
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:২৩
নীলফামারী সদর উপজেলায় জমি লিখে না দেওয়ায় নিজের মায়ের ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নুর আলম (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের মোজামের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নুর আলম ওই এলাকার জয়নাল হোসেন ও নূরজাহান দম্পতির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুর আলম দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। জুয়ার টাকার জন্য তিনি বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করে আসছিলেন। বাবার সূত্রে পাওয়া মা ও বোনের অংশের জমি লিখে নেওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাদের চাপ দিয়ে আসছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে ফের জমি লিখে দিতে বললে মা নূরজাহান বেগম অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিকেলে নুর আলম তার মায়ের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরসহ যাবতীয় আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নুরজাহান বেগম বলেন, আমার ছেলে নুর আলম দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া খেলায় আসক্ত। সে লম্পট টাইপের ছেলে, জুয়ায় আসক্ত হয়ে সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছে। এখন সে আমার কাছে আমার জমির অংশ এবং আমার মেয়ের জমির অংশ লিখে চায়।
সেটি না দেওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। সকালে জমি লিখে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছে, না দেওয়ার কারণে বিকেলে আমার ঘর পুড়ে দিলো আগুন দিয়েছে।
নীলফামারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক বাদশা মাউদস আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।
এ বিষয়ে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, আগুনে ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার একটি খবর পেয়েছি। সেখানে পুলিশের একটি টিম গেছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
নীলফামারী সদর উপজেলায় জমি লিখে না দেওয়ায় নিজের মায়ের ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নুর আলম (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের মোজামের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নুর আলম ওই এলাকার জয়নাল হোসেন ও নূরজাহান দম্পতির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুর আলম দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। জুয়ার টাকার জন্য তিনি বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করে আসছিলেন। বাবার সূত্রে পাওয়া মা ও বোনের অংশের জমি লিখে নেওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাদের চাপ দিয়ে আসছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে ফের জমি লিখে দিতে বললে মা নূরজাহান বেগম অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিকেলে নুর আলম তার মায়ের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরসহ যাবতীয় আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নুরজাহান বেগম বলেন, আমার ছেলে নুর আলম দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া খেলায় আসক্ত। সে লম্পট টাইপের ছেলে, জুয়ায় আসক্ত হয়ে সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছে। এখন সে আমার কাছে আমার জমির অংশ এবং আমার মেয়ের জমির অংশ লিখে চায়।
সেটি না দেওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। সকালে জমি লিখে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছে, না দেওয়ার কারণে বিকেলে আমার ঘর পুড়ে দিলো আগুন দিয়েছে।
নীলফামারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক বাদশা মাউদস আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।
এ বিষয়ে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, আগুনে ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার একটি খবর পেয়েছি। সেখানে পুলিশের একটি টিম গেছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:০৫

১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৩৫
ফেনীর সোনাগাজীতে ইউটিউব দেখে অকটেন তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম নুর আলম মাসুদ (৪৫)। তিনি সোনাগাজীর 'সততা অয়েল মিলস'র স্বত্বাধিকারী। মাসুদ সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ওমর খান পাঠান বাড়ির মৃত খুরশিদ আলমের ছেলে।
নিহতের স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নজরুল প্রাইমারি এলাকায় বিকল্প পদ্ধতিতে অকটেন তৈরির সময় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে একটি পাইপ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
এতে গুরুতর দগ্ধ হন নুর আলম মাসুদ ও তার সহকর্মী মো. ওমর ফারুক। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। চারদিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।
