
১০ মে, ২০২৬ ১৬:১২
সন্তানের সুখের জন্য নিজের সুখ আর স্বপ্ন বিলিয়ে দিতে পারেন যিনি তিনি হলেন মা। অথচ সন্তান প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের সুখের খোঁজে ভুলে যাচ্ছেন সেই মাকেই। আর তাই জীবনের অন্তিম মুহূর্তে কখনো কখনো বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালের মাঝে ঠাঁই হয় দুঃখিনি মায়ের।
এমনই একজন বৃদ্ধা মা বরিশালের ঊষা রাণী। যিনি চার সন্তানের জননী হয়েও জীবনের শেষ মুহূর্তটা কাটছে বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালের মাঝে একাকিত্বে।
জীবনের পুরোটা সময় সন্তানদের মানুষ করতে করতেই কেটে গেছে তার জীবন। নিজের কষ্ট ভুলে সন্তানদের সুখের জন্য লড়াই করেছিলেন প্রতিনিয়ত।
মানুষের বাড়িতে কাজ করে চার ছেলেমেয়ের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। কিন্তু বয়সের ভারে যখন একটু আশ্রয় আর স্নেহের প্রয়োজন হলো, ঠিক তখনই বৃদ্ধা মাকে খেলনার মতো ছুড়ে ফেলেছে সন্তানরা।
উষা রাণী জানান, নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে বাড়িঘর। একটা সময় বড় ছেলের পা ধরে অনুরোধ কাছেন একটু আশ্রয়ের জন্য। তবুও মন গলেনি তার। ঘরের কোনেও ঠাঁই হয়নি উষা রাণীর।
ছোট ছেলে তার ছেলের কথায় ঘর থেকে নামিয়ে দিয়েছে। অপর ছেলের বউ আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি। একমাত্র মেয়ের বাসায় উঠেছিলেন ঊষা। সেখানেও ঠাঁই হয়নি। মেয়ে জামাই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, এক সন্তানের দরজা থেকে আরেক সন্তানের দরজায় ঘুরেও আশ্রয় মেলেনি। তাই শেষ বয়সে নিকট আত্মীয়ের সহযোগিতায় ঠাঁই হয়েছে কাউনিয়ার বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানেই মানবেতর জীবন কাটছে তার।
তবে সন্তানদের অবহলো থেকে বৃদ্ধাশ্রমের তিনবেলা খেয়ে বেশ ভালই আছেন এই আশ্রমে। তবে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এত রাগ, অভিমান আর কষ্টের পরেও ঊষা রাণীর একটু ক্ষোভও নেই সন্তানদের প্রতি।
তিনি আজও সন্তানদের জন্য দোয়া চাইছেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। তারা যেন ভালো থাকেন সেটাই কামনাই করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি মারা যাওয়ার আগে যেন আমার কোনো সন্তানের কিছু না হয়।
তারা যেন সুখে এবং শান্তিতেই থাকে। বৃদ্ধাশ্রমের আরেক নিবাসী বৃদ্ধা শেফালী বেগম বলেন, অল্প বয়সে বাবা-মা বিয়ে দিয়েছে। অল্প বয়সেই বিধবা হয়েছি। দিনমজুরের কাজ করে একমাত্র ছেলেকে বড় করেছি। ঈদে শশুর-শাশুড়িকে হাজার টাকায় মার্কেট করে দিয়েছে। আমার কপালে জোটেনি কিছু। জুটেছে শুধু ছেলের হাতে মারধর।
শুধু ঊষা রাণী এবং শেফালী বেগম নয়, বৃদ্ধাশ্রমের আশ্রিতা প্রতিটি মায়ের বুকেই চেপে আছে আকাশ সমান দুঃখ, কষ্ট আর অবহেলার গল্প। যেই বয়সে নাতি-নাতনিদের সাথে খুনসুটিতে মেতে থাকার কথা সেই বয়সে নিস্তব্ধ আর একাকিত্বে কাটছে তাদের জীবন।
তারা বলেন, বুড়ো হয়ে গেলে বাবা-মা সন্তানদের কাছে বোঝা হয়ে যায়। কীভাবে ঠেলে ফেলে দেবে সেই চিন্তা করে। তবুও সেই সন্তানদের অভিশাপ নয়, বরং তাদের উন্নতি আর সাফল্য কামনা করছেন তারা। মায়ের ভালোবাসা এমনই নিঃস্বার্থ, অটুট এবং চিরন্তন। মা দিবসে নয়, প্রতিদিন হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও যত্নের প্রতিশ্রুতি।
বৃদ্ধাশ্রম, বয়স্ক পুনর্বাসন কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, একসময় ১৩০ শয্যার বৃদ্ধাশ্রম ছিল। মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায় চলতো প্রতিষ্ঠান। তবে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর সাহায্য সহযোগিতা কমে গেছে। এখন ভাড়া বাসায় ৬০ শয্যার বৃদ্ধাশ্রমে ৬০ জন মা আছেন। তবে অর্থ সংকটে তাও বন্ধের পথে।
তিনি বলেন, মায়েরা একসময় বোঝা হয়ে যায়। তবে প্রতিটি সন্তানের উচিত মায়েদের যত্ন নেওয়া, তাদের ভালোবাসা। মা-বাবা না থাকলে তাদের আর পাওয়া যাবে না।
ঊষা রাণী আর শেফালীদের গল্প আমাদের সামনে তুলে ধরছে এক কঠিন প্রশ্ন! আমরা কি সত্যিই বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন করছি? নাকি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করে মায়েদের উপহাস করছি?
