুজনকে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৫
বরিশালের গৌরনদীতে ঋণের চাপে পুলিন তালুকদার (৪৫) নামে এক চা দোকানির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ইছাকুড়ি-বাকাই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিন তালুকদার ইছাকুড়ি-বাকাই এলাকার মৃত উপেন্দ্রনাথ তালুকদারের ছেলে। মৃত্যুর আগে তিনি তিন কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে প্রায় আট বছর মরিশাসে ছিলেন পুলিন। বছরখানেক আগে দেশে ফিরে বাড়ির অদূরে একটি চায়ের দোকান চালু করেন। ওই দোকানের আয় দিয়েই চলছিল তার সংসার।
স্বজনদের ভাষ্য, মরিশাসে থাকাকালে বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয় ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নেন পুলিন। দেশে ফেরার পর সেই ঋণের বোঝা আরও চাপে পরিণত হয়। সম্প্রতি স্থানীয় পাওনাদার ও এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য তার ওপর চাপ বাড়ছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি বাগানে পুলিনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
বরিশালের গৌরনদীতে ঋণের চাপে পুলিন তালুকদার (৪৫) নামে এক চা দোকানির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ইছাকুড়ি-বাকাই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিন তালুকদার ইছাকুড়ি-বাকাই এলাকার মৃত উপেন্দ্রনাথ তালুকদারের ছেলে। মৃত্যুর আগে তিনি তিন কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে প্রায় আট বছর মরিশাসে ছিলেন পুলিন। বছরখানেক আগে দেশে ফিরে বাড়ির অদূরে একটি চায়ের দোকান চালু করেন। ওই দোকানের আয় দিয়েই চলছিল তার সংসার।
স্বজনদের ভাষ্য, মরিশাসে থাকাকালে বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয় ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নেন পুলিন। দেশে ফেরার পর সেই ঋণের বোঝা আরও চাপে পরিণত হয়। সম্প্রতি স্থানীয় পাওনাদার ও এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য তার ওপর চাপ বাড়ছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি বাগানে পুলিনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৩
দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ভর্তি রোগী থেকে শুরু করে বহির্বিভাগের রোগী—সব মিলিয়ে দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে হয় হাসপাতালটিকে। অথচ এসব রোগীকে এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ট্রলির সংখ্যাই প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
হাসপাতালে ট্রলি আছে ১৩টি। তবে সবগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করা যায় না। প্রতিদিন গড়ে ৯ থেকে ১০টি ট্রলি সচল থাকে। কোনো ট্রলি নষ্ট হলে সেটি মেরামতের জন্য সরিয়ে রাখতে হয়। এতে একসঙ্গে রোগী পরিবহনের সক্ষমতা আরও কমে যায়।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জরুরি ও সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে একসঙ্গে একাধিক রোগী এলে ট্রলির জন্য অপেক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কোথাও কোথাও স্বজনদের নিজেরাই ট্রলি ঠেলতে হচ্ছে। আবার ট্রলি না মিললে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে কোলে করে ওয়ার্ডে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, ১৯৬৮ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান শয্যাসংখ্যা এক হাজার। সময়ের সঙ্গে শয্যা ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়লেও রোগীর চাপ সেই তুলনায় আরও দ্রুত বেড়েছে। প্রতিদিন আন্তঃবিভাগে প্রায় আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। একই সময়ে বহির্বিভাগেও প্রায় আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নেন।
এ ছাড়া প্রতিদিন নতুন করে দেড় থেকে দুইশ রোগী ভর্তি হচ্ছেন এবং প্রায় একই সংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছেন। ভর্তি রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নেওয়া, ওয়ার্ড পরিবর্তন কিংবা জরুরি বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে স্থানান্তরের সময় ট্রলির প্রয়োজন হয়। ফলে সীমিতসংখ্যক ট্রলি দিয়ে প্রতিদিনের এই বিপুল চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
রোগীর স্বজনদের অভিজ্ঞতাতেও উঠে এসেছে এই সংকটের চিত্র। বরগুনার পাথরঘাটা থেকে স্বামীকে চিকিৎসার জন্য শেবাচিমে নিয়ে আসা ফাতেমা বেগম জানান, ইমার্জেন্সি গেটে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তারা ট্রলি পেয়েছেন।
ট্রলির পাশাপাশি রয়েছে ট্রলিম্যান সংকটও। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তিন শিফটে ট্রলিম্যানের অনুমোদিত পদ ২১টি। তবে দুজনকে আন্তঃবিভাগে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে জরুরি বিভাগে কার্যত দায়িত্ব পালন করেন ১৯ জন। প্রতি শিফটে ছয়জন করে কাজ করায় রোগীর চাপের তুলনায় জনবলও পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
ট্রলিম্যানের ঘাটতি পূরণে প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি বিভাগের অফিস সহায়ক এবং আউটসোর্সিং কর্মীদেরও রোগী পরিবহনের কাজে যুক্ত করতে হয়। এতে তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে।
শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মেহেদি হাসান বলেন, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। ট্রলি ও ট্রলিম্যান সংকটের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাহামুদ হাসান বলেন, নষ্ট ট্রলিগুলো মেরামতের পাশাপাশি নতুন ট্রলি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রলিম্যানের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ভর্তি রোগী থেকে শুরু করে বহির্বিভাগের রোগী—সব মিলিয়ে দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে হয় হাসপাতালটিকে। অথচ এসব রোগীকে এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ট্রলির সংখ্যাই প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
হাসপাতালে ট্রলি আছে ১৩টি। তবে সবগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করা যায় না। প্রতিদিন গড়ে ৯ থেকে ১০টি ট্রলি সচল থাকে। কোনো ট্রলি নষ্ট হলে সেটি মেরামতের জন্য সরিয়ে রাখতে হয়। এতে একসঙ্গে রোগী পরিবহনের সক্ষমতা আরও কমে যায়।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জরুরি ও সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে একসঙ্গে একাধিক রোগী এলে ট্রলির জন্য অপেক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কোথাও কোথাও স্বজনদের নিজেরাই ট্রলি ঠেলতে হচ্ছে। আবার ট্রলি না মিললে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে কোলে করে ওয়ার্ডে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, ১৯৬৮ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান শয্যাসংখ্যা এক হাজার। সময়ের সঙ্গে শয্যা ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়লেও রোগীর চাপ সেই তুলনায় আরও দ্রুত বেড়েছে। প্রতিদিন আন্তঃবিভাগে প্রায় আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। একই সময়ে বহির্বিভাগেও প্রায় আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নেন।
এ ছাড়া প্রতিদিন নতুন করে দেড় থেকে দুইশ রোগী ভর্তি হচ্ছেন এবং প্রায় একই সংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছেন। ভর্তি রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নেওয়া, ওয়ার্ড পরিবর্তন কিংবা জরুরি বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে স্থানান্তরের সময় ট্রলির প্রয়োজন হয়। ফলে সীমিতসংখ্যক ট্রলি দিয়ে প্রতিদিনের এই বিপুল চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
রোগীর স্বজনদের অভিজ্ঞতাতেও উঠে এসেছে এই সংকটের চিত্র। বরগুনার পাথরঘাটা থেকে স্বামীকে চিকিৎসার জন্য শেবাচিমে নিয়ে আসা ফাতেমা বেগম জানান, ইমার্জেন্সি গেটে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তারা ট্রলি পেয়েছেন।
ট্রলির পাশাপাশি রয়েছে ট্রলিম্যান সংকটও। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তিন শিফটে ট্রলিম্যানের অনুমোদিত পদ ২১টি। তবে দুজনকে আন্তঃবিভাগে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে জরুরি বিভাগে কার্যত দায়িত্ব পালন করেন ১৯ জন। প্রতি শিফটে ছয়জন করে কাজ করায় রোগীর চাপের তুলনায় জনবলও পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
ট্রলিম্যানের ঘাটতি পূরণে প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি বিভাগের অফিস সহায়ক এবং আউটসোর্সিং কর্মীদেরও রোগী পরিবহনের কাজে যুক্ত করতে হয়। এতে তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে।
শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মেহেদি হাসান বলেন, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। ট্রলি ও ট্রলিম্যান সংকটের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাহামুদ হাসান বলেন, নষ্ট ট্রলিগুলো মেরামতের পাশাপাশি নতুন ট্রলি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রলিম্যানের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৫
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি সুলতান হাওলাদার (৬৪) মারা গেছেন। বুধবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
সুলতান হাওলাদার বাবুগঞ্জ উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে।
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু ইউসুফ জানান, ২০০৪ সালের একটি হত্যা মামলায় আদালত সুলতান হাওলাদারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় বুধবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাঁকে দ্রুত শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত শেষে সুলতান হাওলাদারের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক সুব্রত কুমার বালা জানান, বন্দিদের মামলার বিস্তারিত তথ্য কারাগারে সংরক্ষিত থাকে না। আদালত থেকে পাঠানো ওয়ারেন্টই কারা কর্তৃপক্ষের কাছে থাকে। তাই সুলতান হাওলাদার কোন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, সে বিষয়ে কারাগারে বিস্তারিত তথ্য নেই।
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১০
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৫
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫২
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৪৬