পটুয়াখালীতে সৎ মা এবং দাদিকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আল-আমিন (২৭) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের চারাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সাহিদা বেগম (৪৮) এবং কুলসুম বিবি (১২৫)। অভিযুক্ত আল-আমিন ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক খানের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আল-আমিন নিখোঁজ হন। তিন-চার দিন আগে তাকে খুঁজে পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার আল-আমিনকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর জন্য বড় ভাই পরিচয়পত্র আনতে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে যান। আর তার বাবা কাজের উদ্দেশে বাড়ির বাহিরে যান। এই সুযোগে আল-আমিন তার সৎ মা ও দাদিকে গলাকেটে হত্যা করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেলে আল-আমিন দৌড়ে পালিয়ে যান।
পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে অভিযুক্ত আল-আমিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’’

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৬
পটুয়াখালীর বাউফলে দুটি গরু জবাই করে মাথা ফেলে রেখে মাংস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের নয়াহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে নয়াহাট এলাকার ভাই ভাই দোকানের সামনে ধানক্ষেত ও পানিভরা ডোবায় দুটি গরুর মাথা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের এলাকায় খোঁজ নিয়ে গরু দুটির মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়ের ধারনা, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা অন্য কোনো এলাকা থেকে গরু দুটি নিয়ে এসে জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে। তবে গরু দুটির মালিক কে বা কোথা থেকে গরু দুটি আনা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গরু চুরি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেফালী আফরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি জানার পর স্থানীয় চৌকিদার ও ইউপি সদস্যদের এলাকায় খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নওমালা ইউনিয়নের কোনো বাসিন্দা গরু নিখোঁজ হওয়ার কথা জানাননি। পার্শ্ববর্তী দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা থেকেও গরু এনে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৩৭

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:১১
পটুয়াখালীর বাউফলে একই সময়ে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০ টার দিকে বাউফল থানার অদূরে পাবলিক মাঠ, কুন্ডপট্টী, গোলাবাড়ী ও উপজেলা পরিষদের সামনের এলাকা এ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রায় একই সময়ে হঠাৎ বিকট শব্দে দোকানপাট ও রাস্তায় থাকা মানুষজন ছুটোছুটি শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মতে, প্রায় এক মিনিটের ব্যবধানে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে ৫ থেকে ৬টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে বাউফল থানার পুলিশ।
এ ঘটনার পর রাত পৌনে ১০টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তবে বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১৩ জুন, ২০২৫ ১৬:৪৩
পটুয়াখালীতে সৎ মা এবং দাদিকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আল-আমিন (২৭) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের চারাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সাহিদা বেগম (৪৮) এবং কুলসুম বিবি (১২৫)। অভিযুক্ত আল-আমিন ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক খানের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আল-আমিন নিখোঁজ হন। তিন-চার দিন আগে তাকে খুঁজে পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার আল-আমিনকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর জন্য বড় ভাই পরিচয়পত্র আনতে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে যান। আর তার বাবা কাজের উদ্দেশে বাড়ির বাহিরে যান। এই সুযোগে আল-আমিন তার সৎ মা ও দাদিকে গলাকেটে হত্যা করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেলে আল-আমিন দৌড়ে পালিয়ে যান।
পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে অভিযুক্ত আল-আমিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’’
পটুয়াখালীর বাউফলে দুটি গরু জবাই করে মাথা ফেলে রেখে মাংস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের নয়াহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে নয়াহাট এলাকার ভাই ভাই দোকানের সামনে ধানক্ষেত ও পানিভরা ডোবায় দুটি গরুর মাথা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের এলাকায় খোঁজ নিয়ে গরু দুটির মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়ের ধারনা, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা অন্য কোনো এলাকা থেকে গরু দুটি নিয়ে এসে জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে। তবে গরু দুটির মালিক কে বা কোথা থেকে গরু দুটি আনা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গরু চুরি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেফালী আফরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি জানার পর স্থানীয় চৌকিদার ও ইউপি সদস্যদের এলাকায় খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নওমালা ইউনিয়নের কোনো বাসিন্দা গরু নিখোঁজ হওয়ার কথা জানাননি। পার্শ্ববর্তী দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা থেকেও গরু এনে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পটুয়াখালীর বাউফলে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) একটি প্রকল্পের মাঠ সংগঠক মো. সাইদুর রহমান নাজমুলের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা উত্তোলন করে অফিসে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিআরডিবি সূত্র জানায়, দারিদ্র্য নারীদের জন্য সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্পের (ইরেসপো) দ্বিতীয় পর্যায়ের মাঠ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাইদুর রহমান নাজমুল। তিনি ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে উত্তোলন করা অর্থ তিনি অফিসে জমা দেননি।