সন্তানের সুখের জন্য নিজের সুখ আর স্বপ্ন বিলিয়ে দিতে পারেন যিনি তিনি হলেন মা। অথচ সন্তান প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের সুখের খোঁজে ভুলে যাচ্ছেন সেই মাকেই। আর তাই জীবনের অন্তিম মুহূর্তে কখনো কখনো বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালের মাঝে ঠাঁই হয় দুঃখিনি মায়ের।
এমনই একজন বৃদ্ধা মা বরিশালের ঊষা রাণী। যিনি চার সন্তানের জননী হয়েও জীবনের শেষ মুহূর্তটা কাটছে বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালের মাঝে একাকিত্বে।
জীবনের পুরোটা সময় সন্তানদের মানুষ করতে করতেই কেটে গেছে তার জীবন। নিজের কষ্ট ভুলে সন্তানদের সুখের জন্য লড়াই করেছিলেন প্রতিনিয়ত।
মানুষের বাড়িতে কাজ করে চার ছেলেমেয়ের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। কিন্তু বয়সের ভারে যখন একটু আশ্রয় আর স্নেহের প্রয়োজন হলো, ঠিক তখনই বৃদ্ধা মাকে খেলনার মতো ছুড়ে ফেলেছে সন্তানরা।
উষা রাণী জানান, নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে বাড়িঘর। একটা সময় বড় ছেলের পা ধরে অনুরোধ কাছেন একটু আশ্রয়ের জন্য। তবুও মন গলেনি তার। ঘরের কোনেও ঠাঁই হয়নি উষা রাণীর।
ছোট ছেলে তার ছেলের কথায় ঘর থেকে নামিয়ে দিয়েছে। অপর ছেলের বউ আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি। একমাত্র মেয়ের বাসায় উঠেছিলেন ঊষা। সেখানেও ঠাঁই হয়নি। মেয়ে জামাই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, এক সন্তানের দরজা থেকে আরেক সন্তানের দরজায় ঘুরেও আশ্রয় মেলেনি। তাই শেষ বয়সে নিকট আত্মীয়ের সহযোগিতায় ঠাঁই হয়েছে কাউনিয়ার বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানেই মানবেতর জীবন কাটছে তার।
তবে সন্তানদের অবহলো থেকে বৃদ্ধাশ্রমের তিনবেলা খেয়ে বেশ ভালই আছেন এই আশ্রমে। তবে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এত রাগ, অভিমান আর কষ্টের পরেও ঊষা রাণীর একটু ক্ষোভও নেই সন্তানদের প্রতি।
তিনি আজও সন্তানদের জন্য দোয়া চাইছেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। তারা যেন ভালো থাকেন সেটাই কামনাই করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি মারা যাওয়ার আগে যেন আমার কোনো সন্তানের কিছু না হয়।
তারা যেন সুখে এবং শান্তিতেই থাকে। বৃদ্ধাশ্রমের আরেক নিবাসী বৃদ্ধা শেফালী বেগম বলেন, অল্প বয়সে বাবা-মা বিয়ে দিয়েছে। অল্প বয়সেই বিধবা হয়েছি। দিনমজুরের কাজ করে একমাত্র ছেলেকে বড় করেছি। ঈদে শশুর-শাশুড়িকে হাজার টাকায় মার্কেট করে দিয়েছে। আমার কপালে জোটেনি কিছু। জুটেছে শুধু ছেলের হাতে মারধর।
শুধু ঊষা রাণী এবং শেফালী বেগম নয়, বৃদ্ধাশ্রমের আশ্রিতা প্রতিটি মায়ের বুকেই চেপে আছে আকাশ সমান দুঃখ, কষ্ট আর অবহেলার গল্প। যেই বয়সে নাতি-নাতনিদের সাথে খুনসুটিতে মেতে থাকার কথা সেই বয়সে নিস্তব্ধ আর একাকিত্বে কাটছে তাদের জীবন।
তারা বলেন, বুড়ো হয়ে গেলে বাবা-মা সন্তানদের কাছে বোঝা হয়ে যায়। কীভাবে ঠেলে ফেলে দেবে সেই চিন্তা করে। তবুও সেই সন্তানদের অভিশাপ নয়, বরং তাদের উন্নতি আর সাফল্য কামনা করছেন তারা। মায়ের ভালোবাসা এমনই নিঃস্বার্থ, অটুট এবং চিরন্তন। মা দিবসে নয়, প্রতিদিন হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও যত্নের প্রতিশ্রুতি।
বৃদ্ধাশ্রম, বয়স্ক পুনর্বাসন কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, একসময় ১৩০ শয্যার বৃদ্ধাশ্রম ছিল। মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায় চলতো প্রতিষ্ঠান। তবে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর সাহায্য সহযোগিতা কমে গেছে। এখন ভাড়া বাসায় ৬০ শয্যার বৃদ্ধাশ্রমে ৬০ জন মা আছেন। তবে অর্থ সংকটে তাও বন্ধের পথে।
তিনি বলেন, মায়েরা একসময় বোঝা হয়ে যায়। তবে প্রতিটি সন্তানের উচিত মায়েদের যত্ন নেওয়া, তাদের ভালোবাসা। মা-বাবা না থাকলে তাদের আর পাওয়া যাবে না।
ঊষা রাণী আর শেফালীদের গল্প আমাদের সামনে তুলে ধরছে এক কঠিন প্রশ্ন! আমরা কি সত্যিই বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন করছি? নাকি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করে মায়েদের উপহাস করছি?

১১ মে, ২০২৬ ১৭:৩৬