রেজাউল করিম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মাসুদ অত্যন্ত বিনয়ী ও সমাজসেবামূলক কাজে সক্রিয় ছিলেন। এই দুর্ঘটনার আগের রাতেও নজরুল প্রাথমিক যুব সমাজের উদ্যোগে মাহফিল আয়োজনের সভায় উপস্থিত ছিলেন। তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়াতে সমাজের সকলে শোকাহত।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক জিয়া উদ্দিন হৃদয় বলেন, আমরা প্রায় সময়ই দেখতাম তিনি ইউটিউব দেখে দেখে নতুন কিছু উদ্ভাবনের চেষ্টা করতেন। সম্প্রতি অকটেন তৈরির একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
নিতের ভাই মোর্শেদ বলেন, আমার ভাই নতুন একটি পদ্ধতিতে অকটেন তৈরির কাজ করছিলেন। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পাইপ বিস্ফোরিত হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান বলেন, বিস্ফোরণের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৩৩
মাগুরা সদর উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে ছাকাম মোল্যা (৫২) নামে এক বিএনপি নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার গোপাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ছাকাম মোল্যা স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গোপাল গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ছাকাম মোল্যার বাড়ির সামনে এসে থামে। এ সময় দুই ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে জানান এবং তাকে সঙ্গে যেতে বলেন। তবে পরিবারের কাউকে সঙ্গে নিতে না দিয়ে দ্রুত তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে পরিবার ও স্থানীয়রা জানতে পারেন, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের বেরইল পলিতা এলাকায় রাস্তার পাশে ছাকাম মোল্যাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, যারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে তারা পুলিশ নয় বরং ছদ্মবেশী দুর্বৃত্ত।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মেদ বলেন, গত ১৬-১৭ বছর ধরে আমরা এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এখনো আমাদের দলের নেতাকর্মীরা নিরাপদ নন।
পুলিশ পরিচয়ে একজন ওয়ার্ড নেতাকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এদিকে মাগুরা সদর থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান বলেন, ঘটনায় জড়িতরা পুলিশের কেউ নন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে ডা. মাহমুদা আলম মিতুকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ মে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। একই প্রক্রিয়ায় জোটভুক্ত অন্যান্য দল থেকেও প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।
জোটভিত্তিক বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য ১টি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জামায়াত তাদের কোটা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতুকে মনোনয়ন দিয়েছে। একই সঙ্গে জাগপার পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের মনোনয়নও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সরাসরি ভোটে নয়, বরং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যক সংরক্ষিত আসন পায় এবং সেই অনুযায়ী নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়। মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা বরাদ্দকৃত আসনের সমান হলে নির্বাচন কমিশন তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে।
জানা যায়, ডা. মাহমুদা আলম মিতুর পৈতৃক বাড়ি ঝালকাঠি-১ আসনের কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কৈখালী গ্রামে। তার দাদা আমজাদ হোসেন তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। শৈশব ও শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে ঝালকাঠি ও বরিশালে। শৌলজালিয়া হাই স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি অর্জনের পর বেতাগী ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন। পরে ঢাকায় শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন।
মনোনয়ন পাওয়ার আগে থেকেই তিনি ঝালকাঠি-১ এলাকায় তরুণদের কর্মসংস্থান, নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা উন্নয়ন ও গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করে আসছেন। ‘কেয়ার অব মিতু’ নামের একটি সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
ডা. মিতু বলেন, ‘শৈশবের স্বপ্ন ও মানুষের সেবা করার ইচ্ছা থেকেই তিনি এই পর্যায়ে এসেছেন। চিকিৎসক হিসেবে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, জরুরি চিকিৎসা এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চান তিনি। পাশাপাশি ঝালকাঠিকে একটি নিরাপদ, শিক্ষিত ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে ডা. মাহমুদা আলম মিতুকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ মে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। একই প্রক্রিয়ায় জোটভুক্ত অন্যান্য দল থেকেও প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।
