ত্রিশোর্ধ্ব যুবকের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে ২৬ টি মামলা বিচারাধীন।
বরিশাল নগরীতে আকাশ হাওলাদার ওরফে কালা মাসুদ নামের এক ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীর উত্থান ঘটেছে। খুন-মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি ত্রিশোর্ধ্ব এই যুবক রাত গভীর হলেই সাঙ্গপাঙ্গদের সাথে নিয়ে কোতয়ালি থানাধীন পোর্টরোড টু লঞ্চঘাট, এমনকি আশপাশ এলাকাসমূহে অস্ত্রের মহড়া দিতে শুরু করে। পাশাপাশি সমান্তরাল চালিয়ে যাচ্ছেন মাদক বাণিজ্য। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই সন্ত্রাসীকে আটক করলেও কিছুদিন পরেই জামিনে মুক্ত হয়ে ফের পূর্বের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। শুক্রবার গভীর রাতে আকাশ হাওলাদার ওরফে কালা মাসুদ সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে শহরের পোর্টরোড এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ত্রাস তৈরি করেন। তাদের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে গভীর রাতে পোর্টরোড এবং এর আশপাশ এলাকায় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের গিলাতলী গ্রামের এনায়েত হাওলাদারের ছেলে আকাশ ওরফে কালা মাসুদ ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত। এসব ঘটনাবলীতে তার বিরুদ্ধে অন্তত ২৬টি মামলা বরিশালের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দাপুলিশের একটি চৌকশ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালত মাসুদকে কারাগারে পাঠিয়ে দিলেও কিছুদিন না যেতেই জামিনে মুক্ত হয়ে ফের আগেই মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, কালা মাসুদ বিভিন্ন সময়ে টাকার বিনিময়ে টার্গেট করা ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। বরিশাল নগরীর ছিনতাইকারীদের গডফাদার ও ভাড়াটে খুনি নামে পরিচিত তিনি। তার বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এছাড়াও কালা মাসুদের রয়েছে ছিনতাইকারী কয়েকটি চক্র। সূত্রগুলো জানায়, শহরের ধোপাবাড়ির মোড়, কলেজ অ্যাভিনিউ, বৈদ্যপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে রয়েছে কালা মাসুদের সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা। তারা টাকার বদৌলতে বিভিন্ন অপরাধ করে থাকেন।
বরিশাল শহরের এই চিহ্নিত সন্ত্রাসী শুক্রবার রাতে লঞ্চঘাট এলাকায় প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, পোর্টরোডে মাদক বিক্রি এবং আধিপত্য বিস্তারের জেরে কালা মাসুদ শুক্রবার গভীর রাতে সংঘাতে লিপ্ত হয়। এনিয়ে দুই গ্রুপের লোকজন অস্ত্রসহ রাতভর মহড়া দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে কালা মাসুদের নেতৃত্বে মহশিন মার্কেটসংলগ্ন আবাসিক হোটেলে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করাসহ প্রতিপক্ষের লোককে মারধর করে। এই সংঘাতের ঘটনায় আশপাশ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, ঘটনাস্থলের পাশেই রয়েছে স্টিমারঘাট ফাঁড়ি এবং আনুমানিক পৌনে এক কিলোমিটার দূরত্বে কোতয়ালি থানা। পুলিশ প্রশাসনের নাগালে থেকে অশস্ত্র সন্ত্রাস তৈরি করার বিষয়টি খোদ স্থানীয় বাসিন্দাদের হতবাক করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কালা মাসুদ আওয়ামী লীগের গোটা শাসনামলে বরিশাল শহরের ত্রাস চালিয়েছে। এবং বিভিন্ন ঘটনাচক্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারেও প্রেরণ করে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পরে তার যেনো নতুন ভাবে উত্থান ঘটেছে। এই চিহ্নিত অপরাধীকে সময় বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশকে নিয়েও ‘খিস্তিখেউর’ করতে শোনা যায়!
