শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে পুলিশের চেকপোস্ট, সন্দেহভাজনদের তল্লাশি-জিজ্ঞাসাবাদ। রাতভর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে হানা।
ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে পতিত আওয়ামী লীগের আহুত ১৩ নভেম্বরের ‘লক ডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে নৈরাজ্য রোধে বিভাগীয় শহর বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকস্তরের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। এই দিনটিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি যাতে কোনো রকমের সহিংস পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে সে জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানোসহ সন্দেহভাজন ব্যক্তি-বিশেষকে থামিয়ে তল্লাশি, এমনকি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কর্মসূচির একদিন আগে অর্থাৎ বুধবার সকাল থেকে শহরবাসীর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই উদ্যোগ নিলেও এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধরতে তাদের বাসা-বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। তাদের এই অভিযানে কৃষকলীগ এবং ছাত্রলীগের অন্তত ৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য বুধবার বিকেলে নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লক ডাউন’ ঘোষণা করা হলেও বিভাগীয় শহর বরিশালসহ আশপাশ জেলাসমূহে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধাক্কা দিতে চাইছে। শহরের কাশিপুর এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে মিন্টু নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার এবং জিজ্ঞাসাবাদে এই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। অবশ্য এর আগেই শহরের চারটি থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর এবং বিমানবন্দরের আওতাধীন এলাকাসমূহে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়। এবং প্রতিটি থানার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করাসহ শহরের প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপাড়, দপদপিয়া এবং কালিজিরায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেকপোস্ট বসিয়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে ঘিরে নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জানমাল রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাবও টহল ডিউটি পালন করে যাচ্ছে। সেই সাথে সাদাপোশাকে মাঠে অবস্থান নিয়েছে পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা টিম, যারা মহল্লা বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৩ নভেম্বর এবং এর আগে পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কীর্তনখোলা নদী লাগোয়া জনপদ বরিশালে যাতে কোনো রূপ অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য বরিশাল বিএনপিও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতা আফরোজা খানম নাসরিন কমী-সমর্থকদের নিয়ে শহরে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়েছেন। এবং বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য রুখে দেওয়াসহ শহরকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
মাঠপুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ১৩ নভেম্বরকে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইলে তা প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ নির্দেশনা রয়েছে। প্রস্তুতিস্বরূপ শহরের সদর রোড, আমতলার মোড়, রূপাতলী, সিঅ্যান্ডবি রোড, নথুল্লাবাদ, কাশিপুর, গড়িয়ারপাড়সহ অন্তত শতাধিক স্থানে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার পাশাপাশি চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে। মাঠপুলিশের এই কার্যক্রম সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তদারকি করছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামসহ ডিসি-এডিসি পদমর্যাদার আরও অন্তত ৬ কর্মকর্তা।
কোতয়ালিসহ মেট্রোপলিটনের আওতাধীন চার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেন, শহরবাসীর জানমাল রক্ষায় চেয়ে কয়েকগুন নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে দুদিন আগে থেকেই তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। বিশেষ করে শহরের প্রবেশদ্বারগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক নজর রেখেছে, যাতে বাইরে থেকে কেউ বা কারা প্রবেশ করে নৈরাজ্য তৈরি না করতে পারে।
এই তথ্য নিশ্চিত করে বরিশাল পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, শহরের চারদিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও র্যাব টহলে থাকলেও বিশেষ স্থানসমূহে পুলিশ অবস্থান নিয়ে আছে। এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দাপুলিশের একাধিক টিম সার্বক্ষণিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দুদিনে আওয়ামী লীগের অন্তত ৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে, জানান বিএমপি কমিশনার।
এদিকে আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি রুখে দিতে বরিশাল শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মিছিলটি শহরের জিলা স্কুলের সামনে থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সদর রোড গিয়ে সমাপ্ত হয়।’

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:০৯
বরিশালের বানারীপাড়ায় ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মান্নান জুয়েলকে ১৪ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল র্যাব-৮ এর মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. শাহরিয়ার রিফাত অভি বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) রাতে র্যাব-৭ এর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুল মান্নান জুয়েল (৩৫) বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের আব্দুল হক মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, মান্নান জুয়েলের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণেন অভিযোগে ২০১২ সালে বরিশালের বানারীপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় জুয়েলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরোয়ানা তামিলকারী বানারীপাড়া থানার কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-৮ অধিনায়ক বরাবর একটি অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৮ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১ সেপ্টেম্বর রাতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জুয়েলকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১৯