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতাল আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং জনবল সংকট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে মন্ত্রী প্রথমে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল) পরিদর্শনে যান। হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার ও বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় হাসপাতালের ডায়ালাইসিস টেকনিশিয়ান জসিম মাতুব্বরকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসা ব্যবস্থার মান সন্তোষজনক নয়। এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে সার্বক্ষণিক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসকরা দেড়িতে আসে বলেও অভিযোগ পেয়েছি।
তিনি বলেন, রোগীদের অভিযোগ রয়েছে-হাসপাতালে দালালদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে এবং তারা রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসব দালালের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের ভেতর ও বাইরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
হামের পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগে। এরপর হামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
তিনি বলেন, প্রতি চার বছর পর পর হামের টিকা কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও ২০২০ সালের পর ধারাবাহিকতা বজায় না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকারের হাতে শুরুতে পর্যাপ্ত হামের টিকা ছিল না। তবে অল্প সময়ের মধ্যে টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে রোগীর সংখ্যাও কিছুটা কমেছে।
জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনের পর দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্বোধন করা হবে এবং জুলাই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার হাসপাতালটির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ বা জনবল নিয়োগ দেয়নি। ফলে বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল সংকট তৈরি হয়েছে।
পরে তিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে ছিলেন তারা স্থানীয়ভাবে অবস্থান না করে ঢাকায় থাকতেন। ফলে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন মন্ত্রীকে সভাপতি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সদস্য করে শিগগিরই নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হবে। এ ছাড়া, তিনি ঢাকায় ফেরার পথে কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতাল আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং জনবল সংকট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে মন্ত্রী প্রথমে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল) পরিদর্শনে যান। হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার ও বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় হাসপাতালের ডায়ালাইসিস টেকনিশিয়ান জসিম মাতুব্বরকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসা ব্যবস্থার মান সন্তোষজনক নয়। এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে সার্বক্ষণিক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসকরা দেড়িতে আসে বলেও অভিযোগ পেয়েছি।
তিনি বলেন, রোগীদের অভিযোগ রয়েছে-হাসপাতালে দালালদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে এবং তারা রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসব দালালের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের ভেতর ও বাইরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
হামের পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগে। এরপর হামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
তিনি বলেন, প্রতি চার বছর পর পর হামের টিকা কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও ২০২০ সালের পর ধারাবাহিকতা বজায় না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকারের হাতে শুরুতে পর্যাপ্ত হামের টিকা ছিল না। তবে অল্প সময়ের মধ্যে টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে রোগীর সংখ্যাও কিছুটা কমেছে।
জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনের পর দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্বোধন করা হবে এবং জুলাই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার হাসপাতালটির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ বা জনবল নিয়োগ দেয়নি। ফলে বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল সংকট তৈরি হয়েছে।