ফোন করে শুক্রবার রাতের ঘটনা জানতে চাইলে সন্ত্রাসী কালা মাসুদ দম্ভোক্তি করে বলেন, পুলিশ করার টাইম নাই! আপনি ফোন করছেন কেনো, আপনার বিষয়টিও দেখতে হবে, আমি ‘দাও মাসুদ, সিটি কিং! সুতরাং এই যুবক যে কোন মাপের সন্ত্রাস তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্য এই নয়া সন্ত্রাস সম্পর্কে বরিশাল পুলিশ প্রশাসনও অবগত এবং তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ গোলাম মো. নাসিম বলেন, শুক্রবার রাতে ঘটনাটি শোনার পরে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এরআগেই সন্ত্রাসী মাসুদ সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে পালিয়ে যায়। বরিশাল শহরে সন্ত্রাসের কোনো স্থান হবে না, তাকে যে কোনো মূল্যে আইনের আওতায় আসতে হবে। তাছাড়া এই যুবকের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও নির্দেশনা রয়েছে, জানান এসআই নাসিম।
শুক্রবার রাতে কালা মাসুদের সশস্ত্র সন্ত্রাসের কাহিনী শুনে অবাক হয়েছে খোদ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই ধরনের সন্ত্রাস বা সন্ত্রসীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু সে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং নতুন করে সন্ত্রাস করেছে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে। মাঠপুলিশকে সেই রকমেরই নির্দেশনা দেওয়া আছে, জানান কমিশনার।
সন্ত্রাসী মাসুদের কার্যকলাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও যে রীতিমত ওষ্ঠাগত তা শীর্ষস্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যেই অনুমান করা যায়। সেক্ষেত্রে এই ধারনা বদ্ধমূল হয় যে, সন্ত্রাসী আকাশ ওরফে কালা মাসুদকে খুব শিগগিরই পাকড়াও করতে চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শেষ পর্যন্ত এই সন্ত্রাসীকে পুলিশ প্রশাসন আটকে রাখতে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।’

২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ২৭ জুলাই ২০২৬: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের কৃতী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২৫ টি বিভাগের মোট ৭টি অনুষদের ১০৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সুনাগরিক ও দেশের কর্ণধার। তাদের মেধা, সততা, গবেষণামনস্কতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির ওপর নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই, তোমাদের জ্ঞানচর্চায় মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি। সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক। ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রাপ্তদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত বিভাগ কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী এই সম্মাননা লাভ করেন। তাদের মধ্যে নিহাল ইসলাম খন্দকার, পিতা: খন্দকার নজরুল ইসলাম, বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার কৃতী সন্তান। . হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপকূল অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বাংলাদেশের একমাত্র বিভাগ যেখানে উপকূল দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা বিষয়ে স্নাতক(সম্মান) ডিগ্রি দেওয়া হয় যা বাংলাদেশের কোথাও দেওয়া হয় না।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

২৯ জুলাই, ২০২৬ ০০:৩০
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’

১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০৩
ত্রিশোর্ধ্ব যুবকের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে ২৬ টি মামলা বিচারাধীন।
বরিশাল নগরীতে আকাশ হাওলাদার ওরফে কালা মাসুদ নামের এক ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীর উত্থান ঘটেছে। খুন-মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি ত্রিশোর্ধ্ব এই যুবক রাত গভীর হলেই সাঙ্গপাঙ্গদের সাথে নিয়ে কোতয়ালি থানাধীন পোর্টরোড টু লঞ্চঘাট, এমনকি আশপাশ এলাকাসমূহে অস্ত্রের মহড়া দিতে শুরু করে। পাশাপাশি সমান্তরাল চালিয়ে যাচ্ছেন মাদক বাণিজ্য। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই সন্ত্রাসীকে আটক করলেও কিছুদিন পরেই জামিনে মুক্ত হয়ে ফের পূর্বের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। শুক্রবার গভীর রাতে আকাশ হাওলাদার ওরফে কালা মাসুদ সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে শহরের পোর্টরোড এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ত্রাস তৈরি করেন। তাদের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে গভীর রাতে পোর্টরোড এবং এর আশপাশ এলাকায় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের গিলাতলী গ্রামের এনায়েত হাওলাদারের ছেলে আকাশ ওরফে কালা মাসুদ ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত। এসব ঘটনাবলীতে তার বিরুদ্ধে অন্তত ২৬টি মামলা বরিশালের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দাপুলিশের একটি চৌকশ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালত মাসুদকে কারাগারে পাঠিয়ে দিলেও কিছুদিন না যেতেই জামিনে মুক্ত হয়ে ফের আগেই মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, কালা মাসুদ বিভিন্ন সময়ে টাকার বিনিময়ে টার্গেট করা ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। বরিশাল নগরীর ছিনতাইকারীদের গডফাদার ও ভাড়াটে খুনি নামে পরিচিত তিনি। তার বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এছাড়াও কালা মাসুদের রয়েছে ছিনতাইকারী কয়েকটি চক্র। সূত্রগুলো জানায়, শহরের ধোপাবাড়ির মোড়, কলেজ অ্যাভিনিউ, বৈদ্যপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে রয়েছে কালা মাসুদের সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা। তারা টাকার বদৌলতে বিভিন্ন অপরাধ করে থাকেন।