২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে মোসা. সেলিনা বেগমের বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার। সেদিন রাতে গোয়েন্দা (ডিবি) পরিচয়ে টিপুকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর এক দিন পরই টিপুকে ক্রসফায়ারে হত্যা করার খবর পান সেলিনা বেগম।
বরিশালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ার দেওয়ার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ মঙ্গলবার সাক্ষী হিসেবে সেলিনা বেগম এ কথা বলেন।
সেলিনা বেগমের ভাগনির স্বামী টিপু হাওলাদার। ২০১১ সালে সাক্ষীর ভাগনির সঙ্গে টিপুর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়।
আজকের জবানবন্দিতে সেলিনা বেগম বলেন, টিপু হাওলাদার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরের বাড়িতে আসেন টিপু হাওলাদার। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তাঁর বাসায় ডিবি পুলিশ আসে। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলে আসা লোকজন জানান যে তাঁরা বরিশাল থেকে এসেছেন এবং তাঁদের সঙ্গে ঢাকার কিছু লোক আছেন। তাঁরা টিপুকে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে যান।
সাক্ষী সেলিনা আরও বলেন, এ ঘটনার সময় তিনি চিৎকার করেন। তখন পাশের বাসা থেকে নাহার বেগম নামে একজন প্রতিবেশী এগিয়ে আসেন। তাঁরা দুজন টিপুকে যে স্থানে গাড়িতে তোলা হয়, সে পর্যন্ত যান। সে রাতেই ভাগনিকে ফোন দিয়ে তিনি ঘটনা জানান। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনে দেখেন টিপু ও কবির নামে দুজন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। তাঁর ভাগনির কাছে তিনি শুনেছেন, অন্য থানার দুজন পুলিশ টিপুকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করেছেন।
এ মামলায় চারজন আসামি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক। অপর দুই আসামি বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম এবং মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।’

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৫
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে অনশনে বসেছেন বিভাগের প্রায় ১৩০ শিক্ষার্থী।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে উপাচার্যের দপ্তরের সামনে অনশন করছেন তারা। বিকেল ৫টার দিকে চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকসহ বিভাগের অন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে সেখানে গেলে সেখানে হাফিজ আশরাফুল হককে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান সজিব বলেন, ‘স্বৈরাচার হাফিজ আশরাফুল হকের অপসারণের দাবিতে আমরা অনশনে বসেছি। তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবে।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা চলছে। বিভাগে পক্ষপাতমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা, সেশনজটসহ বিভিন্ন সমস্যার জন্য তারা বর্তমান চেয়ারম্যানকে দায়ী করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে চেয়ারম্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক থেকে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে হাফিজ আশরাফুল হক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগটির মাত্র দুটি ব্যাচ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছে।

১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:২৭
শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে পুলিশের চেকপোস্ট, সন্দেহভাজনদের তল্লাশি-জিজ্ঞাসাবাদ। রাতভর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে হানা।
ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে পতিত আওয়ামী লীগের আহুত ১৩ নভেম্বরের ‘লক ডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে নৈরাজ্য রোধে বিভাগীয় শহর বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকস্তরের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। এই দিনটিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি যাতে কোনো রকমের সহিংস পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে সে জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানোসহ সন্দেহভাজন ব্যক্তি-বিশেষকে থামিয়ে তল্লাশি, এমনকি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কর্মসূচির একদিন আগে অর্থাৎ বুধবার সকাল থেকে শহরবাসীর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই উদ্যোগ নিলেও এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধরতে তাদের বাসা-বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। তাদের এই অভিযানে কৃষকলীগ এবং ছাত্রলীগের অন্তত ৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য বুধবার বিকেলে নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লক ডাউন’ ঘোষণা করা হলেও বিভাগীয় শহর বরিশালসহ আশপাশ জেলাসমূহে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধাক্কা দিতে চাইছে। শহরের কাশিপুর এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে মিন্টু নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার এবং জিজ্ঞাসাবাদে এই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। অবশ্য এর আগেই শহরের চারটি থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর এবং বিমানবন্দরের আওতাধীন এলাকাসমূহে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়। এবং প্রতিটি থানার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করাসহ শহরের প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপাড়, দপদপিয়া এবং কালিজিরায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেকপোস্ট বসিয়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে ঘিরে নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জানমাল রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাবও টহল ডিউটি পালন করে যাচ্ছে। সেই সাথে সাদাপোশাকে মাঠে অবস্থান নিয়েছে পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা টিম, যারা মহল্লা বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৩ নভেম্বর এবং এর আগে পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কীর্তনখোলা নদী লাগোয়া জনপদ বরিশালে যাতে কোনো রূপ অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য বরিশাল বিএনপিও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতা আফরোজা খানম নাসরিন কমী-সমর্থকদের নিয়ে শহরে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়েছেন। এবং বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য রুখে দেওয়াসহ শহরকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
মাঠপুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ১৩ নভেম্বরকে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইলে তা প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ নির্দেশনা রয়েছে। প্রস্তুতিস্বরূপ শহরের সদর রোড, আমতলার মোড়, রূপাতলী, সিঅ্যান্ডবি রোড, নথুল্লাবাদ, কাশিপুর, গড়িয়ারপাড়সহ অন্তত শতাধিক স্থানে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার পাশাপাশি চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে। মাঠপুলিশের এই কার্যক্রম সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তদারকি করছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামসহ ডিসি-এডিসি পদমর্যাদার আরও অন্তত ৬ কর্মকর্তা।
কোতয়ালিসহ মেট্রোপলিটনের আওতাধীন চার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেন, শহরবাসীর জানমাল রক্ষায় চেয়ে কয়েকগুন নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে দুদিন আগে থেকেই তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। বিশেষ করে শহরের প্রবেশদ্বারগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক নজর রেখেছে, যাতে বাইরে থেকে কেউ বা কারা প্রবেশ করে নৈরাজ্য তৈরি না করতে পারে।
এই তথ্য নিশ্চিত করে বরিশাল পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, শহরের চারদিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও র্যাব টহলে থাকলেও বিশেষ স্থানসমূহে পুলিশ অবস্থান নিয়ে আছে। এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দাপুলিশের একাধিক টিম সার্বক্ষণিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দুদিনে আওয়ামী লীগের অন্তত ৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে, জানান বিএমপি কমিশনার।
এদিকে আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি রুখে দিতে বরিশাল শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মিছিলটি শহরের জিলা স্কুলের সামনে থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সদর রোড গিয়ে সমাপ্ত হয়।’
বরিশালের বানারীপাড়ায় ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মান্নান জুয়েলকে ১৪ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল র্যাব-৮ এর মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. শাহরিয়ার রিফাত অভি বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) রাতে র্যাব-৭ এর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুল মান্নান জুয়েল (৩৫) বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের আব্দুল হক মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, মান্নান জুয়েলের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণেন অভিযোগে ২০১২ সালে বরিশালের বানারীপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় জুয়েলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরোয়ানা তামিলকারী বানারীপাড়া থানার কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-৮ অধিনায়ক বরাবর একটি অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৮ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১ সেপ্টেম্বর রাতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জুয়েলকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে মোসা. সেলিনা বেগমের বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার। সেদিন রাতে গোয়েন্দা (ডিবি) পরিচয়ে টিপুকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর এক দিন পরই টিপুকে ক্রসফায়ারে হত্যা করার খবর পান সেলিনা বেগম।
বরিশালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ার দেওয়ার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ মঙ্গলবার সাক্ষী হিসেবে সেলিনা বেগম এ কথা বলেন।
সেলিনা বেগমের ভাগনির স্বামী টিপু হাওলাদার। ২০১১ সালে সাক্ষীর ভাগনির সঙ্গে টিপুর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়।
আজকের জবানবন্দিতে সেলিনা বেগম বলেন, টিপু হাওলাদার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরের বাড়িতে আসেন টিপু হাওলাদার। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তাঁর বাসায় ডিবি পুলিশ আসে। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলে আসা লোকজন জানান যে তাঁরা বরিশাল থেকে এসেছেন এবং তাঁদের সঙ্গে ঢাকার কিছু লোক আছেন। তাঁরা টিপুকে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে যান।
সাক্ষী সেলিনা আরও বলেন, এ ঘটনার সময় তিনি চিৎকার করেন। তখন পাশের বাসা থেকে নাহার বেগম নামে একজন প্রতিবেশী এগিয়ে আসেন। তাঁরা দুজন টিপুকে যে স্থানে গাড়িতে তোলা হয়, সে পর্যন্ত যান। সে রাতেই ভাগনিকে ফোন দিয়ে তিনি ঘটনা জানান। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনে দেখেন টিপু ও কবির নামে দুজন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। তাঁর ভাগনির কাছে তিনি শুনেছেন, অন্য থানার দুজন পুলিশ টিপুকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করেছেন।
এ মামলায় চারজন আসামি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক। অপর দুই আসামি বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম এবং মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে অনশনে বসেছেন বিভাগের প্রায় ১৩০ শিক্ষার্থী।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে উপাচার্যের দপ্তরের সামনে অনশন করছেন তারা। বিকেল ৫টার দিকে চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকসহ বিভাগের অন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে সেখানে গেলে সেখানে হাফিজ আশরাফুল হককে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান সজিব বলেন, ‘স্বৈরাচার হাফিজ আশরাফুল হকের অপসারণের দাবিতে আমরা অনশনে বসেছি। তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবে।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা চলছে। বিভাগে পক্ষপাতমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা, সেশনজটসহ বিভিন্ন সমস্যার জন্য তারা বর্তমান চেয়ারম্যানকে দায়ী করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে চেয়ারম্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক থেকে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে হাফিজ আশরাফুল হক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগটির মাত্র দুটি ব্যাচ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