পরে তিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে ছিলেন তারা স্থানীয়ভাবে অবস্থান না করে ঢাকায় থাকতেন। ফলে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন মন্ত্রীকে সভাপতি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সদস্য করে শিগগিরই নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হবে। এ ছাড়া, তিনি ঢাকায় ফেরার পথে কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

১১ মে, ২০২৬ ১৭:১০
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের যবসেন গ্রামে অবস্থিত রহস্যঘেরা এক ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘২২ হাত কবর’। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিত মরহুম জমশের খাঁনের কবর হিসেবে।
প্রায় পাঁচ শতাব্দীর পুরনো বলে ধারণা করা এই কবরটি ঘিরে রয়েছে নানা কিংবদন্তি, রহস্য ও ইতিহাস। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে কৌতূহলী মানুষ ছুটে আসছেন কবরটি এক নজর দেখতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমশের খাঁন ছিলেন অস্বাভাবিক লম্বা ও শক্তিশালী দেহের অধিকারী। লোকমুখে প্রচলিত আছে, তার উচ্চতা ছিল প্রায় ১৮ হাত। মৃত্যুর পর তাকে সমাহিত করা হয় দীর্ঘ আকৃতির একটি কবরে। যদিও এলাকাজুড়ে এটি ‘২২ হাত কবর’ নামে পরিচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল পাইকের ভাষ্য অনুযায়ী, কবরটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ হাত। প্রবীণদের বর্ণনায় জানা যায়, প্রায় ৫০০ বছর আগে জমশের খাঁন তার মা ও স্ত্রীকে নিয়ে যবসেন গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। সে সময় তিনি আগৈলঝাড়ার গৈলা গ্রামের তৎকালীন জমিদার মোহন মুন্সির প্যাদা বা লাঠিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অসাধারণ শারীরিক শক্তি, সাহসিকতা ও কর্মদক্ষতার কারণে তিনি এলাকায় পরিচিত ছিলেন ‘জমশের পাইক’ নামে। তার মৃত্যুর পরও বংশধররা আজ পর্যন্ত ‘পাইক’ পদবি ব্যবহার করে আসছেন।
ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই কবরটি এখনো কোনো সরকারি সংরক্ষণ বা পরিচর্যার আওতায় আসেনি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকলেও স্থানীয়দের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য ও ইতিহাসের স্মারক হিসেবে বিবেচিত। এলাকাবাসীর দাবি, যথাযথ সংরক্ষণ, সংস্কার ও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হলে ‘২২ হাত কবর’ হতে পারে আগৈলঝাড়ার অন্যতম দর্শনীয় স্থান এবং স্থানীয় পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার।
প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে দর্শনার্থীরা এসে কবরটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন, জমশের খাঁনের বিশাল দেহের মতোই ছিল তার অসীম শক্তি ও প্রভাব। রহস্য আর লোককথার মিশেলে কবরটি আজও ইতিহাসপ্রেমী ও কৌতূহলী মানুষের কাছে এক আকর্ষণীয় স্থান হয়ে রয়েছে।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের যবসেন গ্রামে অবস্থিত রহস্যঘেরা এক ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘২২ হাত কবর’। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিত মরহুম জমশের খাঁনের কবর হিসেবে।
প্রায় পাঁচ শতাব্দীর পুরনো বলে ধারণা করা এই কবরটি ঘিরে রয়েছে নানা কিংবদন্তি, রহস্য ও ইতিহাস। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে কৌতূহলী মানুষ ছুটে আসছেন কবরটি এক নজর দেখতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমশের খাঁন ছিলেন অস্বাভাবিক লম্বা ও শক্তিশালী দেহের অধিকারী। লোকমুখে প্রচলিত আছে, তার উচ্চতা ছিল প্রায় ১৮ হাত। মৃত্যুর পর তাকে সমাহিত করা হয় দীর্ঘ আকৃতির একটি কবরে। যদিও এলাকাজুড়ে এটি ‘২২ হাত কবর’ নামে পরিচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল পাইকের ভাষ্য অনুযায়ী, কবরটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ হাত। প্রবীণদের বর্ণনায় জানা যায়, প্রায় ৫০০ বছর আগে জমশের খাঁন তার মা ও স্ত্রীকে নিয়ে যবসেন গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। সে সময় তিনি আগৈলঝাড়ার গৈলা গ্রামের তৎকালীন জমিদার মোহন মুন্সির প্যাদা বা লাঠিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অসাধারণ শারীরিক শক্তি, সাহসিকতা ও কর্মদক্ষতার কারণে তিনি এলাকায় পরিচিত ছিলেন ‘জমশের পাইক’ নামে। তার মৃত্যুর পরও বংশধররা আজ পর্যন্ত ‘পাইক’ পদবি ব্যবহার করে আসছেন।
ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই কবরটি এখনো কোনো সরকারি সংরক্ষণ বা পরিচর্যার আওতায় আসেনি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকলেও স্থানীয়দের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য ও ইতিহাসের স্মারক হিসেবে বিবেচিত। এলাকাবাসীর দাবি, যথাযথ সংরক্ষণ, সংস্কার ও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হলে ‘২২ হাত কবর’ হতে পারে আগৈলঝাড়ার অন্যতম দর্শনীয় স্থান এবং স্থানীয় পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার।
প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে দর্শনার্থীরা এসে কবরটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন, জমশের খাঁনের বিশাল দেহের মতোই ছিল তার অসীম শক্তি ও প্রভাব। রহস্য আর লোককথার মিশেলে কবরটি আজও ইতিহাসপ্রেমী ও কৌতূহলী মানুষের কাছে এক আকর্ষণীয় স্থান হয়ে রয়েছে।

১১ মে, ২০২৬ ১৫:০১
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন। এমনকি শিক্ষকরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে আন্দোলন বেগবান করছেন।সোমবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিস কক্ষে তালা মেরে দেন। এর আগে তাদেরকে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।
সকাল থেকে দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। পরে তারা বিভিন্ন দফতরে গিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। কর্মরতদের তাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার হওয়ার আহ্বান করেন। পরে শিক্ষকদের একটি টিম প্রতিটি কক্ষে গিয়ে তালা মেরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষকদের দাবি ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
কিন্তু গত শনিবার সিন্ডিকেট সভা হলেও তার কোনও সমাধান হয়নি। এর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষকরা সভা করে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষকেরা প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে যায়।
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের এই আন্দোলনের কারণে তারা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে। সেশনজট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত পথে এগোবে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা সচলের দাবি জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের সভা ইতিবাচক হয়েছে। তারপরও তারা আন্দোলন ডাক দিয়েছে। শিক্ষকদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষকদের ক্লাস ও পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান উপাচার্য।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫টি বিভাগে প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন। এমনকি শিক্ষকরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে আন্দোলন বেগবান করছেন।সোমবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিস কক্ষে তালা মেরে দেন। এর আগে তাদেরকে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।
সকাল থেকে দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। পরে তারা বিভিন্ন দফতরে গিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। কর্মরতদের তাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার হওয়ার আহ্বান করেন। পরে শিক্ষকদের একটি টিম প্রতিটি কক্ষে গিয়ে তালা মেরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষকদের দাবি ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
কিন্তু গত শনিবার সিন্ডিকেট সভা হলেও তার কোনও সমাধান হয়নি। এর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষকরা সভা করে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষকেরা প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে যায়।
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের এই আন্দোলনের কারণে তারা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে। সেশনজট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত পথে এগোবে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা সচলের দাবি জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের সভা ইতিবাচক হয়েছে। তারপরও তারা আন্দোলন ডাক দিয়েছে। শিক্ষকদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষকদের ক্লাস ও পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান উপাচার্য।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫টি বিভাগে প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।’
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.