সূত্র আরও জানায়, পরপর দুটি নোটিশ দেওয়ার পরও সাইদুর রহমানের সন্ধান না পাওয়ায় ১২ জানুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লকের ১২টি সমিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে। এ সময় সদস্যদের পাসবইয়ের সঙ্গে অফিসের হিসাবের গরমিল পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান শিকদারের রেফারেন্সে এবং বিআরডিবির তৎকালীন মহাপরিচালকের একান্ত সচিব (পিএস) ও উপপরিচালক সাদেকুর রহমানের সুপারিশে সাইদুর রহমান চাকরি পেয়েছিলেন। রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কারণেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে উপপরিচালক সাদেকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সাইদুর রহমানের নিয়োগের সময় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল।
এদিকে সাদেকুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদেকুর রহমান মামলায় আসামি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য সরকারি বিধান অনুযায়ী ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে আবেদন করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মাঠ সংগঠক সাইদুর রহমান নাজমুল বলেন, ‘টাকা পাওনা আছে। আমি পরিশোধ করে দেব। হেড অফিসের সঙ্গে কথা হয়েছে।’
বাউফল বিআরডিবি কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা (ইরেসপো) নাজমুন নাহার ইরানি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালী জেলা বিআরডিবির উপপরিচালক হাসানুল হক মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি হেড অফিস সরাসরি মনিটরিং করছে। পরে জেনেছি, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ইরেসপো হেড অফিসের উপপ্রকল্প পরিচালক এ এস এম সোলেমান বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। তবে অভিযুক্তের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস ও উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের কারণে বিলম্ব হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
পটুয়াখালীর বাউফলে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) একটি প্রকল্পের মাঠ সংগঠক মো. সাইদুর রহমান নাজমুলের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা উত্তোলন করে অফিসে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিআরডিবি সূত্র জানায়, দারিদ্র্য নারীদের জন্য সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্পের (ইরেসপো) দ্বিতীয় পর্যায়ের মাঠ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাইদুর রহমান নাজমুল। তিনি ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে উত্তোলন করা অর্থ তিনি অফিসে জমা দেননি।
সূত্র আরও জানায়, পরপর দুটি নোটিশ দেওয়ার পরও সাইদুর রহমানের সন্ধান না পাওয়ায় ১২ জানুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লকের ১২টি সমিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে। এ সময় সদস্যদের পাসবইয়ের সঙ্গে অফিসের হিসাবের গরমিল পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান শিকদারের রেফারেন্সে এবং বিআরডিবির তৎকালীন মহাপরিচালকের একান্ত সচিব (পিএস) ও উপপরিচালক সাদেকুর রহমানের সুপারিশে সাইদুর রহমান চাকরি পেয়েছিলেন। রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কারণেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে উপপরিচালক সাদেকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সাইদুর রহমানের নিয়োগের সময় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল।
এদিকে সাদেকুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদেকুর রহমান মামলায় আসামি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য সরকারি বিধান অনুযায়ী ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে আবেদন করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মাঠ সংগঠক সাইদুর রহমান নাজমুল বলেন, ‘টাকা পাওনা আছে। আমি পরিশোধ করে দেব। হেড অফিসের সঙ্গে কথা হয়েছে।’
বাউফল বিআরডিবি কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা (ইরেসপো) নাজমুন নাহার ইরানি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালী জেলা বিআরডিবির উপপরিচালক হাসানুল হক মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি হেড অফিস সরাসরি মনিটরিং করছে। পরে জেনেছি, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ইরেসপো হেড অফিসের উপপ্রকল্প পরিচালক এ এস এম সোলেমান বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। তবে অভিযুক্তের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস ও উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের কারণে বিলম্ব হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
পটুয়াখালীর বাউফলে একই সময়ে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০ টার দিকে বাউফল থানার অদূরে পাবলিক মাঠ, কুন্ডপট্টী, গোলাবাড়ী ও উপজেলা পরিষদের সামনের এলাকা এ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রায় একই সময়ে হঠাৎ বিকট শব্দে দোকানপাট ও রাস্তায় থাকা মানুষজন ছুটোছুটি শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মতে, প্রায় এক মিনিটের ব্যবধানে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে ৫ থেকে ৬টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে বাউফল থানার পুলিশ।
এ ঘটনার পর রাত পৌনে ১০টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তবে বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৪
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১৬