জোটভিত্তিক বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য ১টি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জামায়াত তাদের কোটা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতুকে মনোনয়ন দিয়েছে। একই সঙ্গে জাগপার পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের মনোনয়নও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সরাসরি ভোটে নয়, বরং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যক সংরক্ষিত আসন পায় এবং সেই অনুযায়ী নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়। মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা বরাদ্দকৃত আসনের সমান হলে নির্বাচন কমিশন তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে।
জানা যায়, ডা. মাহমুদা আলম মিতুর পৈতৃক বাড়ি ঝালকাঠি-১ আসনের কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কৈখালী গ্রামে। তার দাদা আমজাদ হোসেন তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। শৈশব ও শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে ঝালকাঠি ও বরিশালে। শৌলজালিয়া হাই স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি অর্জনের পর বেতাগী ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন। পরে ঢাকায় শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন।
মনোনয়ন পাওয়ার আগে থেকেই তিনি ঝালকাঠি-১ এলাকায় তরুণদের কর্মসংস্থান, নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা উন্নয়ন ও গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করে আসছেন। ‘কেয়ার অব মিতু’ নামের একটি সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
ডা. মিতু বলেন, ‘শৈশবের স্বপ্ন ও মানুষের সেবা করার ইচ্ছা থেকেই তিনি এই পর্যায়ে এসেছেন। চিকিৎসক হিসেবে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, জরুরি চিকিৎসা এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চান তিনি। পাশাপাশি ঝালকাঠিকে একটি নিরাপদ, শিক্ষিত ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।’
ফেনীর সোনাগাজীতে ইউটিউব দেখে অকটেন তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম নুর আলম মাসুদ (৪৫)। তিনি সোনাগাজীর 'সততা অয়েল মিলস'র স্বত্বাধিকারী। মাসুদ সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ওমর খান পাঠান বাড়ির মৃত খুরশিদ আলমের ছেলে।
নিহতের স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নজরুল প্রাইমারি এলাকায় বিকল্প পদ্ধতিতে অকটেন তৈরির সময় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে একটি পাইপ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
এতে গুরুতর দগ্ধ হন নুর আলম মাসুদ ও তার সহকর্মী মো. ওমর ফারুক। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। চারদিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।
রেজাউল করিম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মাসুদ অত্যন্ত বিনয়ী ও সমাজসেবামূলক কাজে সক্রিয় ছিলেন। এই দুর্ঘটনার আগের রাতেও নজরুল প্রাথমিক যুব সমাজের উদ্যোগে মাহফিল আয়োজনের সভায় উপস্থিত ছিলেন। তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়াতে সমাজের সকলে শোকাহত।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক জিয়া উদ্দিন হৃদয় বলেন, আমরা প্রায় সময়ই দেখতাম তিনি ইউটিউব দেখে দেখে নতুন কিছু উদ্ভাবনের চেষ্টা করতেন। সম্প্রতি অকটেন তৈরির একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
নিতের ভাই মোর্শেদ বলেন, আমার ভাই নতুন একটি পদ্ধতিতে অকটেন তৈরির কাজ করছিলেন। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পাইপ বিস্ফোরিত হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান বলেন, বিস্ফোরণের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাগুরা সদর উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে ছাকাম মোল্যা (৫২) নামে এক বিএনপি নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার গোপাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ছাকাম মোল্যা স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গোপাল গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ছাকাম মোল্যার বাড়ির সামনে এসে থামে। এ সময় দুই ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে জানান এবং তাকে সঙ্গে যেতে বলেন। তবে পরিবারের কাউকে সঙ্গে নিতে না দিয়ে দ্রুত তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে পরিবার ও স্থানীয়রা জানতে পারেন, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের বেরইল পলিতা এলাকায় রাস্তার পাশে ছাকাম মোল্যাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, যারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে তারা পুলিশ নয় বরং ছদ্মবেশী দুর্বৃত্ত।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মেদ বলেন, গত ১৬-১৭ বছর ধরে আমরা এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এখনো আমাদের দলের নেতাকর্মীরা নিরাপদ নন।
পুলিশ পরিচয়ে একজন ওয়ার্ড নেতাকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এদিকে মাগুরা সদর থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান বলেন, ঘটনায় জড়িতরা পুলিশের কেউ নন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৫৭
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৪৮
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:২০
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:০৫