বরিশাল শহরের এই চিহ্নিত সন্ত্রাসী শুক্রবার রাতে লঞ্চঘাট এলাকায় প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, পোর্টরোডে মাদক বিক্রি এবং আধিপত্য বিস্তারের জেরে কালা মাসুদ শুক্রবার গভীর রাতে সংঘাতে লিপ্ত হয়। এনিয়ে দুই গ্রুপের লোকজন অস্ত্রসহ রাতভর মহড়া দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে কালা মাসুদের নেতৃত্বে মহশিন মার্কেটসংলগ্ন আবাসিক হোটেলে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করাসহ প্রতিপক্ষের লোককে মারধর করে। এই সংঘাতের ঘটনায় আশপাশ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, ঘটনাস্থলের পাশেই রয়েছে স্টিমারঘাট ফাঁড়ি এবং আনুমানিক পৌনে এক কিলোমিটার দূরত্বে কোতয়ালি থানা। পুলিশ প্রশাসনের নাগালে থেকে অশস্ত্র সন্ত্রাস তৈরি করার বিষয়টি খোদ স্থানীয় বাসিন্দাদের হতবাক করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কালা মাসুদ আওয়ামী লীগের গোটা শাসনামলে বরিশাল শহরের ত্রাস চালিয়েছে। এবং বিভিন্ন ঘটনাচক্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারেও প্রেরণ করে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পরে তার যেনো নতুন ভাবে উত্থান ঘটেছে। এই চিহ্নিত অপরাধীকে সময় বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশকে নিয়েও ‘খিস্তিখেউর’ করতে শোনা যায়!
ফোন করে শুক্রবার রাতের ঘটনা জানতে চাইলে সন্ত্রাসী কালা মাসুদ দম্ভোক্তি করে বলেন, পুলিশ করার টাইম নাই! আপনি ফোন করছেন কেনো, আপনার বিষয়টিও দেখতে হবে, আমি ‘দাও মাসুদ, সিটি কিং! সুতরাং এই যুবক যে কোন মাপের সন্ত্রাস তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্য এই নয়া সন্ত্রাস সম্পর্কে বরিশাল পুলিশ প্রশাসনও অবগত এবং তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ গোলাম মো. নাসিম বলেন, শুক্রবার রাতে ঘটনাটি শোনার পরে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এরআগেই সন্ত্রাসী মাসুদ সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে পালিয়ে যায়। বরিশাল শহরে সন্ত্রাসের কোনো স্থান হবে না, তাকে যে কোনো মূল্যে আইনের আওতায় আসতে হবে। তাছাড়া এই যুবকের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও নির্দেশনা রয়েছে, জানান এসআই নাসিম।
শুক্রবার রাতে কালা মাসুদের সশস্ত্র সন্ত্রাসের কাহিনী শুনে অবাক হয়েছে খোদ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই ধরনের সন্ত্রাস বা সন্ত্রসীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু সে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং নতুন করে সন্ত্রাস করেছে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে। মাঠপুলিশকে সেই রকমেরই নির্দেশনা দেওয়া আছে, জানান কমিশনার।
সন্ত্রাসী মাসুদের কার্যকলাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও যে রীতিমত ওষ্ঠাগত তা শীর্ষস্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যেই অনুমান করা যায়। সেক্ষেত্রে এই ধারনা বদ্ধমূল হয় যে, সন্ত্রাসী আকাশ ওরফে কালা মাসুদকে খুব শিগগিরই পাকড়াও করতে চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শেষ পর্যন্ত এই সন্ত্রাসীকে পুলিশ প্রশাসন আটকে রাখতে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ২৭ জুলাই ২০২৬: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের কৃতী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২৫ টি বিভাগের মোট ৭টি অনুষদের ১০৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সুনাগরিক ও দেশের কর্ণধার। তাদের মেধা, সততা, গবেষণামনস্কতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির ওপর নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই, তোমাদের জ্ঞানচর্চায় মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি। সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক। ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রাপ্তদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত বিভাগ কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী এই সম্মাননা লাভ করেন। তাদের মধ্যে নিহাল ইসলাম খন্দকার, পিতা: খন্দকার নজরুল ইসলাম, বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার কৃতী সন্তান। . হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপকূল অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বাংলাদেশের একমাত্র বিভাগ যেখানে উপকূল দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা বিষয়ে স্নাতক(সম্মান) ডিগ্রি দেওয়া হয় যা বাংলাদেশের কোথাও দেওয়া হয় না